আল কুরআন


সূরা আল-মুমিনুন (আয়াত: 25)

সূরা আল-মুমিনুন (আয়াত: 25)



হরকত ছাড়া:

إن هو إلا رجل به جنة فتربصوا به حتى حين ﴿٢٥﴾




হরকত সহ:

اِنْ هُوَ اِلَّا رَجُلٌۢ بِهٖ جِنَّۃٌ فَتَرَبَّصُوْا بِهٖ حَتّٰی حِیْنٍ ﴿۲۵﴾




উচ্চারণ: ইন হুওয়া ইল্লা-রাজুলুম বিহী জিন্নাতুন ফাতারাব্বাসুবিহী হাত্তা-হীন।




আল বায়ান: ‘সে কেবল এমন এক লোক, যার মধ্যে পাগলামী রয়েছে। অতএব তোমরা তার সম্পর্কে কিছুকাল অপেক্ষা কর’।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ২৫. এ তো এমন লোক যাকে উন্মাদনা পেয়ে বসেছে; কাজেই তোমরা এর সম্পর্কে কিছুকাল অপেক্ষা কর।




তাইসীরুল ক্বুরআন: এতো এমন লোক যাকে পাগলামিতে পেয়েছে, কাজেই তার ব্যাপারে তোমরা কিছু কাল অপেক্ষা কর।




আহসানুল বায়ান: (২৫) এ তো এমন লোক যাকে উন্মুক্ততা পেয়ে বসেছে; সুতরাং এর সম্পর্কে তোমরা কিছুকাল অপেক্ষা কর।’ [1]



মুজিবুর রহমান: সেতো এক উম্মাদ ব্যক্তি বৈ নয়; সুতরাং এর সম্পর্কে তোমরা কিছুকাল অপেক্ষা কর।



ফযলুর রহমান: “এ তো এমনই এক লোক যার মধ্যে পাগলামি রয়েছে। অতএব, তোমরা তার ব্যাপারে কিছুকাল অপেক্ষা কর।”



মুহিউদ্দিন খান: সে তো এক উম্মাদ ব্যক্তি বৈ নয়। সুতরাং কিছুকাল তার ব্যাপারে অপেক্ষা কর।



জহুরুল হক: সে তো একজন মানুষ মাত্র যাকে ভূতে ধরেছে, কাজেই কিছুকাল তাকে সহ্য ক’রে চল।



Sahih International: He is not but a man possessed with madness, so wait concerning him for a time."



তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।


তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ২৫. এ তো এমন লোক যাকে উন্মাদনা পেয়ে বসেছে; কাজেই তোমরা এর সম্পর্কে কিছুকাল অপেক্ষা কর।


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (২৫) এ তো এমন লোক যাকে উন্মুক্ততা পেয়ে বসেছে; সুতরাং এর সম্পর্কে তোমরা কিছুকাল অপেক্ষা কর।’ [1]


তাফসীর:

[1] এ ব্যাক্তি আমাদের পিতৃপুরুষদের দেবদেবীর পূজা করার জন্য বোকা ও বেকুফ মনে করে, বরং মনে হচ্ছে সে নিজেই পাগল। এর দাওয়াতও শেষ হয়ে যাবে। বা তার পাগলামি দূর হয়ে যাবে ও দাওয়াতের কাজ নিজেই ছেড়ে দেবে।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ২৩-৩০ নং আয়াতের তাফসীর:



আলোচ্য আয়াতগুলোতে নূহ (عليه السلام)-এর জাতিকে তাওহীদের দিকে দাওয়াত, দাওয়াত পেয়ে জাতির অবস্থান এবং তাদের শেষ পরিণতি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা পৃথিবীর বুকে সর্বপ্রথম রাসূল হিসেবে প্রেরণ করলেন নূহ (عليه السلام)-কে। তাঁর জাতি ছিল মূর্তিপূজক, ভাল লোকদের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করতে গিয়ে তারা মূর্তিপূজায় লিপ্ত হয়। তিনি তাদেরকে মূর্তিপূজা বাদ দিয়ে এক আল্লাহ তা‘আলার ইবাদত করার দিকে আহ্বান করেন এবং তাদেরকে জানিয়ে দেনন আল্লাহ তা‘আলা ছাড়া সত্যিকার কোন মা‘বূূদ নেই, তিনিই সকল ইবাদত পাওয়ার হকদার। নূহ (عليه السلام)-এর জাতির মধ্যে যারা সম্ভ্রান্ত, উচ্চ বংশের এবং ক্ষমতাসীন তারা কুফরী করল এবং নূহ (عليه السلام)-কে তাদের মত একজন সাধারণ মানুষ বলে দাওয়াত প্রত্যাখ্যান করল। তাদের দাবীন এ ব্যক্তি তোমাদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করতে চায়, আল্লাহ তা‘আলা যদি আমাদের হিদায়াত দেয়ার জন্য কাউকে প্রেরণ করতেন তাহলে ফেরেশতা প্রেরণ করতেন। অথবা এ লোকটির মাঝে পাগলামী রয়েছে, তার মৃত্যু অবধি অপেক্ষা কর। নূহ (عليه السلام)-কে জাতির লোকেরা এভাবে প্রত্যাখ্যান করলে আল্লাহ তা‘আলার নিকট তিনি প্রার্থনা করলেন যে, হে আমার প্রতিপালক! আমাকে এ ব্যাপারে সাহায্য করুন। যেমন তিনি বললেন,



(فَدَعَا رَبَّه۫ أَنِّيْ مَغْلُوْبٌ فَانْتَصِرْ)



“তখন সে তার প্রতিপালককে আহ্বান করে বলেছিল:‎ আমি তো পরাজিত, অতএব, তুমি আমাকে সাহায্য কর।” (সূরা ক্বামার ৫৪:১০)



নূহ (عليه السلام)-এর এ প্রার্থনা শুনে আল্লাহ তা‘আলা ওয়াহী করলেন যে, তুমি আমার তত্ত্বাবধানে ও আমার ওয়াহী অনুযায়ী নৌযান তৈরী কর, কারণ আমি তোমাকে দেখছি ও শুনছি। যখন তুফান প্রেরণের নির্দেশ চলে আসবে, তথা পৃথিবী বিদীর্ণ হয়ে পানি প্রবাহিত হবে এমনকি আগুন জ্বালানো হয় এমন স্থান থেকেও পানি বের হবে তখন প্রত্যেক প্রকার প্রাণির নর-নারী নৌকাতে তুলে নিবে এবং তোমার পরিবারকেও তুলবে তবে ‘তাদেরকে ছাড়া যাদের বিরুদ্ধে পূর্বে সিদ্ধান্ত‎ হয়ে গেছে’ যেমন তাঁর পুত্র। আর আমার কাছে এমন ব্যক্তিদের জন্য দু‘আ করবে না যারা জুলুম করেছে। কারণ তারা ডুবে যাবেই। এ সম্পর্কে আরো আলোচনা সূরা হূদে করা হয়েছে।



অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা নূহ (عليه السلام)-কে লক্ষ্য করে বলেন, যখন তুমি ও তোমার সঙ্গীরা নৌযানে আসন গ্রহণ করবে তখন বলবে: সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার জন্য। যেমন আল্লাহ তা‘আলা এ সম্পর্কে বলেন:

“এবং যিনি জোড়াসমূহের প্রত্যেককে সৃষ্টি করেন এবং যিনি তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেন এমন নৌযান ও চতুষ্পদ জন্তু যাতে তোমরা আরোহণ কর। যাতে তোমরা তাদের পৃষ্ঠে স্থির হয়ে বসতে পার, তারপর তোমাদের প্রতিপালকের নেয়ামত স্মরণ কর যখন তোমরা তার ওপর স্থির হয়ে বস; এবং বলঃ পবিত্র ও মহান তিনি, যিনি এদেরকে আমাদের বশীভূত করে দিয়েছেন, যদিও আমরা সমর্থ ছিলাম না এদেরকে বশীভূত করতে। আমরা আমাদের প্রতিপালকের নিকট অবশ্যই প্রত্যাবর্তন করব।” (সূরা যুখরুফ ৪৩:১২-১৪)



তখন নূহ (عليه السلام) এ কথাই বললেন যা আল্লাহ তা‘আলা তাকে বলতে বললেন। যেমন নূহ (عليه السلام) বলেছিলেন আল্লাহ তা‘আলা বাণী:



(وَقَالَ ارْكَبُوْا فِيْهَا بِسْمِ اللّٰهِ مَجْر۪هَا وَمُرْسٰهَا ط إِنَّ رَبِّيْ لَغَفُوْرٌ رَّحِيْمٌ )



“সে বলল: ‘এতে আরোহণ কর‎, আল্লাহর নামে এর গতি ও স্থিতি, আমার প্রতিপালক অবশ্যই ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’’ (সূরা হূদ ১১:৪১)



এবং তিনি আরো বললেন: হে আমার রব! আমাকে এমনভাবে অবতরণ করান যা হবে কল্যাণকর; আর আপনিই শ্রেষ্ঠ অবতরণকারী। নূহ (عليه السلام) সম্পর্কে পূর্বে আরো একাধিক স্থানে আলোচনা করা হয়েছে।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত সঠিক কোন ইলাহ নেই।

২. প্রত্যেক সমাজের বিত্তবান বা ক্ষমতাসীন ব্যক্তিরা সঠিক পথের বিরোধিতা করেছে এবং সঠিক পথ থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

৩. মযলুমের ডাকে আল্লাহ তা‘আলা অবশ্যই সাড়া দিয়ে থাকেন।

৪. নূহ (عليه السلام)-এর নৌযানে সকল প্রাণী এক জোড়া করে উঠানো হয়েছিল।

৫. সর্বাবস্থায় প্রশংসা করতে হবে শুধুমাত্র আল্লাহ তা‘আলার।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ২৩-২৫ নং আয়াতের তাফসীর:

আল্লাহ তা'আলা খবর দিচ্ছেন যে, হযরত নূহ (আঃ)-কে তিনি সুসংবাদাতা ও ভয় প্রদর্শনকারী রূপে তাঁর কওমের নিকট প্রেরণ করেন। তিনি তাদের কাছে আল্লাহর পয়গাম নিয়ে গিয়ে বলেনঃ তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর। তিনি ছাড়া অন্য কেউ ইবাদতের হকদার নয়। তোমরা তাকে ছেড়ে যে অন্যদের উপাসনা করছো এতে কি তোমাদের ভয় হচ্ছে না? তাঁর একথা শুনে তাঁর কওমের নেতৃস্থানীয় লোকেরা বললোঃ হে জনগণ! এই লোকটি তো আমাদের মতই একজন মানুষ। নবুওয়াতের দাবী করে সে তোমাদের উপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করতে চায়। তার উদ্দেশ্য হলো নেতৃত্ব লাভ করা। মানুষের কাছে অহী আসা কি সম্ভব? আল্লাহ তা'আলার নবী পাঠাবার ইচ্ছা থাকলে তিনি কোন আসমানী ফেরেশতাকে পাঠাতেন? এরূপ কথা আমরা কেন, আমাদের পূর্বপুরুষরাও শুনেনি যে, আল্লাহ তা'আলা কোন মানুষকে রাসূল করে পাঠিয়েছেন। হে নূহ (আঃ)! তুমি একজন পাগল ছাড়া কিছুই নও। পাগল না হলে তুমি কখনো এরূপ দাবী করতে না এবং আত্মগর্বী হতে না। সুতরাং হে জনমণ্ডলী! তোমরা এর সম্পর্কে কিছুকাল অপেক্ষা কর (সে অচিরেই ধ্বংস হয়ে যাবে।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।