আল কুরআন


সূরা আল-হজ্জ (আয়াত: 57)

সূরা আল-হজ্জ (আয়াত: 57)



হরকত ছাড়া:

والذين كفروا وكذبوا بآياتنا فأولئك لهم عذاب مهين ﴿٥٧﴾




হরকত সহ:

وَ الَّذِیْنَ کَفَرُوْا وَ کَذَّبُوْا بِاٰیٰتِنَا فَاُولٰٓئِکَ لَهُمْ عَذَابٌ مُّهِیْنٌ ﴿۵۷﴾




উচ্চারণ: ওয়াল্লাযীনা কাফারূওয়া কাযযাবূবিআ-য়া-তিনা-ফাউলাইকা লাহুম ‘আযা-বুম মুহীন।




আল বায়ান: আর যারা কুফরী করে এবং আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করে, তাদের জন্যেই রয়েছে অপমানজনক আযাব।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৫৭. আর যারা কুফরী করেছে ও আমাদের আয়াতসমূহে মিথ্যারোপ করেছে, তাদেরই জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি।




তাইসীরুল ক্বুরআন: আর যারা কুফুরী করে আর আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যে জেনে প্রত্যাখ্যান করে তাদের জন্য আছে অপমানজনক শাস্তি।




আহসানুল বায়ান: (৫৭) আর যারা অবিশ্বাস করে ও আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যাজ্ঞান করে, তাদেরই জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি।



মুজিবুর রহমান: আর যারা কুফরী করে এবং আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করে তাদেরই জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি।



ফযলুর রহমান: আর যারা কুফরি করেছে ও আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা বলেছে তাদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাকর শাস্তি।



মুহিউদ্দিন খান: এবং যারা কুফরি করে এবং আমার আয়াত সমূহকে মিথ্যা বলে তাদের জন্যে লাঞ্ছনাকর শাস্তি রয়েছে।



জহুরুল হক: আর যারা অবিশ্বাস পোষণ করে ও আমাদের নির্দেশাবলী প্রত্যাখ্যান করে, তারাই তবে -- তাদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি।



Sahih International: And they who disbelieved and denied Our signs - for those there will be a humiliating punishment.



তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।


তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৫৭. আর যারা কুফরী করেছে ও আমাদের আয়াতসমূহে মিথ্যারোপ করেছে, তাদেরই জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি।


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৫৭) আর যারা অবিশ্বাস করে ও আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যাজ্ঞান করে, তাদেরই জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি।


তাফসীর:

-


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৫৫-৫৭ নং আয়াতের তাফসীর:



يوم عقيم



এর মূল অর্থ হল- বন্ধ্যা দিন। আর তা হল কিয়ামতের দিন। এ দিনকে বন্ধ্যা এ কারণে বলা হয়েছে যে, তারপর আর কোন দিন হবে না। যেমন কারো সন্তান না হলে তাকে বন্ধ্যা বলা হয়। অথবা এ কারণে যে, সেদিন কাফিরদের জন্য কোন দয়া থাকবে না। অর্থাৎ সেদিন তাদের জন্য কল্যাণশূন্য হবে। যেমন আযাবস্বরূপ আগত ঝড়কে ريح عقيم বলা হয়। আল্লাহ তা‘আলার বাণী:



(وَفِيْ عَادٍ إِذْ أَرْسَلْنَا عَلَيْهِمُ الرِّيْحَ الْعَقِيْمَ) ‏



“এবং (নিদর্শন রয়েছে) ‘আদের ঘটনায়, যখন আমি তাদের বিরুদ্ধে প্রেরণ করেছিলাম অকল্যাণকর বাতাস।” (সূরা যারিআত ৫১:৪১) অর্থাৎ এমন বায়ু যার মধ্যে কোন কল্যাণ ও বৃষ্টির পূর্বাভাস ছিল না।



مِرْيَةٍ مِّنْهُ



অর্থাৎ কিয়ামতের দিন আসার পূর্ব পর্যন্ত কাফিররা কুরআনের ব্যাপারে সংশয়ে থাকবে। কেউ বলেছেন, শয়তান রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কথার সাথে বা আকাক্সক্ষার সাথে যা মিশ্রিত করে দেন সে ব্যাপারে সন্দেহে থাকবে।



(اَلْمُلْكُ يَوْمَئِذٍ لِّلّٰهِ)



অর্থাৎ কিয়ামতের দিনের রাজত্ব একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার থাকবে। দুনিয়ার রাজত্ব কি আল্লাহ তা‘আলার নয়? অবশ্যই আল্লাহ তা‘আলার, কিন্তু দুনিয়াতে অনেকে নিজেকে রাজা বলতে পারে, কিয়ামতের দিন এ রাজা নামটি একমাত্র আল্লাহ তা‘আলা ছাড়া আর কারো থাকবে না। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(لِمَنِ الْمُلْكُ الْيَوْمَ ط لِلّٰهِ الْوَاحِدِ الْقَهَّارِ)



(আল্লাহ জিজ্ঞেস করবেন) আজ কর্তৃত্ব কার? এক পরাক্রমশালী আল্লাহরই। (সূরা মু’মিন ৪০:১৬)



হাদীসে এসেছে: কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা‘আলা আকাশ-জমিন ডান হাতে গুটিয়ে নেবেন, অতঃপর বলবেন:



يَقْبِضُ اللّٰهُ الأَرْضَ، وَيَطْوِي السَّمَوَاتِ بِيَمِينِهِ، ثُمَّ يَقُولُ: أَنَا المَلِكُ، أَيْنَ مُلُوكُ الأَرْضِ



আমিই রাজা। দুনিয়ার রাজা-বাদশাহরা কোথায়? (সহীহ বুখারী হা: ৪৮১২, সহীহ মুসলিম হা: ২৭৮৭)



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. সত্যের ব্যাপারে কাফিররা কিয়ামত পর্যন্ত সন্দেহে থাকবে। কিয়ামত হঠাৎ করে চলে আসবে।

২. কিয়ামতকে يوم عقيم বা অশুভ দিন বলা হয়, কারণ কিয়ামত কাফিরদের জন্য শুভ হবে না।

৩. কিয়ামতের দিন রাজত্ব হবে একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার।

৪. যারা সৎ কাজ করে তারা জান্নাতী আর যারা অসৎ কাজ করে তারা জাহান্নামী।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৫৫-৫৭ নং আয়াতের তাফসীর:

আল্লাহ তাআলা কাফিরদের সম্পর্কে খবর দিচ্ছেন যে, আল্লাহর ওয়াহী অর্থাৎ কুরআনকারীমের ব্যাপারে তাদের যে সন্দেহ রয়েছে তা তাদের অন্তর থেকে কখনো দূর হবে না। শয়তান কিয়ামত পর্যন্ত তাদের এই সন্দেহ দূর হতে দেবে না।

কিয়ামত এবং ওর শাস্তি তাদের উপর আকস্মিকভাবে চলে আসবে। তারা কিছু টেরই পাবে না। এখন যে মহান আল্লাহ তাদেরকে অবকাশ দিয়ে রেখেছেন এতে তারা গর্বিত হয়ে গেছে। যে কওমেরই উপর আল্লাহর শাস্তি এসেছে তা এই অবস্থাতেই এসেছে যে, তারা তা থেকে নির্ভয় ও বেপরোয়া হয়ে গিয়েছিল। আল্লাহর শাস্তি হতে উদাসীন শুধু তারাই থাকে যারা পুরোপুরিভাবে পাপাচার এবং প্রকাশ্যভাবে অপরাধী। তাদের উপর এমন দিনের শাস্তি আসবে যেই দিন তাদের জন্যে কোন মঙ্গল নেই। ঐ দিন তাদের জন্যে অকল্যাণকর সাব্যস্ত হবে।

কারো কারো উক্তি এই যে, এই দিন দ্বারা বদরের দিনকে বুঝানো হয়েছে। কেউ কেউ বলেছেন যে, এর দ্বারা কিয়ামতের দিন উদ্দেশ্য। এটাই সঠিক উক্তি, যদিও বদরের দিনটাও মুশরিকদের জন্যে শাস্তির দিনই ছিল।

মহান আল্লাহ বলেনঃ সেই দিন হবে আল্লাহরই আধিপত্য। যেমন অন্য আয়াতে আছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “তিনি কর্মফল দিবসের মালিক।` আরেক জায়গায় রয়েছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “সেই দিন প্রকৃত কর্তৃত্ব হবে দয়াময়ের এবং কাফিরদের জন্যে সেইদিন হবে কঠিন।” (২৫:২৬)

তিনিই তাদের বিচার করবেন। সুতরাং যাদের অন্তরে আল্লাহর প্রতি ঈমান ও রাসূলের (সঃ) প্রতি বিশ্বাস থাকবে এবং ঈমান্ত্রে মোতাবেক যাদের আমল হবে, যাদের অন্তর ও আমলের মধ্যে সাদৃশ্য থাকবে এবং যাদের মুখের কথার সাথে মনের মিল থাকবে তারা হবে সুখময় জান্নাতের অধিকারী। ঐ নিয়ামত কখনো শেষ হবার নয়, কম হবার নয় এবং নষ্ট হাবারও নয়।

পক্ষান্তরে যারা কুফরী করে ও আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বী করে, যাদের মুখের কথার সাথে অন্তরের মিল নেই, যারা সত্যের অনুসরণে অহকার করে, তাদের জন্যে রয়েছে অপমানজনক শাস্তি। যেমন মহান মহিমান্বিত অল্লাহ বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “যারা আমার ইবাদতে অহংকার করে তারা সত্বরই লাঞ্ছিত অবস্থায় জাহান্নামে প্রবেশ করবে।` (৪০:৬০)





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।