সূরা আল-হজ্জ (আয়াত: 4)
হরকত ছাড়া:
كتب عليه أنه من تولاه فأنه يضله ويهديه إلى عذاب السعير ﴿٤﴾
হরকত সহ:
کُتِبَ عَلَیْهِ اَنَّهٗ مَنْ تَوَلَّاهُ فَاَنَّهٗ یُضِلُّهٗ وَ یَهْدِیْهِ اِلٰی عَذَابِ السَّعِیْرِ ﴿۴﴾
উচ্চারণ: কুতিবা ‘আলাইহি আন্নাহূমান তাওয়াল্লা-হু ফাআন্নাহূইউদিল্লুহূওয়া ইয়াহদীহি ইলা-‘আযাবিছ ছা‘ঈর।
আল বায়ান: তার সম্পর্কে নির্ধারণ করা হয়েছে যে, যে তার সাথে বন্ধুত্ব করবে সে অবশ্যই তাকে পথভ্রষ্ট করবে এবং তাকে প্রজ্জ্বলিত আগুনের শাস্তির দিকে পরিচালিত করবে।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৪. তার সম্বন্ধে লিখে দেয়া হয়েছে যে, যে কেউ তাকে অভিভাবক বানাবে সে তাকে পথভ্ৰষ্ট করবে এবং তাকে পরিচালিত করবে। প্রজ্জ্বলিত আগুনের শাস্তির দিকে।
তাইসীরুল ক্বুরআন: যার (অর্থাৎ শয়ত্বানের) সম্পর্কে বিধান করা হয়েছে যে, যে কেউ তার সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়বে, সে তাকে বিপথগামী করবে, আর তাকে প্রজ্জ্বলিত অগ্নি শাস্তির দিকে পরিচালিত করবে।
আহসানুল বায়ান: (৪) তার সম্বন্ধে এই নিয়ম করে দেয়া হয়েছে যে, [1] যে কেউ তার সাথে বন্ধুত্ব করবে, সে তাকে পথভ্রষ্ট করবে এবং তাকে পরিচালিত করবে প্রজ্জ্বলিত অগ্নির শাস্তির দিকে।
মুজিবুর রহমান: তার সম্বন্ধে এই নিয়ম করে দেয়া হয়েছে যে, যে কেহ তার সাথে বন্ধুত্ব করবে সে তাকে পথভ্রষ্ট করবে এবং তাকে পরিচালিত করবে প্রজ্জ্বলিত অগ্নির দিকে।
ফযলুর রহমান: শয়তান সম্বন্ধে লিখে দেওয়া হয়েছে যে, যে তাকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করবে তাকে সে পথভ্রষ্ট করবে ও দোযখের আযাবের দিকে নিয়ে যাবে।
মুহিউদ্দিন খান: শয়তান সম্পর্কে লিখে দেয়া হয়েছে যে, যে কেউ তার সাথী হবে, সে তাকে বিভ্রান্ত করবে এবং দোযখের আযাবের দিকে পরিচালিত করবে।
জহুরুল হক: যার বিরুদ্ধে লিখে রাখা হয়েছে যে যে-কেউ তাকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করবে সে তবে অবশ্যই তাকে বিপথে চালিত করবে এবং তাকে চালিয়ে নেবে জ্বলন্ত আগুনের শাস্তির দিকে।
Sahih International: It has been decreed for every devil that whoever turns to him - he will misguide him and will lead him to the punishment of the Blaze.
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৪. তার সম্বন্ধে লিখে দেয়া হয়েছে যে, যে কেউ তাকে অভিভাবক বানাবে সে তাকে পথভ্ৰষ্ট করবে এবং তাকে পরিচালিত করবে। প্রজ্জ্বলিত আগুনের শাস্তির দিকে।
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৪) তার সম্বন্ধে এই নিয়ম করে দেয়া হয়েছে যে, [1] যে কেউ তার সাথে বন্ধুত্ব করবে, সে তাকে পথভ্রষ্ট করবে এবং তাকে পরিচালিত করবে প্রজ্জ্বলিত অগ্নির শাস্তির দিকে।
তাফসীর:
[1] অর্থাৎ, শয়তান সম্পর্কে বিধি-লিপিতে এই রকমই স্থিরীকৃত আছে।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৩-৪ নং আয়াতের তাফসীর:
(وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يُّجَادِلُ.....)
এখানে আল্লাহ তা‘আলা একশ্রেণির মানুষের একটা মন্দ অভ্যাসের বর্ণনা দিচ্ছেন। তারা সঠিক দলীল প্রমাণ ছাড়াই আল্লাহ সম্পর্কে তর্ক-বিতর্ক করে থাকে। আল্লাহ তা‘আলা সম্পর্কে এমন কথা বলে ও মন্তব্য করে যা তাঁর সত্তার সাথে উপযোগী নয়। যেমন বলে থাকে, আল্লাহ তা‘আলার স্ত্রী-সন্তান রয়েছে, আল্লাহ স্ব-সত্তায় সর্বত্র বিরাজমান, কুরআন হল পূর্ব যুগের কল্প-কাহিনী ইত্যাদি। মূলত এরা শয়তানের অনুসারী, শয়তান তাদের কাছে এসকল খারাপ চিন্তা-চেতনা জাগিয়ে দেয় যাতে সঠিক পথের অনুসারীদের সাথে বিবাদ করতে পারে। যেমন আল্লাহ তা‘আলার বাণী।
(وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يُّجَادِلُ فِي اللّٰهِ بِغَيْرِ عِلْمٍ وَّلَا هُدًي وَّلَا كِتٰبٍ مُّنِيْرٍ - وَإِذَا قِيْلَ لَهُمُ اتَّبِعُوْا مَآ أَنْزَلَ اللّٰهُ قَالُوْا بَلْ نَتَّبِعُ مَا وَجَدْنَا عَلَيْهِ اٰبَآءَنَا ط أَوَلَوْ كَانَ الشَّيْطٰنُ يَدْعُوْهُمْ إِلٰي عَذَابِ السَّعِيْرِ)
“মানুষের মধ্যে কতক এরূপও আছে, যারা আল্লাহ সম্পর্কে বাক-বিতণ্ডা করে কোন জ্ঞান, কোন পথনির্দেশ ও কোন উজ্জ্বল গ্রন্থ ছাড়াই। আর যখন তাদেরকে বলা হয়, তোমরা তার অনুসরণ কর যা আল্লাহ অবতীর্ণ করেছেন, তখন তারা বলে, বরং আমরা তার অনুসরণ করব, যার ওপর আমাদের বাপ-দাদাদের পেয়েছি। যদিও শয়তান তাদেরকে জাহান্নামের শাস্তির দিকে আহ্বান করতে থাকে তবুও কি?” (সূরা লুকমান ৩১:২০-২১)
অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(وَإِنَّ الشَّيٰطِيْنَ لَيُوْحُوْنَ إِلٰٓي أَوْلِيَا۬ئِهِمْ لِيُجَادِلُوْكُمْ ج وَإِنْ أَطَعْتُمُوْهُمْ إِنَّكُمْ لَمُشْرِكُوْنَ)
“নিশ্চয়ই শয়তানেরা তাদের বন্ধুদেরকে তোমাদের সাথে বিবাদ করতে গোপনীয়ভাবে জানিয়ে দেয়; যদি তোমরা তাদের কথামত চল তবে তোমরা অবশ্যই মুশরিক হবে।” (সূরা আন‘আম ৬:১২১)
অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা মানুষকে সতর্ক করে বলছেন, এ কথা পূর্বেই লিপিবদ্ধ হয়ে গেছে, যে ব্যক্তি শয়তানকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করবে, শয়তান তাকে পথভ্রষ্ট করে ফেলবে এবং তাকে জাহান্নামের পথে পরিচালিত রবে। যেমন আল্লাহ তা‘আলার বাণী:
(وَمَنْ يَّتَّبِعْ خُطُوٰتِ الشَّيْطٰنِ فَإِنَّه۫ يَأْمُرُ بِالْفَحْشَا۬ءِ وَالْمُنْكَرِ)
“আর কেউ শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করলে শয়তান তো অশ্লীলতা ও মন্দ কাজের নির্দেশ দেয়।” (সূরা নূর ২৪:২১) আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন:
(إِنَّ الشَّيْطَانَ لَكُمْ عَدُوٌّ فَاتَّخِذُوْهُ عَدُوًّا ط إِنَّمَا يَدْعُوْا حِزْبَه۫ لِيَكُوْنُوْا مِنْ أَصْحٰبِ السَّعِيْرِ)
“নিশ্চয়ই শয়তান তোমাদের শত্র“, সুতরাং তাকে তোমরা শত্র“রূপেই গ্রহণ কর। সে তার দলবলকে শুধু এজন্যই আহ্বান করে, যেন তারা (পথভ্রষ্ট হয়ে) দোযখীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়।” (সূরা ফাতির ৫:৬)
অতএব কখনো শয়তানের অনুসরণ করা যাবে না। কারণ সে মানুষের প্রকাশ্য শত্র“। সে সবর্দা মানুষের ক্ষতি সাধন করার চেষ্টা করে।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. কোন বিষয়ে জ্ঞান না থাকলে ঐ বিষয়ে কথা বলা উচিত নয়।
২. শয়তানের অনুসরণ করা যাবে না। কারণ সে মানুষকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যেতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: যারা মৃত্যুর পরবর্তী জীবনকে অস্বীকার করে আর মনে করে যে, আল্লাহ তাআলা এটার উপর সক্ষম নন এবং তার আদেশ নিষেধ অমান্য করে ও নবীদের (আঃ) আনুগত্য পরিত্যাগ করে হঠকারী এবং উদ্ধত মা ও দানবের আনুগত্য করে, এখানে আল্লাহ তাআলা তাদেরই নিন্দে করছেন। তিনি বলেনঃ যত বিদআতী ও পথভ্রষ্ট লোক রয়েছে তারা সত্য হতে মুখ ফিরিয়ে নেয়, বাতিল ও মিথ্যার আনুগত্যে লেগে পড়ে, আল্লাহর কিতাব ও রাসূলের (সঃ) সুন্নাতকে ছেড়ে দেয় এবং পথভ্রষ্ট লোকদের আনুগত্য করে ও তাদের মনগড়া মতবাদের উপর আমল করে থাকে। এজন্যেই আল্লাহ তাআলা বলেন যে, তারা অজ্ঞানতা বশতঃ আল্লাহ সম্বন্ধে বিতণ্ডা করে। তাদের কাছে কোন সঠিক জ্ঞান নেই। তারা অনুসরণ করে প্রত্যেক বিদ্রোহী শয়তানের। তারা। এদেরকে পথভ্রষ্ট করবে এবং এদেরকে পরিচালিত করবে প্রজ্জ্বলিত অগ্নি ও শাস্তির দিকে। এই আয়াতটি নযর ইবনু হারিসের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়। এই নরাধম বলেছিলঃ “ আচ্ছা বলতো, আল্লাহ তাআলা সোনালী তৈরী, না রূপার তৈরী, না তামার তৈরী?” তার এই প্রশ্নের কারণে আকাশ কেঁপে ওঠে এবং ঐ খবীছের মাথার উপরিভাগ উড়ে যায়। একটি রিওয়াইয়াতে আছে যে, একজন ইয়াহুদী এরূপই প্রশ্ন করেছিল। ফলে তৎক্ষণাৎ আসমানী গর্জনে সে ধ্বংস হয়ে যায়।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।