সূরা ফাতির (আয়াত: 30)
হরকত ছাড়া:
ليوفيهم أجورهم ويزيدهم من فضله إنه غفور شكور ﴿٣٠﴾
হরকত সহ:
لِیُوَفِّیَهُمْ اُجُوْرَهُمْ وَ یَزِیْدَهُمْ مِّنْ فَضْلِهٖ ؕ اِنَّهٗ غَفُوْرٌ شَکُوْرٌ ﴿۳۰﴾
উচ্চারণ: লিইউওয়াফিফইয়াহুম উজূরাহুম ওয়া ইয়াযীদাহুম মিন ফাদলিহী ইন্নাহূগাফূরুন শাকূর।
আল বায়ান: যাতে তিনি তাদেরকে তাদের পূর্ণ প্রতিফল দান করেন এবং নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে আরো বাড়িয়ে দেন। নিশ্চয় তিনি অতি ক্ষমাশীল, মহাগুণগ্রাহী।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৩০. যাতে আল্লাহ তাদের কাজের প্রতিফল পরিপূর্ণভাবে দেন এবং তিনি নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে আরো বেশী দেন। নিশ্চয় তিনি পরম ক্ষমাশীল, অসীম গুণগ্ৰাহী।
তাইসীরুল ক্বুরআন: কারণ, তিনি তাদেরকে তাদের প্রতিফল পূর্ণমাত্রায় দান করবেন এবং নিজ অনুগ্রহে আরো বেশি দিবেন। তিনি অতি ক্ষমাশীল, (ভাল কাজের) বড়ই মর্যাদাদানকারী।
আহসানুল বায়ান: (৩০) এ জন্য যে, আল্লাহ তাদেরকে (তাদের কর্মের) পূর্ণ প্রতিদান দেবেন এবং তিনি নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে আরও বেশী দেবেন। [1] তিনি তো ক্ষমাশীল, গুণগ্রাহী। [2]
মুজিবুর রহমান: এ জন্য যে, আল্লাহ তাদের কর্মের পূর্ণ প্রতিফল দিবেন এবং নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে আরো বেশি দিবেন। তিনিতো ক্ষমাশীল, গুণগ্রাহী।
ফযলুর রহমান: এজন্য যে, তিনি তাদেরকে তাদের কর্মফল পুরোপুরি দেবেন এবং নিজ অনুগ্রহে আরো বেশি দেবেন। নিশ্চয়ই তিনি ক্ষমাশীল, প্রতিদানদাতা।
মুহিউদ্দিন খান: পরিণামে তাদেরকে আল্লাহ তাদের সওয়াব পুরোপুরি দেবেন এবং নিজ অনুগ্রহে আরও বেশী দেবেন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, গুণগ্রাহী।
জহুরুল হক: যেন তিনি তাদের পারিশ্রমিক পুরোপুরি তাদের দিতে পারেন এবং তাঁর করুণাভান্ডার থেকে তাদের বাড়িয়ে দিতে পারেন। নিঃসন্দেহ তিনি পরিত্রাণকারী, গুণগ্রাহী।
Sahih International: That He may give them in full their rewards and increase for them of His bounty. Indeed, He is Forgiving and Appreciative.
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৩০. যাতে আল্লাহ তাদের কাজের প্রতিফল পরিপূর্ণভাবে দেন এবং তিনি নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে আরো বেশী দেন। নিশ্চয় তিনি পরম ক্ষমাশীল, অসীম গুণগ্ৰাহী।
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৩০) এ জন্য যে, আল্লাহ তাদেরকে (তাদের কর্মের) পূর্ণ প্রতিদান দেবেন এবং তিনি নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে আরও বেশী দেবেন। [1] তিনি তো ক্ষমাশীল, গুণগ্রাহী। [2]
তাফসীর:
[1] لِيُوَفِّيَهُمْ , لَنْ تَبُوْرَ এর সাথে সম্পৃক্ত, অর্থাৎ এই ব্যবসা নোকসান থেকে এই জন্য মুক্ত যে, আল্লাহ তাআলা তাদের নেক আমলের পূর্ণ প্রতিদান দেবেন। অথবা ঊহ্য ক্রিয়ার সাথে সম্পৃক্ত, আর তার অর্থ এই হবে যে, তারা নেক আমল এই জন্য করে অথবা আল্লাহ তাদেরকে সুপথ এই জন্য প্রদর্শন করেছেন, যাতে তিনি তাদেরকে প্রতিদান দেন।
[2] এই বাক্য দ্বারা পূর্ণ প্রতিদান ও আরো বেশী দেওয়ার কারণ বর্ণনা করা হয়েছে যে, তিনি মু’মিন বান্দাদের গুনাহ ক্ষমাকারী এই শর্তের উপর যে, তারা বিশুদ্ধ অন্তরে তওবা করবে। তিনি তাদের আনুগত্যের স্পৃহা ও নেক আমলের কদর বুঝেন; তিনি গুণগ্রাহী। তাই তিনি শুধু প্রাপ্য প্রতিদান দিয়েই ক্ষান্ত হবেন না; বরং নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে অনেক বেশি প্রদান করবেন।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ২৯-৩০ নং আয়াতের তাফসীর:
এখানে আল্লাহ তা‘আলা মু’মিনদেরকে দীনের এমন একটি ব্যবসায়ের সংবাদ দিয়েছেন, যে ব্যবসায় কোন লোকসান নেই। তা হল সৎ আমল ও উত্তম গুণাবলী অর্জন করা। যথা মু’মিনরা আল্লাহ তা‘আলার কিতাব পাঠ করে, সালাত কায়েম করে এবং তাদেরকে যা রিযিক দেয়া হয়েছে তা হতে গোপনে ও প্রকাশ্যে আল্লাহ তা‘আলার পথে খরচ করে। এর দ্বারা তারা এমন এক ব্যবসা করে যে ব্যবসায় কখনো লাভ ছাড়া ক্ষতি নেই। আল্লাহ তা‘আলার বাণী,
(يٰٓأَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا هَلْ أَدُلُّكُمْ عَلٰي تِجَارَةٍ تُنْجِيْكُمْ مِّنْ عَذَابٍ أَلِيْمٍ - تُؤْمِنُوْنَ بِاللّٰهِ وَرَسُوْلِه۪ وَتُجَاهِدُوْنَ فِيْ سَبِيْلِ اللّٰهِ بِأَمْوٰلِكُمْ وَأَنْفُسِكُمْ ط ذٰلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُوْنَ)
“হে মু’মিনগণ! আমি কি তোমাদেরকে এমন বাণিজ্যের সন্ধান দিব যা তোমাদেরকে রক্ষা করবে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি হতে? (তা এই যে) তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করবে এবং তোমাদের ধন-সম্পদ ও জীবন দ্বারা আল্লাহর পথে জিহাদ করবে। এটাই তোমাদের জন্য শ্রেষ্ঠতম যদি তোমরা জানতে!” (সূরা সফ ৬১:১১-১২)
সুতরাং ঈমান আনার পর আল্লাহ তা‘আলার কিতাব তেলাওয়াত, সালাত কায়েম, প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে আল্লাহ তা‘আলার পথে ব্যয় করা বিরাট লাভজনক ব্যবসা।
এরপর আল্লাহ তা‘আলা বলেন যে, তাদেরকে তাদের এ ব্যবসায়ের প্রতিদান তিনি পুরোপুরিভাবে দেবেন এমনকি তাদেরকে আরো বৃদ্ধি করে দেবেন। আল্লাহ তা‘আলা বড় ক্ষমাশীল ও গুণগ্রাহী।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. মু’মিনদের ঈমান ও অন্যান্য সৎ আমল একজন ব্যবসায়ীর মূলধনের মতোই যার মাধ্যমে তারা অধিক পরিমাণে লাভবান হবে।
২. আল্লাহর নির্দেশিত পথে ব্যয় করলে তা অধিক পরিমাণে পাওয়া যাবে। এর ক্ষতির কোন সম্ভাবনা নেই।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ২৯-৩০ নং আয়াতের তাফসীর:
আল্লাহ তা'আলা তার মুমিন বান্দাদের উত্তম গুণাবলীর বর্ণনা দিচ্ছেন যে, তারা আল্লাহর কিতাব অধ্যয়নে রত থাকে, ঈমানের সাথে তা পাঠ করে, ভাল আমল ছেড়ে দেয় না, নামায কায়েম করে, যাকাত দেয় ও দান-খয়রাত করে, গোপনে ও প্রকাশ্যে দান করে, আল্লাহর বান্দাদের সাথে ভাল ব্যবহার করে এবং এসবের সওয়াবের আশা শুধু আল্লাহর কাছে করে, আর তা পাওয়া নিশ্চিতরূপেই সত্য। যেমন এই তাফসীরের শুরুতে ফাযায়েলে কুরআনের বর্ণনায় আমরা আলোচনা করেছি যে, কুরআন কারীম ওর পাঠককে বলবেঃ “প্রত্যেক ব্যবসায়ী তার ব্যবসার পিছনে লেগে থাকে, আর তুমি আজ সমস্ত ব্যবসার পিছনে রয়েছ।”
মহান আল্লাহ বলেনঃ আল্লাহ তাদেরকে তাদের কর্মের পূর্ণ প্রতিফল দিবেন এবং তিনি নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে আরো বেশী দিবেন যা তাদের কল্পনায়ও থাকবে না। আল্লাহ বড় ক্ষমাশীল এবং বড় গুণগ্রাহী। ছোট ছোট আমলেরও তিনি মর্যাদা দিয়ে থাকেন।
হযরত মাতরাফ (রঃ) এ আয়াতটি তিলাওয়াত করে বলতেন যে, এটা কারীদের আয়াত।
হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে বলতে শুনেছেনঃ “আল্লাহ তা'আলা তাঁর যে বান্দার প্রতি সন্তুষ্ট হন তার এমন সাত প্রকারের সকার্যের তিনি প্রশংসা করেন যা সে করেনি। আর যে বান্দার প্রতি অসন্তুষ্ট ও রাগান্বিত হন তার এমন সাত প্রকারে দুষ্কার্যের তিনি নিন্দে করেন যা সে করেনি।”
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।