সূরা আল-আনকাবূত (আয়াত: 7)
হরকত ছাড়া:
والذين آمنوا وعملوا الصالحات لنكفرن عنهم سيئاتهم ولنجزينهم أحسن الذي كانوا يعملون ﴿٧﴾
হরকত সহ:
وَ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَ عَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ لَنُکَفِّرَنَّ عَنْهُمْ سَیِّاٰتِهِمْ وَ لَنَجْزِیَنَّهُمْ اَحْسَنَ الَّذِیْ کَانُوْا یَعْمَلُوْنَ ﴿۷﴾
উচ্চারণ: ওয়াল্লাযীনা আ-মানূওয়া ‘আমিলুসসা-লিহা-তি লানুকাফফিরান্না ‘আনহুম ছাইয়িআ-তিহিম ওয়ালানাজযিয়ান্নাহুম আহছানাল্লাযী কা-নূইয়া‘মালূন।
আল বায়ান: আর যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, অবশ্যই আমি তাদের থেকে তাদের পাপসমূহ দূর করে দেব এবং আমি অবশ্যই তাদের সেই উত্তম আমলের প্রতিদান দেব, যা তারা করত।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৭. আর যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে আমরা অবশ্যই তাদের থেকে তাদের মন্দকাজগুলো মিটিয়ে দেব এবং আমরা অবশ্যই তাদেরকে তারা যে উত্তম কাজ করত, তার প্রতিদান দেব।(১)
তাইসীরুল ক্বুরআন: আর যারা ঈমান আনে আর সৎ কাজ করে, আমি অবশ্য অবশ্যই তাদের মন্দ কাজগুলোকে মুছে দেব, আর তাদেরকে অবশ্য অবশ্যই প্রতিদান দেব তাদের উৎকৃষ্ট কাজগুলোর অনুপাতে যা তারা করত।
আহসানুল বায়ান: (৭) যারা বিশ্বাস করে ও সৎকাজ করে, আমি নিশ্চয়ই তাদের দোষত্রুটিসমূহকে মার্জনা করে দেব এবং তাদেরকে তাদের কর্মের উত্তম ফলদান করব। [1]
মুজিবুর রহমান: আর যারা ঈমান আনে ও সৎ কাজ করে, নিশ্চয়ই আমি তাদের মন্দ কর্মগুলি মিটিয়ে দিব এবং তাদের কাজের উত্তম ফল দান করব।
ফযলুর রহমান: যারা ঈমান আনে ও সৎকাজ করে আমি তাদের অপরাধসমূহ মার্জনা করে দেব এবং তারা যে (ভাল) কাজ করত তার উৎকৃষ্টতম প্রতিদান দেব।
মুহিউদ্দিন খান: আর যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে, আমি অবশ্যই তাদের মন্দ কাজ গুলো মিটিয়ে দেব এবং তাদেরকে কর্মের উৎকৃষ্টতর প্রতিদান দেব।
জহুরুল হক: আর যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে আমরা তাদের থেকে তাদের দোষত্রুটিগুলো অবশ্যই দূর করে দেব, আর তারা যা করত সেজন্য উত্তমভাবে আমরা অবশ্যই তাদের প্রতিদান দেব।
Sahih International: And those who believe and do righteous deeds - We will surely remove from them their misdeeds and will surely reward them according to the best of what they used to do.
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৭. আর যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে আমরা অবশ্যই তাদের থেকে তাদের মন্দকাজগুলো মিটিয়ে দেব এবং আমরা অবশ্যই তাদেরকে তারা যে উত্তম কাজ করত, তার প্রতিদান দেব।(১)
তাফসীর:
(১) আয়াতে ঈমান ও সৎকাজের দু'টি ফল। বৰ্ণনা করা হয়েছে, এক: মানুষের দুস্কৃতি ও পাপগুলো তার থেকে দূর করে দেয়া হবে। দুই: তার সর্বোত্তম কাজসমূহের সর্বোত্তম পুরষ্কার তাকে দেয়া হবে। পাপ ও দুস্কৃতি দূর করে দেয়ার অর্থ সৎকাজের কারণে গোনাহ ক্ষমা পেয়ে যাওয়া। কারণ সৎ কাজ সাধারণ গোনাহ মিটিয়ে দেয়। [জালালাইন; সা’দী] যেমন হাদীসে এসেছে, ঈমান আনার আগে মানুষ যতই পাপ করে থাকুক না কেন ঈমান আনার সাথে সাথেই তা সব মাফ হয়ে যাবে। [দেখুন: মুসলিম: ১২১] আর সর্বোত্তম কাজসমূহের সর্বোত্তম পুরস্কার দেয়ারও দু'টি অর্থ হয়। এক. মানুষের সৎকাজগুলোর মধ্যে যেটি হবে সবচেয়ে ভালো সৎকাজ, তাকে সামনে রেখে তার জন্য প্রতিদান ও পুরষ্কার নির্ধারণ করা হবে। যেমন মানুষের সৎকাজের মধ্যে রয়েছে ওয়াজিব-ফরয ও মুস্তাহাব কাজ। এ দু'টি অনুসারে তাকে প্রতিদান দেয়া হবে। কারণ, তার আমলের কিছু আমল আছে মুবাহ বা জয়েয আমল, সেটা অনুসারে নয়। [সা’দী] দুই. মানুষ তার কার্যাবলীর দৃষ্টিতে যতটা পুরষ্কারের অধিকারী হবে তার চেয়ে বেশী ভালো পুরষ্কার তাকে দেয়া হবে। [ফাতহুল কাদীর] একথাটি কুরআনের অন্যান্য স্থানেও বলা হয়েছে। বলা হয়েছেঃ “যে ব্যক্তি সৎকাজ নিয়ে আসবে তাকে তার থেকে দশগুণ বেশী দেয়া হবে।” [সূরা আল-আন’আম: ১৬০] আরো বলা হয়েছে: “যে ব্যক্তি সৎকাজ নিয়ে আসবে তাকে তার চেয়ে উত্তম প্রতিদান দেয়া হবে।” [সূরা আল কাসাস: ৮৪] অন্যত্র বলা হয়েছে, “আল্লাহ তো কণামাত্রও জুলুম করেন না এবং সৎকাজ হলে তাকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেন।” [সূরা আন-নিসা: ৪০]
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৭) যারা বিশ্বাস করে ও সৎকাজ করে, আমি নিশ্চয়ই তাদের দোষত্রুটিসমূহকে মার্জনা করে দেব এবং তাদেরকে তাদের কর্মের উত্তম ফলদান করব। [1]
তাফসীর:
[1] মহান আল্লাহ সমস্ত সৃষ্টি হতে অমুখাপেক্ষী। কিন্তু তিনি কেবল কৃপা ও অনুগ্রহ করে ঈমানদারদের উত্তম প্রতিদান দেবেন এবং এক একটি পুণ্যের কয়েক গুণ বেশি সওয়াব দান করবেন।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৫-৭ নং আয়াতের তাফসীর:
(لِقَا۬ءَ اللّٰهِ) ‘আল্লাহ তা‘আলার সাক্ষাত’ অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলার ভালবাসা, আল্লাহ তা‘আলার সন্তুষ্টি ও সৎ বান্দা হয়ে যে আল্লাহ তা‘আলার সাক্ষাত কামনা করে সে জেনে রাখুক, আল্লাহ তা‘আলার সাথে সাক্ষাতের নির্দিষ্ট সময় অবশ্যই আসবে এবং তা খুবই নিকটে। কেননা
كُلُّ مَا آتٍ فَهُوَ قَرِيْبٌ
যা অবশ্যই হবে তা খুবই নিকটে। তাই আল্লাহ তা‘আলার সন্তুষ্টির জন্য যথাসম্ভব সকল অসৎ আমল থেকে বিরত থেকে সৎ আমল ও নেকীর কাজ চালিয়ে যেতে থাক।
جَاهَدَ শব্দের অর্থন প্রচেষ্টা করা, এখানে ঈমান আনা থেকে শুরু করে যাবতীয় সৎ আমল করা ও অসৎ আমল থেকে বিরত থাকা এমনকি আল্লাহ তা‘আলার রাস্তায় কাফিরদের বিরুদ্ধে জিহাদ করা পর্যন্ত সবই শামিল। ঈমান আনতেও প্রচেষ্টা করতে হয়, কেননা শয়তান তাতে কঠিনভাবে বাধা দেয়। কারণ একজন ব্যক্তি ঈমান আনলে জাহান্নাম থেকে রক্ষা পাবে। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(وَالَّذِيْنَ جَاهَدُوْا فِيْنَا لَنَهْدِيَنَّهُمْ سُبُلَنَا ط وَإِنَّ اللّٰهَ لَمَعَ الْمُحْسِنِيْنَ)
“যারা আমার উদ্দেশ্যে সংগ্রাম করে আমি তাদেরকে অবশ্যই আমার পথে পরিচালিত করব। আল্লাহ অবশ্যই সৎ কর্মপরায়ণদের সঙ্গে থাকেন।” (সূরা আনকাবুত ২৯:৬৯)
যে ব্যক্তি ঈমান ও সৎ আমলের পথে প্রচেষ্টা করল সে তার নিজের কল্যাণের জন্যই করল। ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা বিশ্বজগত হতে অমুখাপেক্ষী।’ কে সৎ আমল করল আর কে অসৎ আমল করল সে জন্য তাঁর কিছু আসে যায় না। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(مَنْ عَمِلَ صَالِحًا فَلِنَفْسِه۪ ج وَمَنْ أَسَا۬ءَ فَعَلَيْهَا ز ثُمَّ إِلٰي رَبِّكُمْ تُرْجَعُوْنَ)
“যে সৎ আমল করে সে তার নিজের (কল্যাণের) জন্যই তা করে এবং কেউ মন্দ কর্ম করলে তার প্রতিফল তার ওপরই বর্তাবে, অতঃপর তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের নিকট প্রত্যাবর্তিত হবে।” (সূরা জাসিয়া ৪৫:১৫) যেহেতু আল্লাহ সৎ আমল ও সৎ আমলকারীদেরকে ভালবাসেন সেহেতু তিনি তাদের দ্বারা যে সকল পাপ কাজ হয়ে গেছে তা মিটিয়ে দেবেন এবং তাদের কর্মের উত্তম প্রতিদান দেবেন।
অতএব প্রত্যেক ব্যক্তি দুনিয়ার জীবনে যা আমল করবে তার প্রতিদান সে পাবে ভাল বা মন্দ হোক। তবে যারা সর্বদা ভাল আমল করে তাদের দ্বারা যদি কোন অন্যায় কাজ হয়ে যায় আর তৎক্ষণাৎ যদি তারা তাদের ভুলের কথা স্বীকার করে তাওবা করে তাহলে আল্লাহ তা‘আলা তাদের মন্দ আমলগুলোকে নেকী দ্বারা পরিবর্তন করে দেবেন। মূলত তাদের কর্মফল কখনো নষ্ট করা হবে না। বরং তারা আল্লাহ তা‘আলার অনুগ্রহে আরো দ্বিগুণ পাবে।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. মানুষ যা আমল করে তা আমলকারীর ওপর বর্তাবে, ভাল করলে ভাল আর মন্দ করলে মন্দ।
২. ঈমানদার সৎ ব্যক্তিদের দ্বারা কোন পাপ কাজ হয়ে গেলে তা থেকে তাওবা করলে আল্লাহ তা‘আলা ক্ষমা করে দেন এমনকি আরো উত্তম প্রতিদান দেন।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৫-৭ নং আয়াতের তাফসীর
যাদের আখিরাতে বিনিময় লাভের আশা রয়েছে এবং ওটাকে সামনে রেখে তারা পুণ্যের কাজ করে থাকে তাদের আশা পূর্ণ হবে। তারা এমন পুরস্কার লাভ করবে যা কখনো শেষ হবার নয়। আল্লাহ তা'আলা প্রার্থনা শ্রবণকারী। তিনি জগতসমূহের সব খবরই রাখেন। তার নির্ধারিত সময় টলবার নয়।
এরপর মহান আল্লাহ বলেনঃ যে কেউ ভাল আমল করে সে নিজের লাভের জন্যেই তা করে। আল্লাহ তাআলা মানুষের আমলের মুখাপেক্ষী নন। যদি সমস্ত মানুষ আল্লাহভীরু হয়ে যায় তবুও তাঁর সাম্রাজ্য সামান্য পরিমাণও বৃদ্ধি পাবে ।
হযরত হাসান (রঃ) বলেন যে, শুধু তরবারী চালনা করার নামই জিহাদ নয়। মানুষ পুণ্যময় কাজের চেষ্টায় লেগে থাকবে এটাও এক প্রকারের জিহাদ। মানুষ ভাল কাজ করলে তা আল্লাহ তাআলার কোন উপকারে আসবে না, তবুও এটা তার বড় মেহেরবানী যে, তিনি মানুষকে তার ভাল কাজের পুরস্কার প্রদান করে থাকেন। এই কারণে তিনি তার গুনাহ মাফ করে দেন। ক্ষুদ্র হতে ক্ষুদ্রতম পুণ্যেরও তিনি মর্যাদা দিয়ে থাকেন এবং এর জন্যে বড় রকমের পুরস্কার প্রদান করেন। একটি পুণ্যের বিনিময়ে তিনি সাতশগুণ পর্যন্ত প্রতিদান দিয়ে থাকেন।
আর পাপকে সম্পূর্ণরূপে ক্ষমা করে দেন। অথবা ওর সমপরিমাণ শাস্তি প্রদান করেন। তিনি যুলুম হতে সম্পূর্ণ পবিত্র। তিনি পুণ্যকে বাড়িয়ে দেন এবং নিজের নিকট হতে বিরাট প্রতিদান প্রদান করেন। তাই মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ যারা ঈমান আনে ও সত্যার্যাবলী সম্পাদন করে, আমি নিশ্চয়ই তাদের মন্দ কর্মগুলো মিটিয়ে দিবো এবং তাদের কর্মের উত্তম ফল দান করবো।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।