আল কুরআন


সূরা ইয়াসীন (আয়াত: 45)

সূরা ইয়াসীন (আয়াত: 45)



হরকত ছাড়া:

وإذا قيل لهم اتقوا ما بين أيديكم وما خلفكم لعلكم ترحمون ﴿٤٥﴾




হরকত সহ:

وَ اِذَا قِیْلَ لَهُمُ اتَّقُوْا مَا بَیْنَ اَیْدِیْکُمْ وَ مَا خَلْفَکُمْ لَعَلَّکُمْ تُرْحَمُوْنَ ﴿۴۵﴾




উচ্চারণ: ওয়া ইযা-কীলা লাহুমুত্তাকূ মা- বাইনা আইদীকুম ওয়ামা- খালফাকুম লা‘আল্লাকুম তুরহামূন।




আল বায়ান: আর যখন তাদেরকে বলা হয়, যা তোমাদের সামনে আছে এবং যা তোমাদের পিছনে আছে সে বিষয়ে সতর্ক হও, যাতে তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করা যায়।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৪৫. আর যখন তাদেরকে বলা হয়, যা তোমাদের সামনে ও তোমাদের পিছনে রয়েছে সে ব্যাপারে তাকওয়া অবলম্বন কর(১); যাতে তোমাদের উপর রহমত করা হয়,




তাইসীরুল ক্বুরআন: তাদেরকে যখন বলা হয় ‘‘তোমাদের সামনে যে পরিণাম আসছে তাত্থেকে আর তোমাদের পেছনের (অতীত জাতিগুলোর উপর ঘটে গেছে সে রকম) ‘আযাব থেকে নিজেদেরকে রক্ষা কর যাতে তোমাদের উপর রহম করা হয় (তখন তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়)।’’




আহসানুল বায়ান: (৪৫) যখন ওদেরকে বলা হয়, ‘তোমরা অগ্রে যা (পাপ বা শাস্তি) আছে ও পশ্চাতে যা (পাপ বা শাস্তি) আছে, তাকে ভয় কর; যাতে তোমরা করুণার পাত্র হতে পার।’ (তখন ওরা তা অগ্রাহ্য করে।)



মুজিবুর রহমান: যখন তাদেরকে বলা হয়ঃ যা তোমাদের সম্মুখে ও পশ্চাতে রয়েছে সে সম্বন্ধে সাবধান হও যাতে তোমরা অনুগ্রহভাজন হতে পার।



ফযলুর রহমান: যখন তাদেরকে বলা হয়, “তোমাদের সামনে যা আছে (দুনিয়ার শাস্তি) এবং পেছনে যা আছে (আখেরাতের শাস্তি) তাকে ভয় করো, যাতে তোমরা অনুগ্রহ লাভ করতে পার” (তখন তারা তা অগ্রাহ্য করে)।



মুহিউদ্দিন খান: আর যখন তাদেরকে বলা হয়, তোমরা সামনের আযাব ও পেছনের আযাবকে ভয় কর, যাতে তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করা হয়, তখন তারা তা অগ্রাহ্য করে।



জহুরুল হক: আর যখন তাদের বলা হয় -- "ভয় করো যা তোমাদের সামনে রয়েছে আর যা তোমাদের পেছনে রয়েছে, যেন তোমাদের প্রতি করুণা করা হয়।"



Sahih International: But when it is said to them, "Beware of what is before you and what is behind you; perhaps you will receive mercy... "



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৪৫. আর যখন তাদেরকে বলা হয়, যা তোমাদের সামনে ও তোমাদের পিছনে রয়েছে সে ব্যাপারে তাকওয়া অবলম্বন কর(১); যাতে তোমাদের উপর রহমত করা হয়,


তাফসীর:

(১) কাতাদাহ বলেন, এর অর্থ, তাদেরকে বলা হয়, তোমরা তোমাদের পূর্বেকার উম্মতদের উপর যে সমস্ত ঘটনাবলী ঘটেছে, তাদের উপর যে সমস্ত আযাব এসেছে, সে সমস্ত আযাব তোমাদের উপর আসার ব্যাপারে তাকওয়া অবলম্বন কর এবং তোমাদের সামনে যা রয়েছে অর্থাৎ কিয়ামত, সে ব্যাপারেও তাকওয়া অবলম্বন কর। [তাবারী] তবে মুজাহিদ বলেন, তোমাদের পূর্বে বলে, তাদের যে সমস্ত গোনাহ ও অপরাধ ইতোপূর্বে সংঘটিত হয়েছে সেগুলোকে উদ্দেশ্য নেয়া হয়েছে। [তাবারী]


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৪৫) যখন ওদেরকে বলা হয়, ‘তোমরা অগ্রে যা (পাপ বা শাস্তি) আছে ও পশ্চাতে যা (পাপ বা শাস্তি) আছে, তাকে ভয় কর; যাতে তোমরা করুণার পাত্র হতে পার।” (তখন ওরা তা অগ্রাহ্য করে।)


তাফসীর:

-


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৪৫-৫৪ নম্বর আয়াতের তাফসীর :



পূর্বের আয়াতগুলোতে আল্লাহ তা‘আলা তা’আলা কয়েকটি নির্দশন বর্ণনা করার পর এখানে তিনি বলছেন : তাওহীদ ও রিসালতের সত্যতা প্রমাণে যে কোন নির্দশন তাদের কাছে এসেছে তারা সকল নির্দশন নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করেছে এবং মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।



(مَا بَيْنَ أَيْدِيْكُمْ وَمَا خَلْفَكُمْ)



‘যা তোমাদের সামনে রয়েছে এবং যা তোমাদের পিছনে আছে’ অর্থাৎ যে আমলগুলো তোমরা অতীতে করেছ এবং তোমাদের সামনে যে কবর, জাহান্নাম রয়েছে সে জন্য ভয় কর।



(وَإِذَا قِيْلَ لَهُمْ أَنْفِقُوْا)



অর্থাৎ তাদেরকে যখন বলা হয়- অভাবী গরীব মিসকীনদেরকে দান কর এবং আল্লাহ তা‘আলার রাস্তায় ব্যয় করো ঐ সকল জীবিকা হতে যা আল্লাহ তা‘আলা তোমাদেরকে দান করেছেন। তখন তারা বলে যে, আল্লাহ তা‘আলার ইচ্ছা হলে তিনি নিজেই তো তাদেরকে খেতে দিতে পারতেন? সুতরাং তিনি যেহেতু তাদেরকে খাওয়াননি তাহলে আমরা কেন তাদেরকে খাওয়াব? অতএব তোমরা আমাদের এ গরীব-মিসকিনদেরকে খাওয়ানোর কথা বলে অন্যায় কাজ করছ। আমরা তাদের পিছনে অর্থ-সম্পদ খরচ করব না।



(مَتٰي هٰذَا الْوَعْدُ)



‘এ প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন কখন হবে?’ অর্থাৎ কাফির-মুশরিকরা কিয়ামত সংঘঠিত হওয়াকে অসম্ভব মনে করে জিজ্ঞাসা করে কিয়ামত কখন হবে? আল্লাহ তা‘আলা বলছেন, মূলত তারা একটি মহা গর্জনের অপেক্ষা করছে।



অর্থাৎ মানুষ বাজারে কেনা-বেচা এবং স্বাভাবিক অভ্যাস অনুযায়ী কথাবার্তা ও বাক-বিতণ্ডায় লিপ্ত থাকবে, এমন সময় হঠাৎ শিঙ্গায় ফুঁৎকার দেয়া হবে এবং কিয়ামত সংঘঠিত হয়ে যাবে। এটা হবে প্রথম ফুঁৎকার, যাকে نفخة الفزع বলা হয়। বলা হয়েছে যে, এর পরে দ্বিতীয় ফুঁৎকার হবে, যাকে نفخة الصعق বলা হয়। যাতে আল্লাহ তা‘আলা ছাড়া সমস্ত জীব মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়বে।



وَنُفِخَ فِي الصُّوْر



অর্থাৎ প্রথম মত অনুযায়ী এটা দ্বিতীয় ফুঁৎকার এবং দ্বিতীয় মত অনুযায়ী এটা তৃতীয় ফুৎকার হবে, যাকে



نفخة البعث و النشور



বলা হয়। এতে মানুষকে কবর থেকে জীবিত করা হবে। (ইবনু কাসীর)



الْأَجْدَاثِ শব্দটি جدث এর বহুবচন, অর্থ কবর। يَنْسِلُوْنَ শব্দটি نسلان থেকে উদ্ভূত। অর্থ দ্রুত চলা। অর্থাৎ তারা দ্রুত কবর থেকে বের হবে। অন্য আয়াতে রয়েছে : হাশরের সময় মানুষ কবর থেকে উঠে দেখতে থাকবে। এ বক্তব্য পূর্ববর্তী বক্তব্যের পরিপন্থী নয়, কারণ প্রথমাবস্থায় বিস্মিত হয়ে দন্ডায়মান অবস্থায় দেখতে থাকবে এবং পরে দ্রুতগতিতে হাশরের দিকে দৌড়াতে থাকবে।



(مَنْۭ بَعَثَنَا مِنْ مَّرْقَدِنَا)



‘কে আমাদেরকে আমাদের কবর থেকে উঠাল?’ অর্থাৎ মু’মিনরা কবরে যে আরাম-আয়েশে ছিল কিয়ামত সংঘটিত হলে তা বর্জন করে উঠতে হবে আর কাফিররা কবরের আযাবের চেয়ে আরো কঠিন আযাবের সম্মুখিন হবে তাই তারা সবাই এ কথা বলবে। ফেরেশতারা তাদের কথার জবাবে বলবে :



(هٰذَا مَا وَعَدَ الرَّحْمٰنُ وَصَدَقَ الْمُرْسَلُوْنَ)



‘দয়াময় আল্লাহ তো এরই ওয়াদা দিয়েছিলেন এবং রাসূলগণ সত্যই বলেছিলেন।’



অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা বলেন, কিয়ামতের দিবসে কারো প্রতি কোন প্রকার জুলুম করা হবে না। প্রত্যেকে যা আমল করবে তাকে তারই প্রতিদান দেয়া হবে। সুতরাং যে যা আমল করবে কিয়ামতের দিন সে তা-ই পাবে।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :



১. আল্লাহ তা‘আলার বিধানের প্রতি ঠাট্টা-বিদ্রূপ করা যাবে না।

২. আল্লাহ তা‘আলার রাস্তায় বেশি বেশি ব্যয় করা উচিত, এতে নেকীর পাল্লা ভারী হবে।

৩. কিয়ামত মানুষের নিকট হঠাৎ চলে আসবে। তারা বুঝতেও পারবে না। সুতরাং সর্বদা ভাল কাজ করতে হবে মন্দ কাজ করা যাবে না।

৪. বিচারের মাঠে কারো প্রতি কোন জুলুম করা হবে না, প্রত্যেকে আপন-আপন কর্মের ফল পাবে।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৪৫-৪৭ নং আয়াতের তাফসীর:

আল্লাহ তা'আলা কাফিরদের হঠকারিতা, নির্বুদ্ধিতা, ঔদ্ধ্যত এবং অহংকারের খবর দিচ্ছেন যে, যখন তাদেরকে পাপ কাজ হতে বিরত থাকতে বলা হয় এবং বলা হয়ঃ তোমরা তোমাদের কৃতকর্মের জন্যে লজ্জিত হও, তাওবা কর এবং আগামীর জন্যে ওগুলো হতে সতর্ক হও ও বেঁচে থাকার চেষ্টা কর, তাহলে পরিণামে আল্লাহ্ তোমাদের প্রতি দয়া করবেন, তখন তারা এটা মেনে নেয়া তো দূরের কথা, বরং অহংকারে ফুলে ওঠে। আল্লাহ্ তা'আলা এখানে এ বাক্যটি বর্ণনা করেননি। কেননা, পরে যে আয়াতটি রয়েছে ওটা স্পষ্টভাবে এটা বলে দিচ্ছে। তাতে এ কথা রয়েছে যে, শুধু কি এটাই? তাদের তো অভ্যাসে পরিণত হয়েছে যে, তারা আল্লাহর প্রত্যেক কথা হতেই মুখ ফিরিয়ে নিয়ে থাকে। না তারা তাঁর একত্ববাদে বিশ্বাসী হয়, না এ ব্যাপারে কোন চিন্তা-ভাবনা করে। তাদের মধ্যে এটা কবুল করে নেয়ার কোন যোগ্যতাই নেই এবং তাদের এ অভিজ্ঞতাও নেই যে, এর থেকে উপকার লাভ করে।

যখন তাদেরকে আল্লাহর পথে দান-খয়রাত করতে বলা হয় এবং বলা হয় যে, তাদেরকে আল্লাহ তা'আলা যে জীবনোপকরণ দিয়েছেন তাতে ফকীর মিসকীন ও অভাবগ্রস্তদেরও অংশ রয়েছে তখন তারা উত্তর দেয়ঃ “আল্লাহর ইচ্ছা হলে নিজেই তিনি তাদেরকে খেতে দিতে পারতেন? কাজেই আল্লাহর যখন ইচ্ছা নেই তখন আমরা কেন তাঁর মর্জির উল্টো কাজ করবো? তোমরা যে আমাদেরকে দান খয়রাতের কথা বলছো এটা তোমরা ভুল করছো। তোমরা তো স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে রয়েছে।” হতে পারে যে, এই শেষ বাক্যটি আল্লাহর পক্ষ হতে কাফিরদের দাবী খণ্ডন করতে গিয়ে বলা হয়েছে। অর্থাৎ আল্লাহ তা'আলাই কাফিরদেরকে বলছেনঃ “তোমরা স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে রয়েছে। কিন্তু এর চেয়ে এটাই বেশী ভাল মনে হচ্ছে যে, এটাও কাফিরদেরই জবাবের অংশ। আল্লাহ তা'আলাই এসব ব্যাপারে সবচেয়ে ভাল জানেন।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।