আল কুরআন


সূরা আল-বাকারা (আয়াত: 81)

সূরা আল-বাকারা (আয়াত: 81)



হরকত ছাড়া:

بلى من كسب سيئة وأحاطت به خطيئته فأولئك أصحاب النار هم فيها خالدون ﴿٨١﴾




হরকত সহ:

بَلٰی مَنْ کَسَبَ سَیِّئَۃً وَّ اَحَاطَتْ بِهٖ خَطِیْٓــَٔتُهٗ فَاُولٰٓئِکَ اَصْحٰبُ النَّارِ ۚ هُمْ فِیْهَا خٰلِدُوْنَ ﴿۸۱﴾




উচ্চারণ: বালা- মান কাছাবা ছাইয়িআতাওঁ ওয়া আহা-তাত বিহী খাতীআতুহূ ফাউলাইকা আসহা-বুন্না-রি হুম ফীহা-খা-লিদূ ন।




আল বায়ান: হাঁ, যে মন্দ উপার্জন করবে এবং তার পাপ তাকে বেষ্টন করে নেবে, তারাই আগুনের অধিবাসী। তারা সেখানে হবে স্থায়ী।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৮১. হ্যাঁ, যে পাপ উপার্জন করেছে এবং তার পাপরাশি তাকে পরিবেষ্টন করে রেখেছে তারাই অগ্নিবাসী, সেখানে তারা স্থায়ী হবে।




তাইসীরুল ক্বুরআন: তবে হাঁ, যারা পাপ কাজ করে এবং যাদের পাপরাশি তাদেরকে ঘিরে ফেলে তারাই জাহান্নামী, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে।




আহসানুল বায়ান: ৮১। অবশ্যই, যে ব্যক্তি পাপ করেছে এবং যার পাপরাশি তাকে পরিবেষ্টন করেছে, তারাই হবে জাহান্নামের অধিবাসী; তারা সেখানে চিরকাল থাকবে।



মুজিবুর রহমান: হ্যাঁ, যারা অনিষ্ট অর্জন করেছে এবং স্বীয় পাপের দ্বারা পরিবেষ্টিত হয়েছে তারাই অগ্নিবাসী, সেখানে তারা সদা অবস্থান করবে।



ফযলুর রহমান: বস্তুত যারা কোন পাপ করে এবং তাদের পাপ তাদেরকে পরিবেষ্টন করে রাখে তারা জাহান্নামের অধিবাসী হবে, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে।



মুহিউদ্দিন খান: হাঁ, যে ব্যক্তি পাপ অর্জন করেছে এবং সে পাপ তাকে পরিবেষ্টিত করে নিয়েছে, তারাই দোযখের অধিবাসী। তারা সেখানেই চিরকাল থাকবে।



জহুরুল হক: হাঁ, যে কেউ মন্দ অর্জন করে, আর তার পাপ তাকে ঘেরাও করে ফেলে, এরাই হচ্ছে আগুনের বাসিন্দা, তাতে তারা থাকবে দীর্ঘকাল।



Sahih International: Yes, whoever earns evil and his sin has encompassed him - those are the companions of the Fire; they will abide therein eternally.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৮১. হ্যাঁ, যে পাপ উপার্জন করেছে এবং তার পাপরাশি তাকে পরিবেষ্টন করে রেখেছে তারাই অগ্নিবাসী, সেখানে তারা স্থায়ী হবে।


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: ৮১। অবশ্যই, যে ব্যক্তি পাপ করেছে এবং যার পাপরাশি তাকে পরিবেষ্টন করেছে, তারাই হবে জাহান্নামের অধিবাসী; তারা সেখানে চিরকাল থাকবে।


তাফসীর:

-


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৮০ হতে ৮২ নং আয়াতের তাফসীর:



অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা ইয়াহূদীদের একটি দাবির কথা উল্লেখ করেছেন যে, তারা বলে আমরা মাত্র কয়েকদিন জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করব তারপর নাজাত পেয়ে যাব।



আল্লাহ তা‘আলা তাদের দাবির প্রতিবাদ করে বলছেন: হে নাবী আপনি বলে দিন তোমরা কি এ বিষয়ে আল্লাহ তা‘আলার কাছ থেকে কোন অঙ্গীকারনামা নিয়েছ? মূলত আল্লাহ তা‘আলার ব্যাপারে তারা মিথ্যা আরোপ করে।



আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন: ইয়াহূদীরা বলে, আমরা কেবল চল্লিশ দিন জাহান্নামে অবস্থান করব। কাতাদাহ (রহঃ) বলেন: ইয়াহূদীরা বলে আমরা কেবল যে চল্লিশ দিন গো-বৎসের পূজা করেছিলাম সে চল্লিশ দিন জাহান্নামে অবস্থান করব।



ইকরামার বর্ণনায় পাওয়া যায়, একদা ইয়াহূদীরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে বিবাদ করে। তারা বলল: আমরা কেবল চল্লিশ দিন জাহান্নামে অবস্থান করব। অতঃপর আমাদের স্থানে মুহাম্মাদ ও তাঁর সাথীরা যাবে। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের মাথার দিকে ইশারা করে বললেন: বরং তোমরাই জাহান্নামে আজীবন থাকবে। তোমাদের স্থলাভিষিক্ত আর কেউ হবে না। তখন এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয়। (ফাতহুল বারী ১০/২৫৭)



এরপর আল্লাহ তা‘আলা জানিয়ে দিলেন যে, মৌখিক দাবি যথেষ্ট নয় বরং যারা অপরাধ করবে তারা জাহান্নামী আর যারা সৎ আমল করবে তারা জান্নাতে যাবে। আর তথায় চিরস্থায়ী হবে।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. জান্নাত লাভ ও জাহান্নাম থেকে রক্ষা পাওয়ার কথা শুধু মুখে বললে হবে না বরং এর জন্য প্রয়োজন ঈমান ও সৎ আমল।

২. যে কোন ধর্মের অনুসরণ করে তার বিধি-বিধান মেনে চললেই জান্নাতে যাওয়া ও জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে না, বরং ইসলামের অনুসরণ আবশ্যক, তবেই জান্নাত পাওয়া সম্ভব।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৮১-৮২ নং আয়াতের তাফসীর

ভাবার্থ এই যে, যার কর্ম সবই মন্দ, যার মধ্যে পুণ্যের লেশ মাত্র নেই সে দোযখী, পক্ষান্তরে যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের (সঃ) উপর ঈমান এনেছে এবং সুন্নাহ অনুযায়ী কাজ করেছে সে জান্নাতবাসী। যেমন অন্যস্থানে আছেঃ “না তোমাদের কোন অভিসন্ধি চলবে, না আহলে কিতাবের। যে ব্যক্তি খারাপ কাজ করবে তাকে তার প্রতিদান দেয়া হবে এবং তার জন্যে আল্লাহ ছাড়া কোন বন্ধু ও সাহায্যকারী পাবে না। আর মুমিন নর বা নারীর মধ্যে যারা ভাল কাজ করবে তারা বেহেশতে প্রবেশ করবে এবং বিন্দুমাত্র জুলুম করা হবে না।”

হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, এখানে মন্দ কাজের অর্থ কুফরী। অন্য এক বর্ণনায় আছে যে, এর অর্থ হচ্ছে শিক'। আবু অয়েল (রঃ), আকূল ‘আলিয়া (রঃ), মুজাহিদ (রঃ), ইকরামা (রঃ), হাসান বসরী (রঃ) কাতাদাহ (রঃ) এবং রাবী ‘বিন আনাস (রঃ) প্রভৃতি মনীষীগণ হতেও এটা বর্ণিত আছে। সুদ্দী (রঃ) বলেন যে, মন্দ কাজের অর্থ হচ্ছে কবিরা গুনাহ’ যা স্তর স্তর হয়ে অন্তরের অবস্থা খারাপ করে দেয়।

হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) বলেন যে, এর অর্থ শিরক, যা অন্তরকে অধিকার করে বসে। হযরত রাবী’ বিন খাসিম (রঃ)-এর মতে এর দ্বারা ঐ ব্যক্তিকে বুঝানো হয়েছে, যে পাপের অবস্থাতেই মরে এবং তাওবা করার সুযোগ লাভ করে না। মুসনাদ-ই-আহমাদে হাদীস আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “তোমরা পাপকে ছোট মনে করো না, এগুলো জমা হয়ে মানুষের ধ্বংসের কারণ হবে। তোমরা কি দেখনা যে, কতকগুলো লোক একটি করে খড়ি নিয়ে আসলে খড়ির একটি স্তুপ হয়ে যায়। অতঃপর ওতে আগুন ধরিয়ে দিলে ওটা বড় বড় জিনিসকে পুড়িয়ে ছারখার করে দেয়?` অতঃপর ঈমানদারগণের বর্ণনা প্রসঙ্গে আল্লাহ পাক বলেন যে, তোমাদের মধ্যে যারা কুফরীর মুকাবিলায় ঈমান আনে এবং অসৎ কাজের মুকাবিলায় সকার্য করে, তাদের জন্যে চিরস্থায়ী আরাম ও শান্তি। তারা শান্তিদায়ক বেহেশতের মধ্যে চিরকাল অবস্থান করবে। আল্লাহ প্রদত্ত শান্তি ও শাস্তি উভয়ই চিরস্থায়ী।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।