আল কুরআন


সূরা আল-হজ্জ (আয়াত: 75)

সূরা আল-হজ্জ (আয়াত: 75)



হরকত ছাড়া:

الله يصطفي من الملائكة رسلا ومن الناس إن الله سميع بصير ﴿٧٥﴾




হরকত সহ:

اَللّٰهُ یَصْطَفِیْ مِنَ الْمَلٰٓئِکَۃِ رُسُلًا وَّ مِنَ النَّاسِ ؕ اِنَّ اللّٰهَ سَمِیْعٌۢ بَصِیْرٌ ﴿ۚ۷۵﴾




উচ্চারণ: আল্লা-হু ইয়াসতাফী মিনাল মালাইকাতি রুছূলাওঁ ওয়া মিনান্না-ছি ইন্নাল্লা-হা ছামী‘উম বাসীর।




আল বায়ান: আল্লাহ ফেরেশতা ও মানুষের মধ্য থেকে রাসূল মনোনীত করেন। অবশ্যই আল্লাহ সর্বশ্রোতা সর্বদ্রষ্টা।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৭৫. আল্লাহ ফিরিশতাদের মধ্য থেকে মনোনীত করেন রাসূল এবং মানুষের মধ্য থেকেও(১); নিশ্চয় আল্লাহ্ সর্বশ্রোতা, সম্যক দ্রষ্টা।(২)।




তাইসীরুল ক্বুরআন: আল্লাহ ফেরেশতাগণের মধ্য হতে বাণীবাহক মনোনীত করেন আর মানুষদের মধ্য হতেও, আল্লাহ সব কিছু শোনেন, সব কিছু দেখেন।




আহসানুল বায়ান: (৭৫) আল্লাহ ফিরিশতাদের মধ্য হতে মনোনীত করেন বাণীবাহক (দূত) এবং মানুষের মধ্য হতেও।[1] নিশ্চয় আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা। [2]



মুজিবুর রহমান: আল্লাহ মালাইকাদের মধ্য হতে মনোনীত করেন বাণীবাহক এবং মানুষের মধ্য হতেও; আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সম্যক দ্রষ্টা।



ফযলুর রহমান: আল্লাহ ফেরেশতাদের মধ্য থেকে দূত মনোনীত করেন; মানুষের মধ্য থেকেও। নিশ্চয়ই আল্লাহ সবকিছু শোনেন, সবকিছু দেখেন।



মুহিউদ্দিন খান: আল্লাহ ফেরেশতা ও মানুষের মধ্য থেকে রাসূল মনোনীত করেন। আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্ব দ্রষ্টা!



জহুরুল হক: আল্লাহ্ ফিরিশতাদের মধ্যে থেকে বাণীবাহকদের মনোনীত করেন, এবং মানুষের মধ্যে থেকেও। নিঃসন্দেহ আল্লাহ্ সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।



Sahih International: Allah chooses from the angels messengers and from the people. Indeed, Allah is Hearing and Seeing.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৭৫. আল্লাহ ফিরিশতাদের মধ্য থেকে মনোনীত করেন রাসূল এবং মানুষের মধ্য থেকেও(১); নিশ্চয় আল্লাহ্ সর্বশ্রোতা, সম্যক দ্রষ্টা।(২)।


তাফসীর:

(১) পূর্ববর্তী আয়াতে আল্লাহ তাঁর নিজের পূর্ণতা ও মূর্তিদের দুর্বলতা বর্ণনা করলেন, আর এও বর্ণনা করলেন যে তিনিই একমাত্র মা’বুদ, এ আয়াতে তাঁর রাসূলদের অবস্থা বর্ণনা করছেন। তারা সমস্ত সৃষ্টি থেকে আলাদা প্রকৃতির। তাদের রয়েছে ভিন্ন বিশেষত্ব। [সা’দী]


(২) অর্থাৎ যিনি রাসূলদেরকে পছন্দ করে নিয়েছেন তিনি এমন নন যে, তাদের বাস্তব অবস্থা সম্পর্কে বেখবর। বরং তিনি সবকিছু দেখেন ও শোনেন। প্রত্যেক ব্যক্তির প্রকাশ্য ও গোপন অবস্থা একমাত্র তিনিই জানেন। তিনি জানেন কোথায় তাঁর রিসালাত রাখতে হবে আর কে এর জন্য অধিক উপযুক্ত। তিনি রাসূলদের পাঠান, ফলে তাদের কেউ কেউ এতে সাড়া দেয়, আর কেউ দেয় না। কিন্তু রাসূলদের দায়িত্ব এখানেই শেষ। তারপরই তারা আল্লাহর দরবারে ফিরে যাবে। সেখানেই তাদের কর্মকাণ্ডের প্রতিফল পাবে। [সা'দী]


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৭৫) আল্লাহ ফিরিশতাদের মধ্য হতে মনোনীত করেন বাণীবাহক (দূত) এবং মানুষের মধ্য হতেও।[1] নিশ্চয় আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা। [2]


তাফসীর:

[1] رَسُول رُسُل এর বহুবচন। এর অর্থঃ প্রেরিত দূত, বাণী বাহক। মহান আল্লাহ ফিরিশতা দ্বারাও বাণী বহনের কাজ নিয়েছেন। যেমন জিবরীল (আঃ)-কে অহী (প্রত্যাদেশ) পৌঁছানোর জন্য নির্বাচিত করেছেন; তাঁর কাজ নবীদের নিকট অহী পৌঁছানো অথবা আযাব নিয়ে কোন জাতির নিকট যাওয়া। আর মানুষের মধ্যেও কিছুকে বাণী-বাহক দূত রূপে নির্বাচিত করেছেন এবং তাঁদেরকে মানুষের পথ দেখানোর কাজে নিয়োগ করেছেন। এঁরা সকলেই ছিলেন আল্লাহর বান্দা ও দাস, তবে নির্বাচিত ও মনোনীত। কিন্তু কেন? আল্লাহর ইচ্ছায় শরীক করার জন্য; যেমন কোন কোন মানুষ তাঁদেরকে আল্লাহর শরীক মনে করে থাকে? কখনই না, বরং শুধুমাত্র আল্লাহর বাণী পৌঁছানোর জন্য তাঁরা মনোনীত হন।

[2] তিনি বান্দাদের সকল কথা শ্রবণ করেন ও তাদের সকল কাজ প্রত্যক্ষ করেন। অর্থাৎ, তিনি অবগত যে, রিসালাতের যোগ্য কে? যেমন অন্য জায়গায় বলেছেন {اللهُ أَعْلَمُ حَيْثُ يَجْعَلُ رِسَالَتَهُ} অর্থাৎ, রসূলের পদ বা দায়িত্ব আল্লাহ কার উপর অর্পণ করবেন তা তিনিই ভাল জানেন। (সূরা আনআম ১২৪ আয়াত)


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৭৫-৭৬ নং আয়াতের তাফসীর:



رسل শব্দটি رسول এর বহুবচন। অর্থন বার্তাবাহক, প্রেরিত রাসূল। অর্থাৎ ফেরেশতা ও মানুষের মধ্য হতে যাকে ইচ্ছা আল্লাহ তা‘আলা বার্তাবাহক হিসেবে চয়ন করেন। বার্তাবাহক হিসেবে ফেরেশতাদের কাজ হল নাবীদের কাছে ওয়াহী পৌঁছে দেয়া, এ কাজগুলো করত জিবরীল (عليه السلام)। আর বার্তাবাহক হিসেবে নাবীদের কাজ হল তাদের ওপর আগত ওয়াহী অনুসারে মানুষদেরকে দাওয়াত দেয়া, ওয়াহীর বাণী পৌঁছে দেয়া। সুতরাং আল্লাহ তা‘আলা যাকে ইচ্ছা রাসূল হিসেবে চয়ন করবেন তাতে কারো কোন মন্তব্য করার সুযোগ নেই। অতএব যারা বলতে চায়ন জিবরীল (عليه السلام) আলী (রাঃ)-এর কাছে ওয়াহী না নিয়ে ভুল করে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসেছে, তাদের এ কথা মিথ্যা, ভিত্তিহীন। কারণ আল্লাহ তা‘আলা আলী (রাঃ)-কে নাবী বানাতে চাইলে বাধা দেয়ার কে আছে? যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(اَللّٰهُ أَعْلَمُ حَيْثُ يَجْعَلُ رِسَالَتَه)



“আল্লাহ তা‘আলা তাঁর রিসালাতের ভার কার ওপর অর্পণ করবেন তা তিনিই ভাল জানেন।” (সূরা আন‘আম ৬:১২৪)



সুতরাং তিনি তাঁর ইচ্ছা অনুসারে যাকে খুশি ফেরেশতাদের মধ্য থেকে বাণীবাহক হিসেবে পাঠান আর মানুষের মধ্য থেকে যাকে খুশি রাসূল হিসেবে নিযুক্ত করেন। তিনি কারো ইচ্ছার ওপর নির্ভর করেন না। তাঁর ইচ্ছা অনুসারেই তিনি তা করে থাকেন।



এরপর এ কথা বলা হচ্ছে যে, আল্লাহ তা‘আলা রাসূলগণের সামনের ও পিছনের খবর রাখেন। তাদের কাছে তিনি কী পৌঁছালেন এবং তারা কী পৌঁছিয়ে দিল এসব কিছু তাঁর নিকট দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট। সুতরাং জিবরীল (عليه السلام) ভুল করে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই। কারণ আল্লাহ তো সব দেখছেন, শুনছেন। আল্লাহ তা‘আলার বাণী:



(عٰلِمُ الْغَیْبِ فَلَا یُظْھِرُ عَلٰی غَیْبِھ۪ٓ اَحَدًاﭩﺫ اِلَّا مَنِ ارْتَضٰی مِنْ رَّسُوْلٍ فَاِنَّھ۫ یَسْلُکُ مِنْۭ بَیْنِ یَدَیْھِ وَمِنْ خَلْفِھ۪ رَصَدًاﭪﺫ لِّیَعْلَمَ اَنْ قَدْ اَبْلَغُوْا رِسٰلٰتِ رَبِّھِمْ وَاَحَاطَ بِمَا لَدَیْھِمْ وَاَحْصٰی کُلَّ شَیْءٍ عَدَدًاﭫﺟ)



“তিনি অদৃশ্য জ্ঞানের অধিকারী, তিনি তাঁর অদৃশ্যের জ্ঞান কারো নিকট প্রকাশ করেন না তাঁর মনোনীত রাসূল ব্যতীত। নিশ্চয়ই তিনি তার সামনে এবং পিছনে প্রহরী নিয়োজিত করেন। তাঁরা তাদের প্রতিপালকের রিসালাত পৌঁছে দিয়েছে কি না তা জানার জন্য; রাসূলদের নিকট যা আছে তা তিনি বেষ্টন করে রেখেছেন এবং তিনি সবকিছুর বিস্তারিত হিসাব রাখেন।” (সূরা জিন ৭২:২৬-২৮)



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. রাসূল প্রেরণ করা বা রিসালাতের জন্য লোক নির্ধারিত করা আল্লাহ তা‘আলার ইচ্ছাধীন।

২. আল্লাহ তা‘আলা সকলের পূর্ব-পশ্চাতের সমস্ত কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত।

৩. সকলের প্রত্যাবর্তন একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার নিকট।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৭৫-৭৬ নং আয়াতের তাফসীর:

আল্লাহ তাআলা খবর দিচ্ছেন যে, তিনি নিজের নির্ধারিত তকদীর জারি করা এবং নির্ধারিত শরীয়ত স্বীয় রাসূল (সঃ) পর্যন্ত পৌঁছানোর জন্যে যে ফেরেশতাকে চান নির্দিষ্ট করে নেন। অনুরূপভাবে তিনি লোকদের মধ্য হতে যাকে চান নবুওয়াতের পোষাক পরিয়ে দেন। তিনি বান্দাদের সমস্ত কথা শুনে থাকেন। এক একজন বান্দা তার আমলসহ তার দৃষ্টির মধ্যে রয়েছে। নবুওয়াত প্রাপ্তির যোগ্য পাত্র কে তা তিনি খুব ভালই জানেন। যেমন তিনি বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “রিসালাত লাভের যোগ্য পাত্র কে তা আল্লাহ খুব ভাল জানেন।” রাসূলদেরসামনেরও পিছনের খবর আল্লাহ রাখেন। তাঁদের কাছে তিনি কি পৌঁছালেন এবং তারা কি পৌছিয়ে দিলেন এ সব কিছু তার কাছে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান। যেমন তিনি বলেনঃ (আরবী) হতে (আরবী) পর্যন্ত।

অর্থাৎ তিনি অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা, তিনি তাঁর অদৃশ্যের জ্ঞান কারো নিকট প্রকাশ করেন না, তাঁর মনোনীত রাসূল ব্যতীত। সেই ক্ষেত্রে আল্লাহ রাসূলের অগ্রে ও পশ্চাতে প্রহরী নিয়েজিত করেন, রাসূলগণ তাদের প্রতিপালকের বাণী পৌছিয়ে দিয়েছেন কি না তা জানবার জন্যে; রাসূলদের নিকট যা আছে তা তার জ্ঞান গোচর এবং তিনি সমস্ত কিছুর বিস্তারিত হিসাব রাখেন।` (৭২:২৬-২৮)।

সুতরাং মহান আল্লাহ স্বীয় রাসূলদের রক্ষক। যা তাদের বলা হয় তার তিনি হিফাজতকারী। তিনি তাদের সাহায্যকারী। যেমন তিনি বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “হে রাসূল (সঃ) তোমার নিকট তোমার প্রতিপালকের পক্ষ হতে যা কিছু অবতীর্ণ করা হয় তা তুমি (মানুষের কাছে পৌঁছিয়ে দাও, আর তা যদি না কর তবে তুমি তাঁর রিসালাত পৌছিয়ে দিলে না, এবং জেনে রেখো যে, আল্লাহ্ তোমাকে মানুষ (এর অনিষ্ট) হতে রক্ষা করবেন।` (৫:৬৭)





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।