আল কুরআন


সূরা আস-সাজদাহ (আয়াত: 7)

সূরা আস-সাজদাহ (আয়াত: 7)



হরকত ছাড়া:

الذي أحسن كل شيء خلقه وبدأ خلق الإنسان من طين ﴿٧﴾




হরকত সহ:

الَّذِیْۤ اَحْسَنَ کُلَّ شَیْءٍ خَلَقَهٗ وَ بَدَاَ خَلْقَ الْاِنْسَانِ مِنْ طِیْنٍ ۚ﴿۷﴾




উচ্চারণ: আল্লাযী-আহছানা কুল্লা শাইয়িন খালাকাহূওয়া বাদাআ খালকাল ইনছা-নি মিন তীন।




আল বায়ান: যিনি তাঁর প্রতিটি সৃষ্টিকে সুন্দর করে সৃষ্টি করেছেন এবং কাদা মাটি থেকে মানুষ সৃষ্টির সূচনা করেছেন।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৭. যিনি তাঁর প্রত্যেকটি সৃষ্টিকে সৃজন করেছেন উত্তমরূপে(১) এবং কাদা হতে মানব সৃষ্টির সূচনা করেছেন।




তাইসীরুল ক্বুরআন: যিনি সব কিছুকে উত্তমরূপে সৃষ্টি করেছেন, আর মানুষ সৃষ্টির সূচনা করেছেন মাটি থেকে।




আহসানুল বায়ান: (৭) যিনি তাঁর প্রত্যেকটি সৃষ্টিকে উত্তমরূপে সৃজন করেছেন[1] এবং মাটি হতে মানব-সৃষ্টির সূচনা করেছেন।[2]



মুজিবুর রহমান: যিনি তাঁর প্রত্যেক সৃষ্টিকে সৃষ্টি করেছেন উত্তম রূপে এবং কাদা মাটি হতে মানব সৃষ্টির সূচনা করেছেন।



ফযলুর রহমান: যিনি প্রত্যেকটি জিনিস সুন্দর করে সৃষ্টি করেছেন এবং মাটি থেকে মানুষ সৃষ্টি শুরু করেছেন (প্রথম মানুষ আদমকে সৃষ্টি করেছেন)।



মুহিউদ্দিন খান: যিনি তাঁর প্রত্যেকটি সৃষ্টিকে সুন্দর করেছেন এবং কাদামাটি থেকে মানব সৃষ্টির সূচনা করেছেন।



জহুরুল হক: যিনি সুন্দর করেছেন প্রত্যেকটি জিনিস যা তিনি সৃষ্টি করেছেন, আর তিনি মানুষ সৃষ্টির সূচনা করেছেন কাদা থেকে।



Sahih International: Who perfected everything which He created and began the creation of man from clay.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৭. যিনি তাঁর প্রত্যেকটি সৃষ্টিকে সৃজন করেছেন উত্তমরূপে(১) এবং কাদা হতে মানব সৃষ্টির সূচনা করেছেন।


তাফসীর:

(১) অর্থাৎ তিনি যেভাবে সৃষ্টি করেছেন সেটাই উত্তম ও সুন্দর। [তাবারী] মুজাহিদ বলেন, তিনি প্রতিটি বস্তুর সৃষ্টি অত্যন্ত মজবুত ও নৈপুণ্য সহকারে সম্পন্ন করেছেন। [আত-তাফসীরুস সহীহ]


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৭) যিনি তাঁর প্রত্যেকটি সৃষ্টিকে উত্তমরূপে সৃজন করেছেন[1] এবং মাটি হতে মানব-সৃষ্টির সূচনা করেছেন।[2]


তাফসীর:

[1] অর্থাৎ, যা কিছু আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন, তা যেহেতু আল্লাহর হিকমত ও ইচ্ছা অনুযায়ী সেহেতু প্রতিটি বস্তুতেই এক বিশেষ সৌন্দর্য ও উৎকৃষ্টতা আছে। বলা বাহুল্য, তাঁর সৃষ্টির সকল জিনিসই সুন্দর। অনেকে أَحسَنَ শব্দটিকে أَتقَنَ ও أحكَمَ এর অর্থে ব্যবহার করেছেন। অর্থাৎ তিনি যাবতীয় বস্তুকে সুনিপুণ ও মজবুত করে সৃষ্টি করেছেন। অনেকে তাকে أَلهَمَ এর অর্থে মনে করেছেন। অর্থাৎ যাবতীয় সৃষ্টিকে তার প্রয়োজনীয় জিনিসের ইলহাম (জ্ঞানসঞ্চার) করেছেন।

[2] অর্থাৎ, সর্বপ্রথম মানুষ আদম (আঃ)-কে মাটি দ্বারা সৃষ্টি করেছেন যাঁর নিকট থেকে মানব জন্মের সূচনা হয়েছে এবং তাঁর স্ত্রী হাওয়াকে তাঁর বাম পার্শেবর অস্থি থেকে সৃষ্টি করেছেন; তা হাদীস দ্বারা বুঝা যায়।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৭-৯ নং আয়াতের তাফসীর:



এ আয়াতগুলোতে আল্লাহ তা‘আলার মানব সৃষ্টির নৈপুণ্যতা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।



আল্লাহ তা‘আলা বলেন: তিনি সবকিছুই সৃষ্টি করেছেন। সবই তিনি এমন সুন্দরভাবে ও উত্তম পদ্ধতিতে সৃষ্টি করেছেন যা কল্পনাতীত। প্রত্যেক বস্তুর সৃষ্টিই কত উত্তম, কত দৃঢ় ও কত মজবুত! আকাশ-পাতাল সৃষ্টির সাথে মানব সৃষ্টির ওপর চিন্তা-ভাবনা করলে বিস্মিত হতে হয়। তিনি মাটি হতে মানব সৃষ্টির সূচনা করেছেন। এর দ্বারা মূলত আদম (عليه السلام)-কে উদ্দেশ্য করা হয়েছে যার থেকে মানব সৃষ্টির সূচনা হয়েছে। অতঃপর তিনি তার (আদমের) বংশ বিস্তার করেন তুচ্ছ তরল পদার্থের নির্যাস হতে। এর দ্বারা সমগ্র মানব জাতিকে বুঝানো হয়েছে। যে নির্যাস পুরুষের পিঠ ও নারীর বক্ষস্থল হতে নির্গত হয়ে থাকে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(يَّخْرُجُ مِنْۭ بَيْنِ الصُّلْبِ وَالتَّرَا۬ئِبِ)



“যা বের হয় পিঠ ও বুকের হাড়ের মধ্য হতে।” (সূরা তারিক ৮৬:৭)



পরে তিনি তা সংগঠিত করেছেন মায়ের পেটে নির্দিষ্ট কয়েক দিনের জন্য, তারপর তাতে তাঁর রূহ ফুঁকে দিয়েছেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(فَإِذَا سَوَّيْتُه۫ وَنَفَخْتُ فِيْهِ مِنْ رُّوْحِيْ فَقَعُوْا لَه۫ سٰجِدِيْنَ)‏



‘যখন আমি তাকে পূর্ণ মাত্রায় বানিয়ে দিব এবং তাতে আমার পক্ষ হতে রূহ সঞ্চার করব তখন তোমরা তার প্রতি সিজ্দাবনত হও’, (সূরা হিজর ১৫:২৯)



এরপর তিনি মানুষকে চক্ষু, কর্ণ ও অন্তর দান করেছেন তথাপি তারা মহান রবের শুকরিয়া আদায় করে না।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. মানব সৃষ্টির সূচনা করা হয়েছে মাটি থেকে।

২. আদম, হাওয়া ও ঈসা (আলাইহিমুস সালাম)-এর পরবর্তী সকল মানুষকে বীর্য হতে সৃষ্টি করা হয়েছে।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৭-৯ নং আয়াতের তাফসীর

আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ তিনি (আল্লাহ) সব কিছুই সৃষ্টি করেছেন। সবই তিনি এমন সুন্দরভাবে ও উত্তম পদ্ধতিতে সৃষ্টি করেছেন যা ধারণা করা যায় না। প্রত্যেক বস্তুর সৃষ্টিই কত উত্তম, কত দৃঢ় ও কত মযবুত! আকাশ-পাতাল সৃষ্টির সাথে সাথে মানব-সৃষ্টির উপর চিন্তা-ভাবনা করলে বিস্মিত হতে হয়। তিনি কর্ম হতে মানব সৃষ্টির সূচনা করেছেন। অতঃপর তিনি তার বংশ উৎপন্ন করেন তুচ্ছ তরল পদার্থের নির্যাস হতে যা পুরুষের পিঠ ও স্ত্রীর বক্ষস্থল হতে বের হয়ে থাকে। '

পরে তিনি তাকে করেছেন সুঠাম এবং তাতে রূহ ফুকে দিয়েছেন নিজের নিকট হতে। মানুষকে তিনি চক্ষু, কর্ণ ও অন্তঃকরণ দান করেছেন। কিন্তু বড়ই পরিতাপের বিষয় যে, এর পরও মানুষ খুব কমই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে থাকে। তাদের পরিণতি অতি উত্তম ও আনন্দদায়ক যারা আল্লাহ-প্রদত্ত শক্তিসমূহকে তাঁর আদেশ অনুযায়ী তাঁর পথে ব্যবহার করে থাকে। মহান তাঁর শান ও মর্যাদাপূর্ণ তার নাম।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।