সূরা আল-মুমিনুন (আয়াত: 24)
হরকত ছাড়া:
فقال الملأ الذين كفروا من قومه ما هذا إلا بشر مثلكم يريد أن يتفضل عليكم ولو شاء الله لأنزل ملائكة ما سمعنا بهذا في آبائنا الأولين ﴿٢٤﴾
হরকত সহ:
فَقَالَ الْمَلَؤُا الَّذِیْنَ کَفَرُوْا مِنْ قَوْمِهٖ مَا هٰذَاۤ اِلَّا بَشَرٌ مِّثْلُکُمْ ۙ یُرِیْدُ اَنْ یَّتَفَضَّلَ عَلَیْکُمْ ؕ وَ لَوْ شَآءَ اللّٰهُ لَاَنْزَلَ مَلٰٓئِکَۃً ۚۖ مَّا سَمِعْنَا بِهٰذَا فِیْۤ اٰبَآئِنَا الْاَوَّلِیْنَ ﴿ۚ۲۴﴾
উচ্চারণ: ফাকা-লাল মালাউল্লাযীনা কাফারূমিন কাওমিহী মা-হা-যাইল্লা-বাশারুম মিছলুকুম ইউরীদুআইঁ ইয়াতাফাদ্দালা ‘আলাইকুম ওয়া লাও শাআল্লা-হু লাআনযালা মালাইকাতাম মা-ছামি‘না-বিহা-যা-ফীআ-বাইনাল আওওয়ালীন।
আল বায়ান: তারপর তার সম্প্রদায়ের নেতৃস্থানীয়গণ, যারা কুফরী করেছিল- তারা বলল, ‘এতো তোমাদের মত একজন মানুষ ছাড়া কিছুই না। সে তোমাদের উপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করতে চায়। আর আল্লাহ ইচ্ছা করলে অবশ্যই ফেরেশতা নাযিল করতেন। এ কথাতো আমরা আমাদের পূর্ববর্তী পিতৃপুরুষদের সময়েও শুনিনি’।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ২৪. অতঃপর তার সম্প্রদায়ের নেতারা, যারা কুফরী করেছিল(১), তারা বলল, এ তো তোমাদের মত একজন মানুষই, সে তোমাদের উপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করতে চাচ্ছে, আর আল্লাহ্ ইচ্ছে করলে ফেরেশতাই নাযিল করতেন; আমরা তো আমাদের পূর্বপুরুষদের কালে এরূপ ঘটেছে বলে শুনিনি।
তাইসীরুল ক্বুরআন: তার সম্প্রদায়ের প্রধানগণ যারা কুফুরী করেছিল- বলেছিল : ‘এতো তোমাদের মত মানুষ ছাড়া কিছুই না, সে তোমাদের উপর প্রাধান্য লাভ করতে চায়, আল্লাহ (কাউকে নবীরূপে পাঠানোর) ইচ্ছে করলে তো তিনি ফেরেশতা পাঠাতেন, আমরা আমাদের পূর্ব পুরুষদের সময়ে এ সব কথা তো শুনিনি।’
আহসানুল বায়ান: (২৪) তার সম্প্রদায়ের অবিশ্বাসী প্রধানগণ বলল, ‘এ তো তোমাদেরই মত একজন মানুষ, এ তোমাদের উপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করতে চাচ্ছে।[1] আল্লাহ ইচ্ছা করলে ফিরিশতাই পাঠাতেন;[2] আমাদের পূর্বপুরুষদের কালে এরূপ ঘটেছে বলে তো আমরা শুনিনি। [3]
মুজিবুর রহমান: তার সম্প্রদায়ের কাফির প্রধানরা বলেছিলঃ এ লোকতো তোমাদের মতই একজন মানুষ, সে তোমাদের উপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করতে চাচ্ছে, আল্লাহ ইচ্ছা করলে মালাক/ফেরেশতা পাঠাতেন; আমরাতো আমাদের পূর্ব-পুরুষদের যামানায় এরূপ ঘটেছে বলে শুনিনি।
ফযলুর রহমান: তখন তার সমপ্রদায়ের কাফের নেতারা বলল, “এ লোকটা তো তোমাদের মত একজন মানুষ বৈ নয়। সে তোমাদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করতে চায়। আল্লাহ চাইলে তো ফেরেশতাই পাঠাতে পারতেন। আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের মাঝে এরকম শুনিনি।”
মুহিউদ্দিন খান: তখন তার সম্প্রদায়ের কাফের-প্রধানরা বলেছিলঃ এ তো তোমাদের মতই একজন মানুষ বৈ নয়। সে তোমাদের উপর নেতৃত্ব করতে চায়। আল্লাহ ইচ্ছা করলে ফেরেশতাই নাযিল করতেন। আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের মধ্যে এরূপ কথা শুনিনি।
জহুরুল হক: তখন তাঁর স্বজাতির মধ্যে যারা অবিশ্বাস পোষণ করেছিল তাদের প্রধানরা বললে -- "সে তো তোমাদের মতো একজন মানুষ ছাড়া আর কিছু নয়, সে তোমাদের উপরে প্রাধান্য প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। বস্তুতঃ আল্লাহ্ যদি চাইতেন তবে তিনি নিশ্চয়ই ফিরিশ্তাদের পাঠাতে পারতেন। আমরা তো পূর্ববর্তীকালের আমাদের পিতৃপুরুষদের মধ্যে এমনটা শুনি নি।
Sahih International: But the eminent among those who disbelieved from his people said, "This is not but a man like yourselves who wishes to take precedence over you; and if Allah had willed [to send a messenger], He would have sent down angels. We have not heard of this among our forefathers.
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ২৪. অতঃপর তার সম্প্রদায়ের নেতারা, যারা কুফরী করেছিল(১), তারা বলল, এ তো তোমাদের মত একজন মানুষই, সে তোমাদের উপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করতে চাচ্ছে, আর আল্লাহ্– ইচ্ছে করলে ফেরেশতাই নাযিল করতেন; আমরা তো আমাদের পূর্বপুরুষদের কালে এরূপ ঘটেছে বলে শুনিনি।
তাফসীর:
(১) নূহের সম্প্রদায় আল্লাহর অস্তিত্ব অস্বীকার করতো না এবং তারা একথাও অস্বীকার করতো না যে, তিনিই বিশ্ব-জাহানের প্রভু এবং সমস্ত ফেরেশতা তার নির্দেশের অনুগত, এ বক্তব্য তার সুস্পষ্ট প্রমাণ। শির্ক বা আল্লাহকে অস্বীকার করা এ জাতির আসল ভ্ৰষ্টতা ছিল না বরং তারা আল্লাহর গুণাবলী ও ক্ষমতা এবং তাঁর অধিকার তথা ইবাদতে শরীক করতো। অন্য আয়াত থেকেও সেটা সুস্পষ্ট হয়েছে।
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (২৪) তার সম্প্রদায়ের অবিশ্বাসী প্রধানগণ বলল, ‘এ তো তোমাদেরই মত একজন মানুষ, এ তোমাদের উপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করতে চাচ্ছে।[1] আল্লাহ ইচ্ছা করলে ফিরিশতাই পাঠাতেন;[2] আমাদের পূর্বপুরুষদের কালে এরূপ ঘটেছে বলে তো আমরা শুনিনি। [3]
তাফসীর:
[1] অর্থাৎ, এ তো তোমাদের মতই একজন মানুষ। অতএব কেমন করে সে রসূল বা নবী হতে পারে? আর যদি সে নবুঅত ও রিসালতের দাবী করে, তাহলে তার একমাত্র উদ্দেশ্য তোমাদের উপর প্রাধান্য ও শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন এবং নিজেকে বড় বলে প্রকাশ করা।
[2] যদি সত্যই মহান আল্লাহ তাঁর রসূল দ্বারা আমাদেরকে বুঝাতে চাইতেন যে, ইবাদতের একমাত্র যোগ্য তিনিই। তাহলে এ কাজের জন্য কোন ফিরিশতাকে রসূল বানিয়ে পাঠাতেন; কোন মানুষকে নয়। তিনি আমাদেরকে তাঁর একত্ববাদের জ্ঞান শিক্ষা দিতেন।
[3] অর্থাৎ তাওহিদের আহবান এক অদ্ভুত আহবান। ইতিপূর্বে আমাদের পূর্বপুরুষদের যুগেও তা ছিল কি না, তা আমরা শুনিইনি।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ২৩-৩০ নং আয়াতের তাফসীর:
আলোচ্য আয়াতগুলোতে নূহ (عليه السلام)-এর জাতিকে তাওহীদের দিকে দাওয়াত, দাওয়াত পেয়ে জাতির অবস্থান এবং তাদের শেষ পরিণতি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা পৃথিবীর বুকে সর্বপ্রথম রাসূল হিসেবে প্রেরণ করলেন নূহ (عليه السلام)-কে। তাঁর জাতি ছিল মূর্তিপূজক, ভাল লোকদের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করতে গিয়ে তারা মূর্তিপূজায় লিপ্ত হয়। তিনি তাদেরকে মূর্তিপূজা বাদ দিয়ে এক আল্লাহ তা‘আলার ইবাদত করার দিকে আহ্বান করেন এবং তাদেরকে জানিয়ে দেনন আল্লাহ তা‘আলা ছাড়া সত্যিকার কোন মা‘বূূদ নেই, তিনিই সকল ইবাদত পাওয়ার হকদার। নূহ (عليه السلام)-এর জাতির মধ্যে যারা সম্ভ্রান্ত, উচ্চ বংশের এবং ক্ষমতাসীন তারা কুফরী করল এবং নূহ (عليه السلام)-কে তাদের মত একজন সাধারণ মানুষ বলে দাওয়াত প্রত্যাখ্যান করল। তাদের দাবীন এ ব্যক্তি তোমাদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করতে চায়, আল্লাহ তা‘আলা যদি আমাদের হিদায়াত দেয়ার জন্য কাউকে প্রেরণ করতেন তাহলে ফেরেশতা প্রেরণ করতেন। অথবা এ লোকটির মাঝে পাগলামী রয়েছে, তার মৃত্যু অবধি অপেক্ষা কর। নূহ (عليه السلام)-কে জাতির লোকেরা এভাবে প্রত্যাখ্যান করলে আল্লাহ তা‘আলার নিকট তিনি প্রার্থনা করলেন যে, হে আমার প্রতিপালক! আমাকে এ ব্যাপারে সাহায্য করুন। যেমন তিনি বললেন,
(فَدَعَا رَبَّه۫ أَنِّيْ مَغْلُوْبٌ فَانْتَصِرْ)
“তখন সে তার প্রতিপালককে আহ্বান করে বলেছিল: আমি তো পরাজিত, অতএব, তুমি আমাকে সাহায্য কর।” (সূরা ক্বামার ৫৪:১০)
নূহ (عليه السلام)-এর এ প্রার্থনা শুনে আল্লাহ তা‘আলা ওয়াহী করলেন যে, তুমি আমার তত্ত্বাবধানে ও আমার ওয়াহী অনুযায়ী নৌযান তৈরী কর, কারণ আমি তোমাকে দেখছি ও শুনছি। যখন তুফান প্রেরণের নির্দেশ চলে আসবে, তথা পৃথিবী বিদীর্ণ হয়ে পানি প্রবাহিত হবে এমনকি আগুন জ্বালানো হয় এমন স্থান থেকেও পানি বের হবে তখন প্রত্যেক প্রকার প্রাণির নর-নারী নৌকাতে তুলে নিবে এবং তোমার পরিবারকেও তুলবে তবে ‘তাদেরকে ছাড়া যাদের বিরুদ্ধে পূর্বে সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে’ যেমন তাঁর পুত্র। আর আমার কাছে এমন ব্যক্তিদের জন্য দু‘আ করবে না যারা জুলুম করেছে। কারণ তারা ডুবে যাবেই। এ সম্পর্কে আরো আলোচনা সূরা হূদে করা হয়েছে।
অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা নূহ (عليه السلام)-কে লক্ষ্য করে বলেন, যখন তুমি ও তোমার সঙ্গীরা নৌযানে আসন গ্রহণ করবে তখন বলবে: সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার জন্য। যেমন আল্লাহ তা‘আলা এ সম্পর্কে বলেন:
“এবং যিনি জোড়াসমূহের প্রত্যেককে সৃষ্টি করেন এবং যিনি তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেন এমন নৌযান ও চতুষ্পদ জন্তু যাতে তোমরা আরোহণ কর। যাতে তোমরা তাদের পৃষ্ঠে স্থির হয়ে বসতে পার, তারপর তোমাদের প্রতিপালকের নেয়ামত স্মরণ কর যখন তোমরা তার ওপর স্থির হয়ে বস; এবং বলঃ পবিত্র ও মহান তিনি, যিনি এদেরকে আমাদের বশীভূত করে দিয়েছেন, যদিও আমরা সমর্থ ছিলাম না এদেরকে বশীভূত করতে। আমরা আমাদের প্রতিপালকের নিকট অবশ্যই প্রত্যাবর্তন করব।” (সূরা যুখরুফ ৪৩:১২-১৪)
তখন নূহ (عليه السلام) এ কথাই বললেন যা আল্লাহ তা‘আলা তাকে বলতে বললেন। যেমন নূহ (عليه السلام) বলেছিলেন আল্লাহ তা‘আলা বাণী:
(وَقَالَ ارْكَبُوْا فِيْهَا بِسْمِ اللّٰهِ مَجْر۪هَا وَمُرْسٰهَا ط إِنَّ رَبِّيْ لَغَفُوْرٌ رَّحِيْمٌ )
“সে বলল: ‘এতে আরোহণ কর, আল্লাহর নামে এর গতি ও স্থিতি, আমার প্রতিপালক অবশ্যই ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’’ (সূরা হূদ ১১:৪১)
এবং তিনি আরো বললেন: হে আমার রব! আমাকে এমনভাবে অবতরণ করান যা হবে কল্যাণকর; আর আপনিই শ্রেষ্ঠ অবতরণকারী। নূহ (عليه السلام) সম্পর্কে পূর্বে আরো একাধিক স্থানে আলোচনা করা হয়েছে।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত সঠিক কোন ইলাহ নেই।
২. প্রত্যেক সমাজের বিত্তবান বা ক্ষমতাসীন ব্যক্তিরা সঠিক পথের বিরোধিতা করেছে এবং সঠিক পথ থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
৩. মযলুমের ডাকে আল্লাহ তা‘আলা অবশ্যই সাড়া দিয়ে থাকেন।
৪. নূহ (عليه السلام)-এর নৌযানে সকল প্রাণী এক জোড়া করে উঠানো হয়েছিল।
৫. সর্বাবস্থায় প্রশংসা করতে হবে শুধুমাত্র আল্লাহ তা‘আলার।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ২৩-২৫ নং আয়াতের তাফসীর:
আল্লাহ তা'আলা খবর দিচ্ছেন যে, হযরত নূহ (আঃ)-কে তিনি সুসংবাদাতা ও ভয় প্রদর্শনকারী রূপে তাঁর কওমের নিকট প্রেরণ করেন। তিনি তাদের কাছে আল্লাহর পয়গাম নিয়ে গিয়ে বলেনঃ তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর। তিনি ছাড়া অন্য কেউ ইবাদতের হকদার নয়। তোমরা তাকে ছেড়ে যে অন্যদের উপাসনা করছো এতে কি তোমাদের ভয় হচ্ছে না? তাঁর একথা শুনে তাঁর কওমের নেতৃস্থানীয় লোকেরা বললোঃ হে জনগণ! এই লোকটি তো আমাদের মতই একজন মানুষ। নবুওয়াতের দাবী করে সে তোমাদের উপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করতে চায়। তার উদ্দেশ্য হলো নেতৃত্ব লাভ করা। মানুষের কাছে অহী আসা কি সম্ভব? আল্লাহ তা'আলার নবী পাঠাবার ইচ্ছা থাকলে তিনি কোন আসমানী ফেরেশতাকে পাঠাতেন? এরূপ কথা আমরা কেন, আমাদের পূর্বপুরুষরাও শুনেনি যে, আল্লাহ তা'আলা কোন মানুষকে রাসূল করে পাঠিয়েছেন। হে নূহ (আঃ)! তুমি একজন পাগল ছাড়া কিছুই নও। পাগল না হলে তুমি কখনো এরূপ দাবী করতে না এবং আত্মগর্বী হতে না। সুতরাং হে জনমণ্ডলী! তোমরা এর সম্পর্কে কিছুকাল অপেক্ষা কর (সে অচিরেই ধ্বংস হয়ে যাবে।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।