সূরা আল-কাসাস (আয়াত: 83)
হরকত ছাড়া:
تلك الدار الآخرة نجعلها للذين لا يريدون علوا في الأرض ولا فسادا والعاقبة للمتقين ﴿٨٣﴾
হরকত সহ:
تِلْکَ الدَّارُ الْاٰخِرَۃُ نَجْعَلُهَا لِلَّذِیْنَ لَا یُرِیْدُوْنَ عُلُوًّا فِی الْاَرْضِ وَ لَا فَسَادًا ؕ وَ الْعَاقِبَۃُ لِلْمُتَّقِیْنَ ﴿۸۳﴾
উচ্চারণ: তিলকাদ্দা-রুল আ-খিরাতুনাজ‘আলুহা-লিল্লাযীনা লা-ইউরীদূ না ‘উলুওওয়ান ফিল আরদি ওয়ালা-ফাছা-দাওঁ ওয়াল ‘আ-কিবাতুলিলমুত্তাকীন।
আল বায়ান: এই হচ্ছে আখিরাতের নিবাস, যা আমি তাদের জন্য নির্ধারিত করি, যারা যমীনে ঔদ্ধত্য দেখাতে চায় না এবং ফাসাদও চায় না। আর শুভ পরিণাম মুত্তাকীদের জন্য।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৮৩. এটা আখেরাতের সে আবাস যা আমরা নির্ধারিত করি তাদের জন্য যারা যমীনে উদ্ধত হতে ও বিপর্যয় সৃষ্টি করতে চায় না।(১) আর শুভ পরিণাম মুত্তাকীদের জন্য।(২)
তাইসীরুল ক্বুরআন: সেই আখিরাতের ঘর আমি তাদের জন্য করেছি যারা পৃথিবীর বুকে ঔদ্ধত্য প্রকাশ ও বিপর্যয় সৃষ্টি করতে চায় না। শুভ পরিণাম আল্লাহভীরুদের জন্য।
আহসানুল বায়ান: (৮৩) এ পরলোকের আবাস; যা আমি নির্ধারিত করি তাদেরই জন্য যারা এ পৃথিবীতে উদ্ধত হতে ও বিপর্যয় সৃষ্টি করতে চায় না। সাবধানীদের জন্য শুভ পরিণাম। [1]
মুজিবুর রহমান: এটা আখিরাতের সেই আবাস যা আমি নির্ধারিত করি তাদের জন্য যারা এই পৃথিবীতে ঔদ্ধতা প্রকাশ করতে ও বিপর্যয় সৃষ্টি করতে চায়না। শুভ পরিণাম মুত্তাকীদের জন্য।
ফযলুর রহমান: সেই পরকালের আবাস (জান্নাত) আমি তাদের জন্যই বরাদ্দ করব যারা পৃথিবীতে ঔদ্ধত্য দেখাতে কিংবা ফেসাদ সৃষ্টি করতে চায় না। আর (ভাল) পরিণাম মোত্তাকীদের জন্য।
মুহিউদ্দিন খান: এই পরকাল আমি তাদের জন্যে নির্ধারিত করি, যারা দুনিয়ার বুকে ঔদ্ধত্য প্রকাশ করতে ও অনর্থ সৃষ্টি করতে চায় না। খোদাভীরুদের জন্যে শুভ পরিণাম।
জহুরুল হক: এই পরলোকের আবাস, -- আমরা এটি নির্ধারিত করেছি তাদের জন্য যারা পৃথিবীতে বাড়াবাড়ি করতে চায় না এবং ফেসাদও বাধায় না। আর শুভ-পরিণাম হচ্ছে ধর্মপরায়ণদের জন্য।
Sahih International: That home of the Hereafter We assign to those who do not desire exaltedness upon the earth or corruption. And the [best] outcome is for the righteous.
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৮৩. এটা আখেরাতের সে আবাস যা আমরা নির্ধারিত করি তাদের জন্য যারা যমীনে উদ্ধত হতে ও বিপর্যয় সৃষ্টি করতে চায় না।(১) আর শুভ পরিণাম মুত্তাকীদের জন্য।(২)
তাফসীর:
(১) এ আয়াতে আখেরাতের মুক্তি ও সাফল্য শুধু তাদের জন্য নির্ধারিত বলা হয়েছে, যারা যমীনে ঔদ্ধত্য ও অনার্থের ইচ্ছা করে না। علو শব্দের অর্থ অহংকার তথা নিজেকে অন্যের চাইতে বড় মনে করা ও অন্যকে ঘৃণিত ও হেয় মনে করা। فساد বলে, অপরের উপর যুলুম বোঝানো হয়েছে। কোন কোন তাফসীরকারক বলেন, গোনাহ মাত্ৰই যমীনে ফাসাদের শামিল। কারণ, গোনাহের কুফলস্বরূপ বিশ্বময় বরকত হ্রাস পায়। এই আয়াত থেকে জানা গেল যে, যারা অহংকার, যুলুম অথবা গোনাহের ইচ্ছা করে, পরকালে তাদের অংশ নেই।
আয়াতে ঔদ্ধত্য ও ফাসাদের ইচ্ছার কারণে আখেরাত থেকে বঞ্চিত হওয়ার বিষয় থেকে জানা গেল যে, কোন গোনাহের বদ্ধপরিকতার পর্যায়ে দৃঢ় সংকল্পও গোনাহ। তবে পরে যদি আল্লাহর ভয়ে সংকল্প পরিত্যাগ করে, তবে গোনাহের পরিবর্তে তার আমলনামায় সওয়াব লিখা হয়। পক্ষান্তরে যদি কোন ইচ্ছা-বহির্ভূত কারণে সে গোনাহ করতে সক্ষম না হয়; কিন্তু চেষ্টা ষোলআনাই করে, তবে গোনাহ না করলেও তার আমলনামায় গোনাহ লিখা হবে।
(২) এর সারমর্ম এই যে, আখেরাতের মুক্তি ও সাফল্যের জন্য দুটি বিষয় জরুরী। এক. ঔদ্ধত্য ও অনর্থ সৃষ্টি থেকে বেঁচে থাকা এবং দুই. তাকওয়া অবলম্বন করা। আখেরাতের মুক্তির জন্য শুধু ঔদ্ধত্য ও অনর্থ থেকে মুক্ত থাকলেই চলবে না। সাথে সাথে তাকওয়ার অধিকারীও হতে হবে। ফিরআউন দুনিয়ার বুকে ঔদ্ধত্য, অনর্থ ও অহংকার করেছিল যা এ সূরার প্রথমে উল্লেখ করা হয়েছিল, অনুরূপভাবে কারূনও চরম ঔদ্ধত্যপূর্ণ কাজ করেছিল ফলে আখেরাতে সে কোন কল্যাণ লাভ করবে না। পক্ষান্তরে মূসা ও অপরাপর নবী-রাসূল ও তাদের অনুসারীগণ বিনীত ও নিরহংকার তাকওয়াভিত্তিক জীবন-যাপন করেছেন সুতরাং তাদের জন্যই আখেরাতের যাবতীয় আবাসভূমি অপেক্ষা করছে।
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৮৩) এ পরলোকের আবাস; যা আমি নির্ধারিত করি তাদেরই জন্য যারা এ পৃথিবীতে উদ্ধত হতে ও বিপর্যয় সৃষ্টি করতে চায় না। সাবধানীদের জন্য শুভ পরিণাম। [1]
তাফসীর:
[1] عُلُوّ এর অর্থ যুলুম ও ঔদ্ধত্য করা, নিজেকে অন্যের চেয়ে বড় মনে করা, গর্ব ও অহংকার করা। আর فَسَاد এর অর্থঃ অন্যায়ভাবে অন্যের মাল নিয়ে নেওয়া, পাপাচারে লিপ্ত হওয়া। এই দু’টি কারণে পৃথিবীতে ফাসাদ ও বিপর্যয় সৃষ্টি হয়। আর যারা পরহেযগার ও সাবধানী তাদের কর্ম ও চরিত্র উক্ত সকল পাপ হতে পবিত্র থাকে। তাদের চরিত্র অহংকারের পরিবর্তে বিনয় ও পাপাচারের বদলে আল্লাহর আনুগত্যে পরিপূর্ণ থাকে। আর আখেরাতের ঘরঃ অর্থাৎ, জান্নাত ও শুভ পরিণাম তাদেরই ভাগ্যে জুটবে।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৮৩-৮৪ নং আয়াতের তাফসীর:
এখানে বলা হচ্ছে, যারা দুনিয়াতে অহঙ্কার, ঔদ্ধত্য ও বিপর্যয় সৃষ্টি করে বেড়ায় না বরং ঈমানের সাথে ভাল কাজ করে তাদের জন্য জান্নাত প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে। আর যারা এর ব্যতিক্রম করবে, সমাজে বিশৃংখলা সৃষ্টি করবে, অহঙ্কার করে বেড়াবে, ঈমান ও আমলের পরওয়া করবে না তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নাম।
এরপর আল্লাহ তা‘আলা বান্দাদের প্রতি তাঁর অনুগ্রহের বর্ণনা দিচ্ছেন। কেউ একটি ভাল আমল করলে তাকে তার উপযুক্ত বিনিময়ের চেয়ে আরো উত্তম প্রতিদান দেবেন। কিন্তু খারাপ আমল করলে খারাপের যতটুকু পরিণাম ততটুকুই দেবেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(مَنْ جَا۬ءَ بِالْحَسَنَةِ فَلَه۫ عَشْرُ أَمْثَالِهَا ج وَمَنْ جَا۬ءَ بِالسَّيِّئَةِ فَلَا يُجْزٰٓي إِلَّا مِثْلَهَا وَهُمْ لَا يُظْلَمُوْنَ)
“কেউ কোন সৎ কাজ করলে সে তার প্রতিদান দশ গুণ পাবে এবং কেউ কোন অসৎ কাজ করলে তাকে শুধু তারই প্রতিফল দেয়া হবে, আর তাদের প্রতি জুলুম করা হবে না।” (সূরা আন‘আম ৬:১৬০)
অতএব আমাদের উচিত নম্র-ভদ্রভাবে মানুষের সাথে ব্যবহার করা এবং গর্ব-অহঙ্কার বর্জন করা। কেননা এগুলো বর্জন না করা হলে জান্নাতে প্রবেশ করা যাবে না।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. সৎ আমল জান্নাতে যাবার মাধ্যম আর অসৎ আমল জাহান্নামের দিকে নিয়ে যায়।
২. বান্দার প্রতি আল্লাহ তা‘আলার করুণা যে, তিনি সৎ আমলের প্রতিদান বহুগুণে বাড়িয়ে দেন।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৮৩-৮৪ নং আয়াতের তাফসীর
আল্লাহ তা'আলা খবর দিচ্ছেন যে, জান্নাত ও আখিরাতের নিয়ামত শুধু তারাই লাভ করবে যাদের অন্তর সদা আল্লাহর ভয়ে ভীত থাকে এবং যারা পার্থিব জীবন বিনয়, নম্রতা ও উত্তম চরিত্রের সাথে অতিবাহিত করে এবং নিজেকে অন্যের চেয়ে বড় ও উচ্চ মনে করে না। যারা ভূ-পৃষ্ঠে বিপর্যয় ও অশান্তি সৃষ্টি করে না। যারা কারো সম্পদ অন্যায়ভাবে আত্মসাৎ করে না এবং পৃথিবীতে আল্লাহর অবাধ্যাচরণ করে না।
হযরত আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, যে ব্যক্তি এটা পছন্দ করে যে, তার জুতার চামড়া তার সঙ্গীর জুতার চামড়া অপেক্ষা ভালো হোক সে-ই এই আয়াতের অন্তর্ভুক্ত। এর দ্বারা উদ্দেশ্যে এই যে, যখন সে গর্ব ও অহংকার করবে। আর যদি উদ্দেশ্য শুধু সৌন্দর্য প্রকাশ হয় তবে তাতে কোন দোষ নেই। যেমন সহীহ হাদীসে রয়েছে যে, একটি লোক বলেঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! আমি তো এতে সন্তুষ্ট থাকি যে, আমার চাদর ভাল হালে, আমার জুতা সুন্দর হালে, এটাও কি অহংকার হিসেবে গণ্য হবে?” রাসূলুল্লাহ (সঃ) উত্তরে বলেনঃ “না, না। এটা তো সৌন্দর্য। আর আল্লাহ তাআলা সুন্দর এবং তিনি সৌন্দর্যকে পছন্দ করে থাকেন।
এরপর আল্লাহ পাক বলেনঃ যে কেউ সৎ কর্ম করে সে তার কর্ম অপেক্ষা উত্তম ফল পাবে। পক্ষান্তরে যে মন্দ কর্ম করে সে শাস্তি পাবে শুধু তার কর্ম অনুপাতে। অন্য আয়াতে রয়েছেঃ (আরবি)
অর্থাৎ “যে মন্দ কাজ করবে তাকে উল্টোমুখে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করা হবে।” (২৭:৯০) এরপরে বলেনঃ (আরবি) অর্থাৎ “তোমাদেরকে তারই প্রতিফল দেয়া হবে যা তোমরা আমল করতে।” (২৭:৯০) আর এটা হলো অতিরিক্ত প্রদান ও ন্যায় বিচারের স্থান।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।