সূরা আর-রুম (আয়াত: 33)
হরকত ছাড়া:
وإذا مس الناس ضر دعوا ربهم منيبين إليه ثم إذا أذاقهم منه رحمة إذا فريق منهم بربهم يشركون ﴿٣٣﴾
হরকত সহ:
وَ اِذَا مَسَّ النَّاسَ ضُرٌّ دَعَوْا رَبَّهُمْ مُّنِیْبِیْنَ اِلَیْهِ ثُمَّ اِذَاۤ اَذَاقَهُمْ مِّنْهُ رَحْمَۃً اِذَا فَرِیْقٌ مِّنْهُمْ بِرَبِّهِمْ یُشْرِکُوْنَ ﴿ۙ۳۳﴾
উচ্চারণ: ওয়া ইযা-মাছছান্না-ছা দু ররুন দা‘আও রাব্বাহুম মুনীবীনা ইলাইহি ছু ম্মা ইযাআযা-কাহুম মিনহু রাহামাতান ইযা-ফারীকুম মিনহুম বিরাব্বিহিম ইউশরিকূন।
আল বায়ান: আর মানুষকে যখন দুঃখ-কষ্ট স্পর্শ করে তখন তারা তাদের রবের প্রতি বিনীতভাবে ফিরে এসে তাকে ডাকে। তারপর যখন তিনি তাদের স্বীয় রহমত আস্বাদন করান, তখন তাদের মধ্যকার একটি দল তাদের রবের সাথে শরীক করে;
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৩৩. আর মানুষকে যখন দুঃখ-দৈন্য স্পর্শ করে তখন তারা তাদের রবকে ডাকে তাঁরই অভিমুখী হয়ে। তারপর তিনি যখন তাদেরকে স্বীয় অনুগ্রহ আস্বাদন করান, তখন তাদের একদল তাদের রবের সাথে শির্ক করে;
তাইসীরুল ক্বুরআন: মানুষকে যখন দুঃখ-বিপদ স্পর্শ করে তখন তারা তাদের প্রতিপালককে ডাকে তাঁর অভিমুখী হয়ে। অতঃপর তিনি যখন তাদেরকে নিজ অনুগ্রহ আস্বাদন করান তখন তাদের একদল তাদের প্রতিপালকের অংশীদার সাব্যস্ত করে বসে
আহসানুল বায়ান: (৩৩) মানুষকে যখন দুঃখ-দৈন্য স্পর্শ করে, তখন ওরা বিশুদ্ধ-চিত্তে ওদের প্রতিপালককে ডাকে; অতঃপর তিনি যখন ওদের প্রতি অনুগ্রহ করেন, তখন ওদের একদল ওদের প্রতিপালকের সাথে অংশী স্থাপন করে থাকে।
মুজিবুর রহমান: মানুষকে যখন দুঃখ-দৈন্য স্পর্শ করে তখন তারা বিশুদ্ধ চিত্তে তাদের রাববকে ডাকে, অতঃপর তিনি যখন তাদেরকে স্বীয় অনুগ্রহ আস্বাদন করান তখন তাদের এক দল তাদের রবের সাথে শরীক করে –
ফযলুর রহমান: মানুষ যখন কোন কষ্টে পড়ে তখন তাদের প্রভুর দিকে ফিরে এসে তাঁকেই ডাকে। তারপর যখন তিনি তাদেরকে তাঁর অনুগ্রহ আস্বাদন করান, অমনি তাদের একদল তাদের প্রভুর সাথে শির্ক করতে আরম্ভ করে,
মুহিউদ্দিন খান: মানুষকে যখন দুঃখ-কষ্ট স্পর্শ করে, তখন তারা তাদের পালনকর্তাকে আহবান করে তাঁরই অভিমুখী হয়ে। অতঃপর তিনি যখন তাদেরকে রহমতের স্বাদ আস্বাদন করান, তখন তাদের একদল তাদের পালনকর্তার সাথে শিরক করতে থাকে,
জহুরুল হক: আর মানুষকে যখন দুঃখকষ্ট স্পর্শ করে তখন তারা তাদের প্রভুকে আহ্বান করে তাঁর প্রতি একান্ত মনোযোগী হয়ে, তারপর যখন তিনি তাদের তাঁর তরফ থেকে অনুগ্রহ আস্বাদন করান তখন দেখো! তাদের মধ্যের একদল তাদের প্রভুর সঙ্গে অংশী দাঁড় করায়, --
Sahih International: And when adversity touches the people, they call upon their Lord, turning in repentance to Him. Then when He lets them taste mercy from Him, at once a party of them associate others with their Lord,
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৩৩. আর মানুষকে যখন দুঃখ-দৈন্য স্পর্শ করে তখন তারা তাদের রবকে ডাকে তাঁরই অভিমুখী হয়ে। তারপর তিনি যখন তাদেরকে স্বীয় অনুগ্রহ আস্বাদন করান, তখন তাদের একদল তাদের রবের সাথে শির্ক করে;
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৩৩) মানুষকে যখন দুঃখ-দৈন্য স্পর্শ করে, তখন ওরা বিশুদ্ধ-চিত্তে ওদের প্রতিপালককে ডাকে; অতঃপর তিনি যখন ওদের প্রতি অনুগ্রহ করেন, তখন ওদের একদল ওদের প্রতিপালকের সাথে অংশী স্থাপন করে থাকে।
তাফসীর:
-
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৩৩-৩৭ নং আয়াতের তাফসীর:
এ আয়াতগুলোতে মূলত অধিকাংশ মানুষের চিরাচরিত স্বভাব ও অবস্থার বর্ণনা দেয়া হয়েছে। যখনই মানুষ কোন বিপদ-আপদ দ্বারা আক্রান্ত হয়। যেমন অনাবৃষ্টি, দুর্ভিক্ষ, ঝড়-তুফান, সমুদ্রের ঢেউয়ে ডুবে যাওয়ার আশংকা করা ইত্যাদি তখনই একনিষ্ঠভাবে আল্লাহ তা‘আলাকে আহ্বান করে এবং তাদের বাতিল মা‘বূদেরকে অস্বীকার করে। অতঃপর যখন আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে এ বিপদ থেকে নিষ্কৃতি দান করেন তখনই তারা আল্লাহ তা‘আলার সাথে শির্ক করে। মক্কার মুশরিকদের এরূপ স্বভাব ছিল। কিন্তু আমাদের দেশের একশ্রেণির মুসলিম মক্কার মুশরিকদের থেকেও জঘন্য। এসব নামধারী মুসলিমরা বিপদে পড়লে বিভিন্ন বাবার মাযারে, দরগাহে ও পীর সাহেবদের কাছে যায়। অথচ উচিত ছিল একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার কাছে চাওয়া ও তাঁর অভিমুখী হওয়া। এ সম্পর্কে ইতোপূর্বে সূরা আনকাবুতের ৬৫-৬৬, সূরা হূদের ৯-১০ নং আয়াতসহ অন্যান্য স্থানেও আলোচনা করা হয়েছে।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. সুখ-দুঃখ সর্বাবস্থায়ই আল্লাহ তা‘আলাকে আহ্বান করতে হবে। দুঃখের সময় আহ্বান করে সুখের সময় ভুলে গেলে চলবে না এবং তার সাথে কাউকে শরীক করা যাবে না।
২. আল্লাহর নেয়ামতসমূহের অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা যাবে না বরং নেয়ামত পেয়ে তাঁর প্রশংসা করতে হবে।
৩. বিপদে নিরাশ হওয়া যাবে না, বরং ঈমানের সাথে বিপদে ধৈর্যধারণ করলে নেকী পাওয়া যায়।
৪. রিযিকের মালিক একমাত্র আল্লাহ তা‘আলা, অন্য কেউ নয়।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৩৩-৩৭ নং আয়াতের তাফসীর
আল্লাহ তাআলা মানুষের স্বভাব ও অবস্থার বর্ণনা দিয়েছেন যে, যখন তাদের। উপর দুঃখ-কষ্ট, বিপদ-আপদ আপতিত হয় তখন অংশীবিহীন আল্লাহর কাছে তারা অত্যন্ত বিনয়ের সাথে কষ্ট ও বিপদ হতে মুক্তিলাভের জন্যে প্রার্থনা করে। তারপর যখন আল্লাহ তা'আলা স্বীয় নিয়ামত তাদের উপর বর্ষণ করেন তখন তারা তার সাথে শিরক করতে শুরু করে দেয়।
(আরবি)-এর (আরবি)-কে কেউ কেউ (আরবি) বলেন, আবার কেউ কেউ। (আরবি) বলেন। এখানে (আরবি) ই এ বাক্যের জন্যে উত্তম বলে মনে হচ্ছে। কেননা, আল্লাহ তাআলা এটা তাদের জন্যে নির্ধারণ করেছেন, অতঃপর তাদেরকে ধমক দিচ্ছেন যে, শীঘ্রই তারা জানতে পারবে।
কোন কোন বুযুর্গ ব্যক্তি বলেনঃ “যদি পুলিশ কাউকে ভয় দেখায় ও ধমক দেয় তবে সে ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। তাহলে এটা বড়ই বিস্ময়কর ব্যাপার যে, ঐ সত্তার ধমকে আমরা ভীত-সন্ত্রস্ত হই না যার অধিকারে সব কিছুই রয়েছে এবং কোন কিছু করার জন্যে হও’ বলাই যার জন্যে যথেষ্ট।”
অতঃপর মুশরিকদের নিকট কোন দলীল প্রমাণ না থাকার বর্ণনা দেয়া হচ্ছে। আল্লাহ পাক বলেনঃ আমি তাদের শিরকের কোন দলীল অবতীর্ণ করিনি।
এরপর অস্বীকৃতি জ্ঞাপনকারী মানুষের একটি বদ-স্বভাবের বর্ণনা দেয়া হচ্ছে। অতি অল্প সংখ্যক লোক ছাড়া সব মানুষই সুখের সময় আল্লাহকে ভুলে যায়।
আর বিপদে পড়লে একেবারে নিরাশ হয়ে পড়ে এবং বলেঃ হায়! আমার সর্বনাশ হয়ে গেল। আমার সুখ-শান্তির আর কোন আশা নেই। কিন্তু মুমিনরা বিপদে পড়লে ধৈর্যধারণ করে এবং সুখের সময় ভাল কাজ করে থাকে। যেমন সহীহ হাদীসে রয়েছেঃ “মুমিনের জন্যে বিস্ময় যে, আল্লাহ তার জন্যে যা ফায়সালা করেন তা তার জন্যে মঙ্গল ও কল্যাণকরই হয়। যদি তার উপর সুখ-শান্তি আপতিত হয় এবং এজন্যে সে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তবে সেটাও হয় তার জন্যে কল্যাণকর। আর যদি তাকে বিপদ ও দুঃখ দৈন্য স্পর্শ করে এবং সে ধৈর্যধারণ করে তবে সেটাও হয় তার জন্যে মঙ্গলজনক।”
এরপর মহান আল্লাহ বলেনঃ তারা কি লক্ষ্য করে না যে, আল্লাহ যার জন্যে ইচ্ছা তার রিযক প্রশস্ত করেন অথবা সীমিত করেন? তিনিই মালিক মুখতার। তিনি স্বীয় কৌশল অনুযায়ী দুনিয়াকে সাজিয়েছেন। তিনি কাউকে প্রচুর রিযক দান করেন এবং কাউকে অভাব-অনটনে রাখেন। কেউ অভাবের জীবন বয়ে নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে, আবার কেউ প্রাচুর্যের মধ্যে নিমজ্জিত হচ্ছে। এসবের মধ্যে অবশ্যই মুমিনদের জন্যে নিদর্শন রয়েছে।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।