আল কুরআন


সূরা আল-আম্বিয়া (আয়াত: 94)

সূরা আল-আম্বিয়া (আয়াত: 94)



হরকত ছাড়া:

فمن يعمل من الصالحات وهو مؤمن فلا كفران لسعيه وإنا له كاتبون ﴿٩٤﴾




হরকত সহ:

فَمَنْ یَّعْمَلْ مِنَ الصّٰلِحٰتِ وَ هُوَ مُؤْمِنٌ فَلَا کُفْرَانَ لِسَعْیِهٖ ۚ وَ اِنَّا لَهٗ کٰتِبُوْنَ ﴿۹۴﴾




উচ্চারণ: ফামাইঁ ইয়া‘মাল মিনাসসা-লিহা-তি ওয়া হুওয়া মু’মিনুন ফালা কুফরা-না লিছা‘য়িহী ওয়া ইন্না-লাহূকা-তিবূন।




আল বায়ান: সুতরাং যে মুমিন অবস্থায় সৎকাজ করে তার প্রচেষ্টাকে অস্বীকার করা হবে না। আর আমি তো তা লিখে রাখি।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৯৪. কাজেই যদি কেউ মুমিন হয়ে সৎকাজ করে তার প্রচেষ্টা অস্বীকার করা হবে না এবং আমরা তো তার লিপিবদ্ধকারী।




তাইসীরুল ক্বুরআন: কাজেই কেউ যদি মু’মিন হয়ে সৎ কাজ করে, তবে তার প্রচেষ্টা অস্বীকার করা হবে না, আমি তা তার জন্য লিখে রাখি।




আহসানুল বায়ান: (৯৪) সুতরাং যদি কেউ বিশ্বাসী হয়ে সৎকর্ম করে, তবে তার কর্ম-প্রচেষ্টা অগ্রাহ্য হবে না এবং নিশ্চয় আমি তা লিখে রাখি।



মুজিবুর রহমান: সুতরাং যদি কেহ মু’মিন হয়ে সৎ কাজ করে তাহলে তার কাজ প্রচেষ্টা অগ্রাহ্য হবেনা এবং আমিতো তা লিখে রাখি।



ফযলুর রহমান: অতএব, যে ঈমান সহকারে সৎকাজ করে তার প্রয়াস অগ্রাহ্য হবার নয়। নিশ্চয়ই আমি তা তার জন্য লিখে রাখি।



মুহিউদ্দিন খান: অতঃপর যে বিশ্বাসী অবস্থায় সৎকর্ম সম্পাদন করে, তার প্রচেষ্টা অস্বীকৃত হবে না এবং আমি তা লিপিবদ্ধ করে রাখি।



জহুরুল হক: সুতরাং যে কেউ সৎকাজগুলো থেকে কাজ করে যায় আর সে মুমিন হয়, তবে তার কর্মপ্রচেষ্টার কোনো অস্বীকৃতি হবে না, আর নিঃসন্দেহ আমরা হচ্ছি তার জন্য লিপিকার।



Sahih International: So whoever does righteous deeds while he is a believer - no denial will there be for his effort, and indeed We, of it, are recorders.



তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।


তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৯৪. কাজেই যদি কেউ মুমিন হয়ে সৎকাজ করে তার প্রচেষ্টা অস্বীকার করা হবে না এবং আমরা তো তার লিপিবদ্ধকারী।


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৯৪) সুতরাং যদি কেউ বিশ্বাসী হয়ে সৎকর্ম করে, তবে তার কর্ম-প্রচেষ্টা অগ্রাহ্য হবে না এবং নিশ্চয় আমি তা লিখে রাখি।


তাফসীর:

-


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৯২-৯৪ নং আয়াতের তাফসীর:



পূর্বের আয়াতগুলোতে বিভিন্ন নাবীদের কথা আল্লাহ তা‘আলা নিয়ে এসে নাবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে উত্তম পন্থায় ও মর্যাদার সাথে স্মরণ করতে বলেছেন। কারণ এসব নাবীদেরকে তিনি প্রেরণ করেছিলেন তাওহীদের দিকে স্বজাতিকে আহ্বান করার জন্য। সে সাথে তাদেরকে হিকমত, জ্ঞান ও অনেক নিয়ামত দান করেছিলেন। তারা যখন বিপদে পড়েছেন তখন আল্লাহ তা‘আলাকে আহ্বান করেছেন। আল্লাহ তা‘আলা তাদের আহ্বানে সাড়া দিয়েছেন। সুতরাং হে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! তুমি দাওয়াতী কাজ অব্যাহত রাখ, আল্লাহ তা‘আলা তোমাকে সাহায্য করবেন।



(إِنَّ هٰذِه۪ٓ أُمَّتُكُمْ أُمَّةً وَّاحِدَةً....)



এখানে একই উম্মত বলতে দীনকে বুঝানো হয়েছে, অর্থাৎ সকল নাবীদের দীন ছিল একটাই, তা হল ইসলাম। এক আল্লাহ তা‘আলার ইবাদত করা ও তাঁর সাথে কাউকে অংশীদার স্থাপন না করা। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: আমরা নাবীরা বৈমাত্রেয় ভাই (সকলের পিতা এক, মাতা ভিন্ন) কিন্তু আমাদের দীন এক।



(وَتَقَطَّعُوْآ أَمْرَهُمْ)



অর্থাৎ মানুষের তাওহীদের পথ থেকে সরে বিভিন্ন দলে উপদলে বিভক্ত হয়ে গেল, রাসূলদের নিয়ে মতানৈক্য সৃষ্টি করল। একদল মুশরিক হয়ে গেল, আরেক দল কাফির হয়ে গেল। আজ মুসলিমরাও এমন চক্রে পড়ে বিবিধ দলে বিভক্ত। আল্লাহ তা‘আলা তাওহীদের বাণী সকলের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন, সুতরাং সকলকে তাঁর কাছে ফিরে যেতে হবে এবং তাঁর কাছে কর্মের হিসাব দিতে হবে। যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সৎ আমল করবে তার আমল অস্বীকার করা হবে না। বরং যথার্থ প্রতিদান দেয়া হবে। আল্লাহ তা‘আলার বাণী:



(إِنَّ الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ إِنَّا لَا نُضِيْعُ أَجْرَ مَنْ أَحْسَنَ عَمَلًا)‏



“যারা ঈমান আনে ও সৎ কর্ম করে আমি তার শ্রমফল নষ্ট করি না যে উত্তমরূপে কার্য সম্পাদন করে।” (সূরা কাহ্ফ ১৮:৩০)



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. সকল নাবীদের দীনের মূলনীতি ছিল একই, আর তা হল আল্লাহ তা‘আলা ছাড়া কোন সত্যিকার মা‘বূদ নেই।

২. সৎ কর্মশীলদের প্রতিদান পূর্ণমাত্রায় দেয়া হবে। তাদের কর্মফল নষ্ট করা হবে না।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৯২-৯৪ নং আয়াতের তাফসীর:

হযরত ইবনু আব্বাস (রাঃ), হযরত মুজাহিদ (রাঃ), হযরত সাঈদ ইবনু জুবাইর (রঃ), কাতাদা (রঃ) এবং হযরত আবদুর রহমান ইবনু যায়েদ ইবনু আসলাম (রাঃ) বলেন যে, (আরবী) এর অর্থ হচ্ছে। তোমাদের দ্বীন হলো একই দ্বীন। হযরত হাসান বসরী (রঃ) বলেন যে, এই আয়াতে যা হতে বিরত থাকতে হবে এবং যা করতে হবে তাই বর্ণনা করা হয়েছে। (আরবী) শব্দটি (আরবী) শব্দের (আরবী) এবং (আরবী) ওর। আর (আরবী) শব্দ দুটি (আরবী) হয়েছে। অর্থাৎ যে শরীয়তের বর্ণনা দেয়া হয়েছে তা তোমাদের সবারই শরীয়ত, যার মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর একত্ববাদ। যেমন অন্য আয়াতে রয়েছেঃ (আরবী) (হে রাসুলগণ! তোমরা উৎকৃষ্ট জিনিস ভক্ষণ কর) (আমি তোমাদের প্রতিপালক, সুতরাং তোমরা আমাকে ভয় কর) ... পর্যন্ত। (২৩:৫১-৫২)

রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “আমরা নবীদের দল পরস্পর বৈমাত্রেয় ভাই (আমাদের সবারই পিতা একই), আমাদের সবারই একই দ্বীন)” তা হলো। এক শরীক বিহীন আল্লাহর ইবাদত করা। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “প্রত্যেকের জন্যে আমি পথ ও পন্থা করে দিয়েছি।` (৫:৪৮) অতঃপর লোকেরা মতানৈক্য সৃষ্টি করেছে। কেউ কেউ তাদের বীদের (আঃ) উপর ঈমান এনেছে এবং কেউ কেউ ঈমান আনয়ন করে নাই।

মহান আল্লাহ বলেনঃ কিয়ামতের দিন সকলকেই আমারই নিকট প্রত্যাবর্তন করতে হবে। প্রত্যেককেই নিজ নিজ কতকর্মের প্রতিদান দেয়াহবে। ভাল লোকদেরকে দেয়া হবে ভাল প্রতিদান। মন্দ লোকদেরকে দেয়া হবে মন্দ প্রতিদান।

সুতরাং কেউ যদি মু'মিন হয়ে সৎকর্ম করে তবে তার কর্ম প্রচেষ্টা অগ্রাহ্য হবে না এবং আল্লাহ তাআলা তা লিখে রাখেন। যেমন অন্য জায়গায় তিনি বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “সকর্মশীলদের বিনিময় আমি নষ্ট করি না।” (১৮:৩০) আল্লাহ তাআ'লা অনুপরিমাণ যুলুম করাও সমীচীন মনে করেন না। তিনি স্বীয় বান্দাদের সমস্ত আমল লিখে রাখেন। একটিও ছুটে যায় না।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।