আল কুরআন


সূরা আন-নামাল (আয়াত: 86)

সূরা আন-নামাল (আয়াত: 86)



হরকত ছাড়া:

ألم يروا أنا جعلنا الليل ليسكنوا فيه والنهار مبصرا إن في ذلك لآيات لقوم يؤمنون ﴿٨٦﴾




হরকত সহ:

اَلَمْ یَرَوْا اَنَّا جَعَلْنَا الَّیْلَ لِیَسْکُنُوْا فِیْهِ وَ النَّهَارَ مُبْصِرًا ؕ اِنَّ فِیْ ذٰلِکَ لَاٰیٰتٍ لِّقَوْمٍ یُّؤْمِنُوْنَ ﴿۸۶﴾




উচ্চারণ: আলাম ইয়ারাও আন্না-জা‘আলনাল্লাইলা লিইয়াছকুনূফীহি ওয়ান্নাহা-রা মুবসিরান ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-য়া-তিল লিকাওমিইঁ ইউ’মিনূন।




আল বায়ান: তারা কি দেখে না যে, আমি রাতকে সৃষ্টি করেছি, যেন তারা তাতে বিশ্রাম নিতে পারে এবং দিনকে করেছি আলোকিত? নিশ্চয় এতে নিদর্শনাবলী রয়েছে সেই কওমের জন্য যারা ঈমান এনেছে।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৮৬. তারা কি দেখে না যে, আমরা রাত সৃষ্টি করেছি তাদের বিশ্রামের জন্য এবং দিনকে করেছি দৃশ্যমান? এতে তো অবশ্যই নিদর্শন রয়েছে এমন সম্প্রদায়ের জন্য যারা ঈমান আনে।(১)




তাইসীরুল ক্বুরআন: তারা কি লক্ষ্য করে না যে, আমি রাত বানিয়েছি যাতে তারা তাতে আরাম করতে পারে আর দিনকে করেছি আলো দানকারী? বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য অবশ্যই এতে নিদর্শন আছে।




আহসানুল বায়ান: (৮৬) তারা কি দেখে না যে, ওদের বিশ্রামের জন্য আমি রাতকে সৃষ্টি করেছি এবং দিনকে করেছি আলোকোজ্জ্বল। [1] এতে বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য অবশ্যই নিদর্শন রয়েছে।



মুজিবুর রহমান: তারা কি অনুধাবন করেনা যে, আমি রাত সৃষ্টি করেছি তাদের বিশ্রামের জন্য এবং দিনকে করেছি আলোকপ্রদ? এতে মু’মিন সম্প্রদায়ের জন্য অবশ্যই নিদর্শন রয়েছে।



ফযলুর রহমান: তারা কি দেখে না যে, আমি রাত দিয়েছি তাদের বিশ্রাম করার জন্য এবং দিন দিয়েছি (সবকিছু) দেখার জন্য। এতে ঈমানদার লোকদের জন্য অবশ্যই নিদর্শন আছে।



মুহিউদ্দিন খান: তারা কি দেখে না যে, আমি রাত্রি সৃষ্টি করেছি তাদের বিশ্রামের জন্যে এবং দিনকে করেছি আলোকময়। নিশ্চয় এতে ঈমানদার সম্প্রদায়ের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে।



জহুরুল হক: তারা কি দেখে না যে আমরা অবশ্যই রাতকে সৃষ্টি করেছি যেন তারা এতে বিশ্রাম করে, আর দিনকে দৃশ্যমান? নিশ্চয় এতে তো এক নিদর্শন রয়েছে সেই জাতির জন্য যারা বিশ্বাস করে।



Sahih International: Do they not see that We made the night that they may rest therein and the day giving sight? Indeed in that are signs for a people who believe.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৮৬. তারা কি দেখে না যে, আমরা রাত সৃষ্টি করেছি তাদের বিশ্রামের জন্য এবং দিনকে করেছি দৃশ্যমান? এতে তো অবশ্যই নিদর্শন রয়েছে এমন সম্প্রদায়ের জন্য যারা ঈমান আনে।(১)


তাফসীর:

(১) অর্থাৎ কেন তারা রাতের বেলা আরাম করার মুহূর্তে এবং দিনের সুযোগে লাভবান হবার সময় একথা চিন্তা করেনি যে, এক মহাবিজ্ঞ ও বিজ্ঞানময় সত্তা এ ব্যবস্থা পরিচালনা করছেন এবং তিনি তাদের যথাযথ প্রয়োজন অনুযায়ী পৃথিবী ও সূর্যের মধ্যে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত করেছেন? এটি কোন আকস্মিক ঘটনা হতে পারে না। আবার এগুলো বহু ইলাহর কার্যপ্রণালীও নয়। এগুলো মূলত: মহান আল্লাহর শক্তি ও সামর্থের উপরই প্রমাণবিহ। তারা কেন আমার এ সমস্ত ক্ষমতা সম্পর্কে চিন্তা করে না, ফলে তারা ঈমান আনত? [দেখুন: কুরতুবী]


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৮৬) তারা কি দেখে না যে, ওদের বিশ্রামের জন্য আমি রাতকে সৃষ্টি করেছি এবং দিনকে করেছি আলোকোজ্জ্বল। [1] এতে বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য অবশ্যই নিদর্শন রয়েছে।


তাফসীর:

[1] যাতে করে তারা জীবিকার খোঁজে চেষ্টা-চরিত্র করতে পারে।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৮৬-৯০ নং আয়াতের তাফসীর:



আল্লাহ তা‘আলা বলেন: মানুুষ কি আমার এসব বড় বড় নিদর্শন প্রত্যক্ষ করে না? যে, আমি তাদের জন্য রাতকে অন্ধকার করেছি যাতে তারা প্রশান্তি লাভ করে। لِيَسْكُنُوْا শব্দের অর্থ প্রশান্তি লাভ করা। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: “আর তার দৃষ্টান্তগুলোর মধ্যে একটি এই যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের নিজেদের মধ্য থেকে স্ত্রীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তি লাভ কর” (সূরা রূম ৩০:২১)



মানুষ সারাদিন পরিশ্রম করে রাতের বেলা যখন ঘুমায় তখন দিনের সকল ক্লান্তি শেষ হয়ে যায়। পরের দিন পূর্ণ উদ্যমে এমনভাবে কাজ শুরু করে যেন গতকালের পরিশ্রমের কোন চিহ্ন শরীরে নেই। আবার দিনকে করে দিয়েছেন আলোকময়, কারণ মানুষ দিনের বেলা কাজ করবে, রিযিক অন্বেষণে ভ্রমণ করবে। তা যদি অন্ধকার হয় তাহলে কাজ করতে পারবে না। এসব আল্লাহ তা‘আলার নেয়ামত, আল্লাহ তা‘আলা ইচ্ছা করলে সূর্যকে আলোহীন করে দিতে পারতেন ফলে কোন কিছু জন্মাতো না। মানুষ জীবন যাপন করতে পারত না। এ সম্পর্কে সূরা বানী ইসরাঈলের ১২ নং আয়াতে ও সূরা ইউনুস এর ৬৮ নং আয়াতেও আলোচনা করা হয়েছে।



কিয়ামতের পূর্বে ইসরাফিল (عليه السلام) যখন শিঙ্গায় ফুঁৎকার দেবেন তখন আকাশ ও যমিনবাসীর কী কঠিন পরিস্থিতি হবে সে সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।



فَفَزِعَ শব্দের অর্থ অস্থির হওয়া, উদ্বিগ্ন হওয়া, সূরা যুমারের ৬৮ নং আয়াতে বলা হয়েছ فَصَعِقَ বা বেহুশ হয়ে যাবে। শিঙ্গায় ফুঁৎকার কয়টি হবে এ নিয়ে দুটি মত বিদ্যমানন কেউ বলেছেন, দুটি। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: দুই ফুঁৎকারের মাঝে ব্যবধান চল্লিশ বছর, প্রথম ফুঁৎকারে প্রত্যেক প্রাণী মৃত্যু বরণ করবে। দ্বিতীয় ফুঁৎকারে প্রত্যেক মৃত জীবিত হবে। (ফাতহুল বারী ১১/৩৭০) কেউ বলেছেন তিনটি হবে: প্রথম বার সব ধ্বংস হবে, মানুষ ভীত বিহ্বল হবে। দ্বিতীয়বারে সবাই মারা যাবে, আর তৃতীয়বার সবাই হাশরের জন্য জীবিত হবে। তবে এখানে কোন্টা উদ্দেশ্য? কেউ বলেছেন, প্রথমটা; আবার কেউ বলেছেন, দ্বিতীয়টা। আল্লাহ তা‘আলাই ভাল জানেন।



(إِلَّا مَنْ شَا۬ءَ اللّٰهُ)



‘তবে আল্লাহ তা‘আলা যাদেরকে চাইবেন তারা ব্যতীত’ অর্থাৎ সবাই বেহুশ হয়ে যাবে তবে আল্লাহ তা‘আলা যাদেরকে চাইবেন তারা ব্যতীত। তারা কারা? কেউ বলেন, তারা হল, নাবী ও শহীদগণ; কেউ বলেন ফেরেশতাগণ; আবার কেউ বলেন, সকল মু’মিনগণ। সঠিক কথা হল আল্লাহ তা‘আলা যাদেরকে সম্মানিত করবেন এবং সে আতঙ্ক থেকে হেফাযত করবেন তারা ব্যতীত। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, বেহুশ হওয়ার পর যারা জ্ঞান ফিরে পাবে তাদের মধ্যে আমিই হবো প্রথম ব্যক্তি। আমি উঠেই দেখব আরশের পাশে খুঁটি ধরে মূসা (عليه السلام) দাঁড়িয়ে আছেন। আমি জানিনা তিনি কি আমার আগেই জ্ঞান ফিরে পেয়েছেন নাকি আল্লাহ তা‘আলা যাদেরকে বেহুশ করবেন না তাঁকে তাদের মধ্যে রেখেছেন। (সহীহ বুখারী হা: ২৪১১)



আর সেদিনের অবস্থা এমন হবে যে, পাহাড়সমূহ মেঘমালার মত চলবে ও উড়তে থাকবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(يَّوْمَ تَمُوْرُ السَّمَا۬ءُ مَوْرًا- وَّتَسِيْرُ الْجِبَالُ سَيْرًا)‏



“যেদিন আকাশ প্রকম্পিত হবে প্রবলভাবে এবং পাহাড় চলবে দ্রুত।” (সূরা তূর ৫২:৯-১০) আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন:



(وَيَوْمَ نُسَيِّرُ الْجِبَالَ وَتَرَي الْأَرْضَ بَارِزَةً لا وَّحَشَرْنٰهُمْ فَلَمْ نُغَادِرْ مِنْهُمْ أَحَدًا)



“স্মরণ কর‎, যেদিন আমি পর্বতমালাকে করব সঞ্চালিত এবং তুমি পৃথিবীকে দেখবে উন্মুক্ত প্রান্ত‎র, সেদিন তাদের সকলকে আমি একত্র করব এবং তাদের কাউকেও অব্যাহতি দেব না।” (সূরা কাহফ ১৮:৪৭)



সুতরাং সেদিনের অবস্থা হবে খুবই ভয়াবহ।



সেদিন যারা সৎকাজ নিয়ে আল্লাহ তা‘আলার নিকট আসবে তাদেরকে তথায় উত্তম প্রতিদান দেয়া হবে, আর তারা কিয়ামত দিবসে ভয় হতে মুক্ত থাকবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(لَا يَحْزُنُهُمُ الْفَزَعُ الْأَكْبَرُ وَتَتَلَقّٰهُمُ الْمَلٰٓئِكَةُ ط هٰذَا يَوْمُكُمُ الَّذِيْ كُنْتُمْ تُوْعَدُوْنَ)



“মহাভীতি তাদেরকে চিন্তাযুক্ত করবে না এবং ফেরেশতাগণ তাদেরকে অভ্যর্থনা জানাবে এই বলে, ‘এ তোমাদের সে দিন যার প্রতিশ্র“তি তোমাদেরকে দেয়া হয়েছিল।’ (সূরা আম্বিয়া ২১:১০৩) আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন:



(فَأُولٰٓئِكَ لَهُمْ جَزَا۬ءُ الضِّعْفِ بِمَا عَمِلُوْا وَهُمْ فِي الْغُرُفٰتِ اٰمِنُوْنَ)‏



“তারাই তাদের কর্মের জন্য পাবে বহুগুণ পুরস্কার; আর তারা প্রাসাদসমূহে নিরাপদে থাকবে।” (সূরা সাবা ৩৪:৩৭) পক্ষান্তরে যারা মন্দ আমল নিয়ে উপস্থিত হবে তাদেরকে অধোমুখে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। আর তারা তথায় কঠিন শাস্তি ভোগ করবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(إِنَّه۫ مَنْ يَّأْتِ رَبَّه۫ مُجْرِمًا فَإِنَّ لَه۫ جَهَنَّمَ ط لَا يَمُوْتُ فِيْهَا وَلَا يَحْيٰي)‏



“যে তার প্রতিপালকের নিকট অপরাধী হয়ে উপস্থিত হবে তার জন্য আছে জাহান্নাম, সেথায় সে মরবেও না, বাঁচবেও না।” (সূরা ত্বহা ২০:৭৪)



আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন:



(مَنْ جَا۬ءَ بِالْحَسَنَةِ فَلَه۫ عَشْرُ أَمْثَالِهَا ج وَمَنْ جَا۬ءَ بِالسَّيِّئَةِ فَلَا يُجْزٰٓي إِلَّا مِثْلَهَا وَهُمْ لَا يُظْلَمُوْنَ)‏



“কেউ কোন সৎকাজ করলে সে তার দশ গুণ পাবে এবং কেউ কোন অসৎ কাজ করলে তাকে শুধু তারই প্রতিফল দেয়া হবে, আর তাদের প্রতি জুলুম করা হবে না।” (সূরা আন‘আম ৬:১৬০)



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. যেদিন সিংঙ্গায় ফুঁৎকার দেয়া হবে, সেদিন অপরাধীরা আল্লাহ তা‘আলার ভয়ে প্রকম্পিত হয়ে ওঠবে।

২. সেদিন পাহাড়সমূহ চলমান হবে।

৩. সৎ কাজের জন্য মানুষ উত্তম প্রতিদান পাবে আর অসৎ কাজের জন্য মন্দ পরিণতি ভোগ করবে।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৮৩-৮৬ নং আয়াতের তাফসীর

আল্লাহ্ তা'আলা সংবাদ দিচ্ছেন যে, যারা তাঁকে মানে না এবং তার কথা স্বীকার করে না তাদেরকে তাঁর সামনে একত্রিত করা হবে। সেখানে তাদেরকে শাসন-গর্জন করা হবে। যাতে তারা লাঞ্ছিত হয় এবং হেয় প্রতিপন্ন হয়। প্রত্যেক কওমের মধ্য হতে প্রত্যেক যুগের এ ধরনের মানুষের দলকে পৃথক পৃথকভাবে পেশ করা হবে। যেমন মহা প্রতাপান্বিত আল্লাহ বলেনঃ (আরবি) অর্থাৎ “(ফেরেশতাদেরকে বলা হবেঃ) একত্রিত কর যালিমদেরকে ও তাদের সহচরদেরকে।” (৩৭: ২২) আর এক জায়গায় তিনি বলেন (আরবি)

অর্থাৎ “দেহে যখন আত্মা সংযোজিত হবে।” (৮১: ৭) তারা সবাই একে অপরকে ধাক্কা দেবে। তাদের প্রথম শেষেরদেরকে অগ্রাহ্য ও খণ্ডন করবে। অতঃপর তাদের সবকেই জন্তুর মত হাঁকিয়ে নিয়ে গিয়ে আল্লাহ্ তা'আলার সামনে হাযির করে দেয়া হবে। তাদের হাযির হওয়া মাত্রই ঐ প্রকৃত প্রতিশোধ গ্রহণকারী আল্লাহ অত্যন্ত রাগান্বিত অবস্থায় তাদেরকে পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে প্রশ্নের পর প্রশ্ন করবেন এবং হিসাব নিবেন। পুণ্য থেকে তারা সম্পূর্ণরূপে শূন্য হস্ত হবে। যেমন তাদের সম্পর্কে আল্লাহ পাক বলেনঃ (আরবি)

অর্থাৎ “সে বিশ্বাস করেনি এবং নামায আদায় করেনি। বরং সে সত্য প্রত্যাখ্যান করেছিল ও মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল।” (৭৫:৩১-৩২) সুতরাং ঐ সময় তাদের উপর হুজ্জত সাব্যস্ত হয়ে যাবে এবং তারা কোন কিছু পেশ করতে পারবে না। যেমন আল্লাহ তাআলা তাদের সম্পর্কে বলেনঃ (আরবি)

অর্থাৎ “এটা এমন একদিন যেদিন কারো বাক্যস্ফূর্তি হবে না এবং তাদেরকে অনুমতি দেয়া হবে না অপরাধ স্থলনের।” (৭৭: ৩৫-৩৬) অনুরূপভাবে এখানে বলেনঃ “সীমালংঘন হেতু তাদের উপর ঘোষিত শাস্তি এসে পড়বে; ফলে তারা কিছুই বলতে পারবে না। তারা হতবুদ্ধি হয়ে পড়বে। নিজেদের যুলুমের প্রতিফল তারা পূর্ণরূপেই প্রাপ্ত হবে। দুনিয়ায় তারা যালিম ছিল। এখন তারা যার সামনে দাঁড়াবে তিনি অদৃশ্যের খবর রাখেন। কোন কথা তার সামনে বানিয়ে বললে তা টিকবে না।

এরপর মহামহিমান্বিত আল্লাহ্ স্বীয় ব্যাপক ক্ষমতার বর্ণনা দিচ্ছেন এবং স্বীয় সমুন্নত মাহাত্মের কথা বলছেন। আর তিনি নিজের বিরাট সাম্রাজ্য প্রদর্শন করছেন যা তাঁর আনুগত্য অপরিহার্য হওয়া, তাঁর নির্দেশাবলী মেনে চলা ও নিষিদ্ধ কাজগুলো হতে বিরত থাকা অবশ্য কর্তব্য হওয়া এবং নবীদেরকে বিশ্বাস করার মূলের উপর সুস্পষ্ট দলীল। তা এই যে, তিনি মানুষের বিশ্রামের জন্যে রাত্রি সৃষ্টি করেছেন, যাতে তাদের সারা দিনের ক্লান্তি দূর হয়ে যায়। আর দিবসকে তিনি করেছেন উজ্জ্বল ও আলোকময়, যাতে তারা জীবিকার অনুসন্ধানে ছুটে পড়তে পারে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের সফর যেন তাদের জন্যে সহজ হয়। এসবের মধ্যে তো মুমিন সম্প্রদায়ের জন্যে অবশ্যই যথেষ্ট ও পূর্ণমাত্রায় নিদর্শন রয়েছে।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।