আল কুরআন


সূরা সোয়াদ (আয়াত: 12)

সূরা সোয়াদ (আয়াত: 12)



হরকত ছাড়া:

كذبت قبلهم قوم نوح وعاد وفرعون ذو الأوتاد ﴿١٢﴾




হরকত সহ:

کَذَّبَتْ قَبْلَهُمْ قَوْمُ نُوْحٍ وَّ عَادٌ وَّ فِرْعَوْنُ ذُو الْاَوْتَادِ ﴿ۙ۱۲﴾




উচ্চারণ: কাযযাবাত কাবলাহুম কাওমুনূহিওঁ ওয়া ‘আ-দুওঁ ওয়া ফির‘আওনুযুল আওতা-দ।




আল বায়ান: তাদের পূর্বেও অস্বীকার করেছিল নূহের কওম, আদ ও বহু অট্টালিকার অধিপতি ফির‘আউন,




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১২. এদের আগেও রাসূলদের প্রতি মিথ্যারোপ করেছিল নূহের সম্প্রদায়, আদ ও কীলকওয়ালা ফিরআউন(১),




তাইসীরুল ক্বুরআন: তাদের পূর্বে নূহের জাতি, ‘আদ ও বহু সেনা শিবিরের অধিপতি ফেরাউনও রসূলদেরকে মিথ্যে বলে অস্বীকার করেছিল।




আহসানুল বায়ান: (১২) এদের পূর্বেও রসূলদেরকে মিথ্যাবাদী বলেছিল, নূহ, আ’দ ও বহু শিবিরের অধিপতি ফিরআউন সম্প্রদায়। [1]



মুজিবুর রহমান: তাদের পূর্বেও রাসূলদেরকে মিথ্যাবাদী বলেছিল নূহের সম্প্রদায়, ‘আদ, বহু শিবিরের অধিপতি ফির‘আউন –



ফযলুর রহমান: তাদের পূর্বে রসূলদেরকে অবিশ্বাস করেছিল নূহের সমপ্রদায়, আদ জাতি, কীলকওয়ালা (সেনা-শিবিরের অধিকারী) ফেরাউন,



মুহিউদ্দিন খান: তাদের পূর্বেও মিথ্যারোপ করেছিল নূহের সম্প্রদায়, আদ, কীলক বিশিষ্ট ফেরাউন,



জহুরুল হক: এদের আগে নূহের ও 'আদের ও বহু শিবিরের মালিক ফিরআউনের লোকদল মিথ্যারোপ করেছিল,



Sahih International: The people of Noah denied before them, and [the tribe of] 'Aad and Pharaoh, the owner of stakes,



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ১২. এদের আগেও রাসূলদের প্রতি মিথ্যারোপ করেছিল নূহের সম্প্রদায়, আদ ও কীলকওয়ালা ফিরআউন(১),


তাফসীর:

(১) এর শাব্দিক অৰ্থ-“কীলকওয়ালা ফেরাউন”। এর তাফসীরে তাফসীরবিদদের উক্তি বিভিন্নরূপ। কেউ কেউ বলেনঃ এতে তার সাম্রাজ্যের দৃঢ়তার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। কেউ কেউ বলেনঃ সে মানুষকে চিৎ করে শুইয়ে তার চার হাত-পায়ে কীলক এটে দিত এবং তার উপরে সাপ-বিছু ছেড়ে দিত। এটাই কি ছিল তার শাস্তি দানের পদ্ধতি। কেউ কেউ বলেনঃ সে রশি ও কীলক দ্বারা বিশেষ এক প্রকার খেলা খেলত। কেউ কেউ আরও বলেনঃ এখানে কীলক বলে অট্রালিকা বোঝানো হয়েছে। সে সুদৃঢ় অট্টালিকা নির্মাণ করেছিল। আবার কেউ কেউ বলেন, এখানে সে যে বহু সেনাদলের অধিপতি ছিল এবং তাদের ছাউনির দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। আবার সম্ভবত কীলক বলতে মিসরের পিরামিডও বুঝানো যেতে পারে, কেননা এগুলো যমীনের মধ্যে কীলকের মতো গাঁথা রয়েছে। [দেখুন: কুরতুবী]


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (১২) এদের পূর্বেও রসূলদেরকে মিথ্যাবাদী বলেছিল, নূহ, আ”দ ও বহু শিবিরের অধিপতি ফিরআউন সম্প্রদায়। [1]


তাফসীর:

[1] ذو الأوتاد  এর আসল অর্থঃ গোঁজ বা কীলক-ওয়ালা। এর মর্মার্থ এই যে, ফিরআউন বিশাল সংখ্যক সেনাবাহিনীর অধিপতি ছিল। যার ছিল অনেক অনেক শিবির বা তাঁবু; যা মাটিতে কীলক গেড়ে টাঙ্গানো হত। অথবা তাকে কীলকওয়ালা এই জন্য বলা হয়েছে যে, যালেম যখন কোন ব্যক্তির উপর অসন্তুষ্ট হত, তখন তার হাত-পা এবং মাথায় কীলক এঁটে দিত। অথবা এর দ্বারা তার শক্তি ও সাম্রাজ্যের সুদৃঢ়তা প্রকাশ করা উদ্দেশ্য। অর্থাৎ, যেমন কীলক দ্বারা কোন বস্তুকে দৃঢ় করা হয় অনুরূপ তার অনুসারীরা তার সাম্রাজ্যকে শক্ত ও দৃঢ় করতে সাহায্য করত।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ১২-১৬ নম্বর আয়াতের তাফসীর :



এ আয়াতগুলোতে আল্লাহ তা‘আলা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সমসাময়িকসহ সকল যুগের কাফির ও মুশরিকদের লক্ষ্য করে বলছেন : শুধু তোমরাই না বরং তোমাদের পূর্বযুগে অনেক জাতি যেমন নূহ, আদ, লূত (আঃ)-এর জাতি এবং ফির‘আউন নাবী-রাসূলদেরকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল। ফলে তাদেরকে শাস্তি পাকড়াও করেছে। অতএব তোমরাও এরূপ করলে তোমাদের প্রতি বিধান ব্যতিক্রম হবে না। এ সম্পর্কে সূরা আ‘রাফ, হূদ ও নামলসহ পূর্বে একাধিক স্থানে আলোচনা করা হয়েছে।



(ذُو الْأَوْتَادِ)



অর্থ “কীলকওয়ালা ফির‘আউন” তাফসীরে এর কয়েকটি অর্থ পাওয়া যায়, যেমন : ফির‘আউন অনেক শক্তি ও সৈন্যবাহিনীর অধিকারী ছিল। কেউ বলেছেন, সে মানুষকে চিৎ করে শুইয়ে তার চার হাত পায়ে কীলক এঁটে দিত এবং তার ওপর সাপ বিচ্ছু ছেড়ে দিত। এটাই ছিল তার শাস্তি দানের পদ্ধতি। কেউ বলেছেন, এখানে কীলক দ্বারা সুদৃঢ় অট্টালিকা বুঝানো হয়েছে।



(وَّأَصْحٰبُ لْئَيْكَةِ)



‘আইকার অধিবাসীরা’ আইকা অর্থ জঙ্গল, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হল শুআইব (আঃ)-এর জাতি। এটা বলার কারণ হল, এই অবাধ্য জাতি প্রচণ্ড গরমে অতিষ্ট হয়ে নিজেদের বসতি ছেড়ে জঙ্গলে আশ্রয় নিলে আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে সেখানেই ধ্বংস করে দেন। এটাও বলা হয় যে, উক্ত জঙ্গলে ‘আইকা’ বলে একটা গাছকে তারা পূজা করত। যার আশপাশ জঙ্গল বেষ্টিত ছিল। এদের সম্পর্কে সূরা আ‘রাফের ৮৫-৯৩ ও হূদের ৮৪-৯৫ নম্বর আয়াতে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।



(صَيْحَةً وَّاحِدَةً)



অর্থাৎ কিয়ামতের জন্য যে ফুঁৎকার দেয়া হবে তারা সে ফুঁৎকারের অপেক্ষা করে। فَوَاقٍ এর একাধিক অর্থ রয়েছে, যেমন : (এক) একবার দুগ্ধ দোহনের পর পুনরায় স্তনে দুধ আসার মধ্যবর্তী সময়কে فَوَاقٍ বলা হয়। (দুই) সুখ-শান্তি। উদ্দেশ্য হল; ইসরাফিল (আঃ)-এর শিঙ্গার ফুঁক অনবরত চলতে থাকবে এতে কোন বিরতি থাকবে না (কুরতুবী)। قِطَّ অর্থ শাস্তির অংশ, অর্থাৎ মক্কার মুশরিকরা বলে আমরা পথভ্রষ্ট হলে বিচার দিনের পূর্বে আমাদেরকে শাস্তি দেয়া হোক।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :



১. রাসূলদের বিরোধিতা করা কাফের-মুশরিকদের কাজ।

২. ফিরআউনের মতো শক্তিধর শাসকও রাসূলের বিরোধিতা করে সফল হয়নি। অতএব এ থেকে আমাদের শিক্ষা নেওয়া উচিত।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ১২-১৬ নং আয়াতের তাফসীর:

পূর্বযুগীয় এসব কাফিরের ঘটনা বেশ কয়েক জায়গায় বর্ণিত হয়েছে যে, তাদের পাপের কারণে কিভাবে তাদের উপর আল্লাহর আযাব এসেছিল এবং তারা সব ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। পূর্বযুগের ঐ সব কাফিরের দল ধন-সম্পদে ও সন্তান-সন্ততিতে এবং শক্তি-সামর্থে এ যুগের এসব কাফিরের অপেক্ষা বহুগুণে অগ্রবর্তী ছিল। এদের ধন-সম্পদ, সন্তান-সন্ততি এবং শক্তি-সামর্থ্য তাদের তুলনায় অতি নগণ্য। এতদসত্ত্বেও আল্লাহর শাস্তি এসে যাবার পর এগুলো তাদের কোনই উপকারে আসেনি।

অতঃপর আল্লাহ তা'আলা অতীত যুগের ঐ সব কাফির দলের ধ্বংসের কারণ প্রসঙ্গে বলেন যে, তাদের প্রত্যেকেই রাসূলদেরকে মিথ্যাবাদী বলেছে। তারা ছিল রাসূলদের চরম শত্রু।

মহান আল্লাহ বলেনঃ এরা তো অপেক্ষা করছে একটি মাত্র প্রচণ্ড নিনাদের, যাতে কোন বিরাম থাকবে না। আর এতেও কোন বিলম্ব নেই। একটি মাত্র প্রচণ্ড শব্দ হবে এবং তা কানে আসা মাত্রই সবাই অজ্ঞান ও প্রাণহীন হয়ে পড়বে। ঐ লোকগুলো এর অন্তর্ভুক্ত হবে না যাদেরকে আল্লাহ স্বতন্ত্র করে নিবেন।

(আরবী) শব্দের অর্থ হচ্ছে অংশ। এখানে এর দ্বারা মুশরিকদের নির্বুদ্ধিতা এবং তাদের আল্লাহর আযাবকে অসম্ভব মনে করতঃ নির্ভয় হয়ে আযাব চাওয়ার বর্ণনা দেয়া হয়েছে। যেমন অন্য জায়গায় আল্লাহ তা'আলা কাফিরদের উক্তি উদ্ধৃতি করেছেনঃ (আরবী) অথাৎ “হে আল্লাহ! যদি এটা আপনার নিকট হতে সত্য হয়ে থাকে তবে আকাশ হতে আমাদের উপর প্রস্তর বর্ষণ করুন অথবা অন্য কোন যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আমাদের উপর নাযিল করুন।” (৮:৩২)।

একথাও বলা হয়েছে যে, তারা তাদের জান্নাতের অংশ এখানে চেয়েছিল। তারা যা কিছু বলেছিল সবই ওটা মিথ্যা ও অসম্ভব মনে করার কারণেই ছিল। ইমাম ইবনে জারীর (রঃ)-এর উক্তি এই যে, দুনিয়ায় তারা যে ভাল ও মন্দের দাবীদার ছিল তা তারা তাড়াতাড়ি চেয়েছিল। এ উক্তিটিই সঠিক। যহ্হাক (রঃ) ও ইসমাঈল (রঃ)-এর তাফসীরের সারমর্ম এটাই। এসব ব্যাপারে আল্লাহই সবচেয়ে ভাল জানেন। আল্লাহ্ তা'আলা স্বীয় রাসূল (সঃ)-কে তাদের স্ক্রিপের ক্ষেত্রে ধৈর্যধারণের উপদেশ দিচ্ছেন।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।