সূরা ফাতির (আয়াত: 40)
হরকত ছাড়া:
قل أرأيتم شركاءكم الذين تدعون من دون الله أروني ماذا خلقوا من الأرض أم لهم شرك في السماوات أم آتيناهم كتابا فهم على بينة منه بل إن يعد الظالمون بعضهم بعضا إلا غرورا ﴿٤٠﴾
হরকত সহ:
قُلْ اَرَءَیْتُمْ شُرَکَآءَکُمُ الَّذِیْنَ تَدْعُوْنَ مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ ؕ اَرُوْنِیْ مَاذَا خَلَقُوْا مِنَ الْاَرْضِ اَمْ لَهُمْ شِرْکٌ فِی السَّمٰوٰتِ ۚ اَمْ اٰتَیْنٰهُمْ کِتٰبًا فَهُمْ عَلٰی بَیِّنَتٍ مِّنْهُ ۚ بَلْ اِنْ یَّعِدُ الظّٰلِمُوْنَ بَعْضُهُمْ بَعْضًا اِلَّا غُرُوْرًا ﴿۴۰﴾
উচ্চারণ: কুল আরাআইতুম শুরাকাআকুমুল্লাযীনা তাদ‘ঊনা মিন দূ নিল্লা-হি আরূনী মা-যাখালাকূমিনাল আরদিআম লাহুম শিরকুন ফিছ ছামা-ওয়া-তি আম আ-তাইনা-হুম কিতা-বান ফাহুম ‘আলা-বাইয়িনাতিম মিনহু বাল ইয়ঁইয়া‘ইদুজ্জা-লিমূনা বা‘দুহুম বা‘দান ইল্লা-গুরূরা
আল বায়ান: বল, ‘তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদেরকে ডাক, সেই শরীকদের কথা ভেবে দেখেছ কি? আমাকে দেখাও তারা যমীনের কী সৃষ্টি করেছে? অথবা আসমানসমূহের মধ্যে কি তাদের কোন অংশীদারিত্ব আছে? অথবা আমি কি তাদেরকে কোন কিতাব দিয়েছি, যার কোন সুস্পষ্ট প্রমাণের উপর তারা আছে’? বরং যালিমরা একে অপরকে কেবল প্রতারণামূলক ওয়াদাই দিয়ে থাকে।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৪০. বলুন, তোমরা আল্লাহ্র পরিবর্তে তোমাদের যে সব শরীকদের ডাক, তাদের কথা ভেবে দেখেছ কি? তারা যমীনে কিছু সৃষ্টি করে থাকলে আমাকে দেখাও; অথবা আসমানের সৃষ্টিতে তাদের কোন অংশ আছে কি? না কি আমরা তাদেরকে এমন কোন কিতাব দিয়েছি যার প্রমাণের উপর তারা নির্ভর করে?(১) বরং যালিমরা একে অন্যকে প্রতারণা ছাড়া আর কিছুরই প্রতিশ্রুতি দেয় না।
তাইসীরুল ক্বুরআন: বল- তোমরা কি তোমাদের শরীকদেরকে দেখেছ আল্লাহর পরিবর্তে তোমরা যাদেরকে ডেকে থাক? তারা পৃথিবীতে কী সৃষ্টি করেছে তা আমাকে দেখাও; কিংবা আকাশমন্ডলীতে তাদের কোন শরীকানা আছে কি? কিংবা আমি কি তাদেরকে কোন কিতাব দিয়েছি যাত্থেকে কোন সুস্পষ্ট প্রমাণের উপর তারা আছে? বরং সীমালঙ্ঘনকারীরা একে অপরকে প্রতারণামূলক ওয়া‘দা দিয়ে থাকে।
আহসানুল বায়ান: (৪০) বল, ‘তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যে সকল শরীকদের আহবান কর, তাদের কথা ভেবে দেখেছ কি? তারা পৃথিবীতে কিছু সৃষ্টি করে থাকলে আমাকে দেখাও; অথবা আকাশমন্ডলীতে ওদের কোন অংশ আছে কি?’ নাকি আমি তাদেরকে এমন কোন গ্রন্থ দিয়েছি যার প্রমাণের ওপর ওরা নির্ভর করে? [1] বরং সীমালংঘনকারীরা একে অপরকে ধোঁকামূলক প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকে।[2]
মুজিবুর রহমান: বলঃ তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদেরকে ডাক সেসব দেবদেবীর কথা ভেবে দেখেছ কি? তারা পৃথিবীতে কিছু সৃষ্টি করে থাকলে আমাকে দেখাও; অথবা আকাশমন্ডলী সৃষ্টিতে তাদের কোন অংশ আছে কি? না কি আমি তাদেরকে এমন কোন কিতাব দিয়েছি যার প্রমাণের উপর এরা নির্ভর করে? বস্তুতঃ যালিমরা একে অপরকে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকে।
ফযলুর রহমান: বল, “আল্লাহ ব্যতীত তোমরা যাদেরকে ডাক, তোমাদের সেই শরীকদের কথা কি ভেবে দেখেছো? তোমরা আমাকে দেখাও তো, তারা পৃথিবীতে কী সৃষ্টি করেছে? নাকি আসমানে তাদের কোন অংশ আছে?” নাকি আমি তাদেরকে কোন কিতাব দিয়েছি যে তারা তার প্রমাণের ওপর রয়েছে? আসলে জালেমরা কেবল একে অন্যকে প্রতারণামূলক ওয়াদা দিয়ে থাকে।
মুহিউদ্দিন খান: বলুন, তোমরা কি তোমাদের সে শরীকদের কথা ভেবে দেখেছ, যাদেরকে আল্লাহর পরিবর্তে তোমরা ডাক? তারা পৃথিবীতে কিছু সৃষ্টি করে থাকলে আমাকে দেখাও। না আসমান সৃষ্টিতে তাদের কোন অংশ আছে, না আমি তাদেরকে কোন কিতাব দিয়েছি যে, তারা তার দলীলের উপর কায়েম রয়েছে, বরং জালেমরা একে অপরকে কেবল প্রতারণামূলক ওয়াদা দিয়ে থাকে।
জহুরুল হক: তুমি বলো -- "তোমরা কি ভেবে দেখেছ তোমাদের অংশীদেবতাদের কথা যাদের তোমরা আল্লাহ্কে বাদ দিয়ে ডাক? আমাকে দেখাও তো পৃথিবীর কোনো অংশ তারা সৃষ্টি করেছে, না কি তাদের কোনো শরিকানা রয়েছে মহাকাশমন্ডলে?" না কি আমরা তাদের এমন কোনো গ্রন্থ দিয়েছি যার থেকে তারা স্পষ্ট প্রমাণের উপরে রয়েছে? না, অন্যায়াচারীরা তাদের একে অন্যকে প্রতারণা করা ব্যতীত অন্য প্রতিশ্রুতি দেয় না।
Sahih International: Say, "Have you considered your 'partners' whom you invoke besides Allah? Show me what they have created from the earth, or have they partnership [with Him] in the heavens? Or have We given them a book so they are [standing] on evidence therefrom? [No], rather, the wrongdoers do not promise each other except delusion."
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৪০. বলুন, তোমরা আল্লাহ্–র পরিবর্তে তোমাদের যে সব শরীকদের ডাক, তাদের কথা ভেবে দেখেছ কি? তারা যমীনে কিছু সৃষ্টি করে থাকলে আমাকে দেখাও; অথবা আসমানের সৃষ্টিতে তাদের কোন অংশ আছে কি? না কি আমরা তাদেরকে এমন কোন কিতাব দিয়েছি যার প্রমাণের উপর তারা নির্ভর করে?(১) বরং যালিমরা একে অন্যকে প্রতারণা ছাড়া আর কিছুরই প্রতিশ্রুতি দেয় না।
তাফসীর:
(১) কাতাদাহ এ আয়াতের তাফসীরে বলেন, আল্লাহ্ বলেন, “বলুন, তোমরা আল্লাহ্র পরিবর্তে তোমাদের যে সব শরীকদের ডাক, তাদের কথা ভেবে দেখেছি কি? তারা যমীনে কিছু সৃষ্টি করে থাকলে আমাকে দেখাও, তারা এর মধ্য থেকে কিছুই সৃষ্টি করে নি। ‘অথবা আসমানের সৃষ্টিতে তাদের কোন অংশ আছে কি? না, তারা আসমান সৃষ্টিতেও শরীক নয়। এতে তাদের কোন অংশীদারীত্ব নেই। না কি আমরা তাদেরকে এমন কোন কিতাব দিয়েছি যার প্রমানের উপর তারা নির্ভর করে”। অর্থাৎ নাকি তাদেরকে আমরা কোন কিতাব দিয়েছি যা তাদেরকে শির্ক করতে নির্দেশ দেয়? [তাবারী]
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৪০) বল, ‘তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যে সকল শরীকদের আহবান কর, তাদের কথা ভেবে দেখেছ কি? তারা পৃথিবীতে কিছু সৃষ্টি করে থাকলে আমাকে দেখাও; অথবা আকাশমন্ডলীতে ওদের কোন অংশ আছে কি?” নাকি আমি তাদেরকে এমন কোন গ্রন্থ দিয়েছি যার প্রমাণের ওপর ওরা নির্ভর করে? [1] বরং সীমালংঘনকারীরা একে অপরকে ধোঁকামূলক প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকে।[2]
তাফসীর:
[1] অর্থাৎ, আমি কি তাদের উপর এমন কোন কিতাব অবতীর্ণ করেছি যাতে লিপিবদ্ধ আছে যে, আকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টিতে আমার অংশীদার আছে?
[2] অর্থাৎ, এ সবের কিছুও নয়। বরং এরা আপোসে একে অন্যকে পথভ্রষ্ট করতে থেকেছে। তাদের দলপতি ও পীররা বলত যে, এই সকল মা’বূদ তাদের উপকার করবে, তাদেরকে আল্লাহর নিকটবর্তী করে দেবে এবং তাদের জন্য সুপারিশ করবে। অথবা এই সকল বাক্য শয়ত্বান মুশরিকদেরকে বলত। অথবা তাদের ঐ প্রতিশ্রুতিকে বুঝানো হয়েছে যা তারা একে অপরের সামনে বলাবলি করত যে, তারা মুসলিমদের উপর বিজয়ী হবে। যাতে তারা নিজেদের কুফরীর উপর অটল থাকার উৎসাহ পেত।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৩৮-৪১ নং আয়াতের তাফসীর:
আকাশ ও জমিনের সকল গায়েবের খবর একমাত্র আল্লাহ তা‘আলাই জানেন এমনকি মানুষের অন্তরের খবরও জানেন, সে কথাই এখানে ব্যক্ত করা হয়েছে।
এরপর আল্লাহ তা‘আলা বলেন, তিনিই মানুষকে জমিনে একজনকে অন্যজনের প্রতিনিধি করেছেন। অর্থাৎ একজন জমিনে আসবে, তার সময় শেষে চলে যাবে আবার অন্যজন দুনিয়াতে আসবে, জমিন আবাদ করবে, এভাবেই কিয়ামত পর্যন্ত চলতে থাকবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
(وَيَجْعَلُكُمْ خُلَفَا۬ءَ الْأَرْضِ)
“এবং তোমাদেরকে পৃথিবীতে প্রতিনিধি করেন।” (সূরা নামল ২৭:৬২)
অতঃপর তিনি বলেন: কেউ যদি কুফরী করে তাহলে তার শাস্তি তাকেই পেতে হবে। আর কাফিরদের কুফরী কোনই ফায়দা দেয় না, শুধু আল্লাহ তা‘আলার ক্রোধই বৃদ্ধি করে এবং তাদের নিজেদেরই ক্ষতি হয়।
(قُلْ اَرَءَیْتُمْ شُرَکَا۬ءَکُمُ.... اِنَّھ۫ کَانَ حَلِیْمًا غَفُوْرًاﭸ)
আল্লাহ তা‘আলা পৃথিবীর সকল মুশরিকদেরকে আহ্বান করে বলেন: তোমরা আল্লাহ তা‘আলাকে বাদ দিয়ে অন্য যাদের ইবাদত কর, সমস্যা নিরসনে ও কল্যাণ লাভের জন্য আহ্বান কর, আমাকে দেখাও তো তারা পৃথিবীর কোন কিছু সৃষ্টি করেছে কি? অথবা আকাশ-জমিন সৃষ্টি করাতে তাদের অংশীদারিত্ব রয়েছে কিনা? নাকি আমি তোমাদেরকে এমন কিতাব দিয়েছি যাতে শিরক করার কথা উল্লেখ রয়েছে ফলে তোমরা সুস্পষ্ট প্রমাণের ওপর প্রতিষ্ঠিত রয়েছ। না, এসব কিছুই নেই, বরং পূর্বে যত কিতাব নাযিল করা হয়েছে বা যত নাবী কিতাব নিয়ে এসেছেন তাতে এক আল্লাহ তা‘আলার ইবাদত করার নির্দেশই ছিল।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(وَمَآ أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رَّسُوْلٍ إِلَّا نُوْحِيْٓ إِلَيْهِ أَنَّه۫ لَآ إِلٰهَ إِلَّآ أَنَا فَاعْبُدُوْنِ)
“আমি তোমার পূর্বে যখন কোন রাসূল প্রেরণ করেছি তার প্রতি এ ওয়াহী করেছি, ‘আমি ব্যতীত অন্য কোন সত্যিকার মা‘বূদ নেই; সুতরাং আমারই ‘ইবাদত কর।’’ (সূরা আম্বিয়া ২১:২৫)
তাহলে এসব মুশরিকরা কেন আল্লাহ তা‘আলাকে বাদ দিয়ে অন্যান্য বাতিল মা‘বূদের ইবাদত করে? তারা যদি কোন কিছু সৃষ্টিই না করতে পারে তাহলে তারা কিভাবে ইবাদত পাওয়ার যোগ্য হতে পারে? সুতরাং একমাত্র আল্লাহ তা‘আলারই ইবাদত করতে হবে, কারণ তিনি সবকিছুর স্রষ্টা। যিনি সৃষ্টিকর্তা তিনিই ইবাদত পাওয়ার যোগ্য। এ সম্পর্কে সূরা আল ফুরক্বান-এর ৩ ও সূরা র্আ রা‘দ-এর ১৬ নং আয়াতে আলোচনা করা হয়েছে।
অর্থাৎ এসব মুশরিক জালিমরা একে অপরকে যে প্রতিশ্র“তি দেয় তা ধোঁকা ছাড়া কিছুই নয়। কারণ তারা আল্লাহ তা‘আলার সাথে যেসব শিরক করে তাদের কাছে তার তো কোন প্রমাণ নেই। তাই বিভিন্ন আশা ও প্রতিশ্রুতি দিয়ে মানুষকে নিজেদের পথে আহ্বান করে।
এরপর আল্লাহ তা‘আলা বলেন যে, তিনিই আকাশমণ্ডলী ও জমিনকে স্থির করে রাখেন যাতে তা স্থানচ্যুত না হয়, নড়াচড়া না করতে পারে ও ঢলে না পড়ে। কেননা আকাশ-জমিন সর্বদা কম্পন করতে থাকলে, নড়াচড়া করলে তাতে বসবাস করা সম্ভব হবে না, সর্বদা মানুষ শংকিত থাকবে কখন যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়ে আর আকাশ ভেঙ্গে পড়লে বা জমিন কম্পন করতে থাকলে আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত অন্য কেউ তা স্থির করে রাখার নেই।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
(وَيُمْسِكُ السَّمَا۬ءَ أَنْ تَقَعَ عَلَي الْأَرْضِ إِلَّا بِإِذْنِه۪ ط إِنَّ اللّٰهَ بِالنَّاسِ لَرَؤُوْفٌ رَّحِيْمٌ)
“আর তিনিই আকাশকে স্থির রাখেন যাতে তা পতিত না হয় পৃথিবীর ওপর তাঁর অনুমতি ব্যতীত। আল্লাহ নিশ্চয়ই মানুষের প্রতি দয়ার্দ্র, পরম দয়ালু।” (সূরা হাজ্জ ২২:৬৫)
আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন,
(وَمِنْ اٰيٰتِه۪ٓ أَنْ تَقُوْمَ السَّمَا۬ءُ وَالْأَرْضُ بِأَمْرِه۪)
“আর তার দৃষ্টান্তগুলোর মধ্যে রয়েছে যে, তারই আদেশে আসমান ও জমিন স্থির আছে।” (সূরা রূম ৩০:২৫)
অতএব আল্লাহ তা‘আলা যদি এগুলোকে নিয়ন্ত্রণ না করেন তাহলে এমন কেউ নেই যে, এগুলোর লক্ষচ্যুত হওয়া থেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। সকল কিছু সৃষ্টিকর্তা ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে একচ্ছত্র মালিক আল্লাহ তা‘আলাই, অন্য কোন অংশীদার নয়।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. যারা আল্লাহ তা‘আলার সাথে শিরক করে তাদের কোন প্রমাণ নেই, আল্লাহ তা‘আলা কোন কিতাবে এরূপ করার নির্দেশ দেননি।
২. একমাত্র আল্লাহ তা‘আলাই আকাশ ও জমিনের নিয়ন্ত্রণকারী, তিনি ব্যতীত অন্য কেউ নয়।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৪০-৪১ নং আয়াতের তাফসীর:
আল্লাহ্ তা'আলা স্বীয় রাসূল (সাঃ)-কে বলছেন যে, তিনি যেন মুশরিকদেরকে বলেনঃ আল্লাহ্ ছাড়া যাদেরকে তোমরা ডাকছে, তারা কি সৃষ্টি করেছে আমাকে তা একটু দেখিয়ে দাও তো, অথবা এটাই প্রমাণ করে দাও যে, আকাশমণ্ডলীর সৃষ্টিতে তাদের কি অংশ রয়েছে? তারা তো অণু পরিমাণ জিনিসেরও মালিক নয়। তাহলে তারা যখন সৃষ্টিকারী নয় এবং সৃষ্টিতে অংশীদারও নয় এবং অণু পরিমাণ জিনিসেরও মালিক নয় তখন তোমরা আল্লাহকে ছেড়ে তাদেরকে কেন ডাকছো? আচ্ছা, এটাও যদি না হয় তবে কমপক্ষে তোমরা তোমাদের কুফরী ও শিরকের কোন লিখিত দলীল পেশ কর। কিন্তু তোমরা এটাও পারবে না। প্রকৃত ব্যাপার এই যে, তোমরা শুধু তোমাদের প্রবৃত্তি ও মতের পিছনে লেগে রয়েছে। দলীল-প্রমাণ কিছুই নেই। তোমরা বাতিল, মিথ্যা ও প্রতারণায় জড়িয়ে পড়েছে। একে অপরকে তোমরা প্রতারিত করছে। নিজেদের মনগড়া মিথ্যা মা’ৰূদের দুর্বলতাকে সামনে রেখে সঠিক ও সত্য মা'বুদ আল্লাহ তা'আলার ব্যাপক ও অসীম শক্তির প্রতি লক্ষ্য কর যে, আসমান ও যমীনে তাঁরই হুকুম কায়েম রয়েছে। প্রত্যেকেই নিজ নিজ স্থানে স্থির রয়েছে। এদিক ওদিক চলে যায় না। আকাশকে তিনি যমীনের উপর পড়ে যাওয়া হতে মাহফুয রেখেছেন। প্রত্যেকটাই তাঁর হুকুমে নিশ্চল ও স্থির রয়েছে। তিনি ছাড়া অন্য কেউই এগুলোকে স্থির রাখতে পারে না এবং সুশৃংখলভাবে কায়েম রাখতে পারে না। এই সহনশীল ও ক্ষমাপরায়ণ আল্লাহকে দেখো যে, তাঁর সৃষ্টজীব ও দাস তাঁর নাফরমানী, শিরক ও কুফরীতে ডুবে থাকা সত্ত্বেও তিনি সহনশীলতার সাথে তাদেরকে ক্ষমা করে চলেছেন। অবকাশ ও সুযোগ দিয়ে তিনি তাদের পাপরাশি ক্ষমা করতে রয়েছেন।
এখানে ইবনে আবি হাতিম (রঃ) একটি গারীব এমনকি মুনকার হাদীস আনয়ন করেছেন। তাতে রয়েছে যে, হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে একদা মিম্বরে হযরত মূসা (আঃ)-এর ঘটনা বর্ণনা করতে শুনেছেন। রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেনঃ “হযরত মূসা (আঃ)-এর অন্তরে একদা খেয়াল জাগলো যে, মহামহিমান্বিত আল্লাহ কি নিদ্রা যান? তখন আল্লাহ তা'আলা একজন ফেরেশতাকে তার কাছে পাঠিয়ে দেন যিনি তাঁকে তিনদিন পর্যন্ত ঘুমাতে দিলেন না। অতঃপর তিনি তার দু'হাতে দু'টি বোতল দিলেন এবং তাঁকে বললেনঃ “এগুলো হিফাযত করুন যেন পড়ে না যায় এবং না ভাঙ্গে।” হযরত মূসা (আঃ) ওগুলো রক্ষা করে চললেন। কিন্তু তার উপর নিদ্রার প্রকোপ ছিল বলে তন্দ্রা আসছিল। তন্দ্রায় ঝুঁকে পড়তেই তিনি সতর্ক হয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু শেষে দ্রিা তাঁর উপর চেপে বসলো এবং তিনি ঘুমিয়ে পড়লেন। ফলে বোতল দু’টি তাঁর হাত হতে পড়ে গিয়ে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেল। এতে তাঁকে জানানো উদ্দেশ্য ছিল যে, ঘুমন্ত ব্যক্তি যখন দু'টি বোতল ধরে রাখতে পারে না তখন আল্লাহ তা'আলা যদি নিদ্রা যেতেন তাহলে আসমান ও যমীনের হিফাযত কি করে সম্ভব হতো? কিন্তু এটা স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হচ্ছে যে, এটা রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর বর্ণনা নয়, বরং এটা বানী ইসরাঈলের মনগড়া গল্প। এ কি সম্ভব যে, হযরত মূসা (আঃ)-এর ন্যায় একজন বড় মর্যাদা সম্পন্ন নবী এ ধরনের চিন্তা করতে পারেন যে, আল্লাহ তা'আলা নিদ্রা যান? অথচ আল্লাহ তা'আলা স্বীয় বিশেষণের মধ্যে বলে দিয়েছেন যে, তাঁকে তন্দ্রা অথবা নিদ্রা স্পর্শ করে না। যমীন ও আসমানের যাবতীয় বস্তুর মালিক তিনিই?
হযরত আবু মূসা আশআরী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “আল্লাহ তা'আলা নিদ্রা যান না, আর এটা তাঁর শানের বিপরীত যে, তিনি নিদ্রা যাবেন। তিনি পাল্লাকে উঁচু-নীচু করে থাকেন। দিনের আমল রাতের পূর্বে এবং রাতের আমল দিনের পূর্বে তাঁর কাছে পৌছে যায়। জ্যোতি অথবা আগুন তাঁর হিজাব বা পর্দা। যদি তা খুলে দেয়া হয় তাহলে যেখান পর্যন্ত তাঁর দৃষ্টি নিক্ষিপ্ত হবে সেখান পর্যন্ত সমস্ত মাখলূক তাঁর চেহারার তাজাল্লীতে জ্বলে পুড়ে যাবে।” (এ হাদীসটি সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে)
ইমাম ইবনে জারীর (রঃ) বর্ণনা করেছেন যে, একটি লোক হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)-এর কাছে আগমন করলে তিনি তাকে জিজ্ঞেস করেনঃ “কোথা হতে আসলে?” সে উত্তর দিলোঃ “সিরিয়া হতে।” তিনি প্রশ্ন করলেনঃ “সেখানে কার সাথে সাক্ষাৎ করেছো?” সে জবাবে বললোঃ “হযরত কা'ব (রাঃ)-এর সাথে। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ “কা'ব (রাঃ) কি বর্ণনা করলেন?” লোকটি উত্তর দিলো যে, হযরত কা'ব (রাঃ) বললেনঃ “আসমান একজন ফেরেশতার কাঁধ পর্যন্ত ঘুরতে আছে।” হযরত ইবনে মাসউদ (রাঃ) লোকটিকে বললেনঃ “তুমি কি তাঁর কথাটিকে সত্য বলে মেনে নিলে, না মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিলে?” লোকটি জবাব দিলোঃ “আমি কিছুই মনে করিনি।` তখন তিনি বললেনঃ “হযরত কা'ব (রাঃ) ভুল বলেছেন।” অতঃপর তিনি (আরবী)-এই আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন। (এ হাদীসটি ইবনে জারীর (রঃ) বর্ণনা করেছেন। এর ইসনাদ বিশুদ্ধ) অন্য সনদে আগুন্তুক লোকটির নাম হযরত জুনদুব বাজালী (রাঃ) বলা হয়েছে। ইমাম মালিকও (রঃ) একথা খণ্ডন করতেন যে, আসমান ঘুরতে রয়েছে। আর তিনি এ আয়াত হতেই দলীল গ্রহণ করতেন এবং ঐ হাদীস থেকেও দলীল গ্রহণ করতেন যাতে রয়েছে। যে, পশ্চিমে একটি দরযা রয়েছে যেটা তাওবার দরযা, ওটা বন্ধ হবে না যে পর্যন্ত না পশ্চিম দিক হতে সূর্য উদিত হবে। এ হাদীসটি সম্পূর্ণরূপে বিশুদ্ধ। এসব ব্যাপারে মহান ও পবিত্র আল্লাহই সবচেয়ে ভাল জানেন।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।