সূরা আর-রুম (আয়াত: 35)
হরকত ছাড়া:
أم أنزلنا عليهم سلطانا فهو يتكلم بما كانوا به يشركون ﴿٣٥﴾
হরকত সহ:
اَمْ اَنْزَلْنَا عَلَیْهِمْ سُلْطٰنًا فَهُوَ یَتَکَلَّمُ بِمَا کَانُوْا بِهٖ یُشْرِکُوْنَ ﴿۳۵﴾
উচ্চারণ: আম আনযালনা-‘আলাইহিম ছুলতা-নান ফাহুওয়া ইয়াতাকাল্লামুবিমা-কা-নূবিহী ইউশরিকূন।
আল বায়ান: আমি কি তাদের প্রতি এমন কোন প্রমাণ নাযিল করেছি, যা তাদের শরীক করতে বলে?
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৩৫. নাকি আমরা তাদের কাছে এমন কোন প্রমাণ নাযিল করেছি যা তারা যে শির্ক করছে সে সম্পর্কে বক্তব্য দেয়?(১)
তাইসীরুল ক্বুরআন: আমি কি তাদের কাছে এমন কোন দলীল অবতীর্ণ করেছি যা তাদেরকে সেগুলোর কথা বলে তারা যেগুলোর শরীক করে?
আহসানুল বায়ান: (৩৫) আমি কি ওদের নিকট এমন কোন দলীল অবতীর্ণ করেছি, যা ওদেরকে আমার কোন অংশী স্থাপন করতে বলে? [1]
মুজিবুর রহমান: আমি কি তাদের নিকট এমন কোন দলীল অবতীর্ণ করেছি যা তাদেরকে আমার শরীক করতে বলে?
ফযলুর রহমান: নাকি আমি তাদের কাছে কোন প্রমাণ নাযিল করেছি যা তাদেরকে শির্ক করতে বলে?
মুহিউদ্দিন খান: আমি কি তাদের কাছে এমন কোন দলীল নাযিল করেছি, যে তাদেরকে আমার শরীক করতে বলে?
জহুরুল হক: অথবা, আমরা কি তাদের কাছে কোনো দলিল পাঠিয়েছি যাতে সেটি ওরা তাঁর সঙ্গে যে অংশী দাঁড় করায় সে সন্বন্ধে কথা বলে?
Sahih International: Or have We sent down to them an authority, and it speaks of what they were associating with Him?
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৩৫. নাকি আমরা তাদের কাছে এমন কোন প্রমাণ নাযিল করেছি যা তারা যে শির্ক করছে সে সম্পর্কে বক্তব্য দেয়?(১)
তাফসীর:
(১) কাতাদাহ বলেন, এর অর্থ আমরা কি এমন কোন কিতাব নাযিল করেছি যাতে তাদের শির্কের ঘোষণা রয়েছে? [তাবারী]
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৩৫) আমি কি ওদের নিকট এমন কোন দলীল অবতীর্ণ করেছি, যা ওদেরকে আমার কোন অংশী স্থাপন করতে বলে? [1]
তাফসীর:
[1] এটা অস্বীকৃতিমূলক জিজ্ঞাসা। অর্থাৎ, এরা যাদেরকে আল্লাহর শরীক করে তাদের ইবাদত করে, তা প্রমাণ ছাড়াই করে। আল্লাহ তাআলা তার কোন প্রমাণ অবতীর্ণ করেননি। তাছাড়া ঐ আল্লাহ যিনি শিরক উচ্ছেদ ও তওহীদ প্রতিষ্ঠা করার জন্য সকল পয়গম্বরগণকে প্রেরণ করেছেন, তিনি কিভাবে শিরক বৈধ হওয়ার প্রমাণ অবতীর্ণ করতে পারেন? সুতরাং সকল পয়গম্বর সর্বপ্রথম নিজ নিজ সম্প্রদায়কে তওহীদের দাওয়াত দিয়েছেন। আর বর্তমানে তওহীদের দাবীদার বহু মুসলিমদের কাছে তওহীদ ও সুন্নতের ওয়ায-নসীহত করতে হচ্ছে। কারণ, অধিকাংশ মুসলমান শিরক ও বিদআতে নিমজ্জিত। (আল্লাহ তাদেরকে হিদায়াত করুন।)
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৩৩-৩৭ নং আয়াতের তাফসীর:
এ আয়াতগুলোতে মূলত অধিকাংশ মানুষের চিরাচরিত স্বভাব ও অবস্থার বর্ণনা দেয়া হয়েছে। যখনই মানুষ কোন বিপদ-আপদ দ্বারা আক্রান্ত হয়। যেমন অনাবৃষ্টি, দুর্ভিক্ষ, ঝড়-তুফান, সমুদ্রের ঢেউয়ে ডুবে যাওয়ার আশংকা করা ইত্যাদি তখনই একনিষ্ঠভাবে আল্লাহ তা‘আলাকে আহ্বান করে এবং তাদের বাতিল মা‘বূদেরকে অস্বীকার করে। অতঃপর যখন আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে এ বিপদ থেকে নিষ্কৃতি দান করেন তখনই তারা আল্লাহ তা‘আলার সাথে শির্ক করে। মক্কার মুশরিকদের এরূপ স্বভাব ছিল। কিন্তু আমাদের দেশের একশ্রেণির মুসলিম মক্কার মুশরিকদের থেকেও জঘন্য। এসব নামধারী মুসলিমরা বিপদে পড়লে বিভিন্ন বাবার মাযারে, দরগাহে ও পীর সাহেবদের কাছে যায়। অথচ উচিত ছিল একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার কাছে চাওয়া ও তাঁর অভিমুখী হওয়া। এ সম্পর্কে ইতোপূর্বে সূরা আনকাবুতের ৬৫-৬৬, সূরা হূদের ৯-১০ নং আয়াতসহ অন্যান্য স্থানেও আলোচনা করা হয়েছে।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. সুখ-দুঃখ সর্বাবস্থায়ই আল্লাহ তা‘আলাকে আহ্বান করতে হবে। দুঃখের সময় আহ্বান করে সুখের সময় ভুলে গেলে চলবে না এবং তার সাথে কাউকে শরীক করা যাবে না।
২. আল্লাহর নেয়ামতসমূহের অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা যাবে না বরং নেয়ামত পেয়ে তাঁর প্রশংসা করতে হবে।
৩. বিপদে নিরাশ হওয়া যাবে না, বরং ঈমানের সাথে বিপদে ধৈর্যধারণ করলে নেকী পাওয়া যায়।
৪. রিযিকের মালিক একমাত্র আল্লাহ তা‘আলা, অন্য কেউ নয়।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৩৩-৩৭ নং আয়াতের তাফসীর
আল্লাহ তাআলা মানুষের স্বভাব ও অবস্থার বর্ণনা দিয়েছেন যে, যখন তাদের। উপর দুঃখ-কষ্ট, বিপদ-আপদ আপতিত হয় তখন অংশীবিহীন আল্লাহর কাছে তারা অত্যন্ত বিনয়ের সাথে কষ্ট ও বিপদ হতে মুক্তিলাভের জন্যে প্রার্থনা করে। তারপর যখন আল্লাহ তা'আলা স্বীয় নিয়ামত তাদের উপর বর্ষণ করেন তখন তারা তার সাথে শিরক করতে শুরু করে দেয়।
(আরবি)-এর (আরবি)-কে কেউ কেউ (আরবি) বলেন, আবার কেউ কেউ। (আরবি) বলেন। এখানে (আরবি) ই এ বাক্যের জন্যে উত্তম বলে মনে হচ্ছে। কেননা, আল্লাহ তাআলা এটা তাদের জন্যে নির্ধারণ করেছেন, অতঃপর তাদেরকে ধমক দিচ্ছেন যে, শীঘ্রই তারা জানতে পারবে।
কোন কোন বুযুর্গ ব্যক্তি বলেনঃ “যদি পুলিশ কাউকে ভয় দেখায় ও ধমক দেয় তবে সে ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। তাহলে এটা বড়ই বিস্ময়কর ব্যাপার যে, ঐ সত্তার ধমকে আমরা ভীত-সন্ত্রস্ত হই না যার অধিকারে সব কিছুই রয়েছে এবং কোন কিছু করার জন্যে হও’ বলাই যার জন্যে যথেষ্ট।”
অতঃপর মুশরিকদের নিকট কোন দলীল প্রমাণ না থাকার বর্ণনা দেয়া হচ্ছে। আল্লাহ পাক বলেনঃ আমি তাদের শিরকের কোন দলীল অবতীর্ণ করিনি।
এরপর অস্বীকৃতি জ্ঞাপনকারী মানুষের একটি বদ-স্বভাবের বর্ণনা দেয়া হচ্ছে। অতি অল্প সংখ্যক লোক ছাড়া সব মানুষই সুখের সময় আল্লাহকে ভুলে যায়।
আর বিপদে পড়লে একেবারে নিরাশ হয়ে পড়ে এবং বলেঃ হায়! আমার সর্বনাশ হয়ে গেল। আমার সুখ-শান্তির আর কোন আশা নেই। কিন্তু মুমিনরা বিপদে পড়লে ধৈর্যধারণ করে এবং সুখের সময় ভাল কাজ করে থাকে। যেমন সহীহ হাদীসে রয়েছেঃ “মুমিনের জন্যে বিস্ময় যে, আল্লাহ তার জন্যে যা ফায়সালা করেন তা তার জন্যে মঙ্গল ও কল্যাণকরই হয়। যদি তার উপর সুখ-শান্তি আপতিত হয় এবং এজন্যে সে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তবে সেটাও হয় তার জন্যে কল্যাণকর। আর যদি তাকে বিপদ ও দুঃখ দৈন্য স্পর্শ করে এবং সে ধৈর্যধারণ করে তবে সেটাও হয় তার জন্যে মঙ্গলজনক।”
এরপর মহান আল্লাহ বলেনঃ তারা কি লক্ষ্য করে না যে, আল্লাহ যার জন্যে ইচ্ছা তার রিযক প্রশস্ত করেন অথবা সীমিত করেন? তিনিই মালিক মুখতার। তিনি স্বীয় কৌশল অনুযায়ী দুনিয়াকে সাজিয়েছেন। তিনি কাউকে প্রচুর রিযক দান করেন এবং কাউকে অভাব-অনটনে রাখেন। কেউ অভাবের জীবন বয়ে নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে, আবার কেউ প্রাচুর্যের মধ্যে নিমজ্জিত হচ্ছে। এসবের মধ্যে অবশ্যই মুমিনদের জন্যে নিদর্শন রয়েছে।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।