সূরা আস-সাজদাহ (আয়াত: 24)
হরকত ছাড়া:
وجعلنا منهم أئمة يهدون بأمرنا لما صبروا وكانوا بآياتنا يوقنون ﴿٢٤﴾
হরকত সহ:
وَ جَعَلْنَا مِنْهُمْ اَئِمَّۃً یَّهْدُوْنَ بِاَمْرِنَا لَمَّا صَبَرُوْا ۟ؕ وَ کَانُوْا بِاٰیٰتِنَا یُوْقِنُوْنَ ﴿۲۴﴾
উচ্চারণ: ওয়া জা‘আলনা-মিনহুম আইম্মাতাইঁ ইয়াহদূ না বিআমরিনা-লাম্মা-সাবারূ ওয়া কা-নূ বিআ-য়া-তিনা-ইঊকিনূন।
আল বায়ান: আর আমি তাদের মধ্য থেকে বহু নেতা করেছিলাম, তারা আমার আদেশানুযায়ী সৎপথ প্রদর্শন করত, যখন তারা ধৈর্যধারণ করেছিল। আর তারা আমার আয়াতসমূহের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস রাখত।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ২৪. আর আমরা তাদের মধ্য থেকে বহু নেতা মনোনীত করেছিলাম, যারা আমাদের নির্দেশ অনুসারে হেদায়াত করত; যেহেতু তারা ধৈর্য ধারণ করেছিল। আর তারা আমাদের আয়াতসমূহে দৃঢ় বিশ্বাস রাখত।(১)
তাইসীরুল ক্বুরআন: আর আমি তাদের মধ্য হতে নেতা মনোনীত করেছিলাম যারা আমার নির্দেশ মুতাবেক সৎপথপ্রদর্শন করত যতদিন তারা ধৈর্য অবলম্বন করেছিল আর আমার আয়াতসমূহের উপর দৃঢ় বিশ্বাসী ছিল।
আহসানুল বায়ান: (২৪) ওরা যেহেতু ধৈর্যশীল ছিল তার জন্য আমি ওদের মধ্য হতে নেতা মনোনীত করেছিলাম, যারা আমার নির্দেশ অনুসারে মানুষকে পথপ্রদর্শন করত। ওরা ছিল আমার নিদর্শনাবলীতে দৃঢ় বিশ্বাসী। [1]
মুজিবুর রহমান: আর আমি তাদের মধ্য হতে নেতা মনোনীত করেছিলাম যারা আমার নির্দেশ অনুসারে পথ প্রদর্শন করত। যখন তারা ধৈর্য ধারণ করত তখন তারা ছিল আমার নিদর্শনাবলীতে দৃঢ় বিশ্বাসী।
ফযলুর রহমান: তাদের মধ্য থেকে আমি নেতা মনোনীত করেছিলাম, যারা আমার নির্দেশ অনুযায়ী পথ প্রদর্শন করত, যখন তারা ধৈর্যশীল হয়েছিল। তারা আমার নিদর্শনসমূহের প্রতিও দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করত।
মুহিউদ্দিন খান: তারা সবর করত বিধায় আমি তাদের মধ্য থেকে নেতা মনোনীত করেছিলাম, যারা আমার আদেশে পথ প্রদর্শন করত। তারা আমার আয়াতসমূহে দৃঢ় বিশ্বাসী ছিল।
জহুরুল হক: আর আমরা তাদের মধ্যে থেকে নেতা দাঁড় করিয়েছিলাম যাঁরা আমাদের নির্দেশের দ্বারা পথনির্দেশ দিতেন যতদিন তারা অধ্যবসায় করত, আর তারা আমাদের নির্দেশাবলী সন্বন্ধে দৃঢ়বিশ্বাস রাখত।
Sahih International: And We made from among them leaders guiding by Our command when they were patient and [when] they were certain of Our signs.
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ২৪. আর আমরা তাদের মধ্য থেকে বহু নেতা মনোনীত করেছিলাম, যারা আমাদের নির্দেশ অনুসারে হেদায়াত করত; যেহেতু তারা ধৈর্য ধারণ করেছিল। আর তারা আমাদের আয়াতসমূহে দৃঢ় বিশ্বাস রাখত।(১)
তাফসীর:
(১) অর্থাৎ আমি ইসরাঈল সম্প্রদায়ের মাঝে কিছু লোককে নেতা ও অগ্রপথিক নিযুক্ত করেছিলাম। যারা তাঁদের পয়গম্বরের প্রতিনিধি হিসাবে মহান প্রভুর নির্দেশানুসারে লোকদেরকে হেদায়াত করতেন। [দেখুন: মুয়াস্সার]
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (২৪) ওরা যেহেতু ধৈর্যশীল ছিল তার জন্য আমি ওদের মধ্য হতে নেতা মনোনীত করেছিলাম, যারা আমার নির্দেশ অনুসারে মানুষকে পথপ্রদর্শন করত। ওরা ছিল আমার নিদর্শনাবলীতে দৃঢ় বিশ্বাসী। [1]
তাফসীর:
[1] এই আয়াত দ্বারা ‘সবর’ বা ধৈর্যের ফযীলত পরিষ্ফুটিত হয়। সবরের অর্থ হল, আল্লাহর আদেশ পালন করতে ও নিষিদ্ধ বস্তু থেকে বিরত থাকতে এবং আল্লাহর রসূলদেরকে সত্য মনে করে তাঁদের অনুসরণ করাতে যে কষ্ট আসে তা হাসিমুখে বরণ করা। আল্লাহ তাআলা বলেন, তাদের ধৈর্য ও আল্লাহর আয়াতের উপর দৃঢ় বিশ্বাসের ফলে আমি তাদেরকে দ্বীনী নেতৃত্ব পদের জন্য মনোনীত করেছিলাম। কিন্তু যখন তারা তার বিপরীত (আল্লাহর কিতাবে) পরিবর্তন ও হেরফের করতে আরম্ভ করল, তখন তাদের এই সম্মান কেড়ে নেওয়া হল। সুতরাং এর পর তাদের অন্তর শক্ত হয়ে গেল। অতঃপর না তাদের নেক আমল রইল, আর না রইল তাদের সঠিক বিশ্বাস।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ২৩-২৫ নং আয়াতের তাফসীর:
পূর্বের আয়াতে আল্লাহর নিদর্শন তথা কুরআনে যা নাযিল হয়েছে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর, তার কথা উল্লেখ করার পর এ আয়াতে বলছেন, এ কুরআন কোন নতুন কিতাব নয়, বরং ইতোপূর্বে মূসা (عليه السلام)-কে তাওরাত প্রদান করা হয়েছিল যা কুরআনকে সত্যায়নকারী। সুতরাং তুমি মূসা (عليه السلام)-এর সাথে মিরাজের রাতে যে সাক্ষাত করেছ তা নিয়ে কোন সংশয় করো না। ইবনু আববাস (رضي الله عنه) বলেন:
(مِّنْ لِّقَا۬ئِه۪) -দ্বারা মিরাজের রাতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মূসা (عليه السلام)-এর সাথে যে সাক্ষাত করেছেন তা উদ্দেশ্য করা হয়েছে। মিরাজের রাতের সাক্ষাতে মূসা (عليه السلام) আমাদের নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত কমিয়ে আনার পরামর্শ দিয়েছিলেন, ফলে মূসা (عليه السلام)-এর সাথে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কয়েকবার সাক্ষাত হয়েছিল। (সহীহ বুখারী হা: ৩৪৯, সহীহ মুসলিম হা: ১৬২)
হাসান বাসরী (رحمه الله)-এর ব্যাখ্যা এভাবে করেছেন যে, মূসা (عليه السلام)-কে তাওয়াত প্রদানের দরুন রযেভাবে মানুষ তাঁকে দুঃখ-কষ্ট দিয়েছে তোমাকেও এসব কিছুর সম্মুখীন হতে হবে বলে নিশ্চিত থাকো। তাই কাফিরদের প্রদত্ত দুঃখ-যন্ত্রণার ফলে তুমি মনক্ষুণ্ন হবে না বরং নাবীদের ক্ষেত্রে এমনটি হওয়া স্বাভাবিক রীতি মনে করে তুমিও তা বরদাশত করবে। (কুরতুবী)
جَعَلْنٰهُ এখানে “ه” সর্বনাম দ্বারা তাওরাতকে উদ্দেশ্য করা হয়েছে। অর্থাৎ তাওরাত বানী ইসরাঈলের হিদায়াত লাভ করার জন্য দান করা হয়েছিল। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(وَاٰتَيْنَا مُوْسَي الْكِتٰبَ وَجَعَلْنٰهُ هُدًي لِّبَنِيْٓ إِسْرَا۬ئِيْلَ أَلَّا تَتَّخِذُوْا مِنْ دُوْنِيْ وَكِيْلًا)
“আমি মূসাকে কিতাব দিয়েছিলাম ও তাকে করেছিলাম বানী ইস্রাঈলের জন্য পথনির্দেশক। (আমি আদেশ করেছিলাম) তোমরা আমাকে ব্যতীত অপর কাউকেও কর্মবিধায়করূপে গ্রহণ কর না; (সূরা বানী ইসরাঈল ১৭:২)
ইসরাঈল বংশের আলেমদের থেকে কতককে জাতির নেতা ও পুরোধার মর্যাদায় উন্নীত করা হয়েছিল। এর কারণ দুটি: এ আয়াতে দুটি কারণ বর্ণিত হয়েছেন (এক) ধৈর্য ধারণ করা। (দুই) আল্লাহ তা‘আলার আয়াতসমূহের ওপর অটুট বিশ্বাস স্থাপন করা। এখানে ধৈর্য ধারণ করা হল আল্লাহ তা‘আলার আদেশ পালন ও নিষেধাজ্ঞা সম্বলিত বিষয় থেকে বিরত থাকার ধৈর্য ধারণ করা। এ ধৈর্যের গুণে তারা পৃথিবীতে নেতৃত্ব দিয়েছিল। তাদের ধৈর্য ও আল্লাহ তা‘আলার আয়াতের ওপর দৃঢ় বিশ্বাসের ফলে তিনি তাদেরকে নেতা হিসেবে মনোনীত করেছিলেন। আল্লাহ তা‘আলার বাণী:
(وَلَقَدْ اٰتَيْنَا بَنِيْٓ إِسْرَآئِيْلَ الْكِتٰبَ وَالْحُكْمَ وَالنُّبُوَّةَ وَرَزَقْنٰهُمْ مِّنَ الطَّيِّبٰتِ وَفَضَّلْنٰهُمْ عَلَي الْعٰلَمِيْنَ وَاٰتَيْنٰهُمْ بَيِّنٰتٍ مِّنَ الْأَمْرِ)
“আমি বানী ইসরাইলকে কিতাব (তাওরাত), (সে অনুযায়ী) বিধান ও নবুওয়াত দান করেছিলাম এবং তাদেরকে উত্তম রিযিক এবং তাদেরকে বিশ্বজগতের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছিলাম। এবং তাদেরকে সুস্পষ্ট প্রমাণ দান করেছিলাম দীন সম্পর্কে।” (সূরা জাসিয়া ৪৫:১৬-১৭)
মোট কথা: আল্লাহ তা‘আলা নেতৃত্ব ও পৌরোহিত্যের যোগ্য তাদেরকেই করেন যারা ধৈর্যশীল ও আল্লাহ তা‘আলার প্রতি দৃঢ় বিশ্বাসী। তাই ইবনু কাসীর (رحمه الله) অত্র আয়াতের তাফসীরে অনেক মনিষীদের উক্তি নিয়ে এসেছেন: তার মধ্যে অন্যতম হল
بالصبر واليقين تنال الامامة في الدين
অর্থাৎ ধৈর্য ও দৃঢ় বিশ্বাসের মাধ্যমেই দীনের ক্ষেত্রে নেতৃত্বের মর্যাদা লাভ করা যায়।
কিন্তু যখন তারা ধৈর্য হারা হয়ে গেল ও আল্লাহ তা‘আলার আয়াতের পরিবর্তন করতে শুরু করল তখন তাদের এ সম্মান কেড়ে নেয়া হল। এরপর তাদের অন্তর শক্ত হয়ে গেল
সুতরাং ধৈর্য ও আল্লাহর প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস মানুষের মর্যাদা বাড়িয়ে দেয়। যারাই আল্লাহ তা‘আলার সাথে নাফরমানী করেছে এবং রাসূলদেরকে হেয় প্রতিপন্ন করেছে তারাই যুগে যুগে লাঞ্ছিত হয়েছে।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. মিরাজের রাতে মূসা (عليه السلام)-এর সাথে রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাক্ষাত হয়েছিল।
২. ধৈর্যের ফযীলত জানা গেল যে, ধৈর্যধারণ করলে সবকিছুই পাওয়া সম্ভব।
৩. কিয়ামতের দিন বিচারক থাকবে একমাত্র আল্লাহ তা‘আলা আর তিনি সকলের মধ্যে মীমাংসা করে দেবেন।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ২৩-২৫ নং আয়াতের তাফসীর
আল্লাহ তা'আলা তাঁর বান্দা ও রাসূল হযরত মূসা (আঃ) সম্পর্কে খবর দিচ্ছেন যে, তিনি তাঁকে তাঁর কিতাব তাওরাত দান করেন। সুতরাং নবী (সঃ) যেন তার সাক্ষাৎ সম্বন্ধে সন্দেহ পোষণ না করেন। হযরত কাতাদা (রঃ) বলেন যে, এর দ্বারা মিরাজের রাত্রিকে বুঝানো হয়েছে।
হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “আমাকে মিরাজের রাত্রে হযরত মূসা ইবনে ইমরান (আঃ)-কে দেখানো হয়েছে। তিনি গোধুম বর্ণের দীর্ঘ দেহ ও কোঁকড়ানো চুল বিশিষ্ট লোক ছিলেন। তিনি দেখতে শিনওয়াহ গোত্রের লোকের মত ছিলেন। ঐ রাত্রে আমি হযরত ঈসা (আঃ)-কেও দেখেছি। তিনি মধ্যম দেহ বিশিষ্ট সাদা ও লাল মিশ্রিত রং-এর ছিলেন। তাঁর চুলগুলো ছিল সোজা ও লম্বা। ঐ রাত্রেই আমি হযরত মালেক (আঃ)-কেও দেখেছি যিনি ছিলেন জাহান্নামের দারোগা। আর আমি দাজ্জালকে দেখেছি। এগুলো হলো ঐসব নিদর্শন যেগুলো আল্লাহ তা'আলা তাঁকে দেখিয়েছেন। মহান আল্লাহ বলেনঃ ‘সুতরাং তুমি তার সাক্ষাৎ সম্বন্ধে সন্দেহ করো না।' রাসূলুল্লাহ (সঃ) অবশ্যই হযরত মূসা (আঃ)-কে দেখেছেন। এবং তার সাথে তাঁর আলাপ-আলোচনা হয়েছে। এটা মিরাজের রাত্রের ঘটনা।
মহান আল্লাহ বলেনঃ আমি মূসা (আঃ)-কে বানী ইসরাঈলের জন্যে পথ-নির্দেশক করেছিলাম। আবার এ অর্থও হতে পারে- আমি মূসা (আঃ)-কে প্রদত্ত কিতাবকে পথ-নির্দেশক বানিয়েছিলাম। যেমন সূরায়ে বানী ইসরাঈলে রয়েছেঃ (আরবি)
অর্থাৎ “আমি মূসা (আঃ)-কে কিতাব দিয়েছিলাম এবং ওকে করেছিলাম বানী ইসরাঈলের জন্যে পথ-নির্দেশক। আমি আদেশ করেছিলামঃ তোমরা আমাকে ব্যতীত অন্য কাউকেও কর্মবিধায়ক রূপে গ্রহণ করো না।` (১৭:২)
এরপর আল্লাহ পাক বলেনঃ তাদের মধ্যে যারা আমার হুকুম পালন করেছিল, আমার নিষেধকৃত কাজ-কর্ম ছেড়ে দিয়েছিল, আমার কথার সত্যতা স্বীকার করে নিয়েছিল, আমার রাসূলদের অনুসরণে ধৈর্য সহকারে দৃঢ় থেকেছিল, তাদেরকে আমি নেতা মনোনীত করেছিলাম। তারা আমার আহকাম জনগণের কাছে পৌঁছিয়ে দিতো এবং মানুষকে ভাল কাজের আদেশ করতো এবং মন্দ কাজ হতে বিরত রাখতো। কিন্তু তারা যখন আল্লাহর কালামে পরিবর্তন-পরিবর্ধন শুরু করে দিলো তখন আমি তাদের এ পদ-মর্যাদা ছিনিয়ে নিলাম ও তাদের অন্তর শক্ত করে দিলাম। ভাল আমল ও সঠিক বিশ্বাস তাদের থেকে দূর হয়ে গেল। পূর্বে তারা দুনিয়ার লোভ-লালসা হতে বেঁচে থাকতো।
সুফিয়ান (রঃ) বলেনঃ ‘এ লোকগুলো এরূপই ছিল। মানুষের জন্যে এটা উচিত নয় যে, তারা এমন নেতার অনুসরণ করবে যে দুনিয়ার লোভ-লালসা হতে বেঁচে থাকে না। তিনি আরো বলেনঃ “দ্বীনের জন্যে ইলম অপরিহার্য যেমন দেহের জন্যে খাদ্য অপরিহার্য।
হযরত আলী (রাঃ)-এর উক্তি রয়েছেঃ “ঈমানের মধ্যে সবর বা ধৈর্যের স্থান এমন যেমন দেহের মধ্যে মাথার স্থান। তুমি কি আল্লাহ পাকের এ উক্তি শুননি? তিনি বলেন- আমি তাদের মধ্য হতে নেতা মনোনীত করেছিলাম যারা আমার নির্দেশ অনুসারে পথ-প্রদর্শন করতো, যখন তারা ধৈর্যধারণ করেছিল তখন তারা ছিল আমার নিদর্শনাবলীতে দৃঢ় বিশ্বাসী।” হযরত সুফিয়ান (রঃ)-কে হযরত আলী (রাঃ)-এর উপরোক্ত উক্তির তাৎপর্য জিজ্ঞেস করা হলে তিনি উত্তরে বলেনঃ “এর ভাবার্থ হচ্ছে- যেহেতু তারা সমস্ত কাজের মূলকে গ্রহণ করেছে সেহেতু আল্লাহ তাদেরকে নেতা বানিয়ে দিয়েছেন। কোন কোন আলেম বলেছেন যে, ধৈর্য ও বিশ্বাস দ্বারা দ্বীনের নেতৃত্ব লাভ করা যায়। এ জন্যেই আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (আরবি)
অর্থাৎ “অবশ্যই আমি বানী ইসরাঈলকে কিতাব, হিকমত ও নবুওয়াত দান করেছি এবং তাদেরকে উৎকৃষ্ট ও পবিত্র খাবার খেতে দিয়েছি, আর তাদেরকে সারা দুনিয়ার উপর শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করেছি।” (৪৫:১৬) যেমন তিনি এখানে। বলেনঃ তারা নিজেদের মধ্যে যে বিষয়ে (অর্থাৎ বিশ্বাস ও আমলের বিষয়ে) মতবিরোধ করছে, তোমার প্রতিপালকই তো কিয়ামতের দিন ওর ফায়সালা করে দিবেন।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।