সূরা আর-রুম (আয়াত: 34)
হরকত ছাড়া:
ليكفروا بما آتيناهم فتمتعوا فسوف تعلمون ﴿٣٤﴾
হরকত সহ:
لِیَکْفُرُوْا بِمَاۤ اٰتَیْنٰهُمْ ؕ فَتَمَتَّعُوْا ٝ فَسَوْفَ تَعْلَمُوْنَ ﴿۳۴﴾
উচ্চারণ: লিয়াকফুরূ বিমাআ-তাইনা-হুম ফাতামাত্তা‘ঊ ফাছাওফা তা‘লামূন।
আল বায়ান: ফলে আমি তাদের যা দিয়েছি তার প্রতি তারা অকৃতজ্ঞ হয়। সুতরাং তোমরা ভোগ করে নাও। শীঘ্রই তোমরা জানতে পারবে।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৩৪. ফলে তাদেরকে আমরা যা দিয়েছি, তাতে তারা কুফরী করে। কাজেই তোমরা ভোগ করে নাও, শীঘ্রই তোমরা জানতে পারবে!
তাইসীরুল ক্বুরআন: আমি তাদের প্রতি যে অনুগ্রহ করেছি তা অস্বীকার করার জন্য। তাহলে ভোগ করে নাও, শীঘ্রই তোমরা জানতে পারবে!
আহসানুল বায়ান: (৩৪) ওদেরকে আমি যা দিয়েছি, তা অস্বীকার করার জন্য।[1] সুতরাং তোমরা ভোগ করে নাও, অতঃপর শীঘ্রই জানতে পারবে।
মুজিবুর রহমান: তাদেরকে আমি যা দিয়েছি তা অস্বীকার করার জন্য। সুতরাং ভোগ করে নাও, শীঘ্রই তোমরা জানতে পারবে।
ফযলুর রহমান: আমি তাদেরকে যা দান করেছি তার প্রতি অকৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য। ঠিক আছে, ভোগ করতে থাক; আগামীতে (এর ফল) জানতে পারবে!
মুহিউদ্দিন খান: যাতে তারা অস্বীকার করে যা আমি তাদেরকে দিয়েছি। অতএব, মজা লুটে নাও, সত্বরই জানতে পারবে।
জহুরুল হক: যেন তারা অস্বীকার করতে পারে যা আমরা তাদের প্রদান করেছিলাম। সুতরাং "ভোগ করে নাও, কেননা শীঘ্রই তোমরা জানতে পারবে।"
Sahih International: So that they will deny what We have granted them. Then enjoy yourselves, for you are going to know.
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৩৪. ফলে তাদেরকে আমরা যা দিয়েছি, তাতে তারা কুফরী করে। কাজেই তোমরা ভোগ করে নাও, শীঘ্রই তোমরা জানতে পারবে!
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৩৪) ওদেরকে আমি যা দিয়েছি, তা অস্বীকার করার জন্য।[1] সুতরাং তোমরা ভোগ করে নাও, অতঃপর শীঘ্রই জানতে পারবে।
তাফসীর:
[1] এখানে সেই বিষয় আলোচিত হয়েছে, যে বিষয় সূরা আনকাবুতের শেষে ৬৫-৬৬নং আয়াতে বর্ণিত হয়ে গেছে।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৩৩-৩৭ নং আয়াতের তাফসীর:
এ আয়াতগুলোতে মূলত অধিকাংশ মানুষের চিরাচরিত স্বভাব ও অবস্থার বর্ণনা দেয়া হয়েছে। যখনই মানুষ কোন বিপদ-আপদ দ্বারা আক্রান্ত হয়। যেমন অনাবৃষ্টি, দুর্ভিক্ষ, ঝড়-তুফান, সমুদ্রের ঢেউয়ে ডুবে যাওয়ার আশংকা করা ইত্যাদি তখনই একনিষ্ঠভাবে আল্লাহ তা‘আলাকে আহ্বান করে এবং তাদের বাতিল মা‘বূদেরকে অস্বীকার করে। অতঃপর যখন আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে এ বিপদ থেকে নিষ্কৃতি দান করেন তখনই তারা আল্লাহ তা‘আলার সাথে শির্ক করে। মক্কার মুশরিকদের এরূপ স্বভাব ছিল। কিন্তু আমাদের দেশের একশ্রেণির মুসলিম মক্কার মুশরিকদের থেকেও জঘন্য। এসব নামধারী মুসলিমরা বিপদে পড়লে বিভিন্ন বাবার মাযারে, দরগাহে ও পীর সাহেবদের কাছে যায়। অথচ উচিত ছিল একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার কাছে চাওয়া ও তাঁর অভিমুখী হওয়া। এ সম্পর্কে ইতোপূর্বে সূরা আনকাবুতের ৬৫-৬৬, সূরা হূদের ৯-১০ নং আয়াতসহ অন্যান্য স্থানেও আলোচনা করা হয়েছে।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. সুখ-দুঃখ সর্বাবস্থায়ই আল্লাহ তা‘আলাকে আহ্বান করতে হবে। দুঃখের সময় আহ্বান করে সুখের সময় ভুলে গেলে চলবে না এবং তার সাথে কাউকে শরীক করা যাবে না।
২. আল্লাহর নেয়ামতসমূহের অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা যাবে না বরং নেয়ামত পেয়ে তাঁর প্রশংসা করতে হবে।
৩. বিপদে নিরাশ হওয়া যাবে না, বরং ঈমানের সাথে বিপদে ধৈর্যধারণ করলে নেকী পাওয়া যায়।
৪. রিযিকের মালিক একমাত্র আল্লাহ তা‘আলা, অন্য কেউ নয়।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৩৩-৩৭ নং আয়াতের তাফসীর
আল্লাহ তাআলা মানুষের স্বভাব ও অবস্থার বর্ণনা দিয়েছেন যে, যখন তাদের। উপর দুঃখ-কষ্ট, বিপদ-আপদ আপতিত হয় তখন অংশীবিহীন আল্লাহর কাছে তারা অত্যন্ত বিনয়ের সাথে কষ্ট ও বিপদ হতে মুক্তিলাভের জন্যে প্রার্থনা করে। তারপর যখন আল্লাহ তা'আলা স্বীয় নিয়ামত তাদের উপর বর্ষণ করেন তখন তারা তার সাথে শিরক করতে শুরু করে দেয়।
(আরবি)-এর (আরবি)-কে কেউ কেউ (আরবি) বলেন, আবার কেউ কেউ। (আরবি) বলেন। এখানে (আরবি) ই এ বাক্যের জন্যে উত্তম বলে মনে হচ্ছে। কেননা, আল্লাহ তাআলা এটা তাদের জন্যে নির্ধারণ করেছেন, অতঃপর তাদেরকে ধমক দিচ্ছেন যে, শীঘ্রই তারা জানতে পারবে।
কোন কোন বুযুর্গ ব্যক্তি বলেনঃ “যদি পুলিশ কাউকে ভয় দেখায় ও ধমক দেয় তবে সে ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। তাহলে এটা বড়ই বিস্ময়কর ব্যাপার যে, ঐ সত্তার ধমকে আমরা ভীত-সন্ত্রস্ত হই না যার অধিকারে সব কিছুই রয়েছে এবং কোন কিছু করার জন্যে হও’ বলাই যার জন্যে যথেষ্ট।”
অতঃপর মুশরিকদের নিকট কোন দলীল প্রমাণ না থাকার বর্ণনা দেয়া হচ্ছে। আল্লাহ পাক বলেনঃ আমি তাদের শিরকের কোন দলীল অবতীর্ণ করিনি।
এরপর অস্বীকৃতি জ্ঞাপনকারী মানুষের একটি বদ-স্বভাবের বর্ণনা দেয়া হচ্ছে। অতি অল্প সংখ্যক লোক ছাড়া সব মানুষই সুখের সময় আল্লাহকে ভুলে যায়।
আর বিপদে পড়লে একেবারে নিরাশ হয়ে পড়ে এবং বলেঃ হায়! আমার সর্বনাশ হয়ে গেল। আমার সুখ-শান্তির আর কোন আশা নেই। কিন্তু মুমিনরা বিপদে পড়লে ধৈর্যধারণ করে এবং সুখের সময় ভাল কাজ করে থাকে। যেমন সহীহ হাদীসে রয়েছেঃ “মুমিনের জন্যে বিস্ময় যে, আল্লাহ তার জন্যে যা ফায়সালা করেন তা তার জন্যে মঙ্গল ও কল্যাণকরই হয়। যদি তার উপর সুখ-শান্তি আপতিত হয় এবং এজন্যে সে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তবে সেটাও হয় তার জন্যে কল্যাণকর। আর যদি তাকে বিপদ ও দুঃখ দৈন্য স্পর্শ করে এবং সে ধৈর্যধারণ করে তবে সেটাও হয় তার জন্যে মঙ্গলজনক।”
এরপর মহান আল্লাহ বলেনঃ তারা কি লক্ষ্য করে না যে, আল্লাহ যার জন্যে ইচ্ছা তার রিযক প্রশস্ত করেন অথবা সীমিত করেন? তিনিই মালিক মুখতার। তিনি স্বীয় কৌশল অনুযায়ী দুনিয়াকে সাজিয়েছেন। তিনি কাউকে প্রচুর রিযক দান করেন এবং কাউকে অভাব-অনটনে রাখেন। কেউ অভাবের জীবন বয়ে নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে, আবার কেউ প্রাচুর্যের মধ্যে নিমজ্জিত হচ্ছে। এসবের মধ্যে অবশ্যই মুমিনদের জন্যে নিদর্শন রয়েছে।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।