আল কুরআন


সূরা আস-সাজদাহ (আয়াত: 11)

সূরা আস-সাজদাহ (আয়াত: 11)



হরকত ছাড়া:

قل يتوفاكم ملك الموت الذي وكل بكم ثم إلى ربكم ترجعون ﴿١١﴾




হরকত সহ:

قُلْ یَتَوَفّٰىکُمْ مَّلَکُ الْمَوْتِ الَّذِیْ وُکِّلَ بِکُمْ ثُمَّ اِلٰی رَبِّکُمْ تُرْجَعُوْنَ ﴿۱۱﴾




উচ্চারণ: কুল ইয়াতাওয়াফফা-কুম মালাকুল মাওতিল্লাযী উক্কিলা বিকুমছু ম্মা ইলা-রাব্বিকুম তুরজা‘ঊন।




আল বায়ান: বল, ‘তোমাদেরকে মৃত্যু দেবে মৃত্যুর ফেরেশতা যাকে তোমাদের জন্য নিয়োগ করা হয়েছে। তারপর তোমাদের রবের নিকট তোমাদেরকে ফিরিয়ে আনা হবে’।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১১. বলুন, তোমাদের জন্য নিযুক্ত মৃত্যুর ফেরেশতা তোমাদের প্রাণ হরণ করবে।(১) তারপর তোমাদের রবের কাছেই তোমাদেরকে ফিরিয়ে নেয়া হবে।




তাইসীরুল ক্বুরআন: বল, তোমাদের প্রাণ হরণের দায়িত্বে নিয়োজিত ফেরেশতা তোমাদের প্রাণ হরণ করবে, অতঃপর তোমাদের প্রতিপালকের নিকট তোমাদেরকে ফিরিয়ে আনা হবে।




আহসানুল বায়ান: (১১) বল, ‘মৃত্যুর ফিরিশতা তোমাদের প্রাণ হরণ করবে, যাকে তোমাদের জন্য নিযুক্ত করা হয়েছে।[1] অবশেষে তোমাদেরকে তোমাদের প্রতিপালকের নিকট ফিরিয়ে আনা হবে।’



মুজিবুর রহমান: বলঃ তোমাদের জন্য নিযুক্ত মৃত্যুর মালাক/ফেরেশতা তোমাদের প্রাণ হরণ করবে। অবশেষে তোমরা তোমাদের রবের নিকট প্রত্যাবর্তীত হবে।



ফযলুর রহমান: বল, “তোমাদের (জান কবজের) জন্য নিয়োজিত মৃত্যুর ফেরেশতা তোমাদের জান কবজ করবে। অতঃপর তোমাদেরকে তোমাদের প্রভুর নিকট ফিরিয়ে নেওয়া হবে।”



মুহিউদ্দিন খান: বলুন, তোমাদের প্রাণ হরণের দায়িত্বে নিয়োজিত ফেরেশতা তোমাদের প্রাণ হরণ করবে। অতঃপর তোমরা তোমাদের পালনকর্তার কাছে প্রত্যাবর্তিত হবে।



জহুরুল হক: তুমি বলো -- "মালাকুল মউত যার উপরে তোমাদের কার্যভার দেওয়া হয়েছে সে-ই তোমাদের মৃত্যু ঘটাবে, তারপর তোমাদের প্রভুর কাছেই তোমাদের ফিরিয়ে আনা হবে।"



Sahih International: Say, "The angel of death will take you who has been entrusted with you. Then to your Lord you will be returned."



তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।


তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ১১. বলুন, তোমাদের জন্য নিযুক্ত মৃত্যুর ফেরেশতা তোমাদের প্রাণ হরণ করবে।(১) তারপর তোমাদের রবের কাছেই তোমাদেরকে ফিরিয়ে নেয়া হবে।


তাফসীর:

(১) আলোচ্য আয়াতে “মালাকুল মাউত” এক বচনে বর্ণনা করা হয়েছে, অথচ অপর আয়াতে রয়েছে “ফেরেশতাগণ যাদের প্রাণ বিয়োগ ঘটায়।” [সূরা আল-আনআমঃ ৬১] এতে এ ইঙ্গিত রয়েছে যে, “মালাকুল মাউত” একাকী এ কাজ সম্পন্ন করেন না; বহু ফেরেশতা তাঁর অধীনে এ কাজে অংশগ্রহণ করেন। [কুরতুবী, আদওয়াউল-বায়ান]


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (১১) বল, ‘মৃত্যুর ফিরিশতা তোমাদের প্রাণ হরণ করবে, যাকে তোমাদের জন্য নিযুক্ত করা হয়েছে।[1] অবশেষে তোমাদেরকে তোমাদের প্রতিপালকের নিকট ফিরিয়ে আনা হবে।”


তাফসীর:

[1] অর্থাৎ, তাঁর কাজই এই যে, যখন তোমাদের মৃত্যুর সময় হবে, তখন সে এসে আত্মা হরণ করবে।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ১০-১১ নং আয়াতের তাফসীর:



যখন এক বস্তুর ওপর অন্য বস্তু প্রভাবশালী হয় এবং পূর্বের সমস্ত চিহ্নকে মিটিয়ে দেয়, তখন তাকে ضلالة বলা হয়। এখানে



ضللنا في الأرض



এর অর্থ হবে মাটিতে মিশে আমাদের দেহ নিশ্চিহ্ন হয়ে গেলেও কি আমাদের পুনরুত্থান করা হবে? অর্থাৎ কাফির-মুশরিকরা এটা বিশ্বাস করত না যে, মৃত্যুর পর তাদেরকে পুনরায় জীবিত করা হবে, এটা সম্ভব হতে পারে না। তাই তারা এরূপ প্রশ্ন করত। তারা বলত:



(وَلَئِنْ قُلْتَ إِنَّكُمْ مَّبْعُوْثُوْنَ مِنْۭ بَعْدِ الْمَوْتِ لَيَقُوْلَنَّ الَّذِيْنَ كَفَرُوْآ إِنْ هٰذَآ إِلَّا سِحْرٌ مُّبِيْنٌ)‏



“তুমি যদি বল:‎ ‘মৃত্যুর পর তোমরা অবশ্যই উত্থিত হবে’, কাফিররা নিশ্চয়ই বলবে, ‘এটা তো সুস্পষ্ট জাদু।’ (সূরা হূদ ১১:৭) মূলত তারা পুনরুত্থানকে অসম্ভব মনে করে অস্বীকার করত।



এরপর আল্লাহ তা‘আলা বলেন: তোমাদের জন্য নিযুক্ত ফেরেশতা তোমাদের প্রাণ হরণ করবে। অর্থাৎ যখন নির্ধারিত সময় উপস্থিত হবে তখন “মালাকূল মাউত ও তার সাথে অন্যান্য ফেরেশতারা প্রাণ হরণ করে নিবে। সেই সুনির্দিষ্ট সময় থেকে ক্ষণকালের জন্যও অবকাশ দেয়া হবে না। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(وَلَنْ يُّؤَخِّرَ اللّٰهُ نَفْسًا إِذَا جَا۬ءَ أَجَلُهَا ط وَاللّٰهُ خَبِيْرٌۭبِمَا تَعْمَلُوْنَ)



“নির্ধারিত কাল যখন উপস্থিত হবে, তখন আল্লাহ কাউকেও অবকাশ দেবেন না। তোমরা যা কর আল্লাহ সে সম্বন্ধে সবিশেষ অবহিত।” (সূরা মুনাফিক ৬৩:১১)



প্রকৃতপক্ষে মৃত্যুর মালিক একমাত্র আল্লাহ তা‘আলা “মালাকুল মাউত” ফেরেশতাকে তিনি এ কাজে নিযুক্ত রেখেছেন আর অন্যান্য যারা আছে তারা হল মালাকুল মাউতের সাহায্যকারী। আল্লাহ তা‘আলার অনুমতি ব্যতীত মৃত্যুদান করার ক্ষমতা কারো নেই। আল্লাহ তা‘আলার বাণী:



(وَمَا كَانَ لِنَفْسٍ أَنْ تَمُوْتَ إِلَّا بِإِذْنِ اللّٰهِ كِتٰبًا مُّؤَجَّلًا)



“আর আল্লাহর আদেশ ব্যতীত ধার্যকৃত লিপিবদ্ধ নির্দিষ্ট সময়ে কেউই মৃত্যু বরণ করে না।” (সূরা আলি ইমরান ৩:১৪৫) যেহেতু মালাকুল মাউত মানুষের আত্মা কবয করার দায়িত্বে নিযুক্ত তাই তার দিকে সম্পৃক্ত করে বলা হয়েছে, মালাকুল মাউত তোমাদের মৃত্যু দেয়।



মালাকুল মাউত সম্পর্কে প্রখ্যাত মুফাসসির মুজাহিদ বলেন: মালাকুল মাউতের সামনে গোটা বিশ্ব কোন ব্যক্তির সামনে রক্ষিত বিভিন্ন খাবার সামগ্রীপূর্ণ একটি থালার মত, তিনি যা ইচ্ছা থালা থেকে তুলে নেন। মালাকুল মাউত মানুষের মত অন্যান্য জীবজন্তুর প্রাণ কবয করেন কিনা তা নিয়ে একাধিক মত পাওয়া যায়। ইমাম মালেক (رحمه الله) বলেন: তিনি অন্যান্য কীট-পতঙ্গেরও প্রাণ কবয করে থাকে। কিন্তু কতিপয় বর্ণনা দ্বারা জানা যায়নফেরেশতাগণের দ্বারা আত্মার বিয়োগ ঘটানো কেবল মানুষের জন্য নির্দিষ্ট তাদের মর্যাদার দিকে লক্ষ্য রেখে। অন্যান্য জীব-জন্তু আল্লাহ তা‘আলার অনুমতিতে মারা যায়। (কুরতুবীর বরাত দিয়ে ইবনু আতিয়্যাত বর্ণনা করেছেন)



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. মানুষকে মৃত্যুর পর আল্লাহ তা‘আলার নিকটেই ফিরে যেতে হবে।

২. আল্লাহ তা‘আলার অনুমতি ছাড়া কেউ মৃত্যু দান করতে পারে না। তবে মালাকূল মাউত ফেরেশতাকে শুধু একাজে নিযুক্ত করে রাখা হয়েছে।

৩. মানুষকে মৃত্যুর পর হিসাব-নিকাশের জন্য পুনরায় জীবিত করা হবে।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ১০-১১ নং আয়াতের তাফসীর

কাফিরদের আকীদা বা বিশ্বাস সম্পর্কে ব্যাখ্যা দেয়া হচ্ছে। মৃত্যুর পর পুনর্জীবনে তারা বিশ্বাসী নয়। ওটা তারা অসম্ভব বলে মনে করে। তারা বলে থাকেঃ যখন আমরা মরে সড়ে পচে যাবো এবং আমাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ছিন্ন ভিন্ন হয়ে মাটির সাথে মিশে যাবে, তারপর আবার কি আমাদেরকে নতুনভাবে সৃষ্টি করা হবে? দুঃখের কথা এই যে, আল্লাহকে তারা নিজেদের সাথে তুলনা করে থাকে। তারা তাদের সীমাবদ্ধ শক্তিকে আল্লাহর অসীম শক্তির সাথে তুলনা করে। তারা জানে ও স্বীকার করে যে, আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে প্রথমে সৃষ্টি করেছেন। কিন্তু বড়ই আশ্চর্যজনক কথা এই যে, দ্বিতীয়বার সৃষ্টি করারও শক্তি যে তার আছে এটা তারা স্বীকার করে না। অথচ তারা তো তাঁরই শক্তিতে চালিত হচ্ছে। তার তো শুধু হুকুম মাত্র। যখনই তিনি কোন কিছুকে বলেনঃ হও, আর তেমনি তা হয়ে যায়। এ জন্যেই আল্লাহ তাআলা বলেন যে, তারা তাদের প্রতিপালকের সাক্ষাৎকার অস্বীকার করে।

এরপর মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ তোমাদের জন্যে নিযুক্ত ফেরেশতা তোমাদের প্রাণ হরণ করবে। এর দ্বারা বুঝা যাচ্ছে যে, মালাকুল মাউত’ একজন ফেরেশতার উপাধী। হযরত বারা (রাঃ)-এর ঐ হাদীসটি যার বর্ণনা সূরায়ে ইবরাহীমে গত হয়েছে, ওর দ্বারাও প্রথম কথাটি এটাই বোধগম্য হয়ে থাকে। আর কোন কোন আসারে তার নাম আযরাঈলও (আঃ) রয়েছে এবং এটাই প্রসিদ্ধও বটে। হ্যাঁ, তবে তাঁর সঙ্গী-সাথী ও তার সাথে কাজকারী আরো ফেরেশতা রয়েছেন, যারা দেহ হতে রূহ বের করে থাকেন এবং হুলকুম পর্যন্ত পৌঁছে যাওয়ার পর মালাকুল মাউত ওটা নিয়ে নেন। তাদের জন্যে দুনিয়াকে। ছোট করে দেয়া হয়। যেমন আমাদের সামনে খাবারের খাঞ্চা থাকে। মন চায় যে, সেটা এমন স্থানে রাখা হালে যাতে সেটা থেকে খাবার উঠিয়ে নেয়ার সুবিধা হয়। ফেরেশতাদের কাছে দুনিয়াও ঠিক তদ্রুপ।

এই বিষয়ের উপর একটি মুরসাল হাদীসও রয়েছে। আর ওটা হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ)-এর উক্তিও বটে।

জাফর ইবনে মুহাম্মাদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি তাঁর পিতাকে বলতে শুনেছেনঃ একজন আনসারীর শিয়রে মালাকুল মাউতকে দেখে রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাকে বলেনঃ “হে মালাকুল মাউত! আমার সাহাবীর রূহ সহজভাবে কব করুন।” মালাকুল মাউত উত্তরে বললেনঃ “হে আল্লাহর নবী (সঃ)! আপনি নিশ্চিন্ত থাকুন ও চিত্তকে আনন্দিত রাখুন। কেননা, আমি প্রত্যেক মুমিনের ব্যাপারে কোমলতা অবলম্বন করে থাকি। শুনুন, হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! আল্লাহর শপথ! সারা দুনিয়ার প্রত্যেক কাঁচাপাকা ঘরে, স্থলে হালে বা জলে হালে, প্রত্যেক দিন আমি পাঁচবার চক্কর লাগিয়ে থাকি। তাদের ছোট ও বড় নিজেদেরকে যতটা চিনে তার চেয়ে বেশী আমি তাদেরকে চিনি। হে মুহাম্মাদ (সঃ)! আল্লাহর শপথ! আল্লাহর আদেশ না হওয়া পর্যন্ত আমি একটি মশারও জান কবয করতে পারি না।” (এ হাদীসটি ইবনে আবি হাতিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন)

হযরত জাফর (রঃ) বর্ণনা করেছেন যে, মালাকুল মাউতের দিনের মধ্যে পাঁচবার একটি মানুষের খোঁজ-খবর নেয়ার অর্থ হচ্ছে পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের সময় তাকে দেখে নেয়া। যদি সে নামাযের হিফাযতকারী হয় তবে ফেরেশতা তার নিকটে অবস্থান করেন এবং শয়তান তার থেকে দূরে থাকে। শেষ সময়ে ফেরেশতা তাকে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’-এর তালকীন দিয়ে থাকেন।

মুজাহিদ (রঃ) বলেন যে, মালাকুল মাউত প্রত্যেকদিন প্রতিটি বাড়ীতে দু’বার করে এসে থাকেন। কা’ব আহবার (রঃ) তো এর সাথে সাথে একথাও বলেন যে, মালাকুল মাউত দরজার উপর অবস্থান করেন এবং সারা দিনের মধ্যে সাতবার দৃষ্টিপাত করেন যে, ঐ বাড়ীর লোকদের মধ্যে কারো জান কবয করার নির্দেশ হয়েছে কি-না।

মহান আল্লাহ বলেনঃ অবশেষে তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের নিকট প্রত্যানীত হবে। কবর থেকে বের হয়ে হাশরের মাঠে আল্লাহর সামনে তোমাদেরকে হাযির হতে হবে এবং সেখানে তোমরা তোমাদের কৃতকর্মের ফল ভোগ করবে।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।