সূরা আল-হজ্জ (আয়াত: 76)
হরকত ছাড়া:
يعلم ما بين أيديهم وما خلفهم وإلى الله ترجع الأمور ﴿٧٦﴾
হরকত সহ:
یَعْلَمُ مَا بَیْنَ اَیْدِیْهِمْ وَ مَا خَلْفَهُمْ ؕ وَ اِلَی اللّٰهِ تُرْجَعُ الْاُمُوْرُ ﴿۷۶﴾
উচ্চারণ: ইয়া‘লামুমা-বাইনা আইদীহিম ওয়ামা-খালফাহুম ওয়া ইলাল্লা-হি তুরজা‘উল উমূর।
আল বায়ান: তাদের সামনে এবং পেছনে যা কিছু আছে তিনি তা জানেন। আর সবকিছু আল্লাহর কাছেই প্রত্যাবর্তিত হবে।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৭৬. তাদের সামনে ও পিছনে যা কিছু আছে তিনি তা জানেন এবং সব বিষয়ই আল্লাহর কাছে প্রত্যাবর্তিত করা হবে।(১)
তাইসীরুল ক্বুরআন: তিনি জানেন তাদের সামনে যা আছে আর তাদের পেছনে যা আছে, আর সমস্ত ব্যাপার (চূড়ান্ত ফয়সালার জন্য) আল্লাহর কাছে ফিরে যায়।
আহসানুল বায়ান: (৭৬) তাদের সম্মুখে ও পশ্চাতে যা কিছু আছে, তিনি তা জানেন এবং সমস্ত বিষয় আল্লাহর নিকট প্রত্যাবর্তিত হবে।[1]
মুজিবুর রহমান: তাদের সম্মুখে ও পশ্চাতে যা কিছু আছে তিনি তা জানেন এবং সমস্ত বিষয় আল্লাহর নিকট প্রত্যাবর্তিত হবে।
ফযলুর রহমান: তাদের সামনে যা আছে এবং তাদের পেছনে যা আছে তিনি তা জানেন। আর আল্লাহর কাছেই সকল বিষয় ফিরিয়ে নেওয়া হবে।
মুহিউদ্দিন খান: তিনি জানেন যা তাদের সামনে আছে এবং যা পশ্চাতে আছে এবং সবকিছু আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তিত হবে।
জহুরুল হক: তিনি অবগত আছেন যা-কিছু আছে তাদের সামনে আর যা-কিছু আছে তাদের পেছনে, আর আল্লাহ্র কাছেই সব ব্যাপার ফিরিয়ে আনা হয়।
Sahih International: He knows what is [presently] before them and what will be after them. And to Allah will be returned [all] matters.
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৭৬. তাদের সামনে ও পিছনে যা কিছু আছে তিনি তা জানেন এবং সব বিষয়ই আল্লাহর কাছে প্রত্যাবর্তিত করা হবে।(১)
তাফসীর:
(১) তারা যা করেছে এবং যা কল্যাণকর ছিল অথচ তারা করেনি এসবই আল্লাহ জানেন। অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, “আর আমরা লিখে রাখি যা তারা আগে পাঠায় ও যা তারা পিছনে রেখে যায়।” [সূরা ইয়াসীনঃ ১২]
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৭৬) তাদের সম্মুখে ও পশ্চাতে যা কিছু আছে, তিনি তা জানেন এবং সমস্ত বিষয় আল্লাহর নিকট প্রত্যাবর্তিত হবে।[1]
তাফসীর:
[1] যখন সমস্ত বিষয়ই আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তিত হয়, তখন মানুষ তাঁর অবাধ্যতা করে কোথায় যেতে পারে? এবং তাঁর আযাব হতে কিরূপে পরিত্রাণ পেতে পারে? মানুষের জন্য কি এটা উচিত নয় যে, তারা আল্লাহর আনুগত্যের পথ অবলম্বন করে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন করবে? পরবর্তী আয়াতে সে কথাই স্পষ্ট করা হচ্ছে।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৭৫-৭৬ নং আয়াতের তাফসীর:
رسل শব্দটি رسول এর বহুবচন। অর্থন বার্তাবাহক, প্রেরিত রাসূল। অর্থাৎ ফেরেশতা ও মানুষের মধ্য হতে যাকে ইচ্ছা আল্লাহ তা‘আলা বার্তাবাহক হিসেবে চয়ন করেন। বার্তাবাহক হিসেবে ফেরেশতাদের কাজ হল নাবীদের কাছে ওয়াহী পৌঁছে দেয়া, এ কাজগুলো করত জিবরীল (عليه السلام)। আর বার্তাবাহক হিসেবে নাবীদের কাজ হল তাদের ওপর আগত ওয়াহী অনুসারে মানুষদেরকে দাওয়াত দেয়া, ওয়াহীর বাণী পৌঁছে দেয়া। সুতরাং আল্লাহ তা‘আলা যাকে ইচ্ছা রাসূল হিসেবে চয়ন করবেন তাতে কারো কোন মন্তব্য করার সুযোগ নেই। অতএব যারা বলতে চায়ন জিবরীল (عليه السلام) আলী (রাঃ)-এর কাছে ওয়াহী না নিয়ে ভুল করে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসেছে, তাদের এ কথা মিথ্যা, ভিত্তিহীন। কারণ আল্লাহ তা‘আলা আলী (রাঃ)-কে নাবী বানাতে চাইলে বাধা দেয়ার কে আছে? যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(اَللّٰهُ أَعْلَمُ حَيْثُ يَجْعَلُ رِسَالَتَه)
“আল্লাহ তা‘আলা তাঁর রিসালাতের ভার কার ওপর অর্পণ করবেন তা তিনিই ভাল জানেন।” (সূরা আন‘আম ৬:১২৪)
সুতরাং তিনি তাঁর ইচ্ছা অনুসারে যাকে খুশি ফেরেশতাদের মধ্য থেকে বাণীবাহক হিসেবে পাঠান আর মানুষের মধ্য থেকে যাকে খুশি রাসূল হিসেবে নিযুক্ত করেন। তিনি কারো ইচ্ছার ওপর নির্ভর করেন না। তাঁর ইচ্ছা অনুসারেই তিনি তা করে থাকেন।
এরপর এ কথা বলা হচ্ছে যে, আল্লাহ তা‘আলা রাসূলগণের সামনের ও পিছনের খবর রাখেন। তাদের কাছে তিনি কী পৌঁছালেন এবং তারা কী পৌঁছিয়ে দিল এসব কিছু তাঁর নিকট দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট। সুতরাং জিবরীল (عليه السلام) ভুল করে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই। কারণ আল্লাহ তো সব দেখছেন, শুনছেন। আল্লাহ তা‘আলার বাণী:
(عٰلِمُ الْغَیْبِ فَلَا یُظْھِرُ عَلٰی غَیْبِھ۪ٓ اَحَدًاﭩﺫ اِلَّا مَنِ ارْتَضٰی مِنْ رَّسُوْلٍ فَاِنَّھ۫ یَسْلُکُ مِنْۭ بَیْنِ یَدَیْھِ وَمِنْ خَلْفِھ۪ رَصَدًاﭪﺫ لِّیَعْلَمَ اَنْ قَدْ اَبْلَغُوْا رِسٰلٰتِ رَبِّھِمْ وَاَحَاطَ بِمَا لَدَیْھِمْ وَاَحْصٰی کُلَّ شَیْءٍ عَدَدًاﭫﺟ)
“তিনি অদৃশ্য জ্ঞানের অধিকারী, তিনি তাঁর অদৃশ্যের জ্ঞান কারো নিকট প্রকাশ করেন না তাঁর মনোনীত রাসূল ব্যতীত। নিশ্চয়ই তিনি তার সামনে এবং পিছনে প্রহরী নিয়োজিত করেন। তাঁরা তাদের প্রতিপালকের রিসালাত পৌঁছে দিয়েছে কি না তা জানার জন্য; রাসূলদের নিকট যা আছে তা তিনি বেষ্টন করে রেখেছেন এবং তিনি সবকিছুর বিস্তারিত হিসাব রাখেন।” (সূরা জিন ৭২:২৬-২৮)
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. রাসূল প্রেরণ করা বা রিসালাতের জন্য লোক নির্ধারিত করা আল্লাহ তা‘আলার ইচ্ছাধীন।
২. আল্লাহ তা‘আলা সকলের পূর্ব-পশ্চাতের সমস্ত কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত।
৩. সকলের প্রত্যাবর্তন একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার নিকট।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৭৫-৭৬ নং আয়াতের তাফসীর:
আল্লাহ তাআলা খবর দিচ্ছেন যে, তিনি নিজের নির্ধারিত তকদীর জারি করা এবং নির্ধারিত শরীয়ত স্বীয় রাসূল (সঃ) পর্যন্ত পৌঁছানোর জন্যে যে ফেরেশতাকে চান নির্দিষ্ট করে নেন। অনুরূপভাবে তিনি লোকদের মধ্য হতে যাকে চান নবুওয়াতের পোষাক পরিয়ে দেন। তিনি বান্দাদের সমস্ত কথা শুনে থাকেন। এক একজন বান্দা তার আমলসহ তার দৃষ্টির মধ্যে রয়েছে। নবুওয়াত প্রাপ্তির যোগ্য পাত্র কে তা তিনি খুব ভালই জানেন। যেমন তিনি বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “রিসালাত লাভের যোগ্য পাত্র কে তা আল্লাহ খুব ভাল জানেন।” রাসূলদেরসামনেরও পিছনের খবর আল্লাহ রাখেন। তাঁদের কাছে তিনি কি পৌঁছালেন এবং তারা কি পৌছিয়ে দিলেন এ সব কিছু তার কাছে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান। যেমন তিনি বলেনঃ (আরবী) হতে (আরবী) পর্যন্ত।
অর্থাৎ তিনি অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা, তিনি তাঁর অদৃশ্যের জ্ঞান কারো নিকট প্রকাশ করেন না, তাঁর মনোনীত রাসূল ব্যতীত। সেই ক্ষেত্রে আল্লাহ রাসূলের অগ্রে ও পশ্চাতে প্রহরী নিয়েজিত করেন, রাসূলগণ তাদের প্রতিপালকের বাণী পৌছিয়ে দিয়েছেন কি না তা জানবার জন্যে; রাসূলদের নিকট যা আছে তা তার জ্ঞান গোচর এবং তিনি সমস্ত কিছুর বিস্তারিত হিসাব রাখেন।` (৭২:২৬-২৮)।
সুতরাং মহান আল্লাহ স্বীয় রাসূলদের রক্ষক। যা তাদের বলা হয় তার তিনি হিফাজতকারী। তিনি তাদের সাহায্যকারী। যেমন তিনি বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “হে রাসূল (সঃ) তোমার নিকট তোমার প্রতিপালকের পক্ষ হতে যা কিছু অবতীর্ণ করা হয় তা তুমি (মানুষের কাছে পৌঁছিয়ে দাও, আর তা যদি না কর তবে তুমি তাঁর রিসালাত পৌছিয়ে দিলে না, এবং জেনে রেখো যে, আল্লাহ্ তোমাকে মানুষ (এর অনিষ্ট) হতে রক্ষা করবেন।` (৫:৬৭)
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।