আল কুরআন


সূরা আশ-শুআ‘রা (আয়াত: 165)

সূরা আশ-শুআ‘রা (আয়াত: 165)



হরকত ছাড়া:

أتأتون الذكران من العالمين ﴿١٦٥﴾




হরকত সহ:

اَتَاْتُوْنَ الذُّکْرَانَ مِنَ الْعٰلَمِیْنَ ﴿۱۶۵﴾ۙ




উচ্চারণ: আতা’তূনাযযুকরা-না মিনাল ‘আ-লামীন।




আল বায়ান: ‘সৃষ্টিকুলের মধ্যে তোমরা কি কেবল পুরুষদের সাথে উপগত হও’?




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১৬৫. সৃষ্টিকুলের মধ্যে তো তোমরাই কি পুরুষের সাথে উপগত হও?




তাইসীরুল ক্বুরআন: জগতের সকল প্রাণীর মধ্যে তোমরাই কি পুরুষদের সঙ্গে উপগত হও,




আহসানুল বায়ান: (১৬৫) মানুষের মধ্যে তোমরা তো কেবল পুরুষদের সাথেই কুকর্ম কর



মুজিবুর রহমান: সৃষ্টির মধ্যে তোমরা কি শুধু পুরুষের সাথেই উপগত হবে?



ফযলুর রহমান: “তোমরা কি (যৌন চাহিদা পূরণের জন্য) সৃষ্টিজগতের (মানবজাতির) পুরুষদেরকেই ব্যবহার করো?



মুহিউদ্দিন খান: সারা জাহানের মানুষের মধ্যে তোমরাই কি পুরূষদের সাথে কুকর্ম কর?



জহুরুল হক: "তোমরা কি মানুষজাতীর মধ্যে পুরুষদের কাছেই এসে থাক,



Sahih International: Do you approach males among the worlds



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ১৬৫. সৃষ্টিকুলের মধ্যে তো তোমরাই কি পুরুষের সাথে উপগত হও?


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (১৬৫) মানুষের মধ্যে তোমরা তো কেবল পুরুষদের সাথেই কুকর্ম কর


তাফসীর:

-


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ১৬০-১৭৫ নং আয়াতের তাফসীর:



উক্ত আয়াতগুলোতে লূত (عليه السلام) ও তার নির্লজ্জ জাতি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।



(أَتَأْتُوْنَ الذُّكْرَانَ مِنَ الْعٰلَمِيْنَ)



‘বিশ্বজগতের মধ্যে তো তোমরাই পুরুষের সাথে কুকর্ম কর, অর্থাৎ পৃথিবীতে তারাই সর্বপ্রথম সমকামিতায় লিপ্ত হয়। অথচ নারীদেরকে বিবাহ করা তাদের জন্যও বৈধ ছিল। লূত (عليه السلام) তাদের এ কুকর্ম হতে বিরত থাকতে বললে তারা লূত (عليه السلام)-কে দেশ থেকে বহিস্কার করে দেয়ার হুমকি প্রদান করে।



(إِلَّا عَجُوْزًا) “এক বৃদ্ধা ব্যতীত” এ বৃদ্ধা হলো লূত (عليه السلام)-এর স্ত্রী, তাকেও ধ্বংস করা হয়েছে। কারণ সে ঈমান আনেনি। এদের সম্পর্কে সূরা আ‘রাফের ৮০-৮৪ নং, হূদের ৭৬-৮৩ নং আয়াত ও সূরা হিজর ও অন্যান্য সূরাতে একাধিকবার আলোচনা করা হয়েছে।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ১৬৫-১৭৫ নং আয়াতের তাফসীর

হযরত লূত (আঃ) তাঁর কওমকে এই বিশেষ নির্লজ্জতাপূর্ণ কাজ থেকে বিরত রাখতে গিয়ে বলেনঃ “তোমরা তোমাদের কাম প্রবৃত্তি চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে পুষদের নিকট যেয়ো না। বরং তোমরা তোমাদের হালাল স্ত্রীদের কাছে গিয়ে তোমাদের কাম বাসনা চরিতার্থ কর, যাদেরকে মহান আল্লাহ তোমাদের জোড়া বানিয়ে দিয়েছেন। তাঁর এ কথার উত্তরে তাঁর কওমের লোকেরা তাঁকে বললোঃ ‘হে লূত (আঃ)! তুমি যদি এ কাজ হতে বিরত না হও তবে অবশ্যই তোমাকে দেশ থেকে বের করে দেয়া হবে। যেমন আল্লাহ তা'আলা অন্য আয়াতে বলেনঃ (আরবি)

অর্থাৎ “উত্তরে তার সম্প্রদায় শুধু বললোঃ তোমরা লুত (আঃ) ও তার অনুসারীদেরকে তোমাদের জনপদ হতে বহিষ্কার কর, তারা তো এমন লোক যারা অতি পবিত্র হতে চায়।” ২৭: ৫৬) তাদের এ অবস্থা দেখে হযরত লুত (আঃ) তাদের প্রতি অসন্তুষ্টি ও তাদের থেকে বিচ্ছিন্নতার কথা ঘোষণা করেন এবং বলেন, “আমি তোমাদের এ জঘন্য কাজের প্রতি অসন্তুষ্ট। আমি এ কাজ মোটেই পছন্দ করি না। আমি মহান আল্লাহর সামনে নিজেকে এসব কাজ হতে মুক্তরূপে প্রকাশ করছি।'
অতঃপর হযরত লূত (আঃ) তাদের বিরুদ্ধে আল্লাহ তা'আলার নিকট বদদু'আ করেন এবং নিজের ও পরিবার-পরিজনদের জন্যে মুক্তির প্রার্থনা করেন। তাঁর স্ত্রী তাঁর কওমের সাথে যোগ দিয়েছিল। তাই সেও তাদের সাথে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। যেমন সূরায়ে আ'রাফ, সূরায়ে হৃদ এবং সূরায়ে হিজরে বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে।

হযরত লূত (আঃ) আল্লাহ তাআলার নির্দেশ অনুযায়ী তাঁর অনুসারীদেরকে নিয়ে ঐ জনপদ হতে সরে পড়লেন। নির্দেশ ছিল যে, তাঁদের সেখান হতে চলে যাওয়ার পরই তাঁর কওমের উপর আল্লাহর শাস্তি আপতিত হবে, ঐ সময় তাদের দিকে ফিরেও তাকানো যাবে না। অতঃপর তাদের সবারই উপর আযাব এসে পড়ে এবং তারা সব ধ্বংস হয়ে যায়। তাদের উপর আকাশ হতে পাথর বর্ষিত হয়। তাদের জন্যে এই প্রস্তর বৃষ্টি ছিল কতই না নিকৃষ্ট! তাদের এ ঘটনাটিও একটি শিক্ষামূলক বিষয়। এতে সবারই জন্যে উপদেশ রয়েছে। কিন্তু তাদের অধিকাংশই মুমিন নয়। তবে আল্লাহ যে মহাপরাক্রমশালী ও পরম দয়ালু এতে সন্দেহের লেশমাত্র নেই।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।