আল কুরআন


সূরা সাবা (আয়াত: 1)

সূরা সাবা (আয়াত: 1)



হরকত ছাড়া:

الحمد لله الذي له ما في السماوات وما في الأرض وله الحمد في الآخرة وهو الحكيم الخبير ﴿١﴾




হরকত সহ:

اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِیْ لَهٗ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَ مَا فِی الْاَرْضِ وَ لَهُ الْحَمْدُ فِی الْاٰخِرَۃِ ؕ وَ هُوَ الْحَکِیْمُ الْخَبِیْرُ ﴿۱﴾




উচ্চারণ: আলহামদুলিল্লা-হিল্লাযী লাহূমা-ফিছ ছামা-ওয়া-তি ওয়ামা-ফিল আরদিওয়া লাহুল হামদুফিল আ-খিরাতি ওয়াহুওয়াল হাকীমুল খাবীর।




আল বায়ান: সব প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আসমানসমূহে যা কিছু আছে ও যমীনে যা কিছু আছে তার মালিক। আর আখিরাতেও সকল প্রশংসা তাঁরই এবং তিনি প্রজ্ঞাময়, সম্যক অবগত।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১. সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আসমানসমূহে যা কিছু আছে ও যমীনে যা কিছু আছে তার মালিক এবং আখিরাতেও সমস্ত প্ৰশংসা তারই। আর তিনি হিকমতওয়ালা, সম্যক অবহিত।(১)




তাইসীরুল ক্বুরআন: যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর যিনি আকাশ ও পৃথিবীতে যা আছে সব কিছুর মালিক। আখিরাতেও প্রশংসা তাঁরই; তিনি মহা প্রজ্ঞাশীল, সকল বিষয়ে অবহিত।




আহসানুল বায়ান: (১) প্রশংসা আল্লাহরই, যিনি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে সমস্ত কিছুরই মালিক[1] এবং পরলোকেও সকল প্রশংসা তাঁরই।[2] তিনি প্রজ্ঞাময়, সর্ববিষয়ে অবহিত।



মুজিবুর রহমান: প্রশংসা আল্লাহর যিনি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে সব কিছুরই মালিক এবং আখিরাতেও প্রশংসা তাঁরই। তিনি প্রজ্ঞাময়, সর্ব বিষয়ে অবহিত।



ফযলুর রহমান: সকল প্রশংসা সেই সত্তার যিনি আসমান ও জমিনের সবকিছুর মালিক। পরকালেও সকল প্রশংসা তাঁরই। তিনি প্রজ্ঞাবান, সর্বজ্ঞ।



মুহিউদ্দিন খান: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি নভোমন্ডলে যা আছে এবং ভূমন্ডলে যা আছে সব কিছুর মালিক এবং তাঁরই প্রশংসা পরকালে। তিনি প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞ।



জহুরুল হক: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্‌র, তিনিই যাঁর অধীনে রয়েছে যা-কিছু আছে মহাকাশমন্ডলীতে ও যা-কিছু আছে পৃথিবীতে, আর তাঁরই সব প্রশংসা পরলোকে। আর তিনিই পরমজ্ঞানী, পূর্ণ ওয়াকিফহান।



Sahih International: [All] praise is [due] to Allah, to whom belongs whatever is in the heavens and whatever is in the earth, and to Him belongs [all] praise in the Hereafter. And He is the Wise, the Acquainted.



তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।


তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ১. সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আসমানসমূহে যা কিছু আছে ও যমীনে যা কিছু আছে তার মালিক এবং আখিরাতেও সমস্ত প্ৰশংসা তারই। আর তিনি হিকমতওয়ালা, সম্যক অবহিত।(১)


তাফসীর:

(১) অৰ্থাৎ তিনি তাঁর যাবতীয় নির্দেশে প্রাজ্ঞ, তিনি তাঁর সৃষ্টিজগত সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবহিত। [তাবারী]


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (১) প্রশংসা আল্লাহরই, যিনি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে সমস্ত কিছুরই মালিক[1] এবং পরলোকেও সকল প্রশংসা তাঁরই।[2] তিনি প্রজ্ঞাময়, সর্ববিষয়ে অবহিত।


তাফসীর:

[1] অর্থাৎ, তা তাঁরই মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণে আছে এবং তাতে তাঁরই ইচ্ছা ও ফায়সালা চলে। মানুষ যে সকল নিয়ামত পেয়েছে, তার সব কিছু তাঁরই সৃষ্টি এবং তা তাঁরই অনুগ্রহ। যার ফলে আকাশ ও পৃথিবীর সকল বস্তুর প্রশংসা প্রকৃত পক্ষে আল্লাহরই ঐ নিয়ামতের উপর প্রশংসা; যা তিনি তাঁর সৃষ্টিকে প্রদান করেছেন।

[2] এ প্রশংসা কিয়ামতের দিন মু’মিন ব্যক্তিগণ করবে। যেমন, প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদেরকে দেওয়া তাঁর প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেছেন.......। (সূরা যুমার ৭৪ আয়াত) যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহরই; যিনি আমাদেরকে এর পথ দেখিয়েছেন। (সূরা আ’রাফ ৪৩ আয়াত) সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর; যিনি আমাদের দুঃখ-দুর্দশা দূরীভূত করেছেন। (সূরা ফাত্বির ৩৪ আয়াত) ইত্যাদি। তার পরেও দুনিয়াতে আল্লাহর হামদ্ ও প্রশংসা করা এক প্রকার ইবাদত; যা পালন করতে মানুষকে আদেশ দেওয়া হয়েছে। আর আখেরাতে (বেহেশ্তে) তা মু’মিনদের রূহের খোরাক হবে, যাতে তারা আনন্দ ও খুশী উপভোগ করবে। (ফাতহুল ক্বাদীর)


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: নামকরণ:



“সাবা” একটি জনবসতি বা দেশের নাম “যেখানকার রাজা ছিলেন বিলকীস” এ সূরাতে “সাবা”বাসীদের সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে বিধায় একে সূরা “সাবা” বলে নামকরণ করা হয়েছে।



এ সূরাতে আল্লাহ তা‘আলার তাওহীদুল উলুহিয়্যাহ, কিয়ামতের ব্যাপারে কাফিরদের সংশয় নিরসন, দাঊদ (عليه السلام) ও তাঁর সন্তান সুলাইমান (عليه السلام) এবং তাদেরকে যে সকল মু‘জিযাহ দান করা হয়েছিল তার বর্ণনা দেয়া হয়েছে। সাবাবাসী মুশরিকদের বাতিল মা‘বূদের অপারগতা ও তারা আল্লাহ তা‘আলার কাছে কোন শাফায়াত করতে পারবে না সে সম্পর্কে তুলে ধরা হয়েছে। দুনিয়ার সবল ও দুর্বলদের কথা কাটাকাটি, প্রত্যেক জাতির ধনাট্য ও ক্ষমতাসীন ব্যক্তিরা নাবীদের সাথে যে আচরণ করত এবং তাদের যে অবস্থান ছিল সে বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে।



১-২ নং আয়াতের তাফসীর:



সূরার শুরুতেই আল্লাহ তা‘আলা নিজের সম্পর্কে অবগত করছেন যে, তিনি দুনিয়া ও আখিরাতের সকল প্রশংসার অধিকারী এবং আকাশমণ্ডলী ও জমিনের একমাত্র মালিক। তিনি ব্যতীত দ্বিতীয় আর কেউ নেই, এগুলোর ওপর তাঁর একচ্ছত্র মালিকানা রয়েছে।



আল্লাহ তা‘আলার বাণী:



(تَبٰرَکَ اَلَّذِيْ لَه۫ مُلْكُ السَّمٰوٰتِ وَالْأَرْضِ وَلَمْ يَتَّخِذْ وَلَدًا وَّلَمْ يَكُنْ لَّه۫ شَرِيْكٌ فِي الْمُلْكِ وَخَلَقَ كُلَّ شَيْءٍ فَقَدَّرَه۫ تَقْدِيْرًا)‏



“যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সার্বভৌমত্বের অধিকারী; তিনি কোন সন্ত‎ান গ্রহণ করেননি; সার্বভৌমত্বে তাঁর কোন শরীক নেই। তিনি সমস্ত‎ কিছু সৃষ্টি করেছেন এবং প্রত্যেককে পরিমিত করেছেন যথাযথ অনুপাতে।” (সূরা ফুরকান ২৫:২)



সুতরাং আমরা একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার প্রশংসা ও গুণর্কীতণ করব। এরপর আল্লাহ তা‘আলার জ্ঞানের পরিব্যাপ্তির বর্ণনা দেয়া হচ্ছে। তাঁর জ্ঞান সকল কিছু বেষ্টন করে আছে। এমনকি যা জমিনে প্রবেশ করে তাও তিনি জানেনন যেমন বৃষ্টি, প্রোথিত গুপ্তধন এবং খনিজ সম্পদ, বীজ ইত্যাদি এবং তিনি জানেন যা কিছু যমীন থেকে বের হয়। যেমন বিভিন্ন গাছ-গাছালি, উদ্ভিদ, তরুলতা ইত্যাদি এবং তিনি এও জানেন যা আকাশ হতে বর্ষিত হয় এবং যা কিছু যমীন হতে আকাশে উত্থিত হয়। তাঁর নিকট কোন কিছুই গোপন নেই।



আল্লাহ তা‘আলার বাণী:



(وَيَعْلَمُ مَا فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ ط وَمَا تَسْقُطُ مِنْ وَّرَقَةٍ إِلَّا يَعْلَمُهَا وَلَا حَبَّةٍ فِيْ ظُلُمٰتِ الْأَرْضِ وَلَا رَطْبٍ وَّلَا يَابِسٍ إِلَّا فِيْ كِتٰبٍ مُّبِيْنٍ)



“জলে ও স্থলে যা কিছু আছে তা তিনিই অবগত, তাঁর অজ্ঞাতসারে একটি পাতাও পড়ে না। মাটির অন্ধকারে এমন কোন শস্যকণাও অঙ্কুরিত হয় না অথবা রসযুক্ত কিংবা শুষ্ক এমন কোন বস্তু নেই যা সুস্পষ্ট কিতাবে (লাওহে মাহফূজে) নেই।” (সূরা আনআম ৬:৫৯)



সুতরাং যমীনে ও আকাশে যা কিছুই হোক না কেন কোন বিষয় আল্লাহ তা‘আলার নিকট গোপন থাকে না। আল্লাহ তা‘আলা সকল কিছু সম্পর্কে পূর্ব থেকেই অবগত আছেন। তাঁর দৃষ্টিকে ফাঁকি দেয়ার কোনই সুযোগ নেই। সেটি অন্ধকারে হোক আর আলোতে হোক, আল্লাহ তা‘আলা অবশ্যই জানেন।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. সকল কিছুর মালিক একমাত্র আল্লাহ তা‘আলা, অন্য কেউ নয়।

২. সর্বাবস্থায় সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার জন্য, অন্য কারো জন্য নয়।

৩. আল্লাহ তা‘আলা সকল বিষয়ে খবর রাখেন, মানুষ তা প্রকাশ্যে করুক বা গোপনে।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ১-২ নং আয়াতের তাফসীর:

আল্লাহ্ তা'আলা স্বীয় মহান সত্তা সম্পর্কে খবর দিচ্ছেন যে, দুনিয়া ও আখিরাতের সমস্ত নিয়ামত ও রহমত তাঁরই নিকট হতে আসে। সমস্ত হুকুমতের হাকিম তিনিই। সুতরাং সর্ব প্রকারের প্রশংসা ও গুণ-কীর্তনের হকদার একমাত্র তিনিই। তিনিই মাবুদ। তিনি ছাড়া ইবাদতের যোগ্য আর কেউই নেই। তাঁরই জন্যে দুনিয়া ও আখিরাতের তারীফ ও প্রশংসা শোভনীয়। হুকুমত একমাত্র তাঁরই এবং তাঁরই নিকট সবকিছু প্রত্যাবর্তিত হবে। যমীনে ও আসমানে যা কিছু আছে সবই তাঁর অধীনস্থ। যত কিছু আছে সবাই তাঁর দাস ও অনুগত। আর সবই তাঁর আয়ত্তাধীন। সবারই উপর তাঁর আধিপত্য রয়েছে। যেমন অন্য জায়গায় মহান আল্লাহ বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “আমারই জন্যে আদি ও অন্ত।”(৯২:১৩) আখিরাতে তাঁরই প্রশংসা হবে। তাঁর কথা, তাঁর কাজ এবং তাঁর আহকাম তাঁরই হুকুমতে বিরাজিত। তিনি এতো সজাগ যে, তাঁর কাছে কোন কিছুই গোপন থাকে না। তাঁর কাছে একটি অণুও গোপন থাকবার নয়। তিনি স্বীয় আহকামের মধ্যে অতি বিজ্ঞ। তিনি স্বীয় সৃষ্টি সম্বন্ধে সচেতন। পানির যতগুলো ফোঁটা যমীনে যায়, যতগুলো বীজ যমীনে বপন করা হয়, কিছুই তাঁর জ্ঞানের বাইরে নয়। যমীন হতে যা কিছু বের হয় সেটাও তিনি জানেন। তাঁর সীমাহীন ও প্রশস্ত জ্ঞানের বাইরে কিছুই থাকতে পারে না। প্রত্যেক বস্তুর সংখ্যা, প্রকৃতি এবং গুণাগুণ তাঁর জানা আছে। মেঘ হতে যে বৃষ্টি বর্ষিত হয়, তাতে কতটা ফোঁটা আছে তা তাঁর অজানা থাকে না। যে খাদ্য সেখান হতে নাযিল হয় সেটা সম্পর্কেও তিনি পূর্ণ ওয়াকিফহাল। ভাল কাজ যা আকাশের উপর উঠে যায় সে খবরও তিনি রাখেন।

তিনি স্বীয় বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত মেহেরবান। এ কারণেই তাদের পাপরাশি অবগত হওয়া সত্ত্বেও তিনি তাড়াতাড়ি তাদেরকে শাস্তি প্রদান করেন না। বরং তাদেরকে তাওবা করার সুযোগ দিয়ে থাকেন। তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল। একদিকে বান্দা তাঁর দিকে ঝুঁকে পড়ে অনুনয়-বিনয় ও কান্নাকাটি করে, আর অপরদিকে তিনি তাদেরকে ক্ষমা করে দেন। তাওবাকারীকে তিনি ধমক দিয়ে সরিয়ে দেন না। তার উপর ভরসাকারীরা কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয় না।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।