সূরা আন-নামাল (আয়াত: 83)
হরকত ছাড়া:
ويوم نحشر من كل أمة فوجا ممن يكذب بآياتنا فهم يوزعون ﴿٨٣﴾
হরকত সহ:
وَ یَوْمَ نَحْشُرُ مِنْ کُلِّ اُمَّۃٍ فَوْجًا مِّمَّنْ یُّکَذِّبُ بِاٰیٰتِنَا فَهُمْ یُوْزَعُوْنَ ﴿۸۳﴾
উচ্চারণ: ওয়া ইয়াওমা নাহশুরু মিন কুল্লি উম্মাতিন ফাওজাম মিম্মাইঁ ইউকাযযিবুবিআ-য়া-তিনা-ফাহুম ইউযা‘ঊন।
আল বায়ান: আর স্মরণ কর সেদিনের কথা, যেদিন প্রত্যেক জাতির মধ্য থেকে যারা আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করত তাদেরকে আমি দলে দলে সমবেত করব। অতঃপর তাদেরকে হাঁকিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৮৩. আর স্মরণ করুন সে দিনের কথা, যেদিন আমরা সমবেত করব প্ৰত্যেক সম্প্রদায় থেকে একেকটি দলকে, যারা আমার নিদর্শনাবলী প্রত্যাখ্যাত করত অতঃপর তাদেরকে সারিবদ্ধভাবে একত্রিত করা হবে।(১)
তাইসীরুল ক্বুরআন: যেদিন আমি প্রত্যেকটি সম্প্রদায় হতে একটি দলকে সমবেত করব যারা আমার নিদর্শনাবলীকে অস্বীকার করেছিল, অতঃপর তাদেরকে সারিবদ্ধ করা হবে।
আহসানুল বায়ান: (৮৩) (স্মরণ কর সেদিনের কথা,) যেদিন আমি এক একটি দলকে সে সমস্ত সম্প্রদায় হতে সমবেত করব, যারা আমার নিদর্শনাবলীকে মিথ্যাজ্ঞান করত এবং ওদেরকে বিভিন্ন সারিতে বিন্যস্ত করা হবে। [1]
মুজিবুর রহমান: স্মরণ কর সেই দিনের কথা যেদিন আমি সমবেত করব প্রত্যেক সম্প্রদায় হতে এক একটি দলকে, যারা আমার নির্দেশাবলী প্রত্যাখ্যান করত এবং তাদেরকে সারিবদ্ধ করা হবে।
ফযলুর রহমান: (স্মরণ করো) যেদিন আমি প্রত্যেক জাতি থেকে একটি করে দল একত্রিত করব, তাদের থেকে যারা আমার নিদর্শনসমূহ অবিশ্বাস করত; অতঃপর তাদেরকে ভাগে ভাগে বিন্যস্ত করা হবে।
মুহিউদ্দিন খান: যেদিন আমি একত্রিত করব একেকটি দলকে সেসব সম্প্রদায় থেকে, যারা আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা বলত; অতঃপর তাদেরকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত করা হবে।
জহুরুল হক: আর সেইদিন -- প্রত্যেক সম্প্রদায় থেকে আমরা এক একটি ফৌজকে সমবেত করব যারা আমাদের নির্দেশসমূহ প্রত্যাখ্যান করত, তারপর তাদের শ্রেণীবদ্ধ করা হবে।
Sahih International: And [warn of] the Day when We will gather from every nation a company of those who deny Our signs, and they will be [driven] in rows
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৮৩. আর স্মরণ করুন সে দিনের কথা, যেদিন আমরা সমবেত করব প্ৰত্যেক সম্প্রদায় থেকে একেকটি দলকে, যারা আমার নিদর্শনাবলী প্রত্যাখ্যাত করত অতঃপর তাদেরকে সারিবদ্ধভাবে একত্রিত করা হবে।(১)
তাফসীর:
(১) يُوزَعُونَ শব্দটি وزع শব্দ থেকে উদ্ভূত। উপরে এর অর্থ করা হয়েছেঃ সারিবদ্ধভাবে একত্রিত করা। অর্থাৎ আগের ও পরের সবাই সেখানে থাকবে। যাতে তাদেরকে প্রশ্ন করে তাদের দোষের স্বীকৃতি আদায় করা যায়। [সা'দী] এর আরেক অর্থ আছে, বাধা দেয়া। তখন অর্থ হবে, তাদের অগ্রবর্তী অংশকে বাধা প্ৰদান করা হবে, যাতে পেছনে পড়া লোক তাদের সাথে মিলে যায়। কোন কোন মুফাসসির وزع শব্দের অর্থ করেছেন, ঠেলে দেয়া। অর্থাৎ তাদেরকে ধাক্কা দিয়ে হিসাবের জন্য হাশরের মাঠে নিয়ে যাওয়া হবে। [কুরতুবী; ইবন কাসীর]
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৮৩) (স্মরণ কর সেদিনের কথা,) যেদিন আমি এক একটি দলকে সে সমস্ত সম্প্রদায় হতে সমবেত করব, যারা আমার নিদর্শনাবলীকে মিথ্যাজ্ঞান করত এবং ওদেরকে বিভিন্ন সারিতে বিন্যস্ত করা হবে। [1]
তাফসীর:
[1] অথবা ভিন্ন ভিন্ন দলে বিভক্ত করে দেওয়া হবে। যেমন ব্যভিচারীদের দল, মদ্যপায়ীদের দল ইত্যাদি। অথবা এর অর্থ তাদেরকে বাধা দেওয়া হবে। অর্থাৎ, তাদেরকে এদিক-ওদিক আগে-পিছে হওয়া হতে বাধা দেওয়া হবে। আর তাদের সকলকে একের পর এক জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৮৩-৮৫ নং আয়াতের তাফসীর:
এ আয়াতগুলোতে কিয়ামতের মাঠে কাফিরদের পরিণতি কেমন হবে সে সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
আল্লাহ তা‘আলার সাথে কুফরী করত প্রত্যেক উম্মত হতে এমন ব্যক্তিদের একটি দলকে কিয়ামতের মাঠে উপস্থিত করা হবে। এভাবে পৃথিবীর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যারাই কুফরী করেছে তাদেরকে একত্রিত করা হবে। অতঃপর তাদেরকে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করানো হবে তখন আল্লাহ তা‘আলা বলবেন: ‘তোমরা কি আমার নিদর্শন প্রত্যাখ্যান করেছিলে, যদিও তা তোমরা জ্ঞানায়ত্ত করতে পারনি? নাকি তোমরা অন্য কিছু করছিলে?’ অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলা তাদের ঈমান ও আমল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করবেন, ফলে তাদেরকে এমনভাবে পাবেন যে, তারা সত্যকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে এবং আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত অন্য কারো জন্য আমল করেছে অথবা রাসূলগণের সুন্নাত অনুসারে আমল করেনি।
আল্লাহ বলেন:
(فَوَرَبِّكَ لَنَحْشُرَنَّهُمْ وَالشَّيٰطِيْنَ ثُمَّ لَنُحْضِرَنَّهُمْ حَوْلَ جَهَنَّمَ جِثِيًّا - ثُمَّ لَنَنْزِعَنَّ مِنْ كُلِّ شِيْعَةٍ أَيُّهُمْ أَشَدُّ عَلَي الرَّحْمٰنِ عِتِيًّا)
“সুতরাং শপথ তোমার প্রতিপালকের! আমি তাদেরকে ও শয়তানদেরকে সমবেত করবই; পরে আমি তাদেরকে নতজানু অবস্থায় জাহান্নামের চতুর্দিকে উপস্থিত করবই; অতঃপর প্রত্যেক দলের মধ্যে যে দয়াময়ের প্রতি সর্বাধিক অবাধ্য আমি তাকে টেনে বের করবই।” (সূরা মারইয়াম ১৯:৬৮-৬৯)
এরপর আল্লাহ তা‘আলা বলেন: যখন তাদেরকে সমবেত করা হবে তখন তাদেরকে তাদের কার্যকলাপ, ঈমান-আকীদাহ সম্পর্কে জিজ্ঞেসবাদ করা হবে তাদেরকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য। কিন্তু তারা তখন আর কোন কথাবার্তা বলতে পারবে না।
ফলে তাদের ওপর জাহান্নামের শাস্তি বাস্তবায়িত হবে। তারা সেখান থেকে কোন ওযর আপত্তি পেশ করে বের হয়ে আসার সুযোগ পাবে না।
সুতরাং যারা আল্লাহ তা‘আলার নিদর্শনকে অস্বীকার করে, তা নিয়ে ঠাট্টা করে, কিংবা আল্লাহ তা‘আলার সাথে নাফরমানী করে ঈমান ও আমলের তোয়াক্কা করে না তাদের সতর্ক হওয়া উচিত।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. কিয়ামতে কাফিরদেরকে দলে দলে সমবেত করা হবে।
২. আখিরাতে মানুষকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
৩. অপরাধীরা তথায় কোনই ওযর পেশ করার সুযোগ পাবে না। বরং তাদেরকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৮৩-৮৬ নং আয়াতের তাফসীর
আল্লাহ্ তা'আলা সংবাদ দিচ্ছেন যে, যারা তাঁকে মানে না এবং তার কথা স্বীকার করে না তাদেরকে তাঁর সামনে একত্রিত করা হবে। সেখানে তাদেরকে শাসন-গর্জন করা হবে। যাতে তারা লাঞ্ছিত হয় এবং হেয় প্রতিপন্ন হয়। প্রত্যেক কওমের মধ্য হতে প্রত্যেক যুগের এ ধরনের মানুষের দলকে পৃথক পৃথকভাবে পেশ করা হবে। যেমন মহা প্রতাপান্বিত আল্লাহ বলেনঃ (আরবি) অর্থাৎ “(ফেরেশতাদেরকে বলা হবেঃ) একত্রিত কর যালিমদেরকে ও তাদের সহচরদেরকে।” (৩৭: ২২) আর এক জায়গায় তিনি বলেন (আরবি)
অর্থাৎ “দেহে যখন আত্মা সংযোজিত হবে।” (৮১: ৭) তারা সবাই একে অপরকে ধাক্কা দেবে। তাদের প্রথম শেষেরদেরকে অগ্রাহ্য ও খণ্ডন করবে। অতঃপর তাদের সবকেই জন্তুর মত হাঁকিয়ে নিয়ে গিয়ে আল্লাহ্ তা'আলার সামনে হাযির করে দেয়া হবে। তাদের হাযির হওয়া মাত্রই ঐ প্রকৃত প্রতিশোধ গ্রহণকারী আল্লাহ অত্যন্ত রাগান্বিত অবস্থায় তাদেরকে পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে প্রশ্নের পর প্রশ্ন করবেন এবং হিসাব নিবেন। পুণ্য থেকে তারা সম্পূর্ণরূপে শূন্য হস্ত হবে। যেমন তাদের সম্পর্কে আল্লাহ পাক বলেনঃ (আরবি)
অর্থাৎ “সে বিশ্বাস করেনি এবং নামায আদায় করেনি। বরং সে সত্য প্রত্যাখ্যান করেছিল ও মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল।” (৭৫:৩১-৩২) সুতরাং ঐ সময় তাদের উপর হুজ্জত সাব্যস্ত হয়ে যাবে এবং তারা কোন কিছু পেশ করতে পারবে না। যেমন আল্লাহ তাআলা তাদের সম্পর্কে বলেনঃ (আরবি)
অর্থাৎ “এটা এমন একদিন যেদিন কারো বাক্যস্ফূর্তি হবে না এবং তাদেরকে অনুমতি দেয়া হবে না অপরাধ স্থলনের।” (৭৭: ৩৫-৩৬) অনুরূপভাবে এখানে বলেনঃ “সীমালংঘন হেতু তাদের উপর ঘোষিত শাস্তি এসে পড়বে; ফলে তারা কিছুই বলতে পারবে না। তারা হতবুদ্ধি হয়ে পড়বে। নিজেদের যুলুমের প্রতিফল তারা পূর্ণরূপেই প্রাপ্ত হবে। দুনিয়ায় তারা যালিম ছিল। এখন তারা যার সামনে দাঁড়াবে তিনি অদৃশ্যের খবর রাখেন। কোন কথা তার সামনে বানিয়ে বললে তা টিকবে না।
এরপর মহামহিমান্বিত আল্লাহ্ স্বীয় ব্যাপক ক্ষমতার বর্ণনা দিচ্ছেন এবং স্বীয় সমুন্নত মাহাত্মের কথা বলছেন। আর তিনি নিজের বিরাট সাম্রাজ্য প্রদর্শন করছেন যা তাঁর আনুগত্য অপরিহার্য হওয়া, তাঁর নির্দেশাবলী মেনে চলা ও নিষিদ্ধ কাজগুলো হতে বিরত থাকা অবশ্য কর্তব্য হওয়া এবং নবীদেরকে বিশ্বাস করার মূলের উপর সুস্পষ্ট দলীল। তা এই যে, তিনি মানুষের বিশ্রামের জন্যে রাত্রি সৃষ্টি করেছেন, যাতে তাদের সারা দিনের ক্লান্তি দূর হয়ে যায়। আর দিবসকে তিনি করেছেন উজ্জ্বল ও আলোকময়, যাতে তারা জীবিকার অনুসন্ধানে ছুটে পড়তে পারে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের সফর যেন তাদের জন্যে সহজ হয়। এসবের মধ্যে তো মুমিন সম্প্রদায়ের জন্যে অবশ্যই যথেষ্ট ও পূর্ণমাত্রায় নিদর্শন রয়েছে।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।