সূরা আয-যুমার (আয়াত: 45)
হরকত ছাড়া:
وإذا ذكر الله وحده اشمأزت قلوب الذين لا يؤمنون بالآخرة وإذا ذكر الذين من دونه إذا هم يستبشرون ﴿٤٥﴾
হরকত সহ:
وَ اِذَا ذُکِرَ اللّٰهُ وَحْدَهُ اشْمَاَزَّتْ قُلُوْبُ الَّذِیْنَ لَا یُؤْمِنُوْنَ بِالْاٰخِرَۃِ ۚ وَ اِذَا ذُکِرَ الَّذِیْنَ مِنْ دُوْنِهٖۤ اِذَا هُمْ یَسْتَبْشِرُوْنَ ﴿۴۵﴾
উচ্চারণ: ওয়া ইযা-যুকিরাল্লা-হু ওয়াহদাহুশমাআযযাত কুলূবুল্লাযীনা লা-ইউ’মিনূনা বিলআখিরাতি ওয়া ইযা-যুকিরাল্লাযীনা মিন দূ নিহী ইযা-হুম ইয়াছতাবশিরূন।
আল বায়ান: যারা আখিরাতে বিশ্বাস করে না, এক আল্লাহর কথা বলা হলে তাদের অন্তর সঙ্কুচিত হয়ে যায়। আর আল্লাহ ছাড়া অন্য উপাস্যগুলোর কথা বলা হলে তখনই তারা আনন্দে উৎফুল্ল হয়।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৪৫. আর যখন শুধু এক আল্লাহর কথা বলা হয় তখন যারা আখিরাতে বিশ্বাস করে না, তাদের অন্তর বিতৃষ্ণায় সংকুচিত হয়। আর আল্লাহর পরিবর্তে অন্য মাবুদগুলোর উল্লেখ করা হলে তখনই তারা আনন্দে উল্লসিত হয়।
তাইসীরুল ক্বুরআন: এক আল্লাহর উল্লেখ করা হলেই যারা ক্বিয়ামতে বিশ্বাস করে না, তাদের অন্তর বিতৃষ্ণায় ভরে যায়। আর আল্লাহ ছাড়া অন্যান্য উপাস্যের উল্লেখ করা হলেই তারা আনন্দে উৎফুল্ল হয়।
আহসানুল বায়ান: (৪৫) ‘আল্লাহ এক’ --এ কথা উল্লেখ করা হলে যারা পরকালে বিশ্বাস করে না, তাদের অন্তর বিতৃষ্ণায় সংকুচিত হয়।[1] আর আল্লাহর পরিবর্তে (তাদের উপাস্যদের কথা) উল্লেখ করা হলে তারা আনন্দে উল্লসিত হয়।[2]
মুজিবুর রহমান: একক আল্লাহর কথা বলা হলে, যারা আখিরাতে বিশ্বাস করেনা তাদের অন্তর বিতৃষ্ণায় সংকুচিত হয় এবং আল্লাহর পরিবর্তে তাদের দেবতাগুলির উল্লেখ করা হলে তারা আনন্দে উল্লসিত হয়।
ফযলুর রহমান: এক আল্লাহর কথা আলোচিত হলে পরকাল অবিশ্বাসীদের অন্তর সংকুচিত হয়। আর তিনি ছাড়া অন্যদের (মিথ্যা উপাস্যদের) কথা আলোচিত হলেই তারা খুশী হয়।
মুহিউদ্দিন খান: যখন খাঁটিভাবে আল্লাহর নাম উচ্চারণ করা হয়, তখন যারা পরকালে বিশ্বাস করে না, তাদের অন্তর সংকুচিত হয়ে যায়, আর যখন আল্লাহ ব্যতীত অন্য উপাস্যদের নাম উচ্চারণ করা হয়, তখন তারা আনন্দে উল্লসিত হয়ে উঠে।
জহুরুল হক: আর যখন আল্লাহ্র, তাঁর একত্বের উল্লেখ করা হয় তখন, যারা পরকালে বিশ্বাস করে না তাদের হৃদয় সংকূচিত হয়, পক্ষান্তরে যখন তাঁকে বাদ দিয়ে অন্য যারা রয়েছে, তাদের উল্লেখ করা হয় তখন দেখো! তারা উল্লাস করে।
Sahih International: And when Allah is mentioned alone, the hearts of those who do not believe in the Hereafter shrink with aversion, but when those [worshipped] other than Him are mentioned, immediately they rejoice.
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৪৫. আর যখন শুধু এক আল্লাহর কথা বলা হয় তখন যারা আখিরাতে বিশ্বাস করে না, তাদের অন্তর বিতৃষ্ণায় সংকুচিত হয়। আর আল্লাহর পরিবর্তে অন্য মাবুদগুলোর উল্লেখ করা হলে তখনই তারা আনন্দে উল্লসিত হয়।
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৪৫) ‘আল্লাহ এক” --এ কথা উল্লেখ করা হলে যারা পরকালে বিশ্বাস করে না, তাদের অন্তর বিতৃষ্ণায় সংকুচিত হয়।[1] আর আল্লাহর পরিবর্তে (তাদের উপাস্যদের কথা) উল্লেখ করা হলে তারা আনন্দে উল্লসিত হয়।[2]
তাফসীর:
[1] অথবা কুফরী ও অহংকার করে অথবা তাদের মন সংকীর্ণ হয়ে পড়ে। অর্থাৎ, মুশরিকদেরকে যখন বলা হয় যে, উপাস্য কেবল একজনই, তখন তাদের মন তা মেনে নেওয়ার জন্য প্রস্তুত হয় না।
[2] তবে হ্যাঁ, যখন বলা হয় যে, অমুক অমুকরাও উপাস্য অথবা তারাও তো আল্লাহরই ওলীই বটে, তাদেরও কিছু এখতিয়ার আছে, তারাও বিপদাপদ দূর এবং প্রয়োজনাদি পূরণ করার সামর্থ্য রাখে, তখন মুশরিকরা বড়ই আনন্দিত হয়। সঠিক পথচ্যুত লোকদের এই অবস্থা আজও বিদ্যমান। যখন তাদেরকে বলা হয়, কেবল বল, ‘ইয়া আল্লাহ মদদ’ কারণ তিনি ছাড়া তো কেউ সাহায্য করার ক্ষমতা রাখে না, তখন তারা চরম অসন্তুষ্ট হয়। এ বাক্য তাদের কাছে বড়ই অপছন্দনীয়। কিন্তু যদি বলা হয়, ‘ইয়া আলী মদদ’ অথবা ‘ইয়া রাসূলুল্লাহ মদদ’ অনুরূপভাবে অন্যান্য মৃতদের কাছে সাহায্য চাওয়া হয় যেমন, যদি বলা হয়, ‘হে পীর আব্দুল ক্বাদের! আল্লাহর ওয়াস্তে কিছু দিন!’ তবে তাদের অন্তর আনন্দে নেচে ওঠে। বস্তুতঃ এদেরও চিন্তা-চেতনা ওদেরই মতই।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৪৩-৪৫ নম্বর আয়াতের তাফসীর :
প্রথম আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা মুশরিকদেরকে ভর্ৎসনা করে বলছেন : তারা কি আল্লাহ ছাড়া অপরকে শাফায়াতকারী গ্রহণ করেছে? সকল প্রকার শাফায়াত শুধুমাত্র আল্লাহ তা‘আলার ক্ষমতায়। অর্থাৎ কিয়ামতের মাঠে আল্লাহ তা‘আলা যাকে অনুমতি দেবেন তিনিই কেবল শাফায়াত করতে পারবেন, অন্য কেউ নয়, সে যত বড় ওলী-আওলীয়াই হোক না কেন সেখানে কোন কথা বলতে পারবে না। তারা আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত অন্য যাদেরকে শাফায়াতকারী হিসেবে আহ্বান করছে তারা কোন ক্ষমতা রাখেনা। এ সম্পর্কে সূরা বাকারার ২৫৫ নম্বর আয়াতে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
অতঃপর আল্লাহ বলেন : এ সকল কাফির-মুশরিকদের অবস্থা হল এমন, যখন তাদের সামনে এক আল্লাহর ইবাদত ও সকল মা‘বূদ বর্জন করার কথা বলা হয় তখন তারা কুফরী ও অহঙ্কার করে তীব্র ঘৃণা করে। অর্থাৎ মুশরিকদেরকে যখন বলা হয়, উপাস্য কেবল একজনই তখন তাদের মন তা মেনে নেয়ার জন্য প্রস্তুত হয় না। তবে হ্যাঁ, যখন বলা হয় যে, অমুক অমুকরাও উপাস্য অথবা তারাও তো আল্লাহ তা‘আলারই ওলীই বটে, তাদেরও কিছু এখতিয়ার আছে, তারাও বিপদাপদ দূর করা এবং প্রয়োজনাদি পূরণ করার সামর্থ্য রাখে, তখন মুশরিকরা বড়ই আনন্দিত হয়। পথভ্রষ্ট লোকদের এ অবস্থা আজও বিদ্যমান। যখন তাদেরকে বলা হয় কেবল বল, ‘ইয়া আল্লাহ মদদ’ কারণ তিনি ছাড়া তো কেউ সাহায্য করার ক্ষমতা রাখে না, তখন তারা চরম অসন্তুষ্ট হয়। এ বাক্য তাদের কাছে বড়ই অপছন্দনীয়। কিন্তু যদি বলা হয়, ‘ইয়া আলী মদদ’ অথবা ইয়া রাসূলুল্লাহ মদদ’ অনুরূপভাবে অন্যান্য মৃতদের কাছেও সাহায্য চাওয়া হয় যেমন যদি বলা হয়, ‘হে পীর আবদুল কাদের! আল্লাহ তা‘আলার ওয়াস্তে কিছু দিন!’ তবে তাদের অন্তর আনন্দে নেচে ওঠে। বস্তুত এদের চিন্তা-চেতনা ওদের মতই। উল্লেখ্য যে, আল্লাহ ছাড়া অন্যের কাছে সাহায্য কামনা করা ও অন্যের ইবাদতে খুশী হওয়া শির্ক।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :
১. আল্লাহ তা‘আলার অনুমতি ছাড়া কেউ আল্লাহ তা‘আলার সম্মুখে শাফায়াত করতে পারবে না।
২. কাফিরদেরকে এক আল্লাহ তা‘আলার কথা বলা হলে তাদের মন তা মানে না, বরং অহঙ্কারী হয়ে যায়।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৪৩-৪৫ নং আয়াতের তাফসীর:
আল্লাহ তাআলা মুশরিকদের নিন্দে করছেন যে, তারা প্রতিমাগুলোকে এবং বাজে ও মিথ্যা মা'বৃদদেরকে তাদের সুপারিশকারী মনে করে নিয়েছে। এ ব্যাপারে তাদের কাছে দলীল প্রমাণ কিছুই নেই। আসলে তাদের মা'বূদদের কোন কিছুর অধিকারও নেই এবং তাদের কোন বিবেক-বুদ্ধি এবং অনুভূতিও নেই। তাদের নেই চক্ষু ও কর্ণ। তারা তো পাথর ও জড় পদার্থ ছাড়া কিছুই নয়। তারা জন্তু হতেও নিকৃষ্ট। এ জন্যেই মহান আল্লাহ স্বীয় নবী (সঃ)-কে বলেনঃ হে মুহাম্মাদ (সঃ)! তুমি তাদেরকে বলে দাও- এমন কেউ নেই যে আল্লাহর সামনে তার অনুমতি ছাড়া কারো জন্যে মুখ খুলতে পারে। সকল সুপারিশ আল্লাহরই ইখতিয়ারে রয়েছে। আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সার্বভৌমত্ব তারই। কিয়ামতের দিন তোমাদের সবাইকে তাঁরই কাছে ফিরে যেতে হবে। সেই দিন তিনি তোমাদের মধ্যে ন্যায়ের সাথে ফায়সালা করবেন এবং প্রত্যেককেই তিনি তার আমলের পুরোপুরি প্রতিদান বা বিনিময় প্রদান করবেন। এই কাফিরদের অবস্থা এই যে, তারা আল্লাহর একত্ববাদের কালেমা উচ্চারণ করা পছন্দ করে না। আল্লাহর একত্বের বর্ণনা শুনে তাদের অন্তর সংকীর্ণ হয়ে যায়। এটা শুনতে তাদের মনই চায় না। কুফরী ও অহংকার তাদেরকে এটা হতে বিরত রাখে। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ তাদের নিকট ‘আল্লাহ ছাড়া কোন মা'বুদ নেই' বলা হলে তারা অহংকার করতো।” (৩৭:৩৫) তাদের অন্তর সত্যকে অস্বীকারকারী বলে বাতিলকে তাড়াতাড়ি কবুল করে নেয়। তাই তো আল্লাহ পাক বলেনঃ আল্লাহর পরিবর্তে তাদের দেবতাগুলোর উল্লেখ করা হলে তারা আনন্দে উল্লসিত হয়।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।