আল কুরআন


সূরা আল-কাসাস (আয়াত: 84)

সূরা আল-কাসাস (আয়াত: 84)



হরকত ছাড়া:

من جاء بالحسنة فله خير منها ومن جاء بالسيئة فلا يجزى الذين عملوا السيئات إلا ما كانوا يعملون ﴿٨٤﴾




হরকত সহ:

مَنْ جَآءَ بِالْحَسَنَۃِ فَلَهٗ خَیْرٌ مِّنْهَا ۚ وَ مَنْ جَآءَ بِالسَّیِّئَۃِ فَلَا یُجْزَی الَّذِیْنَ عَمِلُوا السَّیِّاٰتِ اِلَّا مَا کَانُوْا یَعْمَلُوْنَ ﴿۸۴﴾




উচ্চারণ: মান জাআ বিল হাছানাতি ফালাহূখাইরুম মিনহা- ওয়া মান জাআ বিছছাইয়িআতি ফালা-ইউজযাল্লাযীনা ‘আমিলুছ ছাইয়িআ-তি ইল্লা-মা-কা-নূইয়া‘মালূন।




আল বায়ান: কেউ পূণ্য নিয়ে আসলে তার জন্য থাকবে তা থেকে উত্তম প্রতিদান। আর কেউ পাপ নিয়ে আসলে তবে যারা মন্দকর্ম করেছে তাদের শুধু তারই প্রতিদান দেওয়া হবে যা তারা করেছে।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৮৪. যে কেউ সৎকাজ নিয়ে উপস্থিত হয় তার জন্য রয়েছে তার চেয়েও উত্তম ফল, আর যে মন্দকাজ নিয়ে উপস্থিত হয় তবে যারা মন্দকাজ করে তাদেরকে শুধু তারা যা করেছে তারই শাস্তি দেয়া হবে।




তাইসীরুল ক্বুরআন: যে কেউ সৎকর্ম নিয়ে হাজির হবে তার জন্য আছে আরো উত্তম প্রতিদান। আর যে মন্দ কাজ নিয়ে হাজির হবে তাহলে যারা মন্দকর্ম করে তাদেরকে তাদের কাজ অনুপাতেই শাস্তি দেয়া হবে।




আহসানুল বায়ান: (৮৪) যে কেউ সৎকাজ করে, সে তার কর্ম অপেক্ষা অধিক ফল পাবে [1] আর যে মন্দ কাজ করে, সে তো কেবল তার কর্মের অনুপাতে শাস্তি পাবে। [2]



মুজিবুর রহমান: কেহ যদি সৎ কাজ করে তাহলে সে তার কাজ অপেক্ষা উত্তম ফল পাবে, আর যে মন্দ কাজ করে সেতো শাস্তি পাবে শুধু তার কাজ অনুপাতে।



ফযলুর রহমান: যারা ভাল কাজ করে তারা তার চেয়েও ভাল ফল (পুরস্কার) পাবে; আর যারা খারাপ কাজ করে তারা যা করেছে কেবল তারই ফল (শাস্তি) পাবে।



মুহিউদ্দিন খান: যে সৎকর্ম নিয়ে আসবে, সে তদপেক্ষা উত্তম ফল পাবে এবং যে মন্দ কর্ম নিয়ে আসবে, এরূপ মন্দ কর্মীরা সে মন্দ কর্ম পরিমানেই প্রতিফল পাবে।



জহুরুল হক: যে কেউ ভাল নিয়ে আসে তার জন্য তবে এর চেয়েও ভাল রয়েছে, আর যে মন্দ নিয়ে আসে -- তাহলে যারা মন্দ কাজ করে তাদের প্রতিদান দেওয়া হবে না তারা যা করত তা ব্যতীত।



Sahih International: Whoever comes [on the Day of Judgement] with a good deed will have better than it; and whoever comes with an evil deed - then those who did evil deeds will not be recompensed except [as much as] what they used to do.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৮৪. যে কেউ সৎকাজ নিয়ে উপস্থিত হয় তার জন্য রয়েছে তার চেয়েও উত্তম ফল, আর যে মন্দকাজ নিয়ে উপস্থিত হয় তবে যারা মন্দকাজ করে তাদেরকে শুধু তারা যা করেছে তারই শাস্তি দেয়া হবে।


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৮৪) যে কেউ সৎকাজ করে, সে তার কর্ম অপেক্ষা অধিক ফল পাবে [1] আর যে মন্দ কাজ করে, সে তো কেবল তার কর্মের অনুপাতে শাস্তি পাবে। [2]


তাফসীর:

[1] প্রত্যেক নেকীর বদলা কম পক্ষে দশগুণ পাওয়া যাবে। আর আল্লাহ যার জন্য চাইবেন, তাকে এর চেয়ে অনেক অনেকগুণ বেশি দান করবেন।

[2] পুণ্যের বদলা বেশি দেওয়া হবে, কিন্তু পাপের বদলা পাপের সমানই দেওয়া হবে। অর্থাৎ, পুণ্যের প্রতিদানে আল্লাহর অনুগ্রহ ও কৃপা এবং পাপের প্রতিফল দানে তাঁর ন্যায় বিচারের প্রকাশ ঘটবে।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৮৩-৮৪ নং আয়াতের তাফসীর:



এখানে বলা হচ্ছে, যারা দুনিয়াতে অহঙ্কার, ঔদ্ধত্য ও বিপর্যয় সৃষ্টি করে বেড়ায় না বরং ঈমানের সাথে ভাল কাজ করে তাদের জন্য জান্নাত প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে। আর যারা এর ব্যতিক্রম করবে, সমাজে বিশৃংখলা সৃষ্টি করবে, অহঙ্কার করে বেড়াবে, ঈমান ও আমলের পরওয়া করবে না তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নাম।



এরপর আল্লাহ তা‘আলা বান্দাদের প্রতি তাঁর অনুগ্রহের বর্ণনা দিচ্ছেন। কেউ একটি ভাল আমল করলে তাকে তার উপযুক্ত বিনিময়ের চেয়ে আরো উত্তম প্রতিদান দেবেন। কিন্তু খারাপ আমল করলে খারাপের যতটুকু পরিণাম ততটুকুই দেবেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(مَنْ جَا۬ءَ بِالْحَسَنَةِ فَلَه۫ عَشْرُ أَمْثَالِهَا ج وَمَنْ جَا۬ءَ بِالسَّيِّئَةِ فَلَا يُجْزٰٓي إِلَّا مِثْلَهَا وَهُمْ لَا يُظْلَمُوْنَ)



“কেউ কোন সৎ কাজ করলে সে তার প্রতিদান দশ গুণ পাবে এবং কেউ কোন অসৎ কাজ করলে তাকে শুধু তারই প্রতিফল দেয়া হবে, আর তাদের প্রতি জুলুম করা হবে না।” (সূরা আন‘আম ৬:১৬০)



অতএব আমাদের উচিত নম্র-ভদ্রভাবে মানুষের সাথে ব্যবহার করা এবং গর্ব-অহঙ্কার বর্জন করা। কেননা এগুলো বর্জন না করা হলে জান্নাতে প্রবেশ করা যাবে না।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. সৎ আমল জান্নাতে যাবার মাধ্যম আর অসৎ আমল জাহান্নামের দিকে নিয়ে যায়।

২. বান্দার প্রতি আল্লাহ তা‘আলার করুণা যে, তিনি সৎ আমলের প্রতিদান বহুগুণে বাড়িয়ে দেন।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৮৩-৮৪ নং আয়াতের তাফসীর

আল্লাহ তা'আলা খবর দিচ্ছেন যে, জান্নাত ও আখিরাতের নিয়ামত শুধু তারাই লাভ করবে যাদের অন্তর সদা আল্লাহর ভয়ে ভীত থাকে এবং যারা পার্থিব জীবন বিনয়, নম্রতা ও উত্তম চরিত্রের সাথে অতিবাহিত করে এবং নিজেকে অন্যের চেয়ে বড় ও উচ্চ মনে করে না। যারা ভূ-পৃষ্ঠে বিপর্যয় ও অশান্তি সৃষ্টি করে না। যারা কারো সম্পদ অন্যায়ভাবে আত্মসাৎ করে না এবং পৃথিবীতে আল্লাহর অবাধ্যাচরণ করে না।

হযরত আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, যে ব্যক্তি এটা পছন্দ করে যে, তার জুতার চামড়া তার সঙ্গীর জুতার চামড়া অপেক্ষা ভালো হোক সে-ই এই আয়াতের অন্তর্ভুক্ত। এর দ্বারা উদ্দেশ্যে এই যে, যখন সে গর্ব ও অহংকার করবে। আর যদি উদ্দেশ্য শুধু সৌন্দর্য প্রকাশ হয় তবে তাতে কোন দোষ নেই। যেমন সহীহ হাদীসে রয়েছে যে, একটি লোক বলেঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! আমি তো এতে সন্তুষ্ট থাকি যে, আমার চাদর ভাল হালে, আমার জুতা সুন্দর হালে, এটাও কি অহংকার হিসেবে গণ্য হবে?” রাসূলুল্লাহ (সঃ) উত্তরে বলেনঃ “না, না। এটা তো সৌন্দর্য। আর আল্লাহ তাআলা সুন্দর এবং তিনি সৌন্দর্যকে পছন্দ করে থাকেন।

এরপর আল্লাহ পাক বলেনঃ যে কেউ সৎ কর্ম করে সে তার কর্ম অপেক্ষা উত্তম ফল পাবে। পক্ষান্তরে যে মন্দ কর্ম করে সে শাস্তি পাবে শুধু তার কর্ম অনুপাতে। অন্য আয়াতে রয়েছেঃ (আরবি)

অর্থাৎ “যে মন্দ কাজ করবে তাকে উল্টোমুখে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করা হবে।” (২৭:৯০) এরপরে বলেনঃ (আরবি) অর্থাৎ “তোমাদেরকে তারই প্রতিফল দেয়া হবে যা তোমরা আমল করতে।” (২৭:৯০) আর এটা হলো অতিরিক্ত প্রদান ও ন্যায় বিচারের স্থান।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।