সূরা আল-মুমিনুন (আয়াত: 45)
হরকত ছাড়া:
ثم أرسلنا موسى وأخاه هارون بآياتنا وسلطان مبين ﴿٤٥﴾
হরকত সহ:
ثُمَّ اَرْسَلْنَا مُوْسٰی وَ اَخَاهُ هٰرُوْنَ ۬ۙ بِاٰیٰتِنَا وَ سُلْطٰنٍ مُّبِیْنٍ ﴿ۙ۴۵﴾
উচ্চারণ: ছু ম্মা আর ছাল না-মূছা-ওয়া আখা-হু হা-রূনা বিআ-য়া-তিনা-ওয়া ছুলতা-নিম মুবীন।
আল বায়ান: তারপর আমি মূসা ও তার ভাই হারূনকে আমার নিদর্শনাবলী ও সুস্পষ্ট প্রমাণসহ প্রেরণ করেছি।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৪৫. তারপর আমরা আমাদের নিদর্শনসমূহ এবং সুস্পষ্ট প্রমাণসহ মূসা ও তার ভাই হারূনকে পাঠালাম(১),
তাইসীরুল ক্বুরআন: অতঃপর আমি মূসা ও তার ভাই হারূনকে পাঠিয়েছিলাম নিদর্শন আর সুস্পষ্ট প্রমাণ সহকারে।
আহসানুল বায়ান: (৪৫) অতঃপর আমি আমার নিদর্শন ও সুস্পষ্ট প্রমাণসহ[1] মূসা ও তার ভাই হারূনকে পাঠালাম;
মুজিবুর রহমান: অতঃপর আমি আমার নিদর্শন ও সুস্পষ্ট প্রমাণসহ মূসা ও তার ভাই হারূনকে পাঠালাম –
ফযলুর রহমান: অতঃপর আমি মূসা ও তার ভাই হারূনকে পাঠিয়েছি, আমার নিদর্শন ও স্পষ্ট প্রমাণসহ;
মুহিউদ্দিন খান: অতঃপর আমি মূসা ও হারুণকে প্রেরণ করেছিলাম আমার নিদর্শনাবলী ও সুস্পষ্ট সনদসহ,
জহুরুল হক: তারপর আমরা পাঠালাম মূসা ও তাঁর ভাই হারূনকে আমাদের নিদর্শনাবলী ও সুস্পষ্ট বিধান দিয়ে, --
Sahih International: Then We sent Moses and his brother Aaron with Our signs and a clear authority
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৪৫. তারপর আমরা আমাদের নিদর্শনসমূহ এবং সুস্পষ্ট প্রমাণসহ মূসা ও তার ভাই হারূনকে পাঠালাম(১),
তাফসীর:
(১) নিদর্শনের পরে “সুস্পষ্ট প্রমাণ” বলার অর্থ এও হতে পারে যে, ঐ নিদর্শনাবলী তাদের সাথে থাকাটাই একথার সুস্পষ্ট প্রমাণ ছিল যে, তাঁরা আল্লাহর প্রেরিত নবী অথবা নিদর্শনাবলী বলতে বুঝানো হয়েছে “লাঠি” ছাড়া মিসরে অন্যান্য যেসব মু'জিযা দেখানো হয়েছে সেগুলো সবই, আর “সুস্পষ্ট প্রমাণ” বলতে “লাঠি” বুঝানো হয়েছে। কারণ এর মাধ্যমে যে মু'জিযার প্রকাশ ঘটেছে সেগুলোর পরে তো একথা একেবারেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে, এরা দু’ভাই আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত হয়েছেন। [ফাতহুল কাদীর]
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৪৫) অতঃপর আমি আমার নিদর্শন ও সুস্পষ্ট প্রমাণসহ[1] মূসা ও তার ভাই হারূনকে পাঠালাম;
তাফসীর:
[1] নিদর্শন বলতে সেই নয়টি নিদর্শন যার কথা সুরা আ'রাফে উল্লেখ হয়েছে এবং সেখানে তার ব্যাখ্যাও উল্লেখ হয়েছে। 'সুস্পষ্ট প্রমান' বলতে অতিশয় জাজ্বল্যমান প্রমান ও দেদীপ্যমান দলিলকে বুঝানো হয়েছে। যার জবাব ফিরআউন ও তার সভাসদরা কেউ দিতে পারেনি।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৪৫-৪৯ নং আয়াতের তাফসীর:
অত্র আয়াতে মূসা (عليه السلام) ও তাঁর সহোদর ভাই হারূন (عليه السلام) সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে নবুওয়াত দিয়ে ফির‘আউনের কাছে দাওয়াত দেয়ার জন্য প্রেরণ করলেন। কারণ ফিরআউন ছিল সে দেশের বাদশা, যে আল্লাহ তা‘আলার অবাধ্য ছিল এবং একটি অত্যাচারী সম্প্রদায় ছিল। বানী-ইসরাঈলদের ওপর নির্যাতন করত, নিজে রব দাবী করত। মূসা ও হারূন (عليه السلام) তার কাছে তাওহীদের দাওয়াত নিয়ে আসলে সে তাদেরকে মানুষ বলে দাওয়াত প্রত্যাখ্যান করে। এছাড়াও অনেক কারণ ও বিস্তারিত ঘটনা সূরা ত্বা-হা- ও সূরা কাসাসে আলোচনা করা হয়েছে।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৪৫-৪৯ নং আয়াতের তাফসীর:
আল্লাহ তা'আলা খবর দিচ্ছেন যে, তিনি হযরত মূসা (আঃ) ও তাঁর ভাই হারুন (আঃ)-কে নিদর্শন ও সুস্পষ্ট প্রমাণসহ ফিরাউন ও তার পারিষদবর্গের নিকট প্রেরন করেন। কিন্তু তারা তাদের পূর্ববর্তী কাফিরদের মতই তাদেরকে সি করে এবং তাঁদের বিরুদ্ধাচরণে উঠে পড়ে লেগে যায়। তারা তাদেরকে বলেঃ তোমরা তো আমাদের মতই মানুষ। সুতরাং আমরা তোমাদের নবুওয়াতকে বিশ্বাস করতে পারি না। তাদের অন্তর তাদের পূর্ববর্তী কাফিরদের মতই শক্ত হয়ে যায়। অবশেষে একদিনেই আল্লাহ তা'আলা তাদের সবকেই সমুদ্রে ডুবিয়ে দেন।
এরপর লোকদেরকে হিদায়াত করার জন্যে হযরত মূসা (আঃ)-কে তাওরাত প্রদান করা হয়। আবার মুমিনদের হাতে কাফিররা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। জিহাদের হুকুম অবতীর্ণ হয়। ফিরাউন ও তার কওম কিবতীদের পরে এরূপভাবে সাধারণ আযাবে কোন উম্মত সমূলে ধ্বংস হয়ে যায়নি। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “আমি তো পূর্ববর্তী বহু মানবগোষ্ঠীকে বিনাশ করবার পর মূসা (আঃ)-কে দিয়েছিলাম কিতাব, মানব জাতির জন্যে জ্ঞান-বর্তিকা, পথ-নির্দেশ ও দয়া স্বরূপ, যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে।” (২৮:৪৩)
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।