সূরা আল-হজ্জ (আয়াত: 3)
হরকত ছাড়া:
ومن الناس من يجادل في الله بغير علم ويتبع كل شيطان مريد ﴿٣﴾
হরকত সহ:
وَ مِنَ النَّاسِ مَنْ یُّجَادِلُ فِی اللّٰهِ بِغَیْرِ عِلْمٍ وَّ یَتَّبِعُ کُلَّ شَیْطٰنٍ مَّرِیْدٍ ۙ﴿۳﴾
উচ্চারণ: ওয়া মিনান্না-ছি মাইঁ ইউজা-দিলুফিল্লা-হি বিগাইরি ‘ইলমিওঁ ওয়া ইয়াত্তাবি’উ কুল্লা শাইতা নিম মারীদ।
আল বায়ান: মানুষের মধ্যে কতক আল্লাহ সম্পর্কে তর্ক-বিতর্ক করে না জেনে এবং সে অনুসরণ করে প্রত্যেক বিদ্রোহী শয়তানের।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৩. মানুষের মধ্যে কিছু সংখ্যক না জেনে আল্লাহ সম্বন্ধে বিতণ্ডা করে(১) এবং সে প্রত্যেক বিদ্রোহী শয়তানের অনুসরণ করে,
তাইসীরুল ক্বুরআন: কতক মানুষ জ্ঞান ছাড়াই আল্লাহ সম্বন্ধে বাদানুবাদ করে, আর প্রত্যেক অবাধ্য শয়ত্বানের অনুসরণ করে।
আহসানুল বায়ান: (৩) মানুষের মধ্যে কতক আছে যারা অজ্ঞানতাবশতঃ আল্লাহ সম্বন্ধে বিতন্ডা করে এবং অনুসরণ করে প্রত্যেক বিদ্রোহী শয়তানের। [1]
মুজিবুর রহমান: মানুষের কতক অজ্ঞতা বশতঃ আল্লাহ সম্বন্ধে বিতন্ডা করে এবং অনুসরণ করে প্রত্যেক বিদ্রোহী শাইতানের।
ফযলুর রহমান: মানুষের মধ্যে এমন মানুষও আছে যে আল্লাহ সম্পর্কে না জেনে তর্ক করে এবং প্রত্যেক অবাধ্য শয়তানের অনুসরণ করে।
মুহিউদ্দিন খান: কতক মানুষ অজ্ঞানতাবশতঃ আল্লাহ সম্পꦣ2503;ক বিতর্ক করে এবং প্রত্যেক অবাধ্য শয়তানের অনুসরণ করে।
জহুরুল হক: আর মানুষদের মধ্যে এমনও আছে যে কোনো জ্ঞান না রেখেই আল্লাহ্ সন্বন্ধে বিতর্ক করে, আর সে অনুসরণ করে প্রত্যেক বিদ্রোহী শয়তানকে, --
Sahih International: And of the people is he who disputes about Allah without knowledge and follows every rebellious devil.
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৩. মানুষের মধ্যে কিছু সংখ্যক না জেনে আল্লাহ সম্বন্ধে বিতণ্ডা করে(১) এবং সে প্রত্যেক বিদ্রোহী শয়তানের অনুসরণ করে,
তাফসীর:
(১) এখানে আল্লাহ সম্পর্কে তাদের যে বিতর্কের উপর আলোচনা করা হচ্ছে তা হচ্ছে আখেরাতে বিচারের জন্য তাদেরকে মৃত্যু ও মাটির সাথে মিশে যাওয়ার পর পুনরায় জীবিত করতে পারেন কি না? আল্লাহ এখানে তাদের কর্মকাণ্ডের নিন্দা করছেন, যারা আল্লাহ যা তাঁর নবীর উপর নাযিল করেছেন তার অনুসরণ না করে, শয়তানের দেয়া পথের অনুসরণ করে পুনরুত্থান ও আল্লাহর শক্তিকে অস্বীকার করছে। আর সাধারণত: যারাই রাসূলের উপর আল্লাহর নাযিলকৃত বাণী ও সুস্পষ্ট হকের অনুসরণ করা থেকে বিরত থাকে, তারাই বাতিলপন্থী নেতা, বিদ’আতের প্রতি আহ্বানকারীদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে। [ইবন কাসীর]
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৩) মানুষের মধ্যে কতক আছে যারা অজ্ঞানতাবশতঃ আল্লাহ সম্বন্ধে বিতন্ডা করে এবং অনুসরণ করে প্রত্যেক বিদ্রোহী শয়তানের। [1]
তাফসীর:
[1] যেমন বলে, আল্লাহ পুনর্বার সৃষ্টি করতে সক্ষম নন, বা তাঁর সন্তান আছে ইত্যাদি।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৩-৪ নং আয়াতের তাফসীর:
(وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يُّجَادِلُ.....)
এখানে আল্লাহ তা‘আলা একশ্রেণির মানুষের একটা মন্দ অভ্যাসের বর্ণনা দিচ্ছেন। তারা সঠিক দলীল প্রমাণ ছাড়াই আল্লাহ সম্পর্কে তর্ক-বিতর্ক করে থাকে। আল্লাহ তা‘আলা সম্পর্কে এমন কথা বলে ও মন্তব্য করে যা তাঁর সত্তার সাথে উপযোগী নয়। যেমন বলে থাকে, আল্লাহ তা‘আলার স্ত্রী-সন্তান রয়েছে, আল্লাহ স্ব-সত্তায় সর্বত্র বিরাজমান, কুরআন হল পূর্ব যুগের কল্প-কাহিনী ইত্যাদি। মূলত এরা শয়তানের অনুসারী, শয়তান তাদের কাছে এসকল খারাপ চিন্তা-চেতনা জাগিয়ে দেয় যাতে সঠিক পথের অনুসারীদের সাথে বিবাদ করতে পারে। যেমন আল্লাহ তা‘আলার বাণী।
(وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يُّجَادِلُ فِي اللّٰهِ بِغَيْرِ عِلْمٍ وَّلَا هُدًي وَّلَا كِتٰبٍ مُّنِيْرٍ - وَإِذَا قِيْلَ لَهُمُ اتَّبِعُوْا مَآ أَنْزَلَ اللّٰهُ قَالُوْا بَلْ نَتَّبِعُ مَا وَجَدْنَا عَلَيْهِ اٰبَآءَنَا ط أَوَلَوْ كَانَ الشَّيْطٰنُ يَدْعُوْهُمْ إِلٰي عَذَابِ السَّعِيْرِ)
“মানুষের মধ্যে কতক এরূপও আছে, যারা আল্লাহ সম্পর্কে বাক-বিতণ্ডা করে কোন জ্ঞান, কোন পথনির্দেশ ও কোন উজ্জ্বল গ্রন্থ ছাড়াই। আর যখন তাদেরকে বলা হয়, তোমরা তার অনুসরণ কর যা আল্লাহ অবতীর্ণ করেছেন, তখন তারা বলে, বরং আমরা তার অনুসরণ করব, যার ওপর আমাদের বাপ-দাদাদের পেয়েছি। যদিও শয়তান তাদেরকে জাহান্নামের শাস্তির দিকে আহ্বান করতে থাকে তবুও কি?” (সূরা লুকমান ৩১:২০-২১)
অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(وَإِنَّ الشَّيٰطِيْنَ لَيُوْحُوْنَ إِلٰٓي أَوْلِيَا۬ئِهِمْ لِيُجَادِلُوْكُمْ ج وَإِنْ أَطَعْتُمُوْهُمْ إِنَّكُمْ لَمُشْرِكُوْنَ)
“নিশ্চয়ই শয়তানেরা তাদের বন্ধুদেরকে তোমাদের সাথে বিবাদ করতে গোপনীয়ভাবে জানিয়ে দেয়; যদি তোমরা তাদের কথামত চল তবে তোমরা অবশ্যই মুশরিক হবে।” (সূরা আন‘আম ৬:১২১)
অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা মানুষকে সতর্ক করে বলছেন, এ কথা পূর্বেই লিপিবদ্ধ হয়ে গেছে, যে ব্যক্তি শয়তানকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করবে, শয়তান তাকে পথভ্রষ্ট করে ফেলবে এবং তাকে জাহান্নামের পথে পরিচালিত রবে। যেমন আল্লাহ তা‘আলার বাণী:
(وَمَنْ يَّتَّبِعْ خُطُوٰتِ الشَّيْطٰنِ فَإِنَّه۫ يَأْمُرُ بِالْفَحْشَا۬ءِ وَالْمُنْكَرِ)
“আর কেউ শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করলে শয়তান তো অশ্লীলতা ও মন্দ কাজের নির্দেশ দেয়।” (সূরা নূর ২৪:২১) আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন:
(إِنَّ الشَّيْطَانَ لَكُمْ عَدُوٌّ فَاتَّخِذُوْهُ عَدُوًّا ط إِنَّمَا يَدْعُوْا حِزْبَه۫ لِيَكُوْنُوْا مِنْ أَصْحٰبِ السَّعِيْرِ)
“নিশ্চয়ই শয়তান তোমাদের শত্র“, সুতরাং তাকে তোমরা শত্র“রূপেই গ্রহণ কর। সে তার দলবলকে শুধু এজন্যই আহ্বান করে, যেন তারা (পথভ্রষ্ট হয়ে) দোযখীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়।” (সূরা ফাতির ৫:৬)
অতএব কখনো শয়তানের অনুসরণ করা যাবে না। কারণ সে মানুষের প্রকাশ্য শত্র“। সে সবর্দা মানুষের ক্ষতি সাধন করার চেষ্টা করে।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. কোন বিষয়ে জ্ঞান না থাকলে ঐ বিষয়ে কথা বলা উচিত নয়।
২. শয়তানের অনুসরণ করা যাবে না। কারণ সে মানুষকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যেতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: যারা মৃত্যুর পরবর্তী জীবনকে অস্বীকার করে আর মনে করে যে, আল্লাহ তাআলা এটার উপর সক্ষম নন এবং তার আদেশ নিষেধ অমান্য করে ও নবীদের (আঃ) আনুগত্য পরিত্যাগ করে হঠকারী এবং উদ্ধত মা ও দানবের আনুগত্য করে, এখানে আল্লাহ তাআলা তাদেরই নিন্দে করছেন। তিনি বলেনঃ যত বিদআতী ও পথভ্রষ্ট লোক রয়েছে তারা সত্য হতে মুখ ফিরিয়ে নেয়, বাতিল ও মিথ্যার আনুগত্যে লেগে পড়ে, আল্লাহর কিতাব ও রাসূলের (সঃ) সুন্নাতকে ছেড়ে দেয় এবং পথভ্রষ্ট লোকদের আনুগত্য করে ও তাদের মনগড়া মতবাদের উপর আমল করে থাকে। এজন্যেই আল্লাহ তাআলা বলেন যে, তারা অজ্ঞানতা বশতঃ আল্লাহ সম্বন্ধে বিতণ্ডা করে। তাদের কাছে কোন সঠিক জ্ঞান নেই। তারা অনুসরণ করে প্রত্যেক বিদ্রোহী শয়তানের। তারা। এদেরকে পথভ্রষ্ট করবে এবং এদেরকে পরিচালিত করবে প্রজ্জ্বলিত অগ্নি ও শাস্তির দিকে। এই আয়াতটি নযর ইবনু হারিসের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়। এই নরাধম বলেছিলঃ “ আচ্ছা বলতো, আল্লাহ তাআলা সোনালী তৈরী, না রূপার তৈরী, না তামার তৈরী?” তার এই প্রশ্নের কারণে আকাশ কেঁপে ওঠে এবং ঐ খবীছের মাথার উপরিভাগ উড়ে যায়। একটি রিওয়াইয়াতে আছে যে, একজন ইয়াহুদী এরূপই প্রশ্ন করেছিল। ফলে তৎক্ষণাৎ আসমানী গর্জনে সে ধ্বংস হয়ে যায়।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।