আল কুরআন


সূরা আল-হজ্জ (আয়াত: 56)

সূরা আল-হজ্জ (আয়াত: 56)



হরকত ছাড়া:

الملك يومئذ لله يحكم بينهم فالذين آمنوا وعملوا الصالحات في جنات النعيم ﴿٥٦﴾




হরকত সহ:

اَلْمُلْکُ یَوْمَئِذٍ لِّلّٰهِ ؕ یَحْکُمُ بَیْنَهُمْ ؕ فَالَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَ عَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ فِیْ جَنّٰتِ النَّعِیْمِ ﴿۵۶﴾




উচ্চারণ: আল মুলকুইয়াওমাইযিল লিল্লা-হি ইয়াহকুমুবাইনাহুম ফাল্লাযীনা আ-মানূওয়া ‘আমিলুসসা-লিহা-তি ফী জান্না-তিন না‘ঈম।




আল বায়ান: সে দিনের বাদশাহী আল্লাহরই। তিনিই তাদের মধ্যে বিচার করবেন। সুতরাং যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, তারা নিআমতপূর্ণ জান্নাতসমূহে অবস্থান করবে।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৫৬. সেদিন আল্লাহরই আধিপত্য; তিনিই তাদের মাঝে বিচার করবেন। অতঃপর যারা ঈমান এনেছে ও সৎকাজ করেছে, তারা নেয়ামত পরিপূর্ণ জান্নাতে অবস্থান করবে।




তাইসীরুল ক্বুরআন: ক্ষমতা-আধিপত্য সেদিন হবে আল্লাহরই, তিনি তাদের মাঝে বিচার-ফয়সালা করবেন। অতঃপর যারা ঈমান আনে ও সৎ কাজ করে তারা থাকবে নি‘মাতরাজিতে পরিপূর্ণ জান্নাতে।




আহসানুল বায়ান: (৫৬) সে দিন আল্লাহরই আধিপত্য হবে;[1] তিনিই তাদের বিচার করবেন; যারা বিশ্বাস করে ও সৎকর্ম করে তারা অবস্থান করবে সুখময় জান্নাতে।



মুজিবুর রহমান: সেদিন আল্লাহরই আধিপত্য; তিনিই তাদের বিচার করবেন। সুতরাং যারা ঈমান আনে ও সৎ কাজ করে তারা অবস্থান করবে সুখময় জান্নাতে।



ফযলুর রহমান: সেদিন কর্তৃত্ব (থাকবে) আল্লাহরই। তিনিই তাদের বিচার করবেন। অতঃপর যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে তাদের স্থান হবে নেয়ামতপূর্ণ জান্নাতে।



মুহিউদ্দিন খান: রাজত্ব সেদিন আল্লাহরই; তিনিই তাদের বিচার করবেন। অতএব যারা বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সৎকর্ম সম্পাদন করে তারা নেয়ামত পূর্ণ কাননে থাকবে।



জহুরুল হক: "আজকের দিনে সর্বাধিনায়কত্ব হচ্ছে আল্লাহ্‌র।" তিনি তাদের মধ্যে বিচার করবেন। সুতরাং যারা ঈমান এনেছে ও সৎকাজ করছে তারাই থাকবে আনন্দময় উদ্যানে।



Sahih International: [All] sovereignty that Day is for Allah; He will judge between them. So they who believed and did righteous deeds will be in the Gardens of Pleasure.



তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।


তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৫৬. সেদিন আল্লাহরই আধিপত্য; তিনিই তাদের মাঝে বিচার করবেন। অতঃপর যারা ঈমান এনেছে ও সৎকাজ করেছে, তারা নেয়ামত পরিপূর্ণ জান্নাতে অবস্থান করবে।


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৫৬) সে দিন আল্লাহরই আধিপত্য হবে;[1] তিনিই তাদের বিচার করবেন; যারা বিশ্বাস করে ও সৎকর্ম করে তারা অবস্থান করবে সুখময় জান্নাতে।


তাফসীর:

[1] অর্থাৎ, পৃথিবীতে সাময়িকভাবে পুরস্কার স্বরূপ অথবা পরীক্ষা স্বরূপ মানুষ রাজত্ব আধিপত্য ও ক্ষমতা লাভ করে থাকে। কিন্তু পরকালে কারো কোন প্রকার ক্ষমতা থাকবে না। ক্ষমতা ও রাজত্ব একমাত্র আল্লাহরই থাকবে। কর্তৃত্ব ও আধিপত্য একমাত্র তাঁরই হবে। {الْمُلْكُ يَوْمَئِذٍ الْحَقُّ لِلرَّحْمَنِ وَكَانَ يَوْمًا عَلَى الْكَافِرِينَ عَسِيرًا} অর্থাৎ, সেদিন প্রকৃত কর্তৃত্ব হবে পরম দয়াময়ের এবং অবিশ্বাসীদের জন্য সেদিন হবে বড় কঠিন। (সূরা ফুরকানঃ ২৬) {لِمَنِ الْمُلْكُ الْيَوْمَ لِلَّهِ الْوَاحِدِ الْقَهَّارِ} অর্থাৎ, আজ কর্তৃত্ব কার? এক পরাক্রমশালী আল্লাহরই। (সূরা মু’মিনঃ ১৬)


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৫৫-৫৭ নং আয়াতের তাফসীর:



يوم عقيم



এর মূল অর্থ হল- বন্ধ্যা দিন। আর তা হল কিয়ামতের দিন। এ দিনকে বন্ধ্যা এ কারণে বলা হয়েছে যে, তারপর আর কোন দিন হবে না। যেমন কারো সন্তান না হলে তাকে বন্ধ্যা বলা হয়। অথবা এ কারণে যে, সেদিন কাফিরদের জন্য কোন দয়া থাকবে না। অর্থাৎ সেদিন তাদের জন্য কল্যাণশূন্য হবে। যেমন আযাবস্বরূপ আগত ঝড়কে ريح عقيم বলা হয়। আল্লাহ তা‘আলার বাণী:



(وَفِيْ عَادٍ إِذْ أَرْسَلْنَا عَلَيْهِمُ الرِّيْحَ الْعَقِيْمَ) ‏



“এবং (নিদর্শন রয়েছে) ‘আদের ঘটনায়, যখন আমি তাদের বিরুদ্ধে প্রেরণ করেছিলাম অকল্যাণকর বাতাস।” (সূরা যারিআত ৫১:৪১) অর্থাৎ এমন বায়ু যার মধ্যে কোন কল্যাণ ও বৃষ্টির পূর্বাভাস ছিল না।



مِرْيَةٍ مِّنْهُ



অর্থাৎ কিয়ামতের দিন আসার পূর্ব পর্যন্ত কাফিররা কুরআনের ব্যাপারে সংশয়ে থাকবে। কেউ বলেছেন, শয়তান রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কথার সাথে বা আকাক্সক্ষার সাথে যা মিশ্রিত করে দেন সে ব্যাপারে সন্দেহে থাকবে।



(اَلْمُلْكُ يَوْمَئِذٍ لِّلّٰهِ)



অর্থাৎ কিয়ামতের দিনের রাজত্ব একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার থাকবে। দুনিয়ার রাজত্ব কি আল্লাহ তা‘আলার নয়? অবশ্যই আল্লাহ তা‘আলার, কিন্তু দুনিয়াতে অনেকে নিজেকে রাজা বলতে পারে, কিয়ামতের দিন এ রাজা নামটি একমাত্র আল্লাহ তা‘আলা ছাড়া আর কারো থাকবে না। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(لِمَنِ الْمُلْكُ الْيَوْمَ ط لِلّٰهِ الْوَاحِدِ الْقَهَّارِ)



(আল্লাহ জিজ্ঞেস করবেন) আজ কর্তৃত্ব কার? এক পরাক্রমশালী আল্লাহরই। (সূরা মু’মিন ৪০:১৬)



হাদীসে এসেছে: কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা‘আলা আকাশ-জমিন ডান হাতে গুটিয়ে নেবেন, অতঃপর বলবেন:



يَقْبِضُ اللّٰهُ الأَرْضَ، وَيَطْوِي السَّمَوَاتِ بِيَمِينِهِ، ثُمَّ يَقُولُ: أَنَا المَلِكُ، أَيْنَ مُلُوكُ الأَرْضِ



আমিই রাজা। দুনিয়ার রাজা-বাদশাহরা কোথায়? (সহীহ বুখারী হা: ৪৮১২, সহীহ মুসলিম হা: ২৭৮৭)



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. সত্যের ব্যাপারে কাফিররা কিয়ামত পর্যন্ত সন্দেহে থাকবে। কিয়ামত হঠাৎ করে চলে আসবে।

২. কিয়ামতকে يوم عقيم বা অশুভ দিন বলা হয়, কারণ কিয়ামত কাফিরদের জন্য শুভ হবে না।

৩. কিয়ামতের দিন রাজত্ব হবে একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার।

৪. যারা সৎ কাজ করে তারা জান্নাতী আর যারা অসৎ কাজ করে তারা জাহান্নামী।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৫৫-৫৭ নং আয়াতের তাফসীর:

আল্লাহ তাআলা কাফিরদের সম্পর্কে খবর দিচ্ছেন যে, আল্লাহর ওয়াহী অর্থাৎ কুরআনকারীমের ব্যাপারে তাদের যে সন্দেহ রয়েছে তা তাদের অন্তর থেকে কখনো দূর হবে না। শয়তান কিয়ামত পর্যন্ত তাদের এই সন্দেহ দূর হতে দেবে না।

কিয়ামত এবং ওর শাস্তি তাদের উপর আকস্মিকভাবে চলে আসবে। তারা কিছু টেরই পাবে না। এখন যে মহান আল্লাহ তাদেরকে অবকাশ দিয়ে রেখেছেন এতে তারা গর্বিত হয়ে গেছে। যে কওমেরই উপর আল্লাহর শাস্তি এসেছে তা এই অবস্থাতেই এসেছে যে, তারা তা থেকে নির্ভয় ও বেপরোয়া হয়ে গিয়েছিল। আল্লাহর শাস্তি হতে উদাসীন শুধু তারাই থাকে যারা পুরোপুরিভাবে পাপাচার এবং প্রকাশ্যভাবে অপরাধী। তাদের উপর এমন দিনের শাস্তি আসবে যেই দিন তাদের জন্যে কোন মঙ্গল নেই। ঐ দিন তাদের জন্যে অকল্যাণকর সাব্যস্ত হবে।

কারো কারো উক্তি এই যে, এই দিন দ্বারা বদরের দিনকে বুঝানো হয়েছে। কেউ কেউ বলেছেন যে, এর দ্বারা কিয়ামতের দিন উদ্দেশ্য। এটাই সঠিক উক্তি, যদিও বদরের দিনটাও মুশরিকদের জন্যে শাস্তির দিনই ছিল।

মহান আল্লাহ বলেনঃ সেই দিন হবে আল্লাহরই আধিপত্য। যেমন অন্য আয়াতে আছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “তিনি কর্মফল দিবসের মালিক।` আরেক জায়গায় রয়েছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “সেই দিন প্রকৃত কর্তৃত্ব হবে দয়াময়ের এবং কাফিরদের জন্যে সেইদিন হবে কঠিন।” (২৫:২৬)

তিনিই তাদের বিচার করবেন। সুতরাং যাদের অন্তরে আল্লাহর প্রতি ঈমান ও রাসূলের (সঃ) প্রতি বিশ্বাস থাকবে এবং ঈমান্ত্রে মোতাবেক যাদের আমল হবে, যাদের অন্তর ও আমলের মধ্যে সাদৃশ্য থাকবে এবং যাদের মুখের কথার সাথে মনের মিল থাকবে তারা হবে সুখময় জান্নাতের অধিকারী। ঐ নিয়ামত কখনো শেষ হবার নয়, কম হবার নয় এবং নষ্ট হাবারও নয়।

পক্ষান্তরে যারা কুফরী করে ও আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বী করে, যাদের মুখের কথার সাথে অন্তরের মিল নেই, যারা সত্যের অনুসরণে অহকার করে, তাদের জন্যে রয়েছে অপমানজনক শাস্তি। যেমন মহান মহিমান্বিত অল্লাহ বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “যারা আমার ইবাদতে অহংকার করে তারা সত্বরই লাঞ্ছিত অবস্থায় জাহান্নামে প্রবেশ করবে।` (৪০:৬০)





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।