আল কুরআন


সূরা ইয়াসীন (আয়াত: 44)

সূরা ইয়াসীন (আয়াত: 44)



হরকত ছাড়া:

إلا رحمة منا ومتاعا إلى حين ﴿٤٤﴾




হরকত সহ:

اِلَّا رَحْمَۃً مِّنَّا وَ مَتَاعًا اِلٰی حِیْنٍ ﴿۴۴﴾




উচ্চারণ: ইল্লা-রাহমাতাম মিন্না -ওয়া মাতা-‘আন ইলা-হীন।




আল বায়ান: যদি না আমার পক্ষ থেকে রহমত হয় এবং কিছু সময়ের জন্য উপভোগের সুযোগ দেয়া হয়।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৪৪. আমার পক্ষ থেকে রহমত না হলে এবং কিছু কালের জন্য জীবনোপভোগ করতে না দিলে।




তাইসীরুল ক্বুরআন: আমার রহমত না হলে, আর কিছু কালের জন্য তাদেরকে জীবন উপভোগ করতে না দিলে।




আহসানুল বায়ান: (৪৪) ওদের প্রতি আমার করুণা না হলে এবং ওদেরকে কিছুকালের জন্য জীবনোপভোগ করতে না দিলে।



মুজিবুর রহমান: আমার অনুগ্রহ না হলে এবং কিছুকালের জন্য জীবনোপকরণ ভোগ করতে না দিলে।



ফযলুর রহমান: তবে আমার পক্ষ থেকে অনুগ্রহবশত এবং এক নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত (দুনিয়ার সুখ) ভোগ করতে দেওয়ার জন্য (তা করি না)।



মুহিউদ্দিন খান: কিন্তু আমারই পক্ষ থেকে কৃপা এবং তাদেরকে কিছু কাল জীবনোপভোগ করার সুযোগ দেয়ার কারণে তা করি না।



জহুরুল হক: আমাদের থেকে করুণা ব্যতীত, আর কিছুকালের জন্য জীবনোপভোগকরণ মাত্র।



Sahih International: Except as a mercy from Us and provision for a time.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৪৪. আমার পক্ষ থেকে রহমত না হলে এবং কিছু কালের জন্য জীবনোপভোগ করতে না দিলে।


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৪৪) ওদের প্রতি আমার করুণা না হলে এবং ওদেরকে কিছুকালের জন্য জীবনোপভোগ করতে না দিলে।


তাফসীর:

-


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৪১-৪৪ নম্বর আয়াতের তাফসীর :



পূর্বের আয়াতগুলোতে সৌরবিজ্ঞানের কয়েকটি নির্দশন নিয়ে আলোচনা করার পর এখানে সমুদ্র বিজ্ঞানের কয়েকটি নির্দশন নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে। আল্লাহ তা‘আলা মানব জাতির জন্য সমুদ্রে নৌকাসমূহ, জাহাজ ইত্যাদি চলাচল সহজ করে দিয়েছেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন : “আমি তাদের বংশধরদেরকে বোঝাই নৌযানে আরোহন করিয়েছিলাম”। এখানে নূহ (আঃ)-এর নৌযানের কথা বলা হয়েছে। যে নৌকাতে সমস্ত আসবাবপত্র ছিল এবং সেই সাথে আল্লাহ তা‘আলার নির্দেশক্রমে তাতে অন্যান্য জীব-জন্তুকেও উঠিয়ে নেওয়া হয়েছিল। প্রত্যেক প্রকারের জন্তু এক জোড়া করে ছিল। যার ফলে নৌযানটি ছিল বোঝাইকৃত। আল্লাহ তা’আলা এরূপ বোঝাইকৃত নৌযান গভীর সমুদ্রের ওপর ভাসিয়ে একস্থান থেকে অন্য স্থানে পৌঁছে দেন। এ সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলা সূরা হাক্কাহর ১১-১২ নম্বর আয়াতেও উল্লেখ করেছেন।



এরপর আল্লাহ তা‘আলা বলেন : তিনি ঐ নৌযানের মতো স্থলযানও সৃষ্টি করেছেন যাতে তারা স্থল ভাগে আরোহন করতে পারে। যেমন উট, ঘোরা- এগুলোর নমুনা থেকে বর্তমানে আবিস্কৃত, উড়োজাহাজ, বাস, ট্রাক ইত্যাদি আল্লাহ তা‘আলা মানব জাতির ভ্রমণের জন্য তৈরী করেছেন। মানুষ এসব কয়েক বছর আগে আবিষ্কার করেছে, অথচ তা আল্লাহ তা‘আলা ১৪০০ বছর আগে বলে দিয়েছেন। এসব প্রমাণ করে পৃথিবীর একজন সৃষ্টিকর্তা রয়েছেন, তিনি হলেন আল্লাহ তা‘আলা। তারপর আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বান্দাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছেন যে, তারা যেন আল্লাহ তা‘আলার নেয়ামতের অকৃতজ্ঞ না হয়। তোমরা চিন্তা করে দেখ কিভাবে আমি তোমাদেরকে সমুদ্রে বিচরণ করাই। যদি আমি চাই তাহলে জাহাজসহ তোমাদেরকে সমুদ্রে নিমজ্জিত করতে পারি, কিন্তু তা করিনি। সুতরাং তোমরা আমার অনুগ্রহের যথাযথ শুকরিয়া আদায় করো।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :



১. কেউ কোন উপকার করলে তা অস্বীকার করা যাবে না। বরং তার যথাযথ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা উচিত।

২. আল্লাহর কয়েকটি নির্দশনের বর্ণনা জানতে পারলাম যা তাঁর মহত্ত্ব ও বড়ত্বের প্রমাণ বহন করে।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৪১-৪৪ নং আয়াতের তাফসীর:

আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা স্বীয় ক্ষমতার আর একটি নিদর্শন বর্ণনা করছেন যে, তিনি সমুদ্রকে কাজে লাগিয়ে রেখেছেন যাতে নৌযানগুলো বরাবরই যাতায়াত করতে রয়েছে। সর্বপ্রথম নৌকাটি ছিল হযরত নূহ (আঃ)-এর, যার উপর সওয়ার হয়ে স্বয়ং তিনি এবং তার সঙ্গীয় ঈমানদাররা রক্ষা পেয়েছিলেন। তারা ছাড়া সারা ভূ-পৃষ্ঠে আর একটি লোকও রক্ষা পায়নি।

মহান আল্লাহ বলেনঃ আমি তাদের বংশধরদেরকে বোঝাই নৌযানে আরোহণ করিয়েছিলাম। নৌকাটি পূর্ণরূপে বোঝাই থাকার কারণ ছিল এই যে, তাতে প্রয়োজনীয় সমস্ত আসবাবপত্র ছিল এবং সাথে সাথে আল্লাহ তাআলার নির্দেশক্রমে তাতে অন্যান্য জীবজন্তুকেও উঠিয়ে নেয়া হয়েছিল। প্রত্যেক প্রকারের জন্তু এক জোড়া করে ছিল। নৌযানটি ছিল খুবই দৃঢ়, মযবূত ও বিরাট। এই বিশেষণগুলোও সঠিকভাবে হযরত নূহ (আঃ)-এর নৌকার উপরই বসে। অনুরূপভাবে মহামহিমান্বিত আল্লাহ স্থলভাগের সওয়ারীগুলোও মানুষের জন্যে সৃষ্টি করেছেন। যেমন স্থলে উট ঐ কাজই দেয় যে কাজ সমুদ্রে নৌযান দ্বারা হয়। অনুরূপভাবে অন্যান্য চতুষ্পদ জন্তুগুলোও স্থলভাগে মানুষের কাজে লেগে থাকে। এও হতে পারে যে, হযরত নূহ (আঃ)-এর নৌকাটি নমুনা স্বরূপ হয়, অতঃপর এই নমুনার উপর অন্যান্য নৌকা ও পানি জাহাজ নির্মিত হয়। নিম্নের আয়াতগুলো এর পৃষ্ঠপোষকতা করেঃ (আরবী) অর্থাৎ ‘যখন জলোচ্ছ্বাস হয়েছিল তখন আমি তোমাদেরকে আরোহণ করিয়েছিলাম নৌযানে। আমি এটা করেছিলাম তোমাদের শিক্ষার জন্যে এবং এই জন্যে যে, শ্রুতিধর কর্ণ এটা সংরক্ষণ করে।”(৬৯-১১-১২)

মহান আল্লাহ বলেনঃ তোমরা আমার নিয়ামতের প্রতি অকৃতজ্ঞ হয়ো না। চিন্তা করে দেখো যে, কিভাবে আমি তোমাদেরকে সমুদ্র পার করে দিলাম। আমি ইচ্ছা করলে তোমাদেরকে সমুদ্রে নিমজ্জিত করে দিতে পারি। গোটা নৌকাটি পানির নীচে বসিয়ে দিতে আমি পূর্ণরূপে ক্ষমতাবান। তখন এমন কেউ হবে না যে তোমাদেরকে সাহায্য করতে পারে এবং তোমাদেরকে বাচাতে পারে। কিন্তু এটা একমাত্র আমারই রহমত যে, তোমরা লম্বা চওড়া সফর আরামে ও নিরাপদে অতিক্রম করছে এবং আমি তোমাদেরকে আমার ওয়াদাকৃত নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সর্বপ্রকারের শান্তিতে রাখছি।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।