সূরা আল-মুমিনুন (আয়াত: 46)
হরকত ছাড়া:
إلى فرعون وملئه فاستكبروا وكانوا قوما عالين ﴿٤٦﴾
হরকত সহ:
اِلٰی فِرْعَوْنَ وَ مَلَا۠ئِهٖ فَاسْتَکْبَرُوْا وَ کَانُوْا قَوْمًا عَالِیْنَ ﴿ۚ۴۶﴾
উচ্চারণ: ইলা-ফিরআওনা ওয়া মালাইহী ফাছতাকবারূওয়া কা-নূকাওমান ‘আ-লীন।
আল বায়ান: ফির‘আউন ও তার পারিষদবর্গের কাছে; কিন্তু তারা অহঙ্কার করল এবং তারা ছিল উদ্ধত কওম।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৪৬. ফিরআউন ও তার পরিষদবর্গের কাছে। কিন্তু তারা অহংকার করল; আর তারা ছিল উদ্ধত সম্প্রদায়।(১)
তাইসীরুল ক্বুরআন: ফেরাউন ও তার প্রধানগণের কাছে। কিন্তু তারা অহংকার করল, তারা ছিল এক উদ্ধত জাতি।
আহসানুল বায়ান: (৪৬) ফিরআউন ও তার পারিষদবর্গের নিকট; কিন্তু তারা অহংকার করল। তারা ছিল উদ্ধত সম্প্রদায়।[1]
মুজিবুর রহমান: ফির‘আউন ও তার পরিষদবর্গের নিকট; কিন্তু তারা অহঙ্কার করল; তারা ছিল উদ্ধত সম্প্রদায়।
ফযলুর রহমান: ফেরাউন ও তার সভাষদদের কাছে। কিন্তু তারা নিজেদেরকে বড় মনে করল। আর তারা ছিল এক উদ্ধত জনগোষ্ঠী।
মুহিউদ্দিন খান: ফেরআউন ও তার অমাত্যদের কাছে। অতঃপর তারা অহংকার করল এবং তারা উদ্ধত সম্প্রদায় ছিল।
জহুরুল হক: ফিরআউন ও তার পরিষদবর্গের কাছে, কিন্ত তারা অহংকার দেখিয়েছিল এবং তারা ছিল এক উদ্ধত জাতি।
Sahih International: To Pharaoh and his establishment, but they were arrogant and were a haughty people.
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৪৬. ফিরআউন ও তার পরিষদবর্গের কাছে। কিন্তু তারা অহংকার করল; আর তারা ছিল উদ্ধত সম্প্রদায়।(১)
তাফসীর:
(১) মূলে (قَوْمًا عَالِينَ) শব্দগুলো ব্যবহার করা হয়েছে। এর অর্থ, তারা ছিল বড়ই আত্মম্ভরী, জালেম ও কঠোর। তারা নিজেদেরকে অনেক বড় মনে করতো এবং উদ্ধত আস্ফালন করতো। [ফাতহুল কাদীর]
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৪৬) ফিরআউন ও তার পারিষদবর্গের নিকট; কিন্তু তারা অহংকার করল। তারা ছিল উদ্ধত সম্প্রদায়।[1]
তাফসীর:
[1] অহংকার ও নিজকে বড় মনে করার মূল কারণও ঐ পরকালে অবিশ্বাস ও পার্থিব বিলাস-সামগ্রির অতিশয্য ছিল। যার বর্ণনা পূর্ববর্তী জাতির ঘটনায় উল্লেখ হয়েছে।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৪৫-৪৯ নং আয়াতের তাফসীর:
অত্র আয়াতে মূসা (عليه السلام) ও তাঁর সহোদর ভাই হারূন (عليه السلام) সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে নবুওয়াত দিয়ে ফির‘আউনের কাছে দাওয়াত দেয়ার জন্য প্রেরণ করলেন। কারণ ফিরআউন ছিল সে দেশের বাদশা, যে আল্লাহ তা‘আলার অবাধ্য ছিল এবং একটি অত্যাচারী সম্প্রদায় ছিল। বানী-ইসরাঈলদের ওপর নির্যাতন করত, নিজে রব দাবী করত। মূসা ও হারূন (عليه السلام) তার কাছে তাওহীদের দাওয়াত নিয়ে আসলে সে তাদেরকে মানুষ বলে দাওয়াত প্রত্যাখ্যান করে। এছাড়াও অনেক কারণ ও বিস্তারিত ঘটনা সূরা ত্বা-হা- ও সূরা কাসাসে আলোচনা করা হয়েছে।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৪৫-৪৯ নং আয়াতের তাফসীর:
আল্লাহ তা'আলা খবর দিচ্ছেন যে, তিনি হযরত মূসা (আঃ) ও তাঁর ভাই হারুন (আঃ)-কে নিদর্শন ও সুস্পষ্ট প্রমাণসহ ফিরাউন ও তার পারিষদবর্গের নিকট প্রেরন করেন। কিন্তু তারা তাদের পূর্ববর্তী কাফিরদের মতই তাদেরকে সি করে এবং তাঁদের বিরুদ্ধাচরণে উঠে পড়ে লেগে যায়। তারা তাদেরকে বলেঃ তোমরা তো আমাদের মতই মানুষ। সুতরাং আমরা তোমাদের নবুওয়াতকে বিশ্বাস করতে পারি না। তাদের অন্তর তাদের পূর্ববর্তী কাফিরদের মতই শক্ত হয়ে যায়। অবশেষে একদিনেই আল্লাহ তা'আলা তাদের সবকেই সমুদ্রে ডুবিয়ে দেন।
এরপর লোকদেরকে হিদায়াত করার জন্যে হযরত মূসা (আঃ)-কে তাওরাত প্রদান করা হয়। আবার মুমিনদের হাতে কাফিররা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। জিহাদের হুকুম অবতীর্ণ হয়। ফিরাউন ও তার কওম কিবতীদের পরে এরূপভাবে সাধারণ আযাবে কোন উম্মত সমূলে ধ্বংস হয়ে যায়নি। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “আমি তো পূর্ববর্তী বহু মানবগোষ্ঠীকে বিনাশ করবার পর মূসা (আঃ)-কে দিয়েছিলাম কিতাব, মানব জাতির জন্যে জ্ঞান-বর্তিকা, পথ-নির্দেশ ও দয়া স্বরূপ, যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে।” (২৮:৪৩)
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।