আল কুরআন


সূরা আল-বাকারা (আয়াত: 82)

সূরা আল-বাকারা (আয়াত: 82)



হরকত ছাড়া:

والذين آمنوا وعملوا الصالحات أولئك أصحاب الجنة هم فيها خالدون ﴿٨٢﴾




হরকত সহ:

وَ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَ عَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ اُولٰٓئِکَ اَصْحٰبُ الْجَنَّۃِ ۚ هُمْ فِیْهَا خٰلِدُوْنَ ﴿۸۲﴾




উচ্চারণ: ওয়াল্লাযীনা আ-মানূ ওয়া‘আমিলুসসা-লিহা-তি উলাইকা আসহা-বুল জান্নাতি হুম ফীহা-খা-লিদূ ন।




আল বায়ান: আর যারা ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে, তারা জান্নাতের অধিবাসী। তারা সেখানে হবে স্থায়ী।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৮২. আর যারা ঈমান এনেছে ও সৎকাজ করেছে তারাই জান্নাতবাসী, তারা সেখানে স্থায়ী হবে।




তাইসীরুল ক্বুরআন: আর যারা ঈমান আনে ও নেক ‘আমাল করে তারাই জান্নাতবাসী, তারা সেখানে চিরস্থায়ী হবে।




আহসানুল বায়ান: ৮২। পক্ষান্তরে যারা বিশ্বাস করেছে (মু’মিন হয়েছে) এবং সৎকাজ করেছে, তারাই হবে জান্নাতের অধিবাসী; তারা সেখানে চিরকাল থাকবে। [1]



মুজিবুর রহমান: এবং যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে ও সৎ কাজ করছে তারাই জান্নাতবাসী, তন্মধ্যে তারা চিরকাল অবস্থান করবে।



ফযলুর রহমান: আর যারা ঈমান রাখে ও সৎকাজ করে তারা জান্নাতের অধিবাসী হবে, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে।



মুহিউদ্দিন খান: পক্ষান্তরে যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে, তারাই জান্নাতের অধিবাসী। তারা সেখানেই চিরকাল থাকবে।



জহুরুল হক: আর যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করছে, তারাই হচ্ছে বেহেশতের বাসিন্দা, তাতে থাকবে তারা চিরকাল।



Sahih International: But they who believe and do righteous deeds - those are the companions of Paradise; they will abide therein eternally.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৮২. আর যারা ঈমান এনেছে ও সৎকাজ করেছে তারাই জান্নাতবাসী, তারা সেখানে স্থায়ী হবে।


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: ৮২। পক্ষান্তরে যারা বিশ্বাস করেছে (মু’মিন হয়েছে) এবং সৎকাজ করেছে, তারাই হবে জান্নাতের অধিবাসী; তারা সেখানে চিরকাল থাকবে। [1]


তাফসীর:

[1] এখানে ইয়াহুদীদের দাবী খন্ডন করে জান্নাত ও জাহান্নামে যাওয়ার মূলনীতির কথা বর্ণনা করা হচ্ছে। যার আমলনামায় কেবল পাপ আর পাপই থাকবে; অর্থাৎ, কুফরী ও শির্ক, (এই কুফরী ও শির্কীয় কর্ম সম্পাদনের কারণে তাদের অনেক ভাল কাজও কোন উপকারে আসবে না) সে তো চিরস্থায়ী জাহান্নামবাসী হবে এবং যে ঈমান ও নেক আমলের ভূষণে ভূষিত হবে, সে জান্নাতবাসী হবে। আর যে মুমিন পাপী হবে, তার ব্যাপার আল্লাহর ইচ্ছাধীন থাকবে, তিনি ইচ্ছা করলে স্বীয় অনুগ্রহ ও দয়ায় তাকে ক্ষমা করে দেবেন অথবা শাস্তি স্বরূপ কিছু দিন জাহান্নামে রেখে নবী করীম (সাঃ)-এর সুপারিশে তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। আর এ কথা বহু সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত এবং আহলে সুন্নাহর এটাই আক্বীদা ও বিশ্বাস।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৮০ হতে ৮২ নং আয়াতের তাফসীর:



অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা ইয়াহূদীদের একটি দাবির কথা উল্লেখ করেছেন যে, তারা বলে আমরা মাত্র কয়েকদিন জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করব তারপর নাজাত পেয়ে যাব।



আল্লাহ তা‘আলা তাদের দাবির প্রতিবাদ করে বলছেন: হে নাবী আপনি বলে দিন তোমরা কি এ বিষয়ে আল্লাহ তা‘আলার কাছ থেকে কোন অঙ্গীকারনামা নিয়েছ? মূলত আল্লাহ তা‘আলার ব্যাপারে তারা মিথ্যা আরোপ করে।



আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন: ইয়াহূদীরা বলে, আমরা কেবল চল্লিশ দিন জাহান্নামে অবস্থান করব। কাতাদাহ (রহঃ) বলেন: ইয়াহূদীরা বলে আমরা কেবল যে চল্লিশ দিন গো-বৎসের পূজা করেছিলাম সে চল্লিশ দিন জাহান্নামে অবস্থান করব।



ইকরামার বর্ণনায় পাওয়া যায়, একদা ইয়াহূদীরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে বিবাদ করে। তারা বলল: আমরা কেবল চল্লিশ দিন জাহান্নামে অবস্থান করব। অতঃপর আমাদের স্থানে মুহাম্মাদ ও তাঁর সাথীরা যাবে। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের মাথার দিকে ইশারা করে বললেন: বরং তোমরাই জাহান্নামে আজীবন থাকবে। তোমাদের স্থলাভিষিক্ত আর কেউ হবে না। তখন এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয়। (ফাতহুল বারী ১০/২৫৭)



এরপর আল্লাহ তা‘আলা জানিয়ে দিলেন যে, মৌখিক দাবি যথেষ্ট নয় বরং যারা অপরাধ করবে তারা জাহান্নামী আর যারা সৎ আমল করবে তারা জান্নাতে যাবে। আর তথায় চিরস্থায়ী হবে।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. জান্নাত লাভ ও জাহান্নাম থেকে রক্ষা পাওয়ার কথা শুধু মুখে বললে হবে না বরং এর জন্য প্রয়োজন ঈমান ও সৎ আমল।

২. যে কোন ধর্মের অনুসরণ করে তার বিধি-বিধান মেনে চললেই জান্নাতে যাওয়া ও জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে না, বরং ইসলামের অনুসরণ আবশ্যক, তবেই জান্নাত পাওয়া সম্ভব।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৮১-৮২ নং আয়াতের তাফসীর

ভাবার্থ এই যে, যার কর্ম সবই মন্দ, যার মধ্যে পুণ্যের লেশ মাত্র নেই সে দোযখী, পক্ষান্তরে যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের (সঃ) উপর ঈমান এনেছে এবং সুন্নাহ অনুযায়ী কাজ করেছে সে জান্নাতবাসী। যেমন অন্যস্থানে আছেঃ “না তোমাদের কোন অভিসন্ধি চলবে, না আহলে কিতাবের। যে ব্যক্তি খারাপ কাজ করবে তাকে তার প্রতিদান দেয়া হবে এবং তার জন্যে আল্লাহ ছাড়া কোন বন্ধু ও সাহায্যকারী পাবে না। আর মুমিন নর বা নারীর মধ্যে যারা ভাল কাজ করবে তারা বেহেশতে প্রবেশ করবে এবং বিন্দুমাত্র জুলুম করা হবে না।”

হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, এখানে মন্দ কাজের অর্থ কুফরী। অন্য এক বর্ণনায় আছে যে, এর অর্থ হচ্ছে শিক'। আবু অয়েল (রঃ), আকূল ‘আলিয়া (রঃ), মুজাহিদ (রঃ), ইকরামা (রঃ), হাসান বসরী (রঃ) কাতাদাহ (রঃ) এবং রাবী ‘বিন আনাস (রঃ) প্রভৃতি মনীষীগণ হতেও এটা বর্ণিত আছে। সুদ্দী (রঃ) বলেন যে, মন্দ কাজের অর্থ হচ্ছে কবিরা গুনাহ’ যা স্তর স্তর হয়ে অন্তরের অবস্থা খারাপ করে দেয়।

হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) বলেন যে, এর অর্থ শিরক, যা অন্তরকে অধিকার করে বসে। হযরত রাবী’ বিন খাসিম (রঃ)-এর মতে এর দ্বারা ঐ ব্যক্তিকে বুঝানো হয়েছে, যে পাপের অবস্থাতেই মরে এবং তাওবা করার সুযোগ লাভ করে না। মুসনাদ-ই-আহমাদে হাদীস আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “তোমরা পাপকে ছোট মনে করো না, এগুলো জমা হয়ে মানুষের ধ্বংসের কারণ হবে। তোমরা কি দেখনা যে, কতকগুলো লোক একটি করে খড়ি নিয়ে আসলে খড়ির একটি স্তুপ হয়ে যায়। অতঃপর ওতে আগুন ধরিয়ে দিলে ওটা বড় বড় জিনিসকে পুড়িয়ে ছারখার করে দেয়?` অতঃপর ঈমানদারগণের বর্ণনা প্রসঙ্গে আল্লাহ পাক বলেন যে, তোমাদের মধ্যে যারা কুফরীর মুকাবিলায় ঈমান আনে এবং অসৎ কাজের মুকাবিলায় সকার্য করে, তাদের জন্যে চিরস্থায়ী আরাম ও শান্তি। তারা শান্তিদায়ক বেহেশতের মধ্যে চিরকাল অবস্থান করবে। আল্লাহ প্রদত্ত শান্তি ও শাস্তি উভয়ই চিরস্থায়ী।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।