সূরা আস-সাজদাহ (আয়াত: 23)
হরকত ছাড়া:
ولقد آتينا موسى الكتاب فلا تكن في مرية من لقائه وجعلناه هدى لبني إسرائيل ﴿٢٣﴾
হরকত সহ:
وَ لَقَدْ اٰتَیْنَا مُوْسَی الْکِتٰبَ فَلَا تَکُنْ فِیْ مِرْیَۃٍ مِّنْ لِّقَآئِهٖ وَ جَعَلْنٰهُ هُدًی لِّبَنِیْۤ اِسْرَآءِیْلَ ﴿ۚ۲۳﴾
উচ্চারণ: ওয়া লাকাদ আ-তাইনা-মূছাল কিতা-বা ফালা-তাকুন ফী মিরইয়াতিম মিললিকাইহী ওয়া জা‘আলনা-হু হুদাল লিবানীইসরাঈল।
আল বায়ান: আর আমি তো মূসাকে কিতাব দিয়েছিলাম, অতএব তুমি তার সাক্ষাতের ব্যাপারে সন্দেহে থেকো না। আর আমি ওটাকে বনী ইসরাঈলের জন্য হিদায়াতস্বরূপ করেছিলাম।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ২৩. আর অবশ্যই আমরা মূসাকে কিতাব দিয়েছিলাম, অতএব আপনি তার সাক্ষাত সম্বন্ধে সন্দেহে থাকবেন না(১) এবং আমরা ওটাকে করে দিয়েছিলাম বনী ইসরাঈলের জন্য হিদায়াতস্বরূপ।
তাইসীরুল ক্বুরআন: আমি মূসাকে কিতাব দিয়েছিলাম, কাজেই তুমি তার (অর্থাৎ আল কুরআনের) প্রাপ্তিতে সন্দেহে পতিত হয়ো না। আমি ওটাকে বানী ইসরাঈলের জন্য পথপ্রদর্শক করেছিলাম।
আহসানুল বায়ান: (২৩) আমি তো মূসাকে গ্রন্থ দিয়েছিলাম, অতএব তুমি তার সাক্ষাৎ বিষয়ে সন্দেহ করো না।[1] আমি একে[2] বনী ইস্রাঈলের জন্য পথনির্দেশক করেছিলাম।
মুজিবুর রহমান: আমিতো মূসাকে কিতাব দিয়েছিলাম; অতএব তুমি তার সাক্ষাত সম্বন্ধে সন্দেহ করনা, আমি তাকে বানী ইসরাঈলের জন্য পথ নির্দেশক করেছিলাম।
ফযলুর রহমান: আমি মূসাকে কিতাব (তাওরাত) দিয়েছিলাম। অতএব, তুমি (মেরাজের রাতে) তার (সাথে) সাক্ষাৎ সম্বন্ধে সন্দেহের মধ্যে থেকো না। আর আমি তাকে (মূসার কাছে অবতীর্ণ কিতাবকে) বনী ইসরাঈলের জন্য একটি দিক-নির্দেশনা করেছিলাম।
মুহিউদ্দিন খান: আমি মূসাকে কিতাব দিয়েছি, অতএব আপনি কোরআন প্রাপ্তির বিষয়ে কোন সন্দেহ করবেন না। আমি একে বনী ইসরাঈলের জন্যে পথ প্রদর্শক করেছিলাম।
জহুরুল হক: আর আমরা নিশ্চয়ই মূসাকে ধর্মগ্রন্থ দিয়েছিলাম, কাজেই তাঁর প্রাপ্তি সন্বন্ধে তুমি সন্দেহের মধ্যে থেকো না, আর আমরা এটিকে বানিয়েছিলাম ইসরাইলের বংশধরদের জন্য এক পথনির্দেশ।
Sahih International: And We certainly gave Moses the Scripture, so do not be in doubt over his meeting. And we made the Torah guidance for the Children of Israel.
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ২৩. আর অবশ্যই আমরা মূসাকে কিতাব দিয়েছিলাম, অতএব আপনি তার সাক্ষাত সম্বন্ধে সন্দেহে থাকবেন না(১) এবং আমরা ওটাকে করে দিয়েছিলাম বনী ইসরাঈলের জন্য হিদায়াতস্বরূপ।
তাফসীর:
(১) لقاء শব্দের অর্থ সাক্ষাৎ। এ আয়াতে কার সাথে সাক্ষাৎ বোঝানো হয়েছে সে সম্বন্ধে মুফাসসিরগণের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। لقائه এর ه (সর্বনাম) কিতাব অর্থাৎ কুরআনের দিকে ধাবিত করে এই অর্থ করা যায় যে, যেরূপভাবে মহান আল্লাহ মুসা আলাইহিস সালামকে গ্ৰন্থ প্ৰদান করেছেন অনুরূপভাবে আপনার প্রতিও আল্লাহ পাকের পক্ষ থেকে গ্ৰন্থ অবতীর্ণ হওয়া সম্পর্কে কোন সন্দেহ পোষণ করবেন না। যেমন কুরআন সম্পর্কে অন্য এক আয়াতে বলা হয়েছে, “এবং নিশ্চয় আপনাকে প্রজ্ঞাময় প্রশংসিতের পক্ষ থেকে কুরআন প্ৰদান করা হবে”। [সূরা আন-নামল: ৬]
ইবনে-আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা এবং কাতাদাহ রাহেমাহুল্লাহ এর ব্যাখ্যা এভাবে করেছেন যে, لقائه এর ه (সর্বনাম) মুসা আলাইহিস সালাম এর দিকে ধাবিত হয়েছে। সে হিসেবে এ আয়াতে মুসা আলাইহিস সালাম এর সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাক্ষাতের সংবাদ দেয়া হয়েছে এবং বলা হয়েছে যে, আপনি এ সম্পর্কে কোন সন্দেহ পোষণ করবেন না যে, মূসা আলাইহিস সালামের সাথে আপনার সাক্ষাত সংঘটিত হবে। সুতরাং মে'রাজের রাতে এক সাক্ষাৎকার সংঘটিত হওয়ার কথা বিশুদ্ধ হাদীসসমূহ দ্বারা প্রমাণিত; [দেখুন: বুখারী: ৩২৩৯; মুসলিম: ১৬৫]
অতঃপর কেয়ামতের দিন সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথাও প্রমাণিত আছে। হাসান বসরী রাহেমাহুল্লাহ এর ব্যাখ্যা এভাবে করেছেন যে, মূসা আলাইহিস সালামকে ঐশী গ্রন্থ প্রদানের দরুন যেভাবে মানুষ তাঁকে নানাভাবে দুঃখ-যন্ত্রণা দিয়েছে আপনিও এসব কিছুর সম্মুখীন হবেন বলে নিশ্চিত থাকুন। তাই কাফেরদের প্রদত্ত দুঃখ-যন্ত্রণার ফলে আপনি মনক্ষুন্ন হবেন না; বরং নবীগণের ক্ষেত্রে এমনটি হওয়া স্বাভাবিক রীতি মনে করে আপনি তা বরদাশত করুন।
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (২৩) আমি তো মূসাকে গ্রন্থ দিয়েছিলাম, অতএব তুমি তার সাক্ষাৎ বিষয়ে সন্দেহ করো না।[1] আমি একে[2] বনী ইস্রাঈলের জন্য পথনির্দেশক করেছিলাম।
তাফসীর:
[1] বলা হয় যে, এটা মি’রাজের রাত্রে মূসা (আঃ)-এর সাথে নবী (সাঃ)-এর যে সাক্ষাৎ হয়েছিল তার দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। যে সাক্ষাতে মূসা (আঃ) নামায কম করার পরামর্শ দিয়েছিলেন।
[2] ‘একে’ বলতে তাওরাত বা মূসা (আঃ)-কে বুঝানো হয়েছে।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ২৩-২৫ নং আয়াতের তাফসীর:
পূর্বের আয়াতে আল্লাহর নিদর্শন তথা কুরআনে যা নাযিল হয়েছে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর, তার কথা উল্লেখ করার পর এ আয়াতে বলছেন, এ কুরআন কোন নতুন কিতাব নয়, বরং ইতোপূর্বে মূসা (عليه السلام)-কে তাওরাত প্রদান করা হয়েছিল যা কুরআনকে সত্যায়নকারী। সুতরাং তুমি মূসা (عليه السلام)-এর সাথে মিরাজের রাতে যে সাক্ষাত করেছ তা নিয়ে কোন সংশয় করো না। ইবনু আববাস (رضي الله عنه) বলেন:
(مِّنْ لِّقَا۬ئِه۪) -দ্বারা মিরাজের রাতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মূসা (عليه السلام)-এর সাথে যে সাক্ষাত করেছেন তা উদ্দেশ্য করা হয়েছে। মিরাজের রাতের সাক্ষাতে মূসা (عليه السلام) আমাদের নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত কমিয়ে আনার পরামর্শ দিয়েছিলেন, ফলে মূসা (عليه السلام)-এর সাথে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কয়েকবার সাক্ষাত হয়েছিল। (সহীহ বুখারী হা: ৩৪৯, সহীহ মুসলিম হা: ১৬২)
হাসান বাসরী (رحمه الله)-এর ব্যাখ্যা এভাবে করেছেন যে, মূসা (عليه السلام)-কে তাওয়াত প্রদানের দরুন রযেভাবে মানুষ তাঁকে দুঃখ-কষ্ট দিয়েছে তোমাকেও এসব কিছুর সম্মুখীন হতে হবে বলে নিশ্চিত থাকো। তাই কাফিরদের প্রদত্ত দুঃখ-যন্ত্রণার ফলে তুমি মনক্ষুণ্ন হবে না বরং নাবীদের ক্ষেত্রে এমনটি হওয়া স্বাভাবিক রীতি মনে করে তুমিও তা বরদাশত করবে। (কুরতুবী)
جَعَلْنٰهُ এখানে “ه” সর্বনাম দ্বারা তাওরাতকে উদ্দেশ্য করা হয়েছে। অর্থাৎ তাওরাত বানী ইসরাঈলের হিদায়াত লাভ করার জন্য দান করা হয়েছিল। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(وَاٰتَيْنَا مُوْسَي الْكِتٰبَ وَجَعَلْنٰهُ هُدًي لِّبَنِيْٓ إِسْرَا۬ئِيْلَ أَلَّا تَتَّخِذُوْا مِنْ دُوْنِيْ وَكِيْلًا)
“আমি মূসাকে কিতাব দিয়েছিলাম ও তাকে করেছিলাম বানী ইস্রাঈলের জন্য পথনির্দেশক। (আমি আদেশ করেছিলাম) তোমরা আমাকে ব্যতীত অপর কাউকেও কর্মবিধায়করূপে গ্রহণ কর না; (সূরা বানী ইসরাঈল ১৭:২)
ইসরাঈল বংশের আলেমদের থেকে কতককে জাতির নেতা ও পুরোধার মর্যাদায় উন্নীত করা হয়েছিল। এর কারণ দুটি: এ আয়াতে দুটি কারণ বর্ণিত হয়েছেন (এক) ধৈর্য ধারণ করা। (দুই) আল্লাহ তা‘আলার আয়াতসমূহের ওপর অটুট বিশ্বাস স্থাপন করা। এখানে ধৈর্য ধারণ করা হল আল্লাহ তা‘আলার আদেশ পালন ও নিষেধাজ্ঞা সম্বলিত বিষয় থেকে বিরত থাকার ধৈর্য ধারণ করা। এ ধৈর্যের গুণে তারা পৃথিবীতে নেতৃত্ব দিয়েছিল। তাদের ধৈর্য ও আল্লাহ তা‘আলার আয়াতের ওপর দৃঢ় বিশ্বাসের ফলে তিনি তাদেরকে নেতা হিসেবে মনোনীত করেছিলেন। আল্লাহ তা‘আলার বাণী:
(وَلَقَدْ اٰتَيْنَا بَنِيْٓ إِسْرَآئِيْلَ الْكِتٰبَ وَالْحُكْمَ وَالنُّبُوَّةَ وَرَزَقْنٰهُمْ مِّنَ الطَّيِّبٰتِ وَفَضَّلْنٰهُمْ عَلَي الْعٰلَمِيْنَ وَاٰتَيْنٰهُمْ بَيِّنٰتٍ مِّنَ الْأَمْرِ)
“আমি বানী ইসরাইলকে কিতাব (তাওরাত), (সে অনুযায়ী) বিধান ও নবুওয়াত দান করেছিলাম এবং তাদেরকে উত্তম রিযিক এবং তাদেরকে বিশ্বজগতের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছিলাম। এবং তাদেরকে সুস্পষ্ট প্রমাণ দান করেছিলাম দীন সম্পর্কে।” (সূরা জাসিয়া ৪৫:১৬-১৭)
মোট কথা: আল্লাহ তা‘আলা নেতৃত্ব ও পৌরোহিত্যের যোগ্য তাদেরকেই করেন যারা ধৈর্যশীল ও আল্লাহ তা‘আলার প্রতি দৃঢ় বিশ্বাসী। তাই ইবনু কাসীর (رحمه الله) অত্র আয়াতের তাফসীরে অনেক মনিষীদের উক্তি নিয়ে এসেছেন: তার মধ্যে অন্যতম হল
بالصبر واليقين تنال الامامة في الدين
অর্থাৎ ধৈর্য ও দৃঢ় বিশ্বাসের মাধ্যমেই দীনের ক্ষেত্রে নেতৃত্বের মর্যাদা লাভ করা যায়।
কিন্তু যখন তারা ধৈর্য হারা হয়ে গেল ও আল্লাহ তা‘আলার আয়াতের পরিবর্তন করতে শুরু করল তখন তাদের এ সম্মান কেড়ে নেয়া হল। এরপর তাদের অন্তর শক্ত হয়ে গেল
সুতরাং ধৈর্য ও আল্লাহর প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস মানুষের মর্যাদা বাড়িয়ে দেয়। যারাই আল্লাহ তা‘আলার সাথে নাফরমানী করেছে এবং রাসূলদেরকে হেয় প্রতিপন্ন করেছে তারাই যুগে যুগে লাঞ্ছিত হয়েছে।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. মিরাজের রাতে মূসা (عليه السلام)-এর সাথে রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাক্ষাত হয়েছিল।
২. ধৈর্যের ফযীলত জানা গেল যে, ধৈর্যধারণ করলে সবকিছুই পাওয়া সম্ভব।
৩. কিয়ামতের দিন বিচারক থাকবে একমাত্র আল্লাহ তা‘আলা আর তিনি সকলের মধ্যে মীমাংসা করে দেবেন।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ২৩-২৫ নং আয়াতের তাফসীর
আল্লাহ তা'আলা তাঁর বান্দা ও রাসূল হযরত মূসা (আঃ) সম্পর্কে খবর দিচ্ছেন যে, তিনি তাঁকে তাঁর কিতাব তাওরাত দান করেন। সুতরাং নবী (সঃ) যেন তার সাক্ষাৎ সম্বন্ধে সন্দেহ পোষণ না করেন। হযরত কাতাদা (রঃ) বলেন যে, এর দ্বারা মিরাজের রাত্রিকে বুঝানো হয়েছে।
হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “আমাকে মিরাজের রাত্রে হযরত মূসা ইবনে ইমরান (আঃ)-কে দেখানো হয়েছে। তিনি গোধুম বর্ণের দীর্ঘ দেহ ও কোঁকড়ানো চুল বিশিষ্ট লোক ছিলেন। তিনি দেখতে শিনওয়াহ গোত্রের লোকের মত ছিলেন। ঐ রাত্রে আমি হযরত ঈসা (আঃ)-কেও দেখেছি। তিনি মধ্যম দেহ বিশিষ্ট সাদা ও লাল মিশ্রিত রং-এর ছিলেন। তাঁর চুলগুলো ছিল সোজা ও লম্বা। ঐ রাত্রেই আমি হযরত মালেক (আঃ)-কেও দেখেছি যিনি ছিলেন জাহান্নামের দারোগা। আর আমি দাজ্জালকে দেখেছি। এগুলো হলো ঐসব নিদর্শন যেগুলো আল্লাহ তা'আলা তাঁকে দেখিয়েছেন। মহান আল্লাহ বলেনঃ ‘সুতরাং তুমি তার সাক্ষাৎ সম্বন্ধে সন্দেহ করো না।' রাসূলুল্লাহ (সঃ) অবশ্যই হযরত মূসা (আঃ)-কে দেখেছেন। এবং তার সাথে তাঁর আলাপ-আলোচনা হয়েছে। এটা মিরাজের রাত্রের ঘটনা।
মহান আল্লাহ বলেনঃ আমি মূসা (আঃ)-কে বানী ইসরাঈলের জন্যে পথ-নির্দেশক করেছিলাম। আবার এ অর্থও হতে পারে- আমি মূসা (আঃ)-কে প্রদত্ত কিতাবকে পথ-নির্দেশক বানিয়েছিলাম। যেমন সূরায়ে বানী ইসরাঈলে রয়েছেঃ (আরবি)
অর্থাৎ “আমি মূসা (আঃ)-কে কিতাব দিয়েছিলাম এবং ওকে করেছিলাম বানী ইসরাঈলের জন্যে পথ-নির্দেশক। আমি আদেশ করেছিলামঃ তোমরা আমাকে ব্যতীত অন্য কাউকেও কর্মবিধায়ক রূপে গ্রহণ করো না।` (১৭:২)
এরপর আল্লাহ পাক বলেনঃ তাদের মধ্যে যারা আমার হুকুম পালন করেছিল, আমার নিষেধকৃত কাজ-কর্ম ছেড়ে দিয়েছিল, আমার কথার সত্যতা স্বীকার করে নিয়েছিল, আমার রাসূলদের অনুসরণে ধৈর্য সহকারে দৃঢ় থেকেছিল, তাদেরকে আমি নেতা মনোনীত করেছিলাম। তারা আমার আহকাম জনগণের কাছে পৌঁছিয়ে দিতো এবং মানুষকে ভাল কাজের আদেশ করতো এবং মন্দ কাজ হতে বিরত রাখতো। কিন্তু তারা যখন আল্লাহর কালামে পরিবর্তন-পরিবর্ধন শুরু করে দিলো তখন আমি তাদের এ পদ-মর্যাদা ছিনিয়ে নিলাম ও তাদের অন্তর শক্ত করে দিলাম। ভাল আমল ও সঠিক বিশ্বাস তাদের থেকে দূর হয়ে গেল। পূর্বে তারা দুনিয়ার লোভ-লালসা হতে বেঁচে থাকতো।
সুফিয়ান (রঃ) বলেনঃ ‘এ লোকগুলো এরূপই ছিল। মানুষের জন্যে এটা উচিত নয় যে, তারা এমন নেতার অনুসরণ করবে যে দুনিয়ার লোভ-লালসা হতে বেঁচে থাকে না। তিনি আরো বলেনঃ “দ্বীনের জন্যে ইলম অপরিহার্য যেমন দেহের জন্যে খাদ্য অপরিহার্য।
হযরত আলী (রাঃ)-এর উক্তি রয়েছেঃ “ঈমানের মধ্যে সবর বা ধৈর্যের স্থান এমন যেমন দেহের মধ্যে মাথার স্থান। তুমি কি আল্লাহ পাকের এ উক্তি শুননি? তিনি বলেন- আমি তাদের মধ্য হতে নেতা মনোনীত করেছিলাম যারা আমার নির্দেশ অনুসারে পথ-প্রদর্শন করতো, যখন তারা ধৈর্যধারণ করেছিল তখন তারা ছিল আমার নিদর্শনাবলীতে দৃঢ় বিশ্বাসী।” হযরত সুফিয়ান (রঃ)-কে হযরত আলী (রাঃ)-এর উপরোক্ত উক্তির তাৎপর্য জিজ্ঞেস করা হলে তিনি উত্তরে বলেনঃ “এর ভাবার্থ হচ্ছে- যেহেতু তারা সমস্ত কাজের মূলকে গ্রহণ করেছে সেহেতু আল্লাহ তাদেরকে নেতা বানিয়ে দিয়েছেন। কোন কোন আলেম বলেছেন যে, ধৈর্য ও বিশ্বাস দ্বারা দ্বীনের নেতৃত্ব লাভ করা যায়। এ জন্যেই আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (আরবি)
অর্থাৎ “অবশ্যই আমি বানী ইসরাঈলকে কিতাব, হিকমত ও নবুওয়াত দান করেছি এবং তাদেরকে উৎকৃষ্ট ও পবিত্র খাবার খেতে দিয়েছি, আর তাদেরকে সারা দুনিয়ার উপর শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করেছি।” (৪৫:১৬) যেমন তিনি এখানে। বলেনঃ তারা নিজেদের মধ্যে যে বিষয়ে (অর্থাৎ বিশ্বাস ও আমলের বিষয়ে) মতবিরোধ করছে, তোমার প্রতিপালকই তো কিয়ামতের দিন ওর ফায়সালা করে দিবেন।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।