আল কুরআন


সূরা আল-আম্বিয়া (আয়াত: 93)

সূরা আল-আম্বিয়া (আয়াত: 93)



হরকত ছাড়া:

وتقطعوا أمرهم بينهم كل إلينا راجعون ﴿٩٣﴾




হরকত সহ:

وَ تَقَطَّعُوْۤا اَمْرَهُمْ بَیْنَهُمْ ؕ کُلٌّ اِلَیْنَا رٰجِعُوْنَ ﴿۹۳﴾




উচ্চারণ: ওয়া তাকাততা‘ঊআমরাহুম বাইনাহুম কুল্লুন ইলাইনা-রা-জি‘উন।




আল বায়ান: কিন্তু তারা নিজদের কার্যকলাপে পরস্পরের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করেছে। সকলেই আমার নিকট প্রত্যাবর্তন করবে।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৯৩. কিন্তু তারা নিজেদের কার্যকলাপে পরস্পরের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করেছে। প্ৰত্যেকেই আমাদের কাছে প্রত্যাবর্তনকারী।




তাইসীরুল ক্বুরআন: কিন্তু তারা (পরবর্তীতে) নিজেদের কাজ-কর্মে পরস্পর পার্থক্য সৃষ্টি করেছে, তা সত্ত্বেও তারা সবাই আমার কাছে ফিরে আসবে।




আহসানুল বায়ান: (৯৩) কিন্তু মানুষ নিজেদের কার্যকলাপে পরস্পরের মধ্যে ভেদ সৃষ্টি করেছে; প্রত্যেকেই আমার নিকট প্রত্যাবর্তনকারী। [1]



মুজিবুর রহমান: কিন্তু মানুষ নিজেদের কার্যকলাপে পরস্পরের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করেছে; প্রত্যেকেই প্রত্যাবর্তিত হবে আমার নিকট।



ফযলুর রহমান: কিন্তু মানুষেরা তাদের কর্মে (ধর্মের ব্যাপারে) নিজেদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করেছে। সবাই তো আমার কাছেই ফিরে আসবে।



মুহিউদ্দিন খান: এবং মানুষ তাদের কার্যকলাপ দ্বারা পারস্পরিক বিষয়ে ভেদ সৃষ্টি করেছে। প্রত্যেকেই আমার কাছে প্রত্যাবর্তিত হবে।



জহুরুল হক: কিন্তু তারা নিজেদের মধ্যে তাদের অনুশাসন কেটে ফেলল। সকলেই আমাদের কাছে ফিরে আসবে।



Sahih International: And [yet] they divided their affair among themselves, [but] all to Us will return.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৯৩. কিন্তু তারা নিজেদের কার্যকলাপে পরস্পরের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করেছে। প্ৰত্যেকেই আমাদের কাছে প্রত্যাবর্তনকারী।


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৯৩) কিন্তু মানুষ নিজেদের কার্যকলাপে পরস্পরের মধ্যে ভেদ সৃষ্টি করেছে; প্রত্যেকেই আমার নিকট প্রত্যাবর্তনকারী। [1]


তাফসীর:

[1] অর্থাৎ, একত্ববাদ বা তাওহীদের রাস্তা এবং এক আল্লাহর ইবাদত ছেড়ে বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে গেল। একদল মুশরিক ও কাফের হয়ে পড়ল। অন্যদিকে নবীদের অনুসারীরাও নানা দলে বিভক্ত হয়ে পড়ল। কেউ ইয়াহুদী, কেউ খ্রিষ্টান, আবার কেউ অন্য কিছু। আর ভাগ্যচক্রে মুসলিমরাও আজ এই ব্যাধির শিকার; এরাও অনেক দলে বিভক্ত। এদের সকলের ফায়সালা আল্লাহর নিকট হবে, যখন তারা তাঁর নিকট ফিরে যাবে।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৯২-৯৪ নং আয়াতের তাফসীর:



পূর্বের আয়াতগুলোতে বিভিন্ন নাবীদের কথা আল্লাহ তা‘আলা নিয়ে এসে নাবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে উত্তম পন্থায় ও মর্যাদার সাথে স্মরণ করতে বলেছেন। কারণ এসব নাবীদেরকে তিনি প্রেরণ করেছিলেন তাওহীদের দিকে স্বজাতিকে আহ্বান করার জন্য। সে সাথে তাদেরকে হিকমত, জ্ঞান ও অনেক নিয়ামত দান করেছিলেন। তারা যখন বিপদে পড়েছেন তখন আল্লাহ তা‘আলাকে আহ্বান করেছেন। আল্লাহ তা‘আলা তাদের আহ্বানে সাড়া দিয়েছেন। সুতরাং হে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! তুমি দাওয়াতী কাজ অব্যাহত রাখ, আল্লাহ তা‘আলা তোমাকে সাহায্য করবেন।



(إِنَّ هٰذِه۪ٓ أُمَّتُكُمْ أُمَّةً وَّاحِدَةً....)



এখানে একই উম্মত বলতে দীনকে বুঝানো হয়েছে, অর্থাৎ সকল নাবীদের দীন ছিল একটাই, তা হল ইসলাম। এক আল্লাহ তা‘আলার ইবাদত করা ও তাঁর সাথে কাউকে অংশীদার স্থাপন না করা। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: আমরা নাবীরা বৈমাত্রেয় ভাই (সকলের পিতা এক, মাতা ভিন্ন) কিন্তু আমাদের দীন এক।



(وَتَقَطَّعُوْآ أَمْرَهُمْ)



অর্থাৎ মানুষের তাওহীদের পথ থেকে সরে বিভিন্ন দলে উপদলে বিভক্ত হয়ে গেল, রাসূলদের নিয়ে মতানৈক্য সৃষ্টি করল। একদল মুশরিক হয়ে গেল, আরেক দল কাফির হয়ে গেল। আজ মুসলিমরাও এমন চক্রে পড়ে বিবিধ দলে বিভক্ত। আল্লাহ তা‘আলা তাওহীদের বাণী সকলের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন, সুতরাং সকলকে তাঁর কাছে ফিরে যেতে হবে এবং তাঁর কাছে কর্মের হিসাব দিতে হবে। যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সৎ আমল করবে তার আমল অস্বীকার করা হবে না। বরং যথার্থ প্রতিদান দেয়া হবে। আল্লাহ তা‘আলার বাণী:



(إِنَّ الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ إِنَّا لَا نُضِيْعُ أَجْرَ مَنْ أَحْسَنَ عَمَلًا)‏



“যারা ঈমান আনে ও সৎ কর্ম করে আমি তার শ্রমফল নষ্ট করি না যে উত্তমরূপে কার্য সম্পাদন করে।” (সূরা কাহ্ফ ১৮:৩০)



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. সকল নাবীদের দীনের মূলনীতি ছিল একই, আর তা হল আল্লাহ তা‘আলা ছাড়া কোন সত্যিকার মা‘বূদ নেই।

২. সৎ কর্মশীলদের প্রতিদান পূর্ণমাত্রায় দেয়া হবে। তাদের কর্মফল নষ্ট করা হবে না।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৯২-৯৪ নং আয়াতের তাফসীর:

হযরত ইবনু আব্বাস (রাঃ), হযরত মুজাহিদ (রাঃ), হযরত সাঈদ ইবনু জুবাইর (রঃ), কাতাদা (রঃ) এবং হযরত আবদুর রহমান ইবনু যায়েদ ইবনু আসলাম (রাঃ) বলেন যে, (আরবী) এর অর্থ হচ্ছে। তোমাদের দ্বীন হলো একই দ্বীন। হযরত হাসান বসরী (রঃ) বলেন যে, এই আয়াতে যা হতে বিরত থাকতে হবে এবং যা করতে হবে তাই বর্ণনা করা হয়েছে। (আরবী) শব্দটি (আরবী) শব্দের (আরবী) এবং (আরবী) ওর। আর (আরবী) শব্দ দুটি (আরবী) হয়েছে। অর্থাৎ যে শরীয়তের বর্ণনা দেয়া হয়েছে তা তোমাদের সবারই শরীয়ত, যার মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর একত্ববাদ। যেমন অন্য আয়াতে রয়েছেঃ (আরবী) (হে রাসুলগণ! তোমরা উৎকৃষ্ট জিনিস ভক্ষণ কর) (আমি তোমাদের প্রতিপালক, সুতরাং তোমরা আমাকে ভয় কর) ... পর্যন্ত। (২৩:৫১-৫২)

রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “আমরা নবীদের দল পরস্পর বৈমাত্রেয় ভাই (আমাদের সবারই পিতা একই), আমাদের সবারই একই দ্বীন)” তা হলো। এক শরীক বিহীন আল্লাহর ইবাদত করা। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “প্রত্যেকের জন্যে আমি পথ ও পন্থা করে দিয়েছি।` (৫:৪৮) অতঃপর লোকেরা মতানৈক্য সৃষ্টি করেছে। কেউ কেউ তাদের বীদের (আঃ) উপর ঈমান এনেছে এবং কেউ কেউ ঈমান আনয়ন করে নাই।

মহান আল্লাহ বলেনঃ কিয়ামতের দিন সকলকেই আমারই নিকট প্রত্যাবর্তন করতে হবে। প্রত্যেককেই নিজ নিজ কতকর্মের প্রতিদান দেয়াহবে। ভাল লোকদেরকে দেয়া হবে ভাল প্রতিদান। মন্দ লোকদেরকে দেয়া হবে মন্দ প্রতিদান।

সুতরাং কেউ যদি মু'মিন হয়ে সৎকর্ম করে তবে তার কর্ম প্রচেষ্টা অগ্রাহ্য হবে না এবং আল্লাহ তাআলা তা লিখে রাখেন। যেমন অন্য জায়গায় তিনি বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “সকর্মশীলদের বিনিময় আমি নষ্ট করি না।” (১৮:৩০) আল্লাহ তাআ'লা অনুপরিমাণ যুলুম করাও সমীচীন মনে করেন না। তিনি স্বীয় বান্দাদের সমস্ত আমল লিখে রাখেন। একটিও ছুটে যায় না।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।