সূরা আন-নূর (আয়াত: 63)
হরকত ছাড়া:
لا تجعلوا دعاء الرسول بينكم كدعاء بعضكم بعضا قد يعلم الله الذين يتسللون منكم لواذا فليحذر الذين يخالفون عن أمره أن تصيبهم فتنة أو يصيبهم عذاب أليم ﴿٦٣﴾
হরকত সহ:
لَا تَجْعَلُوْا دُعَآءَ الرَّسُوْلِ بَیْنَکُمْ کَدُعَآءِ بَعْضِکُمْ بَعْضًا ؕ قَدْ یَعْلَمُ اللّٰهُ الَّذِیْنَ یَتَسَلَّلُوْنَ مِنْکُمْ لِوَاذًا ۚ فَلْیَحْذَرِ الَّذِیْنَ یُخَالِفُوْنَ عَنْ اَمْرِهٖۤ اَنْ تُصِیْبَهُمْ فِتْنَۃٌ اَوْ یُصِیْبَهُمْ عَذَابٌ اَلِیْمٌ ﴿۶۳﴾
উচ্চারণ: লা-তাজ‘আলূদু‘আআররাছূলি বাইনাকুম কাদু‘আই বা‘দিকুম বা‘দান কাদ ইয়ালামুল্লা-হুল্লাযীনা ইয়াতাছাল্লালূনা মিনকুম লিওয়া-যান ফালইয়াহযারিল্লাযীনা ইউখালিফূনা ‘আন আমরিহীআন তুসীবাহুম ফিতনাতুন আও ইউসীবাহুম ‘আযা-বুন আলীম।
আল বায়ান: তোমরা পরস্পরকে যেভাবে ডাকো রাসূলকে সেভাবে ডেকো না; তোমাদের মধ্যে যারা চুপিসারে সরে পড়ে আল্লাহ অবশ্যই তাদেরকে জানেন। অতএব যারা তাঁর নির্দেশের বিরুদ্ধাচরণ করে তারা যেন তাদের ওপর বিপর্যয় নেমে আসা অথবা যন্ত্রণাদায়ক আযাব পৌঁছার ভয় করে।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৬৩. তোমরা রাসূলের আহ্বানকে তোমাদের একে অপরের আহবানের মত গণ্য করো না; তোমাদের মধ্যে যারা একে অপরকে আড়াল করে অলক্ষ্যে সরে পড়ে আল্লাহ্ তো তাদেরকে জানেন।(১) কাজেই যারা তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে তারা সতর্ক হোক যে, বিপর্যয় তাদের উপর আপতিত হবে অথবা আপতিত হবে তাদের উপর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।(২)
তাইসীরুল ক্বুরআন: রসূলের ডাককে তোমরা তোমাদের একের প্রতি অন্যের ডাকের মত গণ্য করো না। আল্লাহ তাদেরকে জানেন যারা তোমাদের মধ্যে চুপিসারে সরে পড়ে। কাজেই যারা তার আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে তারা সতর্ক হোক যে, তাদের উপর পরীক্ষা নেমে আসবে কিংবা তাদের উপর নেমে আসবে ভয়াবহ শাস্তি।
আহসানুল বায়ান: (৬৩) রসূলের আহবানকে তোমরা তোমাদের একে অপরের প্রতি আহবানের মত গণ্য করো না;[1] তোমাদের মধ্যে যারা চুপি চুপি সরে পড়ে, আল্লাহ তাদের জানেন।[2] সুতরাং যারা তার আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে তারা সতর্ক হোক যে, বিপর্যয়[3] অথবা কঠিন শাস্তি তাদেরকে গ্রাস করবে ।
মুজিবুর রহমান: রাসূলের আহবানকে তোমরা একে অপরের প্রতি আহবানের মত গণ্য করনা; তোমাদের মধ্যে যারা চুপি চুপি সরে পড়ে আল্লাহ তাদেরকে জানেন। সুতরাং যারা তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে তারা সতর্ক হোক যে, বিপর্যয় তাদের উপর আপতিত হবে অথবা আপতিত হবে তাদের উপর কঠিন শাস্তি।
ফযলুর রহমান: তোমরা রসূলের আহবানকে তোমাদের একে অপরের প্রতি আহবানের মত মনে করো না। তোমাদের মধ্যে যারা (কোথাও) আশ্রয় পাওয়ার জন্য সটকে পড়ে আল্লাহ তাদেরকে জানেন। অতএব, যারা তার আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে তারা যেন তাদের ওপর কঠিন পরীক্ষা কিংবা কষ্টদায়ক আজাব আসার ব্যাপারে সতর্ক থাকে।
মুহিউদ্দিন খান: রসূলের আহবানকে তোমরা তোমাদের একে অপরকে আহ্বানের মত গণ্য করো না। আল্লাহ তাদেরকে জানেন, যারা তোমাদের মধ্যে চুপিসারে সরে পড়ে। অতএব যারা তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে, তারা এ বিষয়ে সতর্ক হোক যে, বিপর্যয় তাদেরকে স্পর্শ করবে অথবা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি তাদেরকে গ্রাস করবে।
জহুরুল হক: তোমাদের মধ্যে রসূলের আহ্বানকে তোমরা তোমাদের মধ্যের একে অন্যে আহ্বানের মতো গণ্য করো না। আল্লাহ্ অবশ্যই তাদের জানেন তোমাদের মধ্যের যারা চুপি চুপি সরে পড়ে, সেজন্য যারা তাঁর আদেশের বিরুদ্ধে যায় তারা সাবধান হোক পাছে কোনো বিপর্যয় তাদের উপরে পতিত হয়, অথবা কোনো মর্মন্তদ শাস্তি তাদের উপরে আপতিত হয়।
Sahih International: Do not make [your] calling of the Messenger among yourselves as the call of one of you to another. Already Allah knows those of you who slip away, concealed by others. So let those beware who dissent from the Prophet's order, lest fitnah strike them or a painful punishment.
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৬৩. তোমরা রাসূলের আহ্বানকে তোমাদের একে অপরের আহবানের মত গণ্য করো না; তোমাদের মধ্যে যারা একে অপরকে আড়াল করে অলক্ষ্যে সরে পড়ে আল্লাহ্– তো তাদেরকে জানেন।(১) কাজেই যারা তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে তারা সতর্ক হোক যে, বিপর্যয় তাদের উপর আপতিত হবে অথবা আপতিত হবে তাদের উপর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।(২)
তাফসীর:
(১) আয়াতের অর্থ নির্ধারনে বেশ কয়েকটি মত এসেছে, (এক) (لَا تَجْعَلُوا دُعَاءَ الرَّسُولِ) এর অর্থ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের তরফ থেকে মুসলিমদেরকে ডাকা। (ব্যাকরণগত কায়দার দিক দিয়ে এটা إضافة إلى الفاعل) আয়াতের অর্থ এই যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ডাকেন, তখন একে সাধারণ মানুষের ডাকার মত মনে করো না যে, সাড়া দেয়া না দেয়া ইচ্ছাধীন; বরং তখন সাড়া দেয়া ফরয হয়ে যায় এবং অনুমতি ছাড়া চলে যাওয়া হারাম হয়ে যায়। আয়াতের বর্ণনাধারার সাথে এই তাফসীর অধিক নিকটবর্তী ও মিলে যায়। (দুই) আয়াতের অপর একটি তাফসীর ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে ইবনে কাসীর, কুরতুবী প্রমুখ বৰ্ণনা করেছেন। তা এই যে, (دُعَاءَ الرَّسُولِ) এর অর্থ মানুষের তরফ থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কোন কাজের জন্য ডাকা। (ব্যাকরণগত কায়দার দিক দিয়ে এটা إضافة إلى المفعول)। এই তাফসীরের ভিত্তিতে আয়াতের অর্থ এই যে, যখন তোমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কোন প্রয়োজনে আহবান কর অথবা সম্বোধন কর, তখন সাধারণ লোকের ন্যায় তার নাম নিয়ে ইয়া মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলবে না- এটা বেআদবী; বরং সম্মানসূচক উপাধি দ্বারা ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ’ অথবা ‘ইয়া নবীআল্লাহ’ বলবে। [বাগভী]
(২) অর্থাৎ যারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রদর্শিত পথের বিরোধিতা করে, তার প্রবর্তিত শৱীয়ত ও আইন অনুসারে জীবন পরিচালনা করে না, তার সুন্নাতের বিরোধিতা করে, তারা যেন তাদের অন্তরে কুফরী, নিফাকী, বিদ’আত ইত্যাদি লালন করে অথবা তারা তাতে নিপতিত হওয়ার আশংকা করে। আরো আশংকা করে যে, তাদের উপর কঠোর শাস্তি আসবে। হত্যা, দণ্ডবিধি, জেল ইত্যাদি দুনিয়াতে এবং আখেরাতেও তাদের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি এমন কোন কাজ করবে যা আমার প্রদর্শিত পথের উপর নয়, তা তার উপরই ফিরিয়ে দেয়া হবে, গ্ৰহণযোগ্য হবে না।” [বুখারীঃ ২৬৯৭, মুসলিমঃ ১৭১৮]
অন্য এক হাদীসে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “আমার এবং তোমাদের মাঝে উদাহরণ হলো এমন এক ব্যক্তির, যে আগুন জ্বালালো, তারপর সে আলোয় যখন চতুর্দিক আলোকিত হলো, তখন দেখা গেল যে, পোকামাকড় এবং ঐসমস্ত প্ৰাণী যা আগুনে পড়ে, সেগুলো আগুনে পড়তে লাগলো। তখন সে ব্যক্তি তাদেরকে আগুন থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে চাইলো। কিন্তু সেগুলো তাকে ছাড়িয়ে সে আগুনে ঝাঁপ দিতে থাকলো। তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এটাই হলো আমার এবং তোমাদের উদাহরণ। আমি তোমাদের কোমরের কাপড়ের গিরা ধরে আগুন থেকে দূরে রাখছি। এবং বলছিঃ আগুন থেকে দূরে থাক। কিন্তু তোমরা আমাকে ছাড়িয়ে ছুটে গিয়ে আগুনে ঝাপ দিচ্ছি।” [বুখারীঃ ৬৪৮৩, মুসিলিমঃ ২২৮৪]
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৬৩) রসূলের আহবানকে তোমরা তোমাদের একে অপরের প্রতি আহবানের মত গণ্য করো না;[1] তোমাদের মধ্যে যারা চুপি চুপি সরে পড়ে, আল্লাহ তাদের জানেন।[2] সুতরাং যারা তার আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে তারা সতর্ক হোক যে, বিপর্যয়[3] অথবা কঠিন শাস্তি তাদেরকে গ্রাস করবে ।
তাফসীর:
[1] এর একটি অর্থ হল, যেভাবে তোমরা এক অপরকে নাম ধরে ডাক, রসূলকে ঐভাবে ডাকবে না। যেমন ‘ওহে মুহাম্মাদ!’ না বলে ‘হে আল্লাহর রসূল! হে আল্লাহর নবী’ ইত্যাদি বলে ডাকবে। (এটি ছিল তাঁর জীবিতকালের নির্দেশ; যখন তাঁকে ডাকা সাহাবাদের প্রয়োজন হত)। এর দ্বিতীয় অর্থ হল, রসূলের বদ্দুআকে অন্যান্যদের বদ্দুআর মত ভেবো না। কারণ নবীর দু’আ কবুল হয়। অতএব তোমরা নবীর বদ্দুআ নেওয়া হতে দূরে থাক; নচেৎ তোমরা ধ্বংস হয়ে যাবে।
[2] এ ছিল মুনাফিকদের আচরণ। পরামর্শ সভা হতে তারা চুপিচুপি বেরিয়ে পড়ত।
[3] ‘বিপর্যয়’ বলতে অন্তরের সেই বত্রুতাকে বুঝানো হয়েছে, যা মানুষকে ঈমান হতে বঞ্চিত করে ফেলে। এ হল নবী (সাঃ)-এর আদেশ থেকে বিমুখতা প্রদর্শন করা এবং তাঁর বিরোধিতা করার পরিণাম। আর ঈমান থেকে বঞ্চনা ও কুফরী অবস্থায় মৃত্যুবরণ জাহান্নামের চিরস্থায়ী শাস্তির কারণ; যেমন আয়াতের শেষাংশে বলা হয়েছে। অতএব নবী (সাঃ)-এর আদর্শ, তরীকা ও সুন্নতকে সব সময় সামনে রাখা উচিত। কারণ, যেসব কথা ও কাজ সুন্নত মোতাবেক হবে তা আল্লাহর নিকটে গ্রহণীয়; অন্যথা সব প্রত্যাখ্যাত। নবী (সাঃ) বলেছেন, ‘‘যে ব্যক্তি এমন কর্ম করবে যাতে আমাদের নির্দেশ নেই, তা প্রত্যাখ্যাত।’’ (মুসলিম)
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৬২-৬৪ নং আয়াতের তাফসীর:
আলোচ্য আয়াতে মু’মিনদেরকে আল্লাহ তা‘আলা কয়েকটি শিক্ষামূলক দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। এক. মু’মিনরা যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে কোন সমষ্টিগত বিষয়েন যেমন জিহাদ, পরামর্শ, আলোচনা বৈঠক অনুরূপ ইত্যাদি ব্যাপারে একত্রিত হয় তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অনুমতি ছাড়া মাজলিস ত্যাগ করবে না। কোন প্রয়োজন দেখা দিলে তাঁর কাছে যথারীতি অনুমতি গ্রহণ করবে। এরকম সমষ্টিগত বৈঠক থেকে প্রয়োজনে অনুমতি নিয়ে যাওয়াকে ঈমানের সাথে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ যারা আল্লাহ তা‘আলা ও রাসূলের প্রতি ঈমানদার তারাই এরূপ সমষ্টিগত মাজলিস থেকে অনুমতি নিয়ে বের হয় যা আয়াতের প্রথম শব্দে নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে। সুতরাং যারা ঈমানদার নয়, অন্তরে নিফাকী রয়েছে কেবল তারাই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অনুমতি না নিয়ে মাজলিস ত্যাগ করে। তাই কেউ এরূপ সমষ্টিগত মাজলিস থেকে যাওয়ার অনুমতি চাইলে তাকে অনুমতি দেয়ার জন্য রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে দুটি শর্তসাপেক্ষে অনুমতি দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। ১. যিনি অনুমতি চাচ্ছেন তিনি যদি কোন বিশেষ প্রয়োজনে অনুমতি প্রার্থনা করেন যেমনন প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেয়া বা পরিবারের কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ইত্যাদিন তাহলে অনুমতি দেয়া হবে, বিনা প্রয়োজনে অনুমতি দেয়া যাবে না। ২. তিনি যাকে যাওয়ার অনুমতি দেয়ার ইচ্ছা করবেন এবং তাকে অনুমতি দেয়াটাই কল্যাণ হবে বলে মনে করেন। সুতরাং এ দুটি শর্ত সামনে রেখে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যাকে মাজলিস ত্যাগ করার অনুমতি দেবেন সে ব্যক্তিই মাজলিস ত্যাগ করতে পারবে, সে জন্য রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে আল্লাহ তা‘আলা অনুমতি প্রার্থনাকারী ব্যক্তির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করার নির্দেশ দিচ্ছেন। (তাফসীর সা‘দী) এরূপ সমষ্টিগত মাজলিস থেকে বিনা অনুমতিতে চলে যাওয়া কি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মাজলিসের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, না ব্যাপক? এটা শুধু রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মাজলিসের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয় বরং তা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উত্তরাধিকারী আলেম, ইমাম ও আমীরদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। সুতরাং কোন আলেম যদি মুসলিমদের নিয়ে সমাবেশ করেন, ধর্মীয় কোন আলোচনা বৈঠক করেন তাহলে সেখান থেকে সে আলেমের বিনা অনুমতিতে চলে যাওয়া বৈধ নয়।
দুই. ‘‘রাসূলের আহ্বানকে” এখানে দুটি অর্থ রয়েছেন
১. اضافة الي الفاعل
আয়াতের অর্থ হলন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন ডাকেন তখন একে তোমাদের সাধারণ মানুষের ডাকার মত মনে করো না, যার সাড়া দেয়া, না দেয়া তোমাদের ইচ্ছাধীন নয়। বরং তখন সাড়া দেয়া ওয়াজিব। এমনকি সালাতরত অবস্থাতে থাকলেও রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ডাকে সাড়া দেয়া আবশ্যক।
২. اضافة الي المفعول
আয়াতের অর্থ হলন যখন তোমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে কোন প্রয়োজনে আহ্বান কর অথবা সম্বোধন কর, তখন সাধারণ লোকের ন্যায় তাঁর নাম নিয়ে “হে মুহাম্মাদ, হে মুহাম্মাদ বিন আবদুল্লাহ” বলবে না। এটা বেআদবী, বরং সম্মানসূচক উপাধি “হে আল্লাহর রাসূল, হে আল্লাহ তা‘আলার নাবী” ইত্যাদি বলে ডাকবে। এরূপভাবে ডাকতে সূরা হুজুরাতেও নিষেধ করা হয়েছে।
التسلل অর্থ বের হয়ে যাওয়া, لواذ কোন কিছু গোপন রাখা যাতে কেউ না দেখে। অর্থাৎ মুনাফিকরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বৈঠক থেকে চুপিসারে বের হয়ে যেত যাতে কেউ দেখতে না পায়। এদেরকে আল্লাহ তা‘আলা হুশিয়ারী দিয়ে বলছেন, তোমার যা করছো তা মানুষ দেখতে না পেলেও আল্লাহ তা‘আলা দেখছেন। এর যথার্থ প্রতিদান তিনিই দেবেন।
(عَنْ أَمْرِه۪) “তাঁর আদেশের” তাঁর আদেশ বলতে কার আদেশ বুঝানো হয়েছেন এ নিয়ে দুটি মত পাওয়া যায়। কেউ বলেছেন, আল্লাহ তা‘আলার আদেশ; কেউ বলেছেন, রাসূলের আদেশ। তবে উদ্দেশ্য একটাই, কারণ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহ তা‘আলার আদেশগুলো পৌছে দেন, তাই রাসূলের আদেশ মানে আল্লাহ তা‘আলার আদেশ। সুতরাং যারা রাসূলের আদেশ অমান্য করে তাদের সতর্ক হওয়া উচিত, রাসূলের আদেশকে অমান্য করার কারণে তাদের ওপর ফেতনা আপতিত হবে অথবা কঠিন শাস্তি তাদেরকে গ্রাস করবে।
فِتْنَةٌ অর্থাৎ শিরক, অকল্যাণ ও অন্তরের সে বক্রতা আপতিত হবে যা ঈমান থেকে বঞ্চিত করে। আর ঈমান থেকে বঞ্চিত হওয়ার ফলাফল হল জাহান্নাম, যাতে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে। সুতরাং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আদেশ, সুন্নাত ও আদর্শ বর্জন করার কোন সুযোগ নেই। যে কেউ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আদেশ অমান্য করে সুন্নত বর্জন করে কোন আমল করবে আল্লাহ তা‘আলা তার আমল কবূল করবেন না। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
مَنْ عَمِلَ عَمَلًا لَيْسَ عَلَيْهِ أَمْرُنَا فَهُوَ رَدٌّ
যে ব্যক্তি এমন কোন আমল করবে যা আমাদের নির্দেশিত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত। (সহীহ মুসলিম হা: ১৭১৮)
এমনকি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কথার ওপর কারো কথা প্রাধান্য দেয়া গুরুতর অপরাধ। সে ব্যক্তি যত বড়ই হোক না কেন। ইবনু আব্বাস (رضي الله عنه) বলেন: আমি আশংকা করছি তোমাদের ওপর আকাশ থেকে পাথর বর্ষিত হবে। আমি বলছি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, আর তোমরা বলছ আবূ বকর ও উমার বলেছেন। অর্থাৎ যেখানে আল্লাহ তা‘আলার রাসূলের কথা রয়েছে সেখানে আবূ বকর ও উমারের কথা কিভাবে নিয়ে আসছো?
ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল বলেন: আমি ঐ সকল লোকদের ব্যাপারে আশ্চর্যবোধ করি যারা (কোন হাদীসের) সনদ সহীহ হিসেবে জানে তার পরে (তা বাদ দিয়ে) সুফইয়ান সাওরীর কথার দিকে চলে যায়। অর্থাৎ হাদীস সহীহ জানা সত্ত্বেও তা বর্জন করে বিভিন্ন ইমাম সাহেবের কথা গ্রহণ করে। তারপর তিনি এ আয়াতটি তেলাওয়াত করলেন এবং বললেন: তোমরা কি জান ফেতনা কী? ফেতনা হলন শিরক, যদি কেউ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কথা পাওয়ার পর তা বর্জন করে তাহলে তার অন্তরে এমন বক্রতা সৃষ্টি হবে যা তাকে ধ্বংস করে দিবে।
(أَلَآ إِنَّ لِلّٰهِ)
অর্থাৎ সৃষ্টি, মালিক, পরিচালনাসহ সব কিছুর দিক দিয়ে আকাশ-জমিনের যা কিছু আছে সবই আল্লাহ তা‘আলার। তিনি যা ইচ্ছা তাই করতে পারেন। সুতরাং আল্লাহ তা‘আলাকে ভয় করা উচিত।
(قَدْ يَعْلَمُ مَآ أَنْتُمْ عَلَيْهِ)
অর্থাৎ আনুগত্য, অবাধ্য বা অন্য যে কোন অবস্থাতে থাক না কেন আল্লাহ তা‘আলা সব জানেন। অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(وَيَعْلَمُ مَا فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ ط وَمَا تَسْقُطُ مِنْ وَّرَقَةٍ إِلَّا يَعْلَمُهَا وَلَا حَبَّةٍ فِيْ ظُلُمٰتِ الْأَرْضِ وَلَا رَطْبٍ وَّلَا يَابِسٍ إِلَّا فِيْ كِتٰبٍ مُّبِيْنٍ)
“জলে ও স্থলে যা কিছু আছে তা তিনিই অবগত, তাঁর অজ্ঞাতসারে একটি পাতাও পড়ে না। মাটির অন্ধকারে এমন কোন শস্যকণাও অঙ্কুরিত হয় না অথবা রসযুক্ত কিংবা শুষ্ক এমন কোন বস্তু নেই যা সুস্পষ্ট কিতাবে (লাওহে মাহফূজে) নেই।” (সূরা আন‘আম ৬:৫৯)
সুতরাং যেদিন তোমরা তাঁর কাছে ফিরে যাবে সেদিন তিনি তোমাদেরকে দুনিয়ার আমল সম্পর্কে জানিয়ে দেবেন, আর সে অনুপাতে প্রতিদান দেবেন।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. ঈমানদারদের বৈশিষ্ট্য হল তারা সমষ্টিগত কোন বৈঠকে থাকলে নেতার অনুমতি ছাড়া চলে যায় না।
২. যার নিকট অনুমতি প্রার্থনা করবে সে প্রয়োজন মনে করলে অনুমিত দিবে, অথবা দিবে না।
৩. রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সাধারণ লোকের মত ডাকতে নিষেধ করা হয়েছে।
৪. আল্লাহ তা‘আলা ও তাঁর রাসূলের নির্দেশের অমান্য করা যাবে না।
৫. সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী একমাত্র আল্লাহ তা‘আলা।
৬. আল্লাহ তা‘আলা মানুষের সকল বিষয় সম্পর্কে অবগত আছেন।
৭. কিয়ামত দিবসে প্রত্যেককে তার কৃতকর্মের ফলাফল দেয়া হবে।
৮. রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাত অনুযায়ী আমল না করলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: হযরত যহহাক (রঃ) এবং হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, লোকেরা রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে ‘হে মুহাম্মাদ (সঃ)!' এবং 'হে আবুল কাসেম (সঃ)!' বলে আহ্বান করতো, যেমন তারা একে অপরকে ডেকে থাকে। আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে এই বেআদবী হতে নিষেধ করে দেন। তাদেরকে তিনি বলেনঃ তোমরা রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর নাম ধরে ডাকো না। বরং হে আল্লাহর নবী (সঃ)!’ বা ‘হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)!' এই বলে ডাকবে। তাহলে তাঁর বুযর্গী, মর্যাদা ও অদিবের প্রতি লক্ষ্য রাখা হবে। নিম্নলিখিত আয়াতগুলোও এই আয়াতের মতই। আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (আরবি)
অর্থাৎ “হে মুমিনগণ!” রাইনা (হে নির্বোধ) বলো না, এবং ‘উনযুর না’ (আমাদের প্রতি লক্ষ্য করুন!) বলো, আর শুনে রেখো, কাফিরদের জন্যে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি রয়েছে।” (২: ১০৪) আর এক জায়গায় মহান আল্লাহ বলেনঃ (আরবি)
অর্থাৎ “হে মুমিনগণ! তোমরা নবী (সঃ)-এর কণ্ঠস্বরের উপর নিজেদের কণ্ঠস্বর উঁচু করো না এবং নিজেদের মধ্যে যেভাবে উচ্চ স্বরে কথা বল তার সাথে সেইরূপ উচ্চ স্বরে কথা বলো না, কারণ এতে তোমাদের কর্ম নিষ্ফল হয়ে যাবে তোমাদের অজ্ঞাতসারে।
যারা আল্লাহর রাসূল (সঃ)-এর সামনে নিজেদের কণ্ঠস্বর নীচু করে, আল্লাহ তাদের অন্তরকে তাকওয়ার জন্যে পরিশোধিত করেছেন; তাদের জন্যে রয়েছে ক্ষমা ও মহা পুরস্কার।
যারা ঘরের পিছন হতে তোমাকে উচ্চ স্বরে ডাকে, তাদের অধিকাংশই নির্বোধ। তুমি বের হয়ে তাদের নিকট আসা পর্যন্ত যদি তারা ধৈর্যধারণ করতো তবে তাই তাদের জন্যে উত্তম হতো; আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম, দয়ালু।” (৪৯;২-৫)
সুতরাং এসব দ্বারা মুমিনদেরকে দ্রতা শিখানো হয়েছে যে, তাঁকে কিভাবে সম্বোধন করতে হবে, কিভাবে তার সাথে কথাবার্তা বলতে হবে, কিভাবে তার সাথে আলাপ-আলোচনা করতে হবে ইত্যাদি। এমনকি পূর্বে তো তার সাথে আলাপ-আলোচনা করার সময় সাদকা করার হুকুম ছিল। এই আয়াতের একটি ভাবার্থততা এই হলো। দ্বিতীয় ভাবার্থ হলোঃ রাসূল (সঃ)-এর দু'আকে তোমরা তোমাদের পরস্পরের দু'আর মত মনে করো না। তার দু'আতো কবুল হবেই। সুতরাং সাবধান! তোমরা আমার নবী (সঃ)-কে কষ্ট দিয়ো না। অন্যথায় তোমাদের বিরুদ্ধে কোন বদদু'আ যদি তার মুখ দিয়ে বেরিয়ে পড়ে তবে তোমরা ধ্বংস হয়ে যাবে।
এর পূর্ববর্তী বাক্যের তাফসীরে মুকাতিল ইবনে হাইয়ান (রঃ) বলেন যে, জুমআর দিন খুৎবায় বসে থাকা মুনাফিকদের কাছে খুবই ভারী বোধ হতো। আর মসজিদে এসে যাওয়া এবং খুৎবা শুরু হয়ে যাবার পর কেউ নবী (সঃ)-এর অনুমতি ছাড়া বাইরে যেতে পারতো না। কারো বাইরে যাওয়ার একান্ত প্রয়োজন হয়ে পড়লে সে নবী (সঃ)-এর কাছে অনুমতি চাইতো এবং তিনি তাকে অনুমতি দিতেন। কেননা, খুত্বার সময় কথা বললে জুমআ বাতিল হয়ে যায়। তখন এই মুনাফিক আড়ে আড়েই দৃষ্টি বাঁচিয়ে সটকে পড়তো। সুদ্দী (রঃ) বলেন যে, জামাআতে যখন এই মুনাফিক থাকতো তখন একে অপরের আড়ালে হয়ে পালিয়ে যেতো। আল্লাহর নবী (সঃ) হতে এবং তার কিতাব হতে সরে যেতো। জামাআতের সারি হতে বেরিয়ে গিয়ে ইসলামের বিরোধিতায় উঠে পড়ে লেগে যেতো।
যে ব্যক্তি রাসূল (সঃ)-এর আদেশের, তাঁর সুন্নাতের, তাঁর হুকুমের, তার নীতির এবং তাঁর শরীয়তের বিরুদ্ধাচরণ করবে সে শাস্তিপ্রাপ্ত হবে। মানুষের কথা ও কাজকে আল্লাহর রাসূল (সঃ)-এর সুন্নাত ও হাদীসের সাথে মিলানো উচিত। যদি তা তাঁর সুন্নাতের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় তবে তো তা ভাল। আর যদি সুন্নাতের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হয় তবে তা অবশ্যই অগ্রাহ্য।
রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি এমন কাজ করে যার উপর আমার আদেশ নেই তা অগ্রাহ্য।” (এ হাদীসটি সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে) প্রকাশ্যে বা গোপনে যে কেউই শরীয়তে মুহাম্মাদীর (সঃ) বিপরীত করে, তার অন্তরে কুফরী, নিফাক, বিদাআত ও মন্দের বীজ বপন করে দেয়া হয়। তাকে কঠিন শাস্তি দেয়া হয়, হয়তো দুনিয়াতেই হত্যা, বন্দী, হদ ইত্যাদির মাধ্যমে অথবা পরকালের পারলৌকিক শাস্তি দ্বারা।
হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে বলতে শুনেছেনঃ “আমি এবং মানুষের দৃষ্টান্ত সেই ব্যক্তির ন্যায়, যে আগুন জ্বালালো। আর আগুন যখন তার চারপাশ আলোকিত করলো, পতঙ্গ ও যেসব প্রাণী আগুনে ঝাঁপ দেয় সেগুলো ঝাঁপ দিতে লাগলো। তখন সেই ব্যক্তি সেগুলোকে (আগুন থেকে ফিরাবার চেষ্টা করলো, তা সত্ত্বেও সেগুলো আগুনে পুড়ে মরে। সুতরাং এটাই আমার ও তোমাদের দৃষ্টান্ত। আমিও তোমাদের কোমর ধরে আগুন থেকে বাঁচাবার চেষ্টা করি, কিন্তু তোমরা তাতে পতিত হও। (হাদীসটি ইমাম আহমাদ (রঃ) স্বীয় মুসনাদে বর্ণনা করেছেন। ইমাম বুখারী (রঃ) ও ইমাম ফুসলিমও (রঃ) এটা তাখরীজ করেছেন)
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।