সূরা আশ-শুআ‘রা (আয়াত: 164)
হরকত ছাড়া:
وما أسألكم عليه من أجر إن أجري إلا على رب العالمين ﴿١٦٤﴾
হরকত সহ:
وَ مَاۤ اَسْـَٔلُکُمْ عَلَیْهِ مِنْ اَجْرٍ ۚ اِنْ اَجْرِیَ اِلَّا عَلٰی رَبِّ الْعٰلَمِیْنَ ﴿۱۶۴﴾ؕ
উচ্চারণ: ওয়ামাআছআলুকুম ‘আলাইহি মিন আজরিন ইন আজরিয়া ইল্লা-‘আলা-রাব্বিল ‘আলামীন।
আল বায়ান: ‘আর আমি এর উপর তোমাদের নিকট কোন প্রতিদান চাই না। আমার প্রতিদান কেবল সৃষ্টিকুলের রবের নিকট’।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১৬৪. আর আমি এর জন্য তোমাদের কাছে কোন প্রতিদান চাই না, আমার প্রতিদান তো সৃষ্টিকুলের রব-এর কাছেই আছে।
তাইসীরুল ক্বুরআন: আমি এজন্য তোমাদের কাছে কোন প্রতিদান চাই না, আমার প্রতিদান একমাত্র জগতসমূহের প্রতিপালকের নিকট রয়েছে।
আহসানুল বায়ান: (১৬৪) আমি এর জন্য তোমাদের নিকট কোন প্রতিদান চাই না, আমার প্রতিদান তো বিশ্বজগতের প্রতিপালকের নিকটই আছে।
মুজিবুর রহমান: আমি এ জন্য তোমাদের কাছে কোন প্রতিদান চাইনা, আমার পুরস্কারতো জগতসমূহের রবের নিকটই রয়েছে।
ফযলুর রহমান: আমি এর জন্য তোমাদের কাছে কোন প্রতিদান চাই না। বিশ্বজগতের প্রভুই আমার প্রতিদান দেবেন।”
মুহিউদ্দিন খান: আমি এর জন্যে তোমাদের কাছে কোন প্রতিদান চাই না। আমার প্রতিদান তো বিশ্ব-পালনকর্তা দেবেন।
জহুরুল হক: "আর আমি এর জন্য তোমাদের কাছে কোনো মজুরি চাই না, আমার মজুরি তো বিশ্বজগতের প্রভুর কাছে ছাড়া অন্যত্র নয়।
Sahih International: And I do not ask you for it any payment. My payment is only from the Lord of the worlds.
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ১৬৪. আর আমি এর জন্য তোমাদের কাছে কোন প্রতিদান চাই না, আমার প্রতিদান তো সৃষ্টিকুলের রব-এর কাছেই আছে।
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (১৬৪) আমি এর জন্য তোমাদের নিকট কোন প্রতিদান চাই না, আমার প্রতিদান তো বিশ্বজগতের প্রতিপালকের নিকটই আছে।
তাফসীর:
-
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ১৬০-১৭৫ নং আয়াতের তাফসীর:
উক্ত আয়াতগুলোতে লূত (عليه السلام) ও তার নির্লজ্জ জাতি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
(أَتَأْتُوْنَ الذُّكْرَانَ مِنَ الْعٰلَمِيْنَ)
‘বিশ্বজগতের মধ্যে তো তোমরাই পুরুষের সাথে কুকর্ম কর, অর্থাৎ পৃথিবীতে তারাই সর্বপ্রথম সমকামিতায় লিপ্ত হয়। অথচ নারীদেরকে বিবাহ করা তাদের জন্যও বৈধ ছিল। লূত (عليه السلام) তাদের এ কুকর্ম হতে বিরত থাকতে বললে তারা লূত (عليه السلام)-কে দেশ থেকে বহিস্কার করে দেয়ার হুমকি প্রদান করে।
(إِلَّا عَجُوْزًا) “এক বৃদ্ধা ব্যতীত” এ বৃদ্ধা হলো লূত (عليه السلام)-এর স্ত্রী, তাকেও ধ্বংস করা হয়েছে। কারণ সে ঈমান আনেনি। এদের সম্পর্কে সূরা আ‘রাফের ৮০-৮৪ নং, হূদের ৭৬-৮৩ নং আয়াত ও সূরা হিজর ও অন্যান্য সূরাতে একাধিকবার আলোচনা করা হয়েছে।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ১৬০-১৬৪ নং আয়াতের তাফসীর
এখানে আল্লাহ তা'আলা স্বীয় বান্দা ও রাসূল হযরত লূত (আঃ)-এর বর্ণনা দিচ্ছেন। তাঁর নাম ছিল পূত ইবনে হারান ইবনে আষর। তিনি হযরত ইবরাহীম (আঃ)-এর ভ্রাতুস্পুত্র ছিলেন। হযরত ইবরাহীম (আঃ)-এর জীবদ্দশাতেই আল্লাহ তাআলা হযরত লূত (আঃ)-কে অত্যন্ত দুষ্ট প্রকৃতির উম্মতের নিকট প্রেরণ করেন। ঐ লোকগুলো সাযুম এবং ওর আশে পাশে বসবাস করতো। অবশেষে তাদের দুষ্কর্মের কারণে তাদের উপরও আল্লাহর শাস্তি আপতিত হয় এবং তারা সবাই ধ্বংস হয়ে যায়। তাদের বসতিগুলোর জায়গাটি একটি ময়লাযুক্ত দুর্গন্ধময় পানির বিলে পরিণত হয়েছে। ওটা এখনো বেলাদে গাওর নামে প্রসিদ্ধ হয়ে রয়েছে যা বায়তুল মুকাদ্দাস এবং বেলাদে কারক ও শাওবাকের মধ্যভাগে অবস্থিত। ঐ লোকগুলোও আল্লাহর রাসূল হযরত লূত (আঃ)-কে অবিশ্বাস করে। তিনি তাদেরকে আল্লাহর নাফরমানী পরিত্যাগ করার এবং তাঁর আনুগত্য করার উপদেশ দেন। তিনি যে তাদের নিকট রাসূলরূপে প্রেরিত হয়েছে তা তিনি তাদের কাছে প্রকাশ করেন। তিনি তাদেরকে বলেন যে, তিনি ঐ কাজের জন্যে তাদের কাছে কোন প্রতিদান চান না। তার পুরস্কার তো রয়েছে বিশ্বপ্রতিপালক আল্লাহর নিকট। তিনি তাদেরকে বলেন, তোমরা তোমাদের জঘন্য কাজ হতে বিরত থাকো অর্থাৎ নারীদেরকে ছেড়ে পুরুষদের দ্বারা তোমাদের কাম প্রবৃত্তি চরিতার্থ করতে যেয়ো না। কিন্তু তারা তাঁর কথা মানলো না, বরং তাকে কষ্ট দিতে শুরু করলো।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।