আল কুরআন


সূরা আস-সাজদাহ (আয়াত: 9)

সূরা আস-সাজদাহ (আয়াত: 9)



হরকত ছাড়া:

ثم سواه ونفخ فيه من روحه وجعل لكم السمع والأبصار والأفئدة قليلا ما تشكرون ﴿٩﴾




হরকত সহ:

ثُمَّ سَوّٰىهُ وَ نَفَخَ فِیْهِ مِنْ رُّوْحِهٖ وَ جَعَلَ لَکُمُ السَّمْعَ وَ الْاَبْصَارَ وَ الْاَفْـِٕدَۃَ ؕ قَلِیْلًا مَّا تَشْکُرُوْنَ ﴿۹﴾




উচ্চারণ: ছু ম্ম ছাওওয়া-হু ওয়া নাফাখা ফীহি মিররূহিহী ওয়া জা‘আলা লাকুমুছ ছাম‘আ ওয়াল আবসারা ওয়াল আফইদাতা কালীলাম মা-তাশকুরূন।




আল বায়ান: তারপর তিনি তাকে সুঠাম করেছেন এবং তাতে নিজের রূহ থেকে ফুঁকে দিয়েছেন। আর তিনি তোমাদের জন্য কান, চোখ ও অন্তরসমূহ সৃষ্টি করেছেন। তোমরা খুব সামান্যই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৯. পরে তিনি সেটাকে করেছেন সুঠাম এবং তাতে ফুঁকে দিয়েছেন তাঁর রূহ থেকে। আর তোমাদেরকে দিয়েছেন কান, চোখ ও অন্তঃকরণ, তোমরা খুব সামান্যই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।(১)




তাইসীরুল ক্বুরআন: অতঃপর তিনি তাকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করেছেন আর তার ভিতরে স্বীয় রূহ হতে ফুঁক দিয়েছেন, আর তোমাদেরকে দিয়েছেন শ্রবণেন্দ্রীয়, দর্শনেন্দ্রিয় ও অন্তঃকরণ; কৃতজ্ঞতা তোমরা সামান্যই প্রকাশ কর।




আহসানুল বায়ান: (৯) পরে তিনি ওকে সুঠাম করেছেন এবং তাঁর নিকট হতে ওতে জীবন সঞ্চার করেছেন[1] এবং তোমাদেরকে দিয়েছেন চোখ, কান ও অন্তর।[2] তোমরা অতি সামান্যই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।[3]



মুজিবুর রহমান: পরে তিনি ওকে করেছেন সুষম এবং ওতে ফুঁকে দিয়েছেন রুহ্ তাঁর নিকট হতে এবং তোমাদেরকে দিয়েছেন কর্ণ, চক্ষু ও অন্তঃকরণ; তোমরা অতি সামান্যই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে থাক।



ফযলুর রহমান: (মাটি দ্বারা বানানোর) পরে তিনি তাকে সুষম দেহবিশিষ্ট করেছেন এবং তার মধ্যে তাঁর (সৃষ্ট) রূহ ফুঁকে দিয়েছেন। তিনি তোমাদেরকে কান, চোখ ও অন্তরও দিয়েছেন। (এ সবের জন্য) তোমরা খুব কমই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।



মুহিউদ্দিন খান: অতঃপর তিনি তাকে সুষম করেন, তাতে রূহ সঞ্চার করেন এবং তোমাদেরকে দেন কর্ণ, চক্ষু ও অন্তঃকরণ। তোমরা সামান্যই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।



জহুরুল হক: তারপর তিনি তাকে সুঠাম করলেন, এবং তাতে ফুঁকে দিলেন তাঁর আ‌ত্মা থেকে, আর তোমাদের জন্য তৈরি করলেন শ্রবণশক্তি ও দর্শনশক্তি ও অন্তঃকরণ। অল্পমাত্রায়ই তোমরা কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন কর।



Sahih International: Then He proportioned him and breathed into him from His [created] soul and made for you hearing and vision and hearts; little are you grateful.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৯. পরে তিনি সেটাকে করেছেন সুঠাম এবং তাতে ফুঁকে দিয়েছেন তাঁর রূহ থেকে। আর তোমাদেরকে দিয়েছেন কান, চোখ ও অন্তঃকরণ, তোমরা খুব সামান্যই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।(১)


তাফসীর:

(১) আয়াতের সমার্থে আরও দেখুন, সূরা আল-মুমিনুন: ১৩–১৪৷


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৯) পরে তিনি ওকে সুঠাম করেছেন এবং তাঁর নিকট হতে ওতে জীবন সঞ্চার করেছেন[1] এবং তোমাদেরকে দিয়েছেন চোখ, কান ও অন্তর।[2] তোমরা অতি সামান্যই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।[3]


তাফসীর:

[1] অর্থাৎ, মায়ের পেটে ভ্রূণকে বড় করে, তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তৈরী করে, অতঃপর তাতে রূহ দান করেন।

[2] অর্থাৎ, এই সকল কিছু তিনি তার মধ্যে সৃষ্টি করেছেন, যাতে তাঁর সৃষ্টি পূর্ণাঙ্গ লাভ করে এবং তোমরা সকল শ্রাব্য শব্দ শ্রবণ করতে পার, দৃশ্য বস্তু দর্শন করতে পার এবং বোধ্য বস্তু বোধ করতে পার।

[3] অর্থাৎ, এত অনুগ্রহ দানের পরেও মানুষ এমন অকৃতজ্ঞ যে, সে আল্লাহর কৃতজ্ঞতা অতি অল্প মাত্রায় স্বীকার করে অথবা কৃতজ্ঞ ব্যক্তি অতি নগণ্য।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৭-৯ নং আয়াতের তাফসীর:



এ আয়াতগুলোতে আল্লাহ তা‘আলার মানব সৃষ্টির নৈপুণ্যতা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।



আল্লাহ তা‘আলা বলেন: তিনি সবকিছুই সৃষ্টি করেছেন। সবই তিনি এমন সুন্দরভাবে ও উত্তম পদ্ধতিতে সৃষ্টি করেছেন যা কল্পনাতীত। প্রত্যেক বস্তুর সৃষ্টিই কত উত্তম, কত দৃঢ় ও কত মজবুত! আকাশ-পাতাল সৃষ্টির সাথে মানব সৃষ্টির ওপর চিন্তা-ভাবনা করলে বিস্মিত হতে হয়। তিনি মাটি হতে মানব সৃষ্টির সূচনা করেছেন। এর দ্বারা মূলত আদম (عليه السلام)-কে উদ্দেশ্য করা হয়েছে যার থেকে মানব সৃষ্টির সূচনা হয়েছে। অতঃপর তিনি তার (আদমের) বংশ বিস্তার করেন তুচ্ছ তরল পদার্থের নির্যাস হতে। এর দ্বারা সমগ্র মানব জাতিকে বুঝানো হয়েছে। যে নির্যাস পুরুষের পিঠ ও নারীর বক্ষস্থল হতে নির্গত হয়ে থাকে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(يَّخْرُجُ مِنْۭ بَيْنِ الصُّلْبِ وَالتَّرَا۬ئِبِ)



“যা বের হয় পিঠ ও বুকের হাড়ের মধ্য হতে।” (সূরা তারিক ৮৬:৭)



পরে তিনি তা সংগঠিত করেছেন মায়ের পেটে নির্দিষ্ট কয়েক দিনের জন্য, তারপর তাতে তাঁর রূহ ফুঁকে দিয়েছেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(فَإِذَا سَوَّيْتُه۫ وَنَفَخْتُ فِيْهِ مِنْ رُّوْحِيْ فَقَعُوْا لَه۫ سٰجِدِيْنَ)‏



‘যখন আমি তাকে পূর্ণ মাত্রায় বানিয়ে দিব এবং তাতে আমার পক্ষ হতে রূহ সঞ্চার করব তখন তোমরা তার প্রতি সিজ্দাবনত হও’, (সূরা হিজর ১৫:২৯)



এরপর তিনি মানুষকে চক্ষু, কর্ণ ও অন্তর দান করেছেন তথাপি তারা মহান রবের শুকরিয়া আদায় করে না।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. মানব সৃষ্টির সূচনা করা হয়েছে মাটি থেকে।

২. আদম, হাওয়া ও ঈসা (আলাইহিমুস সালাম)-এর পরবর্তী সকল মানুষকে বীর্য হতে সৃষ্টি করা হয়েছে।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৭-৯ নং আয়াতের তাফসীর

আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ তিনি (আল্লাহ) সব কিছুই সৃষ্টি করেছেন। সবই তিনি এমন সুন্দরভাবে ও উত্তম পদ্ধতিতে সৃষ্টি করেছেন যা ধারণা করা যায় না। প্রত্যেক বস্তুর সৃষ্টিই কত উত্তম, কত দৃঢ় ও কত মযবুত! আকাশ-পাতাল সৃষ্টির সাথে সাথে মানব-সৃষ্টির উপর চিন্তা-ভাবনা করলে বিস্মিত হতে হয়। তিনি কর্ম হতে মানব সৃষ্টির সূচনা করেছেন। অতঃপর তিনি তার বংশ উৎপন্ন করেন তুচ্ছ তরল পদার্থের নির্যাস হতে যা পুরুষের পিঠ ও স্ত্রীর বক্ষস্থল হতে বের হয়ে থাকে। '

পরে তিনি তাকে করেছেন সুঠাম এবং তাতে রূহ ফুকে দিয়েছেন নিজের নিকট হতে। মানুষকে তিনি চক্ষু, কর্ণ ও অন্তঃকরণ দান করেছেন। কিন্তু বড়ই পরিতাপের বিষয় যে, এর পরও মানুষ খুব কমই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে থাকে। তাদের পরিণতি অতি উত্তম ও আনন্দদায়ক যারা আল্লাহ-প্রদত্ত শক্তিসমূহকে তাঁর আদেশ অনুযায়ী তাঁর পথে ব্যবহার করে থাকে। মহান তাঁর শান ও মর্যাদাপূর্ণ তার নাম।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।