আল কুরআন


সূরা ফাতির (আয়াত: 41)

সূরা ফাতির (আয়াত: 41)



হরকত ছাড়া:

إن الله يمسك السماوات والأرض أن تزولا ولئن زالتا إن أمسكهما من أحد من بعده إنه كان حليما غفورا ﴿٤١﴾




হরকত সহ:

اِنَّ اللّٰهَ یُمْسِکُ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضَ اَنْ تَزُوْلَا ۬ۚ وَ لَئِنْ زَالَتَاۤ اِنْ اَمْسَکَهُمَا مِنْ اَحَدٍ مِّنْۢ بَعْدِهٖ ؕ اِنَّهٗ کَانَ حَلِیْمًا غَفُوْرًا ﴿۴۱﴾




উচ্চারণ: ইন্নাল্লা-হা ইউমছিকুছ ছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদা আন তাযূলা- ওয়ালাইন যালাতাইন আমছাকাহুমা-মিন আহাদিম মিম বা‘দিহী ইন্নাহূকা-না হালীমান গাফূরা-।




আল বায়ান: নিশ্চয় আল্লাহ আসমানসমূহ ও যমীনকে ধরে রাখেন যাতে এগুলো স্থানচ্যুত না হয়। আর যদি এগুলো স্থানচ্যুত হয়, তাহলে তিনি ছাড়া আর কে আছে, যে এগুলোকে ধরে রাখবে? নিশ্চয় তিনি পরম সহনশীল, অতিশয় ক্ষমাপরায়ণ।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৪১. নিশ্চয় আল্লাহ্‌ আসমানসমূহ ও যমীনকে ধারণ করেন, যাতে তারা স্থানচ্যুত না হয়, আর যদি তারা স্থানচ্যুত হয়, তবে তিনি ছাড়া কেউ নেই যে, তাদেরকে ধরে রাখতে পারে।(১) নিশ্চয় তিনি অতি সহনশীল, অসীম ক্ষমাপরায়ন।




তাইসীরুল ক্বুরআন: আল্লাহই আসমান ও যমীনকে স্থির রাখেন যাতে ও দু’টো টলে না যায়। ও দু’টো যদি টলে যায় তাহলে তিনি ছাড়া কে ও দু’টোকে স্থির রাখবে? তিনি পরম সহিষ্ণু, পরম ক্ষমাশীল।




আহসানুল বায়ান: (৪১) আল্লাহ আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীকে (ধরে) স্থির রাখেন, যাতে ওরা কক্ষচ্যুত না হয়। [1] ওরা কক্ষচ্যুত হলে তিনি ব্যতীত কেউ ওগুলিকে স্থির রাখতে পারে না। [2] তিনি সহনশীল, ক্ষমাপরায়ণ।[3]



মুজিবুর রহমান: আল্লাহ আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীকে সংরক্ষণ করেন যাতে ওরা স্থানচ্যূত না হয়, ওরা স্থানচ্যূত হলে তিনি ব্যতীত কে ওদেরকে সংরক্ষণ করবে? তিনি অতি সহনশীল, ক্ষমাপরায়ণ।



ফযলুর রহমান: আল্লাহ আসমান ও জমিনকে ধরে রাখেন, যাতে তারা স্থানচ্যুত না হয়। আর যদি তারা স্থানচ্যুত হয় তাহলে তাঁর পরে (তিনি ছাড়া) কেউ তাদেরকে ধরে রাখতে পারবে না। তিনি সহনশীল, ক্ষমাপরায়ণ।



মুহিউদ্দিন খান: নিশ্চয় আল্লাহ আসমান ও যমীনকে স্থির রাখেন, যাতে টলে না যায়। যদি এগুলো টলে যায় তবে তিনি ব্যতীত কে এগুলোকে স্থির রাখবে? তিনি সহনশীল, ক্ষমাশীল।



জহুরুল হক: আল্লাহ্ আলবৎ মহাকাশমন্ডলী ও পৃথিবীকে ধরে রেখেছেন পাছে তারা কক্ষচ্যুত হয়, আর যদি বা তারা কক্ষচ্যুত হয় তাহলে তিনি ব্যতীত তাদের ধরে রাখবার মতো কেউ নেই। নিঃসন্দেহ তিনি অতি অমায়িক, পরিত্রাণকারী।



Sahih International: Indeed, Allah holds the heavens and the earth, lest they cease. And if they should cease, no one could hold them [in place] after Him. Indeed, He is Forbearing and Forgiving.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৪১. নিশ্চয় আল্লাহ্– আসমানসমূহ ও যমীনকে ধারণ করেন, যাতে তারা স্থানচ্যুত না হয়, আর যদি তারা স্থানচ্যুত হয়, তবে তিনি ছাড়া কেউ নেই যে, তাদেরকে ধরে রাখতে পারে।(১) নিশ্চয় তিনি অতি সহনশীল, অসীম ক্ষমাপরায়ন।


তাফসীর:

(১) অন্য আয়াতে এসেছে, “আপনি কি দেখতে পান না যে, আল্লাহ তোমাদের কল্যাণে নিয়োজিত করেছেন। পৃথিবীতে যা কিছু আছে সেসবকে এবং তাঁর নির্দেশে সাগরে বিচরণশীল নৌযানসমূহকে? আর তিনিই আসমানকে ধরে রাখেন যাতে তা পড়ে না যায় যমীনের উপর তাঁর অনুমতি ছাড়া। নিশ্চয় আল্লাহ মানুষের প্রতি স্নেহপ্রবণ, পরম দয়ালু।” [সূরা আল-হাজ্জ: ৬৫] [আত-তাফসীরুস সহীহ]


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৪১) আল্লাহ আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীকে (ধরে) স্থির রাখেন, যাতে ওরা কক্ষচ্যুত না হয়। [1] ওরা কক্ষচ্যুত হলে তিনি ব্যতীত কেউ ওগুলিকে স্থির রাখতে পারে না। [2] তিনি সহনশীল, ক্ষমাপরায়ণ।[3]


তাফসীর:

[1] كراهة أن تزولا، لئلا تزولا এটি আল্লাহ তাআলার অসীম ক্ষমতা ও সৃষ্টিনৈপুণ্যের বর্ণনা। অনেকে বলেন, উদ্দেশ্য এই যে, আল্লাহর সাথে শিরক করা এত বড় অপরাধ যে, তার ফলে আকাশ ও পৃথিবী নিজ নিজ অবস্থাতে টিঁকে থাকতে পারে না; বরং তা যেন ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে যায়। যেমন অন্যত্র বলেছেন, (تَكَادُ السَّمَاوَاتُ يَتَفَطَّرْنَ مِنْهُ وَتَنْشَقُّ الْأَرْضُ وَتَخِرُّ الْجِبَالُ هَدًّا * أَنْ دَعَوْا لِلرَّحْمَنِ وَلَدًا) অর্থাৎ, এতে যেন আকাশসমূহ বিদীর্ণ হয়ে যাবে, পৃথিবী খন্ড-বিখন্ড হবে এবং পর্বতসমূহ চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে আপতিত হবে। যেহেতু তারা পরম দয়াময়ের প্রতি সন্তান আরোপ করে। (সূরা মারয়্যাম ৯০-৯১ আয়াত)

[2] অর্থাৎ, এটা আল্লাহ তাআলার অসীম ক্ষমতার সাথে সাথে তাঁর অসীম দয়া এই যে, তিনি আকাশ ও পৃথিবীকে ধারণ করে রেখেছেন এবং তা আপন স্থান হতে নড়াচড়া করতে ও হিলতে দেন না; নচেৎ চোখের পলকে পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে। কারণ তিনি যদি তাকে ধারণ না করেন ও তার স্থান থেকে নড়াচড়া করতে দেন, তাহলে তিনি আল্লাহ ছাড়া এমন কোন শক্তি নেই, যে তাকে ধারণ করে রাখবে। إن أمسكهما শব্দটিতে إن নাফিয়াহ (নেতিবাচক)। আল্লাহ তাআলা তাঁর উক্ত অনুগ্রহ ও নিদর্শনের বর্ণনা অন্য স্থানেও দিয়েছেন। যেমন (وَيُمْسِكُ السَّمَاءَ أَنْ تَقَعَ عَلَى الْأَرْضِ إِلَّا بِإِذْنِهِ) অর্থাৎ, তিনিই আকাশ স্থির রাখেন, যাতে তাঁর আদেশ ব্যতীত ভূপৃষ্ঠে পতিত না হয়। (সূরা হজ্জ ৬৫) (وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ تَقُومَ السَّمَاءُ وَالْأَرْضُ بِأَمْرِه) অর্থাৎ, তাঁর অন্যতম নিদর্শন এই যে, তাঁরই আদেশে আকাশ ও পৃথিবী প্রতিষ্ঠিত আছে।’’ (সূরা রূম ২৫)

[3] অসীম ক্ষমতার অধিকারী হয়েও তিনি বড় সহনশীল। নিজ বান্দাদেরকে কুফরী, শিরক ও পাপ করতে দেখেও তিনি তাদেরকে পাকড়াও করার জন্য তাড়াতাড়ি করেন না; বরং আরো ঢিল দেন। তিনি বড় ক্ষমাশীলও। যখন কেউ তওবা করে তাঁর দরবারে ফিরে আসে এবং লজ্জিত হয়ে ক্ষমা প্রার্থনার সাথে অনুতাপ প্রকাশ করে, তখন তিনি তাকে ক্ষমা করে দেন।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৩৮-৪১ নং আয়াতের তাফসীর:



আকাশ ও জমিনের সকল গায়েবের খবর একমাত্র আল্লাহ তা‘আলাই জানেন এমনকি মানুষের অন্তরের খবরও জানেন, সে কথাই এখানে ব্যক্ত করা হয়েছে।



এরপর আল্লাহ তা‘আলা বলেন, তিনিই মানুষকে জমিনে একজনকে অন্যজনের প্রতিনিধি করেছেন। অর্থাৎ একজন জমিনে আসবে, তার সময় শেষে চলে যাবে আবার অন্যজন দুনিয়াতে আসবে, জমিন আবাদ করবে, এভাবেই কিয়ামত পর্যন্ত চলতে থাকবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,



(وَيَجْعَلُكُمْ خُلَفَا۬ءَ الْأَرْضِ)



“এবং তোমাদেরকে পৃথিবীতে প্রতিনিধি করেন।” (সূরা নামল ২৭:৬২)



অতঃপর তিনি বলেন: কেউ যদি কুফরী করে তাহলে তার শাস্তি তাকেই পেতে হবে। আর কাফিরদের কুফরী কোনই ফায়দা দেয় না, শুধু আল্লাহ তা‘আলার ক্রোধই বৃদ্ধি করে এবং তাদের নিজেদেরই ক্ষতি হয়।



(قُلْ اَرَءَیْتُمْ شُرَکَا۬ءَکُمُ.... اِنَّھ۫ کَانَ حَلِیْمًا غَفُوْرًاﭸ)



আল্লাহ তা‘আলা পৃথিবীর সকল মুশরিকদেরকে আহ্বান করে বলেন: তোমরা আল্লাহ তা‘আলাকে বাদ দিয়ে অন্য যাদের ইবাদত কর, সমস্যা নিরসনে ও কল্যাণ লাভের জন্য আহ্বান কর, আমাকে দেখাও তো তারা পৃথিবীর কোন কিছু সৃষ্টি করেছে কি? অথবা আকাশ-জমিন সৃষ্টি করাতে তাদের অংশীদারিত্ব রয়েছে কিনা? নাকি আমি তোমাদেরকে এমন কিতাব দিয়েছি যাতে শিরক করার কথা উল্লেখ রয়েছে ফলে তোমরা সুস্পষ্ট প্রমাণের ওপর প্রতিষ্ঠিত রয়েছ। না, এসব কিছুই নেই, বরং পূর্বে যত কিতাব নাযিল করা হয়েছে বা যত নাবী কিতাব নিয়ে এসেছেন তাতে এক আল্লাহ তা‘আলার ইবাদত করার নির্দেশই ছিল।



আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(وَمَآ أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رَّسُوْلٍ إِلَّا نُوْحِيْٓ إِلَيْهِ أَنَّه۫ لَآ إِلٰهَ إِلَّآ أَنَا فَاعْبُدُوْنِ‏)‏



“আমি তোমার পূর্বে যখন কোন রাসূল প্রেরণ করেছি তার প্রতি এ ওয়াহী করেছি, ‘আমি ব্যতীত অন্য কোন সত্যিকার মা‘বূদ নেই; সুতরাং আমারই ‘ইবাদত কর‎।’’ (সূরা আম্বিয়া ২১:২৫)



তাহলে এসব মুশরিকরা কেন আল্লাহ তা‘আলাকে বাদ দিয়ে অন্যান্য বাতিল মা‘বূদের ইবাদত করে? তারা যদি কোন কিছু সৃষ্টিই না করতে পারে তাহলে তারা কিভাবে ইবাদত পাওয়ার যোগ্য হতে পারে? সুতরাং একমাত্র আল্লাহ তা‘আলারই ইবাদত করতে হবে, কারণ তিনি সবকিছুর স্রষ্টা। যিনি সৃষ্টিকর্তা তিনিই ইবাদত পাওয়ার যোগ্য। এ সম্পর্কে সূরা আল ফুরক্বান-এর ৩ ও সূরা র্আ রা‘দ-এর ১৬ নং আয়াতে আলোচনা করা হয়েছে।



অর্থাৎ এসব মুশরিক জালিমরা একে অপরকে যে প্রতিশ্র“তি দেয় তা ধোঁকা ছাড়া কিছুই নয়। কারণ তারা আল্লাহ তা‘আলার সাথে যেসব শিরক করে তাদের কাছে তার তো কোন প্রমাণ নেই। তাই বিভিন্ন আশা ও প্রতিশ্রুতি দিয়ে মানুষকে নিজেদের পথে আহ্বান করে।



এরপর আল্লাহ তা‘আলা বলেন যে, তিনিই আকাশমণ্ডলী ও জমিনকে স্থির করে রাখেন যাতে তা স্থানচ্যুত না হয়, নড়াচড়া না করতে পারে ও ঢলে না পড়ে। কেননা আকাশ-জমিন সর্বদা কম্পন করতে থাকলে, নড়াচড়া করলে তাতে বসবাস করা সম্ভব হবে না, সর্বদা মানুষ শংকিত থাকবে কখন যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়ে আর আকাশ ভেঙ্গে পড়লে বা জমিন কম্পন করতে থাকলে আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত অন্য কেউ তা স্থির করে রাখার নেই।



আল্লাহ তা‘আলা বলেন,



(وَيُمْسِكُ السَّمَا۬ءَ أَنْ تَقَعَ عَلَي الْأَرْضِ إِلَّا بِإِذْنِه۪ ط إِنَّ اللّٰهَ بِالنَّاسِ لَرَؤُوْفٌ رَّحِيْمٌ‏)‏



“আর তিনিই আকাশকে স্থির রাখেন যাতে তা পতিত না হয় পৃথিবীর ওপর তাঁর অনুমতি ব্যতীত। আল্লাহ নিশ্চয়ই মানুষের প্রতি দয়ার্দ্র, পরম দয়ালু।” (সূরা হাজ্জ ২২:৬৫)



আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন,



(وَمِنْ اٰيٰتِه۪ٓ أَنْ تَقُوْمَ السَّمَا۬ءُ وَالْأَرْضُ بِأَمْرِه۪)



“আর তার দৃষ্টান্তগুলোর মধ্যে রয়েছে যে, তারই আদেশে আসমান ও জমিন স্থির আছে।” (সূরা রূম ৩০:২৫)



অতএব আল্লাহ তা‘আলা যদি এগুলোকে নিয়ন্ত্রণ না করেন তাহলে এমন কেউ নেই যে, এগুলোর লক্ষচ্যুত হওয়া থেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। সকল কিছু সৃষ্টিকর্তা ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে একচ্ছত্র মালিক আল্লাহ তা‘আলাই, অন্য কোন অংশীদার নয়।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. যারা আল্লাহ তা‘আলার সাথে শিরক করে তাদের কোন প্রমাণ নেই, আল্লাহ তা‘আলা কোন কিতাবে এরূপ করার নির্দেশ দেননি।

২. একমাত্র আল্লাহ তা‘আলাই আকাশ ও জমিনের নিয়ন্ত্রণকারী, তিনি ব্যতীত অন্য কেউ নয়।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৪০-৪১ নং আয়াতের তাফসীর:

আল্লাহ্ তা'আলা স্বীয় রাসূল (সাঃ)-কে বলছেন যে, তিনি যেন মুশরিকদেরকে বলেনঃ আল্লাহ্ ছাড়া যাদেরকে তোমরা ডাকছে, তারা কি সৃষ্টি করেছে আমাকে তা একটু দেখিয়ে দাও তো, অথবা এটাই প্রমাণ করে দাও যে, আকাশমণ্ডলীর সৃষ্টিতে তাদের কি অংশ রয়েছে? তারা তো অণু পরিমাণ জিনিসেরও মালিক নয়। তাহলে তারা যখন সৃষ্টিকারী নয় এবং সৃষ্টিতে অংশীদারও নয় এবং অণু পরিমাণ জিনিসেরও মালিক নয় তখন তোমরা আল্লাহকে ছেড়ে তাদেরকে কেন ডাকছো? আচ্ছা, এটাও যদি না হয় তবে কমপক্ষে তোমরা তোমাদের কুফরী ও শিরকের কোন লিখিত দলীল পেশ কর। কিন্তু তোমরা এটাও পারবে না। প্রকৃত ব্যাপার এই যে, তোমরা শুধু তোমাদের প্রবৃত্তি ও মতের পিছনে লেগে রয়েছে। দলীল-প্রমাণ কিছুই নেই। তোমরা বাতিল, মিথ্যা ও প্রতারণায় জড়িয়ে পড়েছে। একে অপরকে তোমরা প্রতারিত করছে। নিজেদের মনগড়া মিথ্যা মা’ৰূদের দুর্বলতাকে সামনে রেখে সঠিক ও সত্য মা'বুদ আল্লাহ তা'আলার ব্যাপক ও অসীম শক্তির প্রতি লক্ষ্য কর যে, আসমান ও যমীনে তাঁরই হুকুম কায়েম রয়েছে। প্রত্যেকেই নিজ নিজ স্থানে স্থির রয়েছে। এদিক ওদিক চলে যায় না। আকাশকে তিনি যমীনের উপর পড়ে যাওয়া হতে মাহফুয রেখেছেন। প্রত্যেকটাই তাঁর হুকুমে নিশ্চল ও স্থির রয়েছে। তিনি ছাড়া অন্য কেউই এগুলোকে স্থির রাখতে পারে না এবং সুশৃংখলভাবে কায়েম রাখতে পারে না। এই সহনশীল ও ক্ষমাপরায়ণ আল্লাহকে দেখো যে, তাঁর সৃষ্টজীব ও দাস তাঁর নাফরমানী, শিরক ও কুফরীতে ডুবে থাকা সত্ত্বেও তিনি সহনশীলতার সাথে তাদেরকে ক্ষমা করে চলেছেন। অবকাশ ও সুযোগ দিয়ে তিনি তাদের পাপরাশি ক্ষমা করতে রয়েছেন।

এখানে ইবনে আবি হাতিম (রঃ) একটি গারীব এমনকি মুনকার হাদীস আনয়ন করেছেন। তাতে রয়েছে যে, হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে একদা মিম্বরে হযরত মূসা (আঃ)-এর ঘটনা বর্ণনা করতে শুনেছেন। রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেনঃ “হযরত মূসা (আঃ)-এর অন্তরে একদা খেয়াল জাগলো যে, মহামহিমান্বিত আল্লাহ কি নিদ্রা যান? তখন আল্লাহ তা'আলা একজন ফেরেশতাকে তার কাছে পাঠিয়ে দেন যিনি তাঁকে তিনদিন পর্যন্ত ঘুমাতে দিলেন না। অতঃপর তিনি তার দু'হাতে দু'টি বোতল দিলেন এবং তাঁকে বললেনঃ “এগুলো হিফাযত করুন যেন পড়ে না যায় এবং না ভাঙ্গে।” হযরত মূসা (আঃ) ওগুলো রক্ষা করে চললেন। কিন্তু তার উপর নিদ্রার প্রকোপ ছিল বলে তন্দ্রা আসছিল। তন্দ্রায় ঝুঁকে পড়তেই তিনি সতর্ক হয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু শেষে দ্রিা তাঁর উপর চেপে বসলো এবং তিনি ঘুমিয়ে পড়লেন। ফলে বোতল দু’টি তাঁর হাত হতে পড়ে গিয়ে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেল। এতে তাঁকে জানানো উদ্দেশ্য ছিল যে, ঘুমন্ত ব্যক্তি যখন দু'টি বোতল ধরে রাখতে পারে না তখন আল্লাহ তা'আলা যদি নিদ্রা যেতেন তাহলে আসমান ও যমীনের হিফাযত কি করে সম্ভব হতো? কিন্তু এটা স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হচ্ছে যে, এটা রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর বর্ণনা নয়, বরং এটা বানী ইসরাঈলের মনগড়া গল্প। এ কি সম্ভব যে, হযরত মূসা (আঃ)-এর ন্যায় একজন বড় মর্যাদা সম্পন্ন নবী এ ধরনের চিন্তা করতে পারেন যে, আল্লাহ তা'আলা নিদ্রা যান? অথচ আল্লাহ তা'আলা স্বীয় বিশেষণের মধ্যে বলে দিয়েছেন যে, তাঁকে তন্দ্রা অথবা নিদ্রা স্পর্শ করে না। যমীন ও আসমানের যাবতীয় বস্তুর মালিক তিনিই?

হযরত আবু মূসা আশআরী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “আল্লাহ তা'আলা নিদ্রা যান না, আর এটা তাঁর শানের বিপরীত যে, তিনি নিদ্রা যাবেন। তিনি পাল্লাকে উঁচু-নীচু করে থাকেন। দিনের আমল রাতের পূর্বে এবং রাতের আমল দিনের পূর্বে তাঁর কাছে পৌছে যায়। জ্যোতি অথবা আগুন তাঁর হিজাব বা পর্দা। যদি তা খুলে দেয়া হয় তাহলে যেখান পর্যন্ত তাঁর দৃষ্টি নিক্ষিপ্ত হবে সেখান পর্যন্ত সমস্ত মাখলূক তাঁর চেহারার তাজাল্লীতে জ্বলে পুড়ে যাবে।” (এ হাদীসটি সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে)

ইমাম ইবনে জারীর (রঃ) বর্ণনা করেছেন যে, একটি লোক হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)-এর কাছে আগমন করলে তিনি তাকে জিজ্ঞেস করেনঃ “কোথা হতে আসলে?” সে উত্তর দিলোঃ “সিরিয়া হতে।” তিনি প্রশ্ন করলেনঃ “সেখানে কার সাথে সাক্ষাৎ করেছো?” সে জবাবে বললোঃ “হযরত কা'ব (রাঃ)-এর সাথে। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ “কা'ব (রাঃ) কি বর্ণনা করলেন?” লোকটি উত্তর দিলো যে, হযরত কা'ব (রাঃ) বললেনঃ “আসমান একজন ফেরেশতার কাঁধ পর্যন্ত ঘুরতে আছে।” হযরত ইবনে মাসউদ (রাঃ) লোকটিকে বললেনঃ “তুমি কি তাঁর কথাটিকে সত্য বলে মেনে নিলে, না মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিলে?” লোকটি জবাব দিলোঃ “আমি কিছুই মনে করিনি।` তখন তিনি বললেনঃ “হযরত কা'ব (রাঃ) ভুল বলেছেন।” অতঃপর তিনি (আরবী)-এই আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন। (এ হাদীসটি ইবনে জারীর (রঃ) বর্ণনা করেছেন। এর ইসনাদ বিশুদ্ধ) অন্য সনদে আগুন্তুক লোকটির নাম হযরত জুনদুব বাজালী (রাঃ) বলা হয়েছে। ইমাম মালিকও (রঃ) একথা খণ্ডন করতেন যে, আসমান ঘুরতে রয়েছে। আর তিনি এ আয়াত হতেই দলীল গ্রহণ করতেন এবং ঐ হাদীস থেকেও দলীল গ্রহণ করতেন যাতে রয়েছে। যে, পশ্চিমে একটি দরযা রয়েছে যেটা তাওবার দরযা, ওটা বন্ধ হবে না যে পর্যন্ত না পশ্চিম দিক হতে সূর্য উদিত হবে। এ হাদীসটি সম্পূর্ণরূপে বিশুদ্ধ। এসব ব্যাপারে মহান ও পবিত্র আল্লাহই সবচেয়ে ভাল জানেন।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।