সূরা আয-যুমার (আয়াত: 44)
হরকত ছাড়া:
قل لله الشفاعة جميعا له ملك السماوات والأرض ثم إليه ترجعون ﴿٤٤﴾
হরকত সহ:
قُلْ لِّلّٰهِ الشَّفَاعَۃُ جَمِیْعًا ؕ لَهٗ مُلْکُ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضِ ؕ ثُمَّ اِلَیْهِ تُرْجَعُوْنَ ﴿۴۴﴾
উচ্চারণ: কুল লিল্লা-হিশশাফা-‘আতুজামী‘আন লাহূমুলকুছ ছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদি ছু ম্মা ইলাইহি তুর জা‘ঊন।
আল বায়ান: বল, ‘সকল সুপারিশ আল্লাহর মালিকানাধীন। আসমানসমূহ ও যমীনের রাজত্ব একমাত্র তাঁরই। তারপর তোমরা তাঁর কাছেই প্রত্যাবর্তিত হবে’।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৪৪. বলুন, সকল সুপারিশ আল্লাহরই মালিকানাধীন, আসমানসমূহ ও যমীনের মালিকানা তাঁরই, তারপর তারই কাছে তোমাদেরকে প্রত্যাবর্তিত করা হবে।
তাইসীরুল ক্বুরআন: বল- শাফা‘আত সম্পূর্ণ আল্লাহর ইখতিয়ারভুক্ত। আকাশ ও পৃথিবীর রাজত্ব তাঁরই, অতঃপর তাঁর কাছেই তোমাদেরকে ফিরিয়ে আনা হবে।
আহসানুল বায়ান: (৪৪) বল, ‘সকল সুপারিশ আল্লাহরই এখতিয়ারে,[1] আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সার্বভৌমত্ব আল্লাহরই, অতঃপর তাঁরই নিকট তোমরা প্রত্যানীত হবে।’
মুজিবুর রহমান: বলঃ সুপারিশ ইখতিয়ারে, আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সার্বভৌমত্ব আল্লাহরই। অতঃপর তাঁরই নিকট তোমরা প্রত্যানীত হবে।
ফযলুর রহমান: বল, “সকল সুপারিশের মালিক আল্লাহ। আসমান ও জমিনের রাজত্ব তাঁরই। অতঃপর তোমাদেরকে তাঁর কাছেই ফিরিয়ে নেওয়া হবে।”
মুহিউদ্দিন খান: বলুন, সমস্ত সুপারিশ আল্লাহরই ক্ষমতাধীন, আসমান ও যমীনে তাঁরই সাম্রাজ্য। অতঃপর তাঁরই কাছে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে।
জহুরুল হক: বলো -- "সুপারিশ সর্বতোভাবে আল্লাহ্রই জন্যে। মহাকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সার্বভৌমত্ব তাঁরই, তারপর তাঁরই কাছে তোমাদের ফিরিয়ে আনা হবে।"
Sahih International: Say, "To Allah belongs [the right to allow] intercession entirely. To Him belongs the dominion of the heavens and the earth. Then to Him you will be returned."
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৪৪. বলুন, সকল সুপারিশ আল্লাহরই মালিকানাধীন, আসমানসমূহ ও যমীনের মালিকানা তাঁরই, তারপর তারই কাছে তোমাদেরকে প্রত্যাবর্তিত করা হবে।
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৪৪) বল, ‘সকল সুপারিশ আল্লাহরই এখতিয়ারে,[1] আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সার্বভৌমত্ব আল্লাহরই, অতঃপর তাঁরই নিকট তোমরা প্রত্যানীত হবে।”
তাফসীর:
[1] অর্থাৎ, সমস্ত ধরনের সুপারিশের মালিক হলেন একমাত্র আল্লাহ। তাঁর অনুমতি ছাড়া কেউ সুপারিশ করতে পারবে না। অতএব কেবল এক আল্লাহরই ইবাদত কেন করা হয় না, যাতে তিনি সন্তুষ্ট হয়ে যান এবং সুপারিশের জন্য কোন মাধ্যম খোঁজার প্রয়োজনই না পড়ে।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৪৩-৪৫ নম্বর আয়াতের তাফসীর :
প্রথম আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা মুশরিকদেরকে ভর্ৎসনা করে বলছেন : তারা কি আল্লাহ ছাড়া অপরকে শাফায়াতকারী গ্রহণ করেছে? সকল প্রকার শাফায়াত শুধুমাত্র আল্লাহ তা‘আলার ক্ষমতায়। অর্থাৎ কিয়ামতের মাঠে আল্লাহ তা‘আলা যাকে অনুমতি দেবেন তিনিই কেবল শাফায়াত করতে পারবেন, অন্য কেউ নয়, সে যত বড় ওলী-আওলীয়াই হোক না কেন সেখানে কোন কথা বলতে পারবে না। তারা আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত অন্য যাদেরকে শাফায়াতকারী হিসেবে আহ্বান করছে তারা কোন ক্ষমতা রাখেনা। এ সম্পর্কে সূরা বাকারার ২৫৫ নম্বর আয়াতে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
অতঃপর আল্লাহ বলেন : এ সকল কাফির-মুশরিকদের অবস্থা হল এমন, যখন তাদের সামনে এক আল্লাহর ইবাদত ও সকল মা‘বূদ বর্জন করার কথা বলা হয় তখন তারা কুফরী ও অহঙ্কার করে তীব্র ঘৃণা করে। অর্থাৎ মুশরিকদেরকে যখন বলা হয়, উপাস্য কেবল একজনই তখন তাদের মন তা মেনে নেয়ার জন্য প্রস্তুত হয় না। তবে হ্যাঁ, যখন বলা হয় যে, অমুক অমুকরাও উপাস্য অথবা তারাও তো আল্লাহ তা‘আলারই ওলীই বটে, তাদেরও কিছু এখতিয়ার আছে, তারাও বিপদাপদ দূর করা এবং প্রয়োজনাদি পূরণ করার সামর্থ্য রাখে, তখন মুশরিকরা বড়ই আনন্দিত হয়। পথভ্রষ্ট লোকদের এ অবস্থা আজও বিদ্যমান। যখন তাদেরকে বলা হয় কেবল বল, ‘ইয়া আল্লাহ মদদ’ কারণ তিনি ছাড়া তো কেউ সাহায্য করার ক্ষমতা রাখে না, তখন তারা চরম অসন্তুষ্ট হয়। এ বাক্য তাদের কাছে বড়ই অপছন্দনীয়। কিন্তু যদি বলা হয়, ‘ইয়া আলী মদদ’ অথবা ইয়া রাসূলুল্লাহ মদদ’ অনুরূপভাবে অন্যান্য মৃতদের কাছেও সাহায্য চাওয়া হয় যেমন যদি বলা হয়, ‘হে পীর আবদুল কাদের! আল্লাহ তা‘আলার ওয়াস্তে কিছু দিন!’ তবে তাদের অন্তর আনন্দে নেচে ওঠে। বস্তুত এদের চিন্তা-চেতনা ওদের মতই। উল্লেখ্য যে, আল্লাহ ছাড়া অন্যের কাছে সাহায্য কামনা করা ও অন্যের ইবাদতে খুশী হওয়া শির্ক।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :
১. আল্লাহ তা‘আলার অনুমতি ছাড়া কেউ আল্লাহ তা‘আলার সম্মুখে শাফায়াত করতে পারবে না।
২. কাফিরদেরকে এক আল্লাহ তা‘আলার কথা বলা হলে তাদের মন তা মানে না, বরং অহঙ্কারী হয়ে যায়।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৪৩-৪৫ নং আয়াতের তাফসীর:
আল্লাহ তাআলা মুশরিকদের নিন্দে করছেন যে, তারা প্রতিমাগুলোকে এবং বাজে ও মিথ্যা মা'বৃদদেরকে তাদের সুপারিশকারী মনে করে নিয়েছে। এ ব্যাপারে তাদের কাছে দলীল প্রমাণ কিছুই নেই। আসলে তাদের মা'বূদদের কোন কিছুর অধিকারও নেই এবং তাদের কোন বিবেক-বুদ্ধি এবং অনুভূতিও নেই। তাদের নেই চক্ষু ও কর্ণ। তারা তো পাথর ও জড় পদার্থ ছাড়া কিছুই নয়। তারা জন্তু হতেও নিকৃষ্ট। এ জন্যেই মহান আল্লাহ স্বীয় নবী (সঃ)-কে বলেনঃ হে মুহাম্মাদ (সঃ)! তুমি তাদেরকে বলে দাও- এমন কেউ নেই যে আল্লাহর সামনে তার অনুমতি ছাড়া কারো জন্যে মুখ খুলতে পারে। সকল সুপারিশ আল্লাহরই ইখতিয়ারে রয়েছে। আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সার্বভৌমত্ব তারই। কিয়ামতের দিন তোমাদের সবাইকে তাঁরই কাছে ফিরে যেতে হবে। সেই দিন তিনি তোমাদের মধ্যে ন্যায়ের সাথে ফায়সালা করবেন এবং প্রত্যেককেই তিনি তার আমলের পুরোপুরি প্রতিদান বা বিনিময় প্রদান করবেন। এই কাফিরদের অবস্থা এই যে, তারা আল্লাহর একত্ববাদের কালেমা উচ্চারণ করা পছন্দ করে না। আল্লাহর একত্বের বর্ণনা শুনে তাদের অন্তর সংকীর্ণ হয়ে যায়। এটা শুনতে তাদের মনই চায় না। কুফরী ও অহংকার তাদেরকে এটা হতে বিরত রাখে। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ তাদের নিকট ‘আল্লাহ ছাড়া কোন মা'বুদ নেই' বলা হলে তারা অহংকার করতো।” (৩৭:৩৫) তাদের অন্তর সত্যকে অস্বীকারকারী বলে বাতিলকে তাড়াতাড়ি কবুল করে নেয়। তাই তো আল্লাহ পাক বলেনঃ আল্লাহর পরিবর্তে তাদের দেবতাগুলোর উল্লেখ করা হলে তারা আনন্দে উল্লসিত হয়।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।