আল কুরআন


সূরা আস-সাজদাহ (আয়াত: 6)

সূরা আস-সাজদাহ (আয়াত: 6)



হরকত ছাড়া:

ذلك عالم الغيب والشهادة العزيز الرحيم ﴿٦﴾




হরকত সহ:

ذٰلِکَ عٰلِمُ الْغَیْبِ وَ الشَّهَادَۃِ الْعَزِیْزُ الرَّحِیْمُ ۙ﴿۶﴾




উচ্চারণ: যা-লিকা ‘আ-লিমুল গাইবি ওয়াশশাহা-দাতিল ‘আযীযুর রাহীম।




আল বায়ান: তিনিই গায়েব ও হাযির সম্পর্কে জ্ঞাত, মহাপরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৬. তিনি, গায়েব ও উপস্থিত (যাবতীয় বিষয়ে) জ্ঞানী, প্রবল পরাক্রমশালী(১), পরম দয়ালু।(২)




তাইসীরুল ক্বুরআন: এমনই তিনি, অদৃশ্য ও দৃশ্যমান সম্পর্কে জ্ঞাত, মহাপরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।




আহসানুল বায়ান: (৬) তিনিই দৃশ্য ও অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা, পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।



মুজিবুর রহমান: তিনিই দৃশ্য ও অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা, পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু –



ফযলুর রহমান: অদৃশ্য ও দৃশ্যমান সবকিছু তাঁর জানা। তিনি পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।



মুহিউদ্দিন খান: তিনিই দৃশ্য ও অদৃশ্যের জ্ঞানী, পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু,



জহুরুল হক: এজনই হচ্ছেন অদৃশ্যের ও প্রকাশ্যের পরিজ্ঞাতা, মহাশক্তিশালী, অফুরন্ত ফলদাতা, --



Sahih International: That is the Knower of the unseen and the witnessed, the Exalted in Might, the Merciful,



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৬. তিনি, গায়েব ও উপস্থিত (যাবতীয় বিষয়ে) জ্ঞানী, প্রবল পরাক্রমশালী(১), পরম দয়ালু।(২)


তাফসীর:

(১) অর্থাৎ প্রত্যেকটি জিনিসের ওপর প্রাধান্যের অধিকারী। [মুয়াস্‌সার]


(২) অর্থাৎ তিনি নিজের সৃষ্টির প্রতি দয়ার্দ্র ও করুণাময়। [ইবন কাসীর]


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৬) তিনিই দৃশ্য ও অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা, পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।


তাফসীর:

-


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৪-৬ নং আয়াতের তাফসীর:



আল্লাহ তা‘আলা প্রথমে খবর দিচ্ছেন যে, তিনি আকাশমণ্ডলী ও জমিন এবং এতদুভয়ের মধ্যে যা কিছু আছে তা ছয়দিনে সৃষ্টি করেছেন। এ সম্পর্কে সূরা আ‘রাফের ৫৪, ইউনুসের ৩ ও হুদের ৭ নং আয়াতে আলোচনা করা হয়েছে।



এরপর আল্লাহ তা‘আলা বলেন: আকাশমণ্ডলী, জমিন ও সকল কিছু সৃষ্টি করার পর তিনি আরশে সমুন্নত হয়েছেন। এ সম্পর্কে সূরা আ‘রাফের ৫৪ নং আয়াতে আলোচনা করা হয়েছে।



সুতরাং আল্লাহ তা‘আলাই যেহেতু আকাশমণ্ডলী, পৃথিবী ও এতদুভয়ের মধ্যে যা কিছু আছে সকল কিছুর স্রষ্টা তাই কিয়ামত দিবসে তিনি ব্যতীত আর কোনই মালিক থাকবে না এবং কোন সুপারিশকারীও থাকবে না। সেদিন সকল ক্ষমতা থাকবে তাঁরই হাতে, কোন মানুষের কোন ক্ষমতা থাকবে না। তিনি তাঁর ইচ্ছামত ন্যায়সঙ্গতভাবে বিচারকার্য সম্পাদন করবেন।



অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা বলেন যে, আকাশমণ্ডলী ও জমিনে যা কিছু রয়েছে সকল কিছু একমাত্র তিনিই পরিচালনা করেন। সকল কিছুর নির্দেশ প্রদান করেন একমাত্র তিনিই। আল্লাহ তা‘আলার বাণী:



(اَللّٰهُ الَّذِيْ خَلَقَ سَبْعَ سَمٰوٰتٍ وَّمِنَ الْأَرْضِ مِثْلَهُنَّ ط يَتَنَزَّلُ الْأَمْرُ بَيْنَهُنَّ لِتَعْلَمُوْآ أَنَّ اللّٰهَ عَلٰي كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ لا وَّأَنَّ اللّٰهَ قَدْ أَحَاطَ بِكُلِّ شَيْءٍ عِلْمًا)‏



“আল্লাহই সৃষ্টি করেছেন সপ্ত আকাশ এবং এর অনুরূপ পৃথিবী, ওগুলোর মধ্যে নেমে আসে তাঁর নির্দেশ; যাতে তোমরা জানতে পার যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান এবং জ্ঞানে আল্লাহ সবকিছুই পরিবেষ্টন করে রেখেছেন।” (সূরা তালাক ৬৫:১২)



আর এ সকল জিনিস একদিন মহান আল্লাহ তা‘আলার দিকে উঠিয়ে নেয়া হবে, সেই একদিনের পরিমাণ দুনিয়ার দিনের পঞ্চাশ হাজার বছরের সমপরিমাণ। অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(تَعْرُجُ الْمَلٰ۬ئِكَةُ وَالرُّوْحُ إِلَيْهِ فِيْ يَوْمٍ كَانَ مِقْدَارُه۫ خَمْسِيْنَ أَلْفَ سَنَةٍ)‏



“ফেরেশতা এবং রূহ (জিবরাঈল--) তাঁর দিকে ঊর্ধ্বগামী হবে এমন এক দিনে যার পরিমাণ পঞ্চাশ হাজার বছরের সমান।” (সূরা মা‘আরিজ ৭০:৪)



অত্র সূরায় বলা হল আমাদের গণনামতে এক হাজার বছরের সমান, আর সূরা মাআরিজে বলা হয়েছে পঞ্চাশ হাজার বছরের সমান, উভয়ের সমাধান হলন সেদিনটি অত্যন্ত ভয়ংকর হবে বিধায় মানুষের কাছে অতিশয় দীর্ঘ বলে মনে হবে। এরূপ দীর্ঘানুভূতি নিজ নিজ ঈমান ও আমলানুপাতে হবে। যারা বড় অপরাধী তাদের নিকট অতিদীর্ঘ এবং যারা কম অপরাধী তাদের কাছে কম দীর্ঘ বলে মনে হবে। এমনকি কারো কাছে এক হাজার বছর মনে হবে, আর কারো কাছে পঞ্চাশ হাজার বছর মনে হবে।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. সকল কিছুর স্রষ্টা একমাত্র আল্লাহ তা‘আলা এবং তিনিই এগুলোর পরিচালক।

২. আল্লাহ তা‘আলা সকল কিছুকে সৃষ্টি করেছেন ছয়দিনে মানুষকে কর্মে ধীরস্থিরতা শিক্ষা দেয়ার জন্য।

৩. পরকালে আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত আর কোন মালিক থাকবে না, আর কোন সাহায্যকারীও থাকবে না।

৪. আখিরাতের একদিন সমান দুনিয়ার পঞ্চাশ হাজার বছর।

৫. আল্লাহ তা‘আলা আরশের ওপর সমুন্নত আছেন যেমনভাবে তাঁর জন্য উপযুক্ত। তিনি পৃথিবীর সর্বত্র বিরাজমান নন।

৬. আল্লাহ তা‘আলা দৃশ্য-অদৃশ্য সকল কিছু সম্পর্কে অবগত আছেন।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৪-৬ নং আয়াতের তাফসীর

আল্লাহ তা'আলা খবর দিচ্ছেন যে, তিনিই সবকিছুর সৃষ্টিকর্তা। তিনি ছয় দিনে যমীন, আসমান ও এতোদুভয়ের মধ্যে যা কিছু আছে তা সৃষ্টি করে। আরশের উপর সমাসীন হন। এর তাফসীর ইতিপূর্বে গত হয়েছে। মালিক ও সৃষ্টিকর্তা তিনিই। প্রত্যেক জিনিসের পূর্ণতা প্রাপ্তি তাঁরই হাতে। সবকিছুর তদবীর ও তদারক তিনিই করে থাকেন। সবকিছুরই উপর আধিপত্য তাঁরই। তিনি ছাড়া সৃষ্টজীবের কোন বন্ধু ও অভিভাবক নেই। তাঁর অনুমতি ছাড়া কারো কোন সুপারিশ চলবে না।

মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ হে জনমণ্ডলী! আল্লাহকে ছেড়ে তোমরা যাদের উপাসনা করছে এবং যাদের উপর নির্ভরশীল হচ্ছ, তোমরা কি বুঝতে পার না যে, এতো বড় শক্তিশালী সত্তা কি করে তাঁর একজন শরীক গ্রহণ করতে পারেন? তিনি তাঁর সমকক্ষতা, পরামর্শদাতা ও শরীক হতে সম্পূর্ণরূপে পবিত্র ও মুক্ত। তিনি ছাড়া কোন উপাস্য নেই, পালনকর্তাও নেই।

হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাঁর হাতটি ধারণ করে বলেনঃ “আল্লাহ তাআলা যমীন, আসমান এবং এ দুয়ের মধ্যস্থিত সবকিছু সৃষ্টি করার পর সপ্তম দিবসে আরশের উপর অধিষ্ঠিত হন। তিনি মাটিকে শনিবার, পাহাড়কে ররিবার, গাছ-পালাকে সোমবারে, মন্দ জিনিসকে মঙ্গলবার, জ্যোতিকে বুধবার, জীবজন্তুকে বৃহস্পতিবার এবং হযরত আদম (আঃ)-কে শুক্রবার আসরের পরে দিবসের শেষভাগে সৃষ্টি করেন। তাঁকে তিনি সারা দুনিয়ার মাটি দ্বারা সৃষ্টি করেন। এতে লাল, কালো, সাদা, ভাল-মন্দ ইত্যাদি সব রকমের মাটি ছিল। এ কারণেই আদম সন্তান ভাল ও মন্দ হয়ে থাকে।” (এ হাদীসটি ইমাম নাসাঈ (রঃ) বর্ণনা করেছেন। ইমাম বুখারী (রঃ) এটাকে মুআল্লাল বলে উল্লেখ করেছেন। এসব ব্যাপারে আল্লাহই সবচেয়ে ভাল জানেন)

আল্লাহ তা'আলার আদেশ সপ্তম আকাশ হতে অবতীর্ণ হয় এবং সাত তবক যমীনের নীচে পর্যন্ত চলে যায়। যেমন অন্য আয়াতে উল্লিখিত হয়েছেঃ (আরবি)

অর্থাৎ “আল্লাহ তিনিই যিনি সাতটি আকাশ সৃষ্টি করেছেন এবং অনুরূপ সংখ্যক যমীন। তার হুকুম এগুলোর মাঝে অবতীর্ণ হয়।” (৬৫:১২) আল্লাহ তা'আলা তাদের আমল নিজ কাচারীর দিকে উঠিয়ে নেন যা দুনিয়ার আকাশের উপরে রয়েছে। যমীন হতে প্রথম আসমান পাঁচশ' বছরের পথের ব্যবধানে রয়েছে। ঐ পরিমাণই ওর ঘনত্ব। এতো দূরের ব্যবধান সত্ত্বেও ফেরেশতারা চোখের পলকে নীচে আসেন ও উপরে যান। এজন্যেই বলা হয়েছেঃ তোমাদের হিসেবে সহস্র বছরের সমান। এতদসত্ত্বেও আল্লাহ প্রতিদিন আমলগুলো অবগত হয়ে থাকেন। ছোট ও বড় সব আমল তার কাছে আনীত হয়। তিনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান। তিনি সবকিছু নিজের অধীনস্থ করে রেখেছেন। সমস্ত বান্দার গ্রীবা তার সামনে ঝুঁকে থাকে। তিনি মুমিন বান্দাদের উপর বড়ই স্নেহশীল। তাদের উপর তিনি করুণা বর্ষণ করে থাকেন। তিনিই দৃশ্য ও অদৃশ্যের জ্ঞাতা। তিনি পরাক্রমশালী ও পরম দয়ালু।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।