সূরা আন-নামাল (আয়াত: 85)
হরকত ছাড়া:
ووقع القول عليهم بما ظلموا فهم لا ينطقون ﴿٨٥﴾
হরকত সহ:
وَ وَقَعَ الْقَوْلُ عَلَیْهِمْ بِمَا ظَلَمُوْا فَهُمْ لَا یَنْطِقُوْنَ ﴿۸۵﴾
উচ্চারণ: ওয়া-ওয়াকা‘আল কাওলু‘আলাইহিম বিমা-জালামূফাহুম লা-ইয়ানতিকূন।
আল বায়ান: আর তাদের উপর বাণী (আযাব) বাস্তবায়িত হবে। কারণ তারা যুলম করেছিল। ফলে তারা কথা বলতে পারবে না।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৮৫. আর যুলুমের কারণে তাদের উপর ঘোষিত শাস্তি এসে পড়বে; ফলে তারা কিছুই বলতে পারবে না।
তাইসীরুল ক্বুরআন: তাদেরকে দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবে ঘটে যাবে তাদের অন্যায় কার্যকলাপের কারণে আর তারা (তাদের পক্ষে) কোন কথা বলতে পারবে না।
আহসানুল বায়ান: (৮৫) সীমালংঘন হেতু ওদের ওপর ঘোষিত শাস্তি এসে পড়বে; ফলে ওরা কথা বলতে পারবে না। [1]
মুজিবুর রহমান: সীমা লংঘন হেতু তাদের উপর ঘোষিত শাস্তি এসে পড়বে; ফলে তারা কিছুই বলতে পারবেনা।
ফযলুর রহমান: তাদের বিরুদ্ধে (শাস্তির) ওয়াদা বাস্তবায়িত হবেই, কারণ তারা অন্যায় করেছে; তাই তারা (নিজেদের পক্ষে) কথা বলতে পারবে না।
মুহিউদ্দিন খান: জুলুমের কারণে তাদের কাছে আযাবের ওয়াদা এসে গেছে। এখন তারা কোন কিছু বলতে পারবে না।
জহুরুল হক: আর তাদের উপরে উক্তিটি বর্তাবে যেহেতু তারা অন্যায়াচরণ করেছিল। তখন তারা বাদানুবাদ করতে পারবে না।
Sahih International: And the decree will befall them for the wrong they did, and they will not [be able to] speak.
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৮৫. আর যুলুমের কারণে তাদের উপর ঘোষিত শাস্তি এসে পড়বে; ফলে তারা কিছুই বলতে পারবে না।
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৮৫) সীমালংঘন হেতু ওদের ওপর ঘোষিত শাস্তি এসে পড়বে; ফলে ওরা কথা বলতে পারবে না। [1]
তাফসীর:
[1] অর্থাৎ, তাদের কাছে এমন কোন ওজর থাকবে না, যা তারা পেশ করতে পারবে। অথবা কিয়ামতের ভয়াবহতার কারণে বলার শক্তি হতে তারা বঞ্চিত হবে। পক্ষান্তরে কারো নিকট এখানে ঐ সময়ের অবস্থা বর্ণনা করা হয়েছে, যখন তাদের মুখে মোহর মেরে দেওয়া হবে।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৮৩-৮৫ নং আয়াতের তাফসীর:
এ আয়াতগুলোতে কিয়ামতের মাঠে কাফিরদের পরিণতি কেমন হবে সে সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
আল্লাহ তা‘আলার সাথে কুফরী করত প্রত্যেক উম্মত হতে এমন ব্যক্তিদের একটি দলকে কিয়ামতের মাঠে উপস্থিত করা হবে। এভাবে পৃথিবীর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যারাই কুফরী করেছে তাদেরকে একত্রিত করা হবে। অতঃপর তাদেরকে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করানো হবে তখন আল্লাহ তা‘আলা বলবেন: ‘তোমরা কি আমার নিদর্শন প্রত্যাখ্যান করেছিলে, যদিও তা তোমরা জ্ঞানায়ত্ত করতে পারনি? নাকি তোমরা অন্য কিছু করছিলে?’ অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলা তাদের ঈমান ও আমল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করবেন, ফলে তাদেরকে এমনভাবে পাবেন যে, তারা সত্যকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে এবং আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত অন্য কারো জন্য আমল করেছে অথবা রাসূলগণের সুন্নাত অনুসারে আমল করেনি।
আল্লাহ বলেন:
(فَوَرَبِّكَ لَنَحْشُرَنَّهُمْ وَالشَّيٰطِيْنَ ثُمَّ لَنُحْضِرَنَّهُمْ حَوْلَ جَهَنَّمَ جِثِيًّا - ثُمَّ لَنَنْزِعَنَّ مِنْ كُلِّ شِيْعَةٍ أَيُّهُمْ أَشَدُّ عَلَي الرَّحْمٰنِ عِتِيًّا)
“সুতরাং শপথ তোমার প্রতিপালকের! আমি তাদেরকে ও শয়তানদেরকে সমবেত করবই; পরে আমি তাদেরকে নতজানু অবস্থায় জাহান্নামের চতুর্দিকে উপস্থিত করবই; অতঃপর প্রত্যেক দলের মধ্যে যে দয়াময়ের প্রতি সর্বাধিক অবাধ্য আমি তাকে টেনে বের করবই।” (সূরা মারইয়াম ১৯:৬৮-৬৯)
এরপর আল্লাহ তা‘আলা বলেন: যখন তাদেরকে সমবেত করা হবে তখন তাদেরকে তাদের কার্যকলাপ, ঈমান-আকীদাহ সম্পর্কে জিজ্ঞেসবাদ করা হবে তাদেরকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য। কিন্তু তারা তখন আর কোন কথাবার্তা বলতে পারবে না।
ফলে তাদের ওপর জাহান্নামের শাস্তি বাস্তবায়িত হবে। তারা সেখান থেকে কোন ওযর আপত্তি পেশ করে বের হয়ে আসার সুযোগ পাবে না।
সুতরাং যারা আল্লাহ তা‘আলার নিদর্শনকে অস্বীকার করে, তা নিয়ে ঠাট্টা করে, কিংবা আল্লাহ তা‘আলার সাথে নাফরমানী করে ঈমান ও আমলের তোয়াক্কা করে না তাদের সতর্ক হওয়া উচিত।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. কিয়ামতে কাফিরদেরকে দলে দলে সমবেত করা হবে।
২. আখিরাতে মানুষকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
৩. অপরাধীরা তথায় কোনই ওযর পেশ করার সুযোগ পাবে না। বরং তাদেরকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৮৩-৮৬ নং আয়াতের তাফসীর
আল্লাহ্ তা'আলা সংবাদ দিচ্ছেন যে, যারা তাঁকে মানে না এবং তার কথা স্বীকার করে না তাদেরকে তাঁর সামনে একত্রিত করা হবে। সেখানে তাদেরকে শাসন-গর্জন করা হবে। যাতে তারা লাঞ্ছিত হয় এবং হেয় প্রতিপন্ন হয়। প্রত্যেক কওমের মধ্য হতে প্রত্যেক যুগের এ ধরনের মানুষের দলকে পৃথক পৃথকভাবে পেশ করা হবে। যেমন মহা প্রতাপান্বিত আল্লাহ বলেনঃ (আরবি) অর্থাৎ “(ফেরেশতাদেরকে বলা হবেঃ) একত্রিত কর যালিমদেরকে ও তাদের সহচরদেরকে।” (৩৭: ২২) আর এক জায়গায় তিনি বলেন (আরবি)
অর্থাৎ “দেহে যখন আত্মা সংযোজিত হবে।” (৮১: ৭) তারা সবাই একে অপরকে ধাক্কা দেবে। তাদের প্রথম শেষেরদেরকে অগ্রাহ্য ও খণ্ডন করবে। অতঃপর তাদের সবকেই জন্তুর মত হাঁকিয়ে নিয়ে গিয়ে আল্লাহ্ তা'আলার সামনে হাযির করে দেয়া হবে। তাদের হাযির হওয়া মাত্রই ঐ প্রকৃত প্রতিশোধ গ্রহণকারী আল্লাহ অত্যন্ত রাগান্বিত অবস্থায় তাদেরকে পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে প্রশ্নের পর প্রশ্ন করবেন এবং হিসাব নিবেন। পুণ্য থেকে তারা সম্পূর্ণরূপে শূন্য হস্ত হবে। যেমন তাদের সম্পর্কে আল্লাহ পাক বলেনঃ (আরবি)
অর্থাৎ “সে বিশ্বাস করেনি এবং নামায আদায় করেনি। বরং সে সত্য প্রত্যাখ্যান করেছিল ও মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল।” (৭৫:৩১-৩২) সুতরাং ঐ সময় তাদের উপর হুজ্জত সাব্যস্ত হয়ে যাবে এবং তারা কোন কিছু পেশ করতে পারবে না। যেমন আল্লাহ তাআলা তাদের সম্পর্কে বলেনঃ (আরবি)
অর্থাৎ “এটা এমন একদিন যেদিন কারো বাক্যস্ফূর্তি হবে না এবং তাদেরকে অনুমতি দেয়া হবে না অপরাধ স্থলনের।” (৭৭: ৩৫-৩৬) অনুরূপভাবে এখানে বলেনঃ “সীমালংঘন হেতু তাদের উপর ঘোষিত শাস্তি এসে পড়বে; ফলে তারা কিছুই বলতে পারবে না। তারা হতবুদ্ধি হয়ে পড়বে। নিজেদের যুলুমের প্রতিফল তারা পূর্ণরূপেই প্রাপ্ত হবে। দুনিয়ায় তারা যালিম ছিল। এখন তারা যার সামনে দাঁড়াবে তিনি অদৃশ্যের খবর রাখেন। কোন কথা তার সামনে বানিয়ে বললে তা টিকবে না।
এরপর মহামহিমান্বিত আল্লাহ্ স্বীয় ব্যাপক ক্ষমতার বর্ণনা দিচ্ছেন এবং স্বীয় সমুন্নত মাহাত্মের কথা বলছেন। আর তিনি নিজের বিরাট সাম্রাজ্য প্রদর্শন করছেন যা তাঁর আনুগত্য অপরিহার্য হওয়া, তাঁর নির্দেশাবলী মেনে চলা ও নিষিদ্ধ কাজগুলো হতে বিরত থাকা অবশ্য কর্তব্য হওয়া এবং নবীদেরকে বিশ্বাস করার মূলের উপর সুস্পষ্ট দলীল। তা এই যে, তিনি মানুষের বিশ্রামের জন্যে রাত্রি সৃষ্টি করেছেন, যাতে তাদের সারা দিনের ক্লান্তি দূর হয়ে যায়। আর দিবসকে তিনি করেছেন উজ্জ্বল ও আলোকময়, যাতে তারা জীবিকার অনুসন্ধানে ছুটে পড়তে পারে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের সফর যেন তাদের জন্যে সহজ হয়। এসবের মধ্যে তো মুমিন সম্প্রদায়ের জন্যে অবশ্যই যথেষ্ট ও পূর্ণমাত্রায় নিদর্শন রয়েছে।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।