সূরা আন-নামাল (আয়াত: 84)
হরকত ছাড়া:
حتى إذا جاءوا قال أكذبتم بآياتي ولم تحيطوا بها علما أم ماذا كنتم تعملون ﴿٨٤﴾
হরকত সহ:
حَتّٰۤی اِذَا جَآءُوْ قَالَ اَکَذَّبْتُمْ بِاٰیٰتِیْ وَ لَمْ تُحِیْطُوْا بِهَا عِلْمًا اَمَّا ذَا کُنْتُمْ تَعْمَلُوْنَ ﴿۸۴﴾
উচ্চারণ: হাত্তাইযা- জাঊকা-লা আকাযযাবতুমবিআ-য়া-তী ওয়া লাম তুহীতূবিহা‘ইলমান আম্মা-যা-কুনতুম তা‘মালূন।
আল বায়ান: অবশেষে যখন তারা আসবে, তখন আল্লাহ বলবেন, ‘তোমরা কি আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছিলে, অথচ সে বিষয়ে তোমাদের কোন জ্ঞানই ছিল না? নাকি তোমরা আরো কী করেছিলে?’
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৮৪. শেষ পর্যন্ত যখন তারা এসে যাবে তখন আল্লাহ তাদেরকে বলবেন, তোমরা কি আমার নিদর্শন প্রত্যাখ্যান করেছিলে, অথচ তা তোমরা জ্ঞানে আয়ত্ত করতে পারনি?(১) নাকি তোমরা আর কিছু করছিলে?(২)
তাইসীরুল ক্বুরআন: যখন তারা এসে যাবে তখন আল্লাহ বলবেন- তোমরা কি আমার নিদর্শনকে মিথ্যে বলে প্রত্যাখ্যান করেছিলে যদিও তা তোমরা জ্ঞানায়ত্ত করতে পারনি; নাকি তোমরা অন্য কিছু করছিলে?
আহসানুল বায়ান: (৮৪) পরিশেষে যখন ওরা সমাগত হবে, তখন আল্লাহ ওদেরকে বলবেন, ‘তোমরা কি আমার নিদর্শনাবলীকে মিথ্যাজ্ঞান করেছিলে; অথচ তা তোমরা জ্ঞানায়ত্ত করতে পারনি? [1] অথবা তোমরা কি করছিলে?’[2]
মুজিবুর রহমান: যখন তারা সমবেত হবে তখন (আল্লাহ তাদেরকে) বলবেনঃ তোমরা আমার নিদর্শন প্রত্যাখ্যান করেছিলে, অথচ ওটা তোমরা জ্ঞানায়ত্ত করতে পারনি? না তোমরা অন্য কিছু করছিলে?
ফযলুর রহমান: অবশেষে তারা যখন (আল্লাহর সামনে) উপস্থিত হবে তখন তিনি বলবেন, “তোমরা কি ভালভাবে না জেনেই আমার নিদর্শনসমূহকে মিথ্যা বলেছিলে? নাকি তোমরা অন্য কিছু করছিলে?”
মুহিউদ্দিন খান: যখন তারা উপস্থিত হয়ে যাবে, তখন আল্লাহ বলবেন, তোমরা কি আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা বলেছিলে? অথচ এগুলো সম্পর্কে তোমাদের পুর্ণ জ্ঞান ছিল না। না তোমরা অন্য কিছু করছিলে?
জহুরুল হক: তারপর যখন তারা এসে পেছঁবে তখন তিনি বলবেন -- "তোমরা কি আমার নির্দেশসমূহ প্রত্যাখ্যান করেছিলে যখন তোমরা জ্ঞানে তার ধারণা করতে পার নি? অথবা কী তা যা তোমরা করে চলেছিলে?"
Sahih International: Until, when they arrive [at the place of Judgement], He will say, "Did you deny My signs while you encompassed them not in knowledge, or what [was it that] you were doing?"
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৮৪. শেষ পর্যন্ত যখন তারা এসে যাবে তখন আল্লাহ তাদেরকে বলবেন, তোমরা কি আমার নিদর্শন প্রত্যাখ্যান করেছিলে, অথচ তা তোমরা জ্ঞানে আয়ত্ত করতে পারনি?(১) নাকি তোমরা আর কিছু করছিলে?(২)
তাফসীর:
(১) অর্থাৎ কোন তথ্যভিত্তিক গবেষণার মাধ্যমে তোমরা এ আয়াতগুলোর মিথ্যা হবার কথা জানতে পেরেছিলে, এ আয়াতগুলো অস্বীকার করার পেছনে তোমাদের এ কারণ কখনোই ছিল না। তোমরা কোন প্রকার চিন্তা-ভাবনা ও গবেষণা-অনুসন্ধান ছাড়াই আমার আয়াতসমূহ অস্বীকার করেছিলে। [দেখুন: কুরতুবী; ফাতহুল কাদীর] এতে ইঙ্গিত রয়েছে যে, আল্লাহর আয়াতসমূহে মিথ্যা বলা একটি গুরুতর অপরাধ ও গোনাহ; বিশেষতঃ যখন কেউ চিন্তা-ভাবনাও বোঝা-শোনার চেষ্টা না করেই মিথ্যা বলতে থাকে। এমতাবস্থায় এটা দ্বিগুণ অপরাধ হয়ে যায়। এতে আরও প্রমাণিত হয় যে, যারা ইসলামী শরীআতের কোন ইলম যথা আরবী ভাষা বা উসুলে ফিকহ বা এ জাতীয় কিছুর প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে তারা নিঃসন্দেহে মুর্খ। মূর্খতাই তাদেরকে এ ধরনের কার্যকলাপে নিপতিত করে। [ফাতহুল কাদীর]
(২) অর্থাৎ যদি এমন না হয়, তাহলে কি তোমরা একথা প্রমাণ করতে পারবে যে, গবেষণা-অনুসন্ধানের পর তোমরা এ আয়াতগুলোকে মিথ্যা পেয়েছিলে এবং সত্যিই কি তোমরা এ আয়াতগুলোয় যা বর্ণনা করা হয়েছে তা প্রকৃত সত্য নয়, এ ধরনের কোন জ্ঞান লাভ করেছিলে? মূলত: তোমরা এগুলোতে কোন শ্রম দাওনি। তোমরা তোমাদের কোন কাজে এত ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলে যে, আল্লাহর আয়াতসমূহের প্রতি নজর দিতে, আর সেগুলোর অর্থের প্রতি চিন্তা গবেষণা করা থেকে তোমাদেরকে বিরত রেখেছিল? [ফাতহুল কাদীর]
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৮৪) পরিশেষে যখন ওরা সমাগত হবে, তখন আল্লাহ ওদেরকে বলবেন, ‘তোমরা কি আমার নিদর্শনাবলীকে মিথ্যাজ্ঞান করেছিলে; অথচ তা তোমরা জ্ঞানায়ত্ত করতে পারনি? [1] অথবা তোমরা কি করছিলে?”[2]
তাফসীর:
[1] অর্থাৎ, তোমরা আমার তাওহীদ ও দাওয়াতের প্রমাণগুলি বুঝার চেষ্টা করনি। বরং বুঝার চেষ্টা না করেই আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যাজ্ঞান করেছ।
[2] যার কারণে তোমরা আমার কথাগুলো চিন্তা ভাবনা করার সুযোগ পাওনি।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৮৩-৮৫ নং আয়াতের তাফসীর:
এ আয়াতগুলোতে কিয়ামতের মাঠে কাফিরদের পরিণতি কেমন হবে সে সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
আল্লাহ তা‘আলার সাথে কুফরী করত প্রত্যেক উম্মত হতে এমন ব্যক্তিদের একটি দলকে কিয়ামতের মাঠে উপস্থিত করা হবে। এভাবে পৃথিবীর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যারাই কুফরী করেছে তাদেরকে একত্রিত করা হবে। অতঃপর তাদেরকে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করানো হবে তখন আল্লাহ তা‘আলা বলবেন: ‘তোমরা কি আমার নিদর্শন প্রত্যাখ্যান করেছিলে, যদিও তা তোমরা জ্ঞানায়ত্ত করতে পারনি? নাকি তোমরা অন্য কিছু করছিলে?’ অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলা তাদের ঈমান ও আমল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করবেন, ফলে তাদেরকে এমনভাবে পাবেন যে, তারা সত্যকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে এবং আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত অন্য কারো জন্য আমল করেছে অথবা রাসূলগণের সুন্নাত অনুসারে আমল করেনি।
আল্লাহ বলেন:
(فَوَرَبِّكَ لَنَحْشُرَنَّهُمْ وَالشَّيٰطِيْنَ ثُمَّ لَنُحْضِرَنَّهُمْ حَوْلَ جَهَنَّمَ جِثِيًّا - ثُمَّ لَنَنْزِعَنَّ مِنْ كُلِّ شِيْعَةٍ أَيُّهُمْ أَشَدُّ عَلَي الرَّحْمٰنِ عِتِيًّا)
“সুতরাং শপথ তোমার প্রতিপালকের! আমি তাদেরকে ও শয়তানদেরকে সমবেত করবই; পরে আমি তাদেরকে নতজানু অবস্থায় জাহান্নামের চতুর্দিকে উপস্থিত করবই; অতঃপর প্রত্যেক দলের মধ্যে যে দয়াময়ের প্রতি সর্বাধিক অবাধ্য আমি তাকে টেনে বের করবই।” (সূরা মারইয়াম ১৯:৬৮-৬৯)
এরপর আল্লাহ তা‘আলা বলেন: যখন তাদেরকে সমবেত করা হবে তখন তাদেরকে তাদের কার্যকলাপ, ঈমান-আকীদাহ সম্পর্কে জিজ্ঞেসবাদ করা হবে তাদেরকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য। কিন্তু তারা তখন আর কোন কথাবার্তা বলতে পারবে না।
ফলে তাদের ওপর জাহান্নামের শাস্তি বাস্তবায়িত হবে। তারা সেখান থেকে কোন ওযর আপত্তি পেশ করে বের হয়ে আসার সুযোগ পাবে না।
সুতরাং যারা আল্লাহ তা‘আলার নিদর্শনকে অস্বীকার করে, তা নিয়ে ঠাট্টা করে, কিংবা আল্লাহ তা‘আলার সাথে নাফরমানী করে ঈমান ও আমলের তোয়াক্কা করে না তাদের সতর্ক হওয়া উচিত।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. কিয়ামতে কাফিরদেরকে দলে দলে সমবেত করা হবে।
২. আখিরাতে মানুষকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
৩. অপরাধীরা তথায় কোনই ওযর পেশ করার সুযোগ পাবে না। বরং তাদেরকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৮৩-৮৬ নং আয়াতের তাফসীর
আল্লাহ্ তা'আলা সংবাদ দিচ্ছেন যে, যারা তাঁকে মানে না এবং তার কথা স্বীকার করে না তাদেরকে তাঁর সামনে একত্রিত করা হবে। সেখানে তাদেরকে শাসন-গর্জন করা হবে। যাতে তারা লাঞ্ছিত হয় এবং হেয় প্রতিপন্ন হয়। প্রত্যেক কওমের মধ্য হতে প্রত্যেক যুগের এ ধরনের মানুষের দলকে পৃথক পৃথকভাবে পেশ করা হবে। যেমন মহা প্রতাপান্বিত আল্লাহ বলেনঃ (আরবি) অর্থাৎ “(ফেরেশতাদেরকে বলা হবেঃ) একত্রিত কর যালিমদেরকে ও তাদের সহচরদেরকে।” (৩৭: ২২) আর এক জায়গায় তিনি বলেন (আরবি)
অর্থাৎ “দেহে যখন আত্মা সংযোজিত হবে।” (৮১: ৭) তারা সবাই একে অপরকে ধাক্কা দেবে। তাদের প্রথম শেষেরদেরকে অগ্রাহ্য ও খণ্ডন করবে। অতঃপর তাদের সবকেই জন্তুর মত হাঁকিয়ে নিয়ে গিয়ে আল্লাহ্ তা'আলার সামনে হাযির করে দেয়া হবে। তাদের হাযির হওয়া মাত্রই ঐ প্রকৃত প্রতিশোধ গ্রহণকারী আল্লাহ অত্যন্ত রাগান্বিত অবস্থায় তাদেরকে পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে প্রশ্নের পর প্রশ্ন করবেন এবং হিসাব নিবেন। পুণ্য থেকে তারা সম্পূর্ণরূপে শূন্য হস্ত হবে। যেমন তাদের সম্পর্কে আল্লাহ পাক বলেনঃ (আরবি)
অর্থাৎ “সে বিশ্বাস করেনি এবং নামায আদায় করেনি। বরং সে সত্য প্রত্যাখ্যান করেছিল ও মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল।” (৭৫:৩১-৩২) সুতরাং ঐ সময় তাদের উপর হুজ্জত সাব্যস্ত হয়ে যাবে এবং তারা কোন কিছু পেশ করতে পারবে না। যেমন আল্লাহ তাআলা তাদের সম্পর্কে বলেনঃ (আরবি)
অর্থাৎ “এটা এমন একদিন যেদিন কারো বাক্যস্ফূর্তি হবে না এবং তাদেরকে অনুমতি দেয়া হবে না অপরাধ স্থলনের।” (৭৭: ৩৫-৩৬) অনুরূপভাবে এখানে বলেনঃ “সীমালংঘন হেতু তাদের উপর ঘোষিত শাস্তি এসে পড়বে; ফলে তারা কিছুই বলতে পারবে না। তারা হতবুদ্ধি হয়ে পড়বে। নিজেদের যুলুমের প্রতিফল তারা পূর্ণরূপেই প্রাপ্ত হবে। দুনিয়ায় তারা যালিম ছিল। এখন তারা যার সামনে দাঁড়াবে তিনি অদৃশ্যের খবর রাখেন। কোন কথা তার সামনে বানিয়ে বললে তা টিকবে না।
এরপর মহামহিমান্বিত আল্লাহ্ স্বীয় ব্যাপক ক্ষমতার বর্ণনা দিচ্ছেন এবং স্বীয় সমুন্নত মাহাত্মের কথা বলছেন। আর তিনি নিজের বিরাট সাম্রাজ্য প্রদর্শন করছেন যা তাঁর আনুগত্য অপরিহার্য হওয়া, তাঁর নির্দেশাবলী মেনে চলা ও নিষিদ্ধ কাজগুলো হতে বিরত থাকা অবশ্য কর্তব্য হওয়া এবং নবীদেরকে বিশ্বাস করার মূলের উপর সুস্পষ্ট দলীল। তা এই যে, তিনি মানুষের বিশ্রামের জন্যে রাত্রি সৃষ্টি করেছেন, যাতে তাদের সারা দিনের ক্লান্তি দূর হয়ে যায়। আর দিবসকে তিনি করেছেন উজ্জ্বল ও আলোকময়, যাতে তারা জীবিকার অনুসন্ধানে ছুটে পড়তে পারে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের সফর যেন তাদের জন্যে সহজ হয়। এসবের মধ্যে তো মুমিন সম্প্রদায়ের জন্যে অবশ্যই যথেষ্ট ও পূর্ণমাত্রায় নিদর্শন রয়েছে।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।