সূরা সাবা (আয়াত: 2)
হরকত ছাড়া:
يعلم ما يلج في الأرض وما يخرج منها وما ينزل من السماء وما يعرج فيها وهو الرحيم الغفور ﴿٢﴾
হরকত সহ:
یَعْلَمُ مَا یَلِجُ فِی الْاَرْضِ وَ مَا یَخْرُجُ مِنْهَا وَ مَا یَنْزِلُ مِنَ السَّمَآءِ وَ مَا یَعْرُجُ فِیْهَا ؕ وَ هُوَ الرَّحِیْمُ الْغَفُوْرُ ﴿۲﴾
উচ্চারণ: ইয়া‘লামুমা-ইয়ালিজুফিল আরদিওয়ামা-ইয়াখরুজুমিনহা-ওয়ামা-ইয়ানযিলু মিনাছছামাই ওয়ামা-ইয়া‘রুজুফীহা- ওয়া হুওয়ার রাহীমুল গাফূর।
আল বায়ান: তিনি জানেন যমীনে যা প্রবেশ করে এবং তা থেকে যা বের হয়; আর আসমান থেকে যা নাযিল হয় এবং তাতে যা উঠে* । আর তিনি পরম দয়ালু, অতিশয় ক্ষমাশীল।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ২. তিনি জানেন যা যমীনে প্রবেশ করে(১) এবং যা তা থেকে নিৰ্গত হয়, আর যা আসমান থেকে নাযিল হয় এবং যা কিছু তাতে উত্থিত হয়।(২) আর তিনি পরম দয়ালু, অতিশয় ক্ষমাশীল।
তাইসীরুল ক্বুরআন: ভূমিতে যা প্রবেশ করে আর তাত্থেকে যা বের হয়, আর আকাশ হতে যা অবতীর্ণ হয় আর তাতে যা উত্থিত হয় তা তিনি জানেন। তিনি পরম দয়ালু, পরম ক্ষমাশীল।
আহসানুল বায়ান: (২) তিনি জানেন যা ভূগর্ভে প্রবেশ করে,[1] যা তা থেকে নির্গত হয় এবং যা আকাশ হতে অবতরণ করে[2] ও যা কিছু আকাশে উত্থিত হয়। [3] তিনিই পরম দয়ালু, চরম ক্ষমাশীল।
মুজিবুর রহমান: তিনি জানেন যা ভূমিতে প্রবেশ করে, তা হতে যা নির্গত হয় এবং যা আকাশ হতে বর্ষিত হয় ও যা কিছু আকাশে উত্থিত হয়। তিনিই পরম দয়ালু, ক্ষমাশীল।
ফযলুর রহমান: ভূমিতে যা প্রবেশ করে, ভূমি থেকে যা বের হয়, আকাশ থেকে যা নেমে আসে আর আকাশে যা উঠে যায়, তিনি সবকিছুই জানেন। তিনিই পরম দয়ালু, ক্ষমাশীল।
মুহিউদ্দিন খান: তিনি জানেন যা ভূগর্ভে প্রবেশ করে, যা সেখান থেকে নির্গত হয়, যা আকাশ থেকে বর্ষিত হয় এবং যা আকাশে উত্থিত হয়। তিনি পরম দয়ালু ক্ষমাশীল।
জহুরুল হক: তিনি জানেন যা মাটির ভেতরে প্রবেশ করে আর যা তা থেকে বেরিয়ে আসে, আর যা আকাশ থেকে নেমে আসে আর যা তাতে উঠে যায়। আর তিনিই অফুরন্ত ফলদাতা, পরিত্রাণকারী।
Sahih International: He knows what penetrates into the earth and what emerges from it and what descends from the heaven and what ascends therein. And He is the Merciful, the Forgiving.
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ২. তিনি জানেন যা যমীনে প্রবেশ করে(১) এবং যা তা থেকে নিৰ্গত হয়, আর যা আসমান থেকে নাযিল হয় এবং যা কিছু তাতে উত্থিত হয়।(২) আর তিনি পরম দয়ালু, অতিশয় ক্ষমাশীল।
তাফসীর:
(১) অর্থাৎ আসমান থেকে যে পানি নাযিল হয় সে পানির কতটুকু যমীনে প্রবেশ করে তা আল্লাহ ভাল করেই জানেন। [আদওয়াউল বায়ান] যেমন অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, “আপনি কি দেখেন না, আল্লাহ আকাশ হতে বারি বর্ষণ করেন, অতঃপর তা ভূমিতে নির্ঝররূপে প্রবাহিত করেন তারপর তা দ্বারা বিবিধ বর্ণের ফসল উৎপন্ন করেন, তারপর তা শুকিয়ে যায়।” [সূরা আয-যুমার: ২১]
(২) যমীন থেকে যা নিৰ্গত হয় যেমন, উদ্ভিদ, খনিজ সম্পদ, পানি। আর আসমান থেকে যা নাযিল হয়। যেমন, বৃষ্টির পানি, ফেরেশতা, কিতাবাদি। আকাশে যা উত্থিত হয় যেমন, ফেরেশতাগণ, মানুষের আমল। তিনি বান্দাদের প্রতি দয়াশীল বলেই তাদের অপরাধের কারণে তাদের উপর দ্রুত শাস্তি নাযিল করেন না। যারা তার কাছে তাওবা করবে, তিনি তাদেরকে ক্ষমা করে দেন। [মুয়াস্সার]
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (২) তিনি জানেন যা ভূগর্ভে প্রবেশ করে,[1] যা তা থেকে নির্গত হয় এবং যা আকাশ হতে অবতরণ করে[2] ও যা কিছু আকাশে উত্থিত হয়। [3] তিনিই পরম দয়ালু, চরম ক্ষমাশীল।
তাফসীর:
[1] যেমন বৃষ্টি, প্রোথিত গুপ্তধন এবং খনিজ-সম্পদ ইত্যাদি।
[2] বৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি, মেঘগর্জন, বিদ্যুত ও আল্লাহর বরকত, ফিরিশতা এবং আসমানী কিতাব ইত্যাদি।
[3] অর্থাৎ, ফিরিশতা এবং বান্দাদের আমল।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: নামকরণ:
“সাবা” একটি জনবসতি বা দেশের নাম “যেখানকার রাজা ছিলেন বিলকীস” এ সূরাতে “সাবা”বাসীদের সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে বিধায় একে সূরা “সাবা” বলে নামকরণ করা হয়েছে।
এ সূরাতে আল্লাহ তা‘আলার তাওহীদুল উলুহিয়্যাহ, কিয়ামতের ব্যাপারে কাফিরদের সংশয় নিরসন, দাঊদ (عليه السلام) ও তাঁর সন্তান সুলাইমান (عليه السلام) এবং তাদেরকে যে সকল মু‘জিযাহ দান করা হয়েছিল তার বর্ণনা দেয়া হয়েছে। সাবাবাসী মুশরিকদের বাতিল মা‘বূদের অপারগতা ও তারা আল্লাহ তা‘আলার কাছে কোন শাফায়াত করতে পারবে না সে সম্পর্কে তুলে ধরা হয়েছে। দুনিয়ার সবল ও দুর্বলদের কথা কাটাকাটি, প্রত্যেক জাতির ধনাট্য ও ক্ষমতাসীন ব্যক্তিরা নাবীদের সাথে যে আচরণ করত এবং তাদের যে অবস্থান ছিল সে বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে।
১-২ নং আয়াতের তাফসীর:
সূরার শুরুতেই আল্লাহ তা‘আলা নিজের সম্পর্কে অবগত করছেন যে, তিনি দুনিয়া ও আখিরাতের সকল প্রশংসার অধিকারী এবং আকাশমণ্ডলী ও জমিনের একমাত্র মালিক। তিনি ব্যতীত দ্বিতীয় আর কেউ নেই, এগুলোর ওপর তাঁর একচ্ছত্র মালিকানা রয়েছে।
আল্লাহ তা‘আলার বাণী:
(تَبٰرَکَ اَلَّذِيْ لَه۫ مُلْكُ السَّمٰوٰتِ وَالْأَرْضِ وَلَمْ يَتَّخِذْ وَلَدًا وَّلَمْ يَكُنْ لَّه۫ شَرِيْكٌ فِي الْمُلْكِ وَخَلَقَ كُلَّ شَيْءٍ فَقَدَّرَه۫ تَقْدِيْرًا)
“যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সার্বভৌমত্বের অধিকারী; তিনি কোন সন্তান গ্রহণ করেননি; সার্বভৌমত্বে তাঁর কোন শরীক নেই। তিনি সমস্ত কিছু সৃষ্টি করেছেন এবং প্রত্যেককে পরিমিত করেছেন যথাযথ অনুপাতে।” (সূরা ফুরকান ২৫:২)
সুতরাং আমরা একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার প্রশংসা ও গুণর্কীতণ করব। এরপর আল্লাহ তা‘আলার জ্ঞানের পরিব্যাপ্তির বর্ণনা দেয়া হচ্ছে। তাঁর জ্ঞান সকল কিছু বেষ্টন করে আছে। এমনকি যা জমিনে প্রবেশ করে তাও তিনি জানেনন যেমন বৃষ্টি, প্রোথিত গুপ্তধন এবং খনিজ সম্পদ, বীজ ইত্যাদি এবং তিনি জানেন যা কিছু যমীন থেকে বের হয়। যেমন বিভিন্ন গাছ-গাছালি, উদ্ভিদ, তরুলতা ইত্যাদি এবং তিনি এও জানেন যা আকাশ হতে বর্ষিত হয় এবং যা কিছু যমীন হতে আকাশে উত্থিত হয়। তাঁর নিকট কোন কিছুই গোপন নেই।
আল্লাহ তা‘আলার বাণী:
(وَيَعْلَمُ مَا فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ ط وَمَا تَسْقُطُ مِنْ وَّرَقَةٍ إِلَّا يَعْلَمُهَا وَلَا حَبَّةٍ فِيْ ظُلُمٰتِ الْأَرْضِ وَلَا رَطْبٍ وَّلَا يَابِسٍ إِلَّا فِيْ كِتٰبٍ مُّبِيْنٍ)
“জলে ও স্থলে যা কিছু আছে তা তিনিই অবগত, তাঁর অজ্ঞাতসারে একটি পাতাও পড়ে না। মাটির অন্ধকারে এমন কোন শস্যকণাও অঙ্কুরিত হয় না অথবা রসযুক্ত কিংবা শুষ্ক এমন কোন বস্তু নেই যা সুস্পষ্ট কিতাবে (লাওহে মাহফূজে) নেই।” (সূরা আনআম ৬:৫৯)
সুতরাং যমীনে ও আকাশে যা কিছুই হোক না কেন কোন বিষয় আল্লাহ তা‘আলার নিকট গোপন থাকে না। আল্লাহ তা‘আলা সকল কিছু সম্পর্কে পূর্ব থেকেই অবগত আছেন। তাঁর দৃষ্টিকে ফাঁকি দেয়ার কোনই সুযোগ নেই। সেটি অন্ধকারে হোক আর আলোতে হোক, আল্লাহ তা‘আলা অবশ্যই জানেন।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. সকল কিছুর মালিক একমাত্র আল্লাহ তা‘আলা, অন্য কেউ নয়।
২. সর্বাবস্থায় সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার জন্য, অন্য কারো জন্য নয়।
৩. আল্লাহ তা‘আলা সকল বিষয়ে খবর রাখেন, মানুষ তা প্রকাশ্যে করুক বা গোপনে।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ১-২ নং আয়াতের তাফসীর:
আল্লাহ্ তা'আলা স্বীয় মহান সত্তা সম্পর্কে খবর দিচ্ছেন যে, দুনিয়া ও আখিরাতের সমস্ত নিয়ামত ও রহমত তাঁরই নিকট হতে আসে। সমস্ত হুকুমতের হাকিম তিনিই। সুতরাং সর্ব প্রকারের প্রশংসা ও গুণ-কীর্তনের হকদার একমাত্র তিনিই। তিনিই মাবুদ। তিনি ছাড়া ইবাদতের যোগ্য আর কেউই নেই। তাঁরই জন্যে দুনিয়া ও আখিরাতের তারীফ ও প্রশংসা শোভনীয়। হুকুমত একমাত্র তাঁরই এবং তাঁরই নিকট সবকিছু প্রত্যাবর্তিত হবে। যমীনে ও আসমানে যা কিছু আছে সবই তাঁর অধীনস্থ। যত কিছু আছে সবাই তাঁর দাস ও অনুগত। আর সবই তাঁর আয়ত্তাধীন। সবারই উপর তাঁর আধিপত্য রয়েছে। যেমন অন্য জায়গায় মহান আল্লাহ বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “আমারই জন্যে আদি ও অন্ত।”(৯২:১৩) আখিরাতে তাঁরই প্রশংসা হবে। তাঁর কথা, তাঁর কাজ এবং তাঁর আহকাম তাঁরই হুকুমতে বিরাজিত। তিনি এতো সজাগ যে, তাঁর কাছে কোন কিছুই গোপন থাকে না। তাঁর কাছে একটি অণুও গোপন থাকবার নয়। তিনি স্বীয় আহকামের মধ্যে অতি বিজ্ঞ। তিনি স্বীয় সৃষ্টি সম্বন্ধে সচেতন। পানির যতগুলো ফোঁটা যমীনে যায়, যতগুলো বীজ যমীনে বপন করা হয়, কিছুই তাঁর জ্ঞানের বাইরে নয়। যমীন হতে যা কিছু বের হয় সেটাও তিনি জানেন। তাঁর সীমাহীন ও প্রশস্ত জ্ঞানের বাইরে কিছুই থাকতে পারে না। প্রত্যেক বস্তুর সংখ্যা, প্রকৃতি এবং গুণাগুণ তাঁর জানা আছে। মেঘ হতে যে বৃষ্টি বর্ষিত হয়, তাতে কতটা ফোঁটা আছে তা তাঁর অজানা থাকে না। যে খাদ্য সেখান হতে নাযিল হয় সেটা সম্পর্কেও তিনি পূর্ণ ওয়াকিফহাল। ভাল কাজ যা আকাশের উপর উঠে যায় সে খবরও তিনি রাখেন।
তিনি স্বীয় বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত মেহেরবান। এ কারণেই তাদের পাপরাশি অবগত হওয়া সত্ত্বেও তিনি তাড়াতাড়ি তাদেরকে শাস্তি প্রদান করেন না। বরং তাদেরকে তাওবা করার সুযোগ দিয়ে থাকেন। তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল। একদিকে বান্দা তাঁর দিকে ঝুঁকে পড়ে অনুনয়-বিনয় ও কান্নাকাটি করে, আর অপরদিকে তিনি তাদেরকে ক্ষমা করে দেন। তাওবাকারীকে তিনি ধমক দিয়ে সরিয়ে দেন না। তার উপর ভরসাকারীরা কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয় না।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।