আল কুরআন


সূরা আল-আম্বিয়া (আয়াত: 26)

সূরা আল-আম্বিয়া (আয়াত: 26)



হরকত ছাড়া:

وقالوا اتخذ الرحمن ولدا سبحانه بل عباد مكرمون ﴿٢٦﴾




হরকত সহ:

وَ قَالُوا اتَّخَذَ الرَّحْمٰنُ وَلَدًا سُبْحٰنَهٗ ؕ بَلْ عِبَادٌ مُّکْرَمُوْنَ ﴿ۙ۲۶﴾




উচ্চারণ: ওয়া কা-লুততাখাযার রাহমা-নুওয়ালাদান ছুবহা-নাহূ বাল ‘ইবা-দুম মুকরামূন।




আল বায়ান: আর তারা বলে, ‘পরম করুণাময় সন্তান গ্রহণ করেছেন।’ তিনি পবিত্র। বরং তারা* সম্মানিত বান্দা।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ২৬. আর তারা বলে, দয়াময় (আল্লাহ) সন্তান গ্ৰহণ করেছেন। তিনি পবিত্র মহান! তারা তো তার সম্মানিত বান্দা।




তাইসীরুল ক্বুরআন: তারা বলে, ‘দয়াময় সন্তান গ্রহণ করেছেন’, তিনি এসব থেকে মহা পবিত্র। তারা হল তাঁর বান্দাহ যাদেরকে সম্মানে উন্নীত করা হয়েছে।




আহসানুল বায়ান: (২৬) ওরা বলে, ‘পরম দয়াময় সন্তান গ্রহণ করেছেন।’ তিনি পবিত্র মহান! বরং তারা তো তাঁর সম্মানিত দাস।



মুজিবুর রহমান: তারা বলেঃ দয়াময় আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করেছেন। তিনি পবিত্র মহান! তারাতো তাঁর সম্মানিত বান্দা।



ফযলুর রহমান: তারা বলেছে, “করুণাময় (আল্লাহ) সন্তান গ্রহণ করেছে।” (তাদের এই মিথ্যারোপ থেকে) তিনি পবিত্র। বরং (তারা যাদেরকে আল্লাহর সন্তান বলছে তারা তাঁর) সম্মানিত বান্দা।



মুহিউদ্দিন খান: তারা বললঃ দয়াময় আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করেছে। তাঁর জন্য কখনও ইহা যোগ্য নয়; বরং তারা তো তাঁর সম্মানিত বান্দা।



জহুরুল হক: আর তারা বলে -- "পরম করুণাময় একটি পুত্র গ্রহণ করেছেন।" তাঁরই সব মহিমা! বরং তাঁরা তো সম্মানিত বান্দা, --



Sahih International: And they say, "The Most Merciful has taken a son." Exalted is He! Rather, they are [but] honored servants.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ২৬. আর তারা বলে, দয়াময় (আল্লাহ) সন্তান গ্ৰহণ করেছেন। তিনি পবিত্র মহান! তারা তো তার সম্মানিত বান্দা।


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (২৬) ওরা বলে, ‘পরম দয়াময় সন্তান গ্রহণ করেছেন।’ তিনি পবিত্র মহান! বরং তারা তো তাঁর সম্মানিত দাস।


তাফসীর:

-


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ২৬-২৯ নং আয়াতের তাফসীর:



এখানে কাফির-মুশরিকদের একটি ভ্রান্ত ধারণা খণ্ডন করা হয়েছে। তাদের বিশ্বাস, ফেরেশতারা আল্লাহ তা‘আলার কন্যা। আল্লাহ তা‘আলা বলেন: তারা আমার কন্যা নয়, বরং তারা শুধু আমার সম্মানিত বান্দা। তারা নিজে থেকে কোন কথা বলে না, তারা শুধুমাত্র আল্লাহ তা‘আলার আদেশের অনুসরণ করে। আল্লাহ তা‘আলার অনুমতি ছাড়া তাদের কোন কিছুই করার ক্ষমতা নেই, আল্লাহ তা‘আলার নির্দেশের ব্যতিক্রম করে না, বরং যা নির্দেশ করা হয় তাই করে থাকে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(لَّا يَعْصُوْنَ اللّٰهَ مَآ أَمَرَهُمْ وَيَفْعَلُوْنَ مَا يُؤْمَرُوْنَ)



“যারা অমান্য করে না আল্লাহ যা তাদেরকে আদেশ করেন তা এবং তারা যা করতে আদিষ্ট হয় তা-ই করে।” (সূরা তাহরীম ৬৬:৬)



(يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيْهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ)



অর্থাৎ অতীত, ভবিষ্যত সব কিছুই আল্লাহ জানেন, তাঁর জ্ঞানের বাইরে কিছুই নেই। এমনকি ফেরেশতাসহ কারো এতটুকু ক্ষমতা নেই যে, আল্লাহর নিকট কারো জন্য শাফাআত করবে। তবে তিনি যার জন্য যাকে অনুমতি দেবেন তার জন্য সে সুপারিশ করতে পারবে। আল্লাহ কেবল ঐ ব্যক্তির জন্য অনুমতি দেবেন যার কথা ও কাজে তিনি সন্তুষ্ট। এ সম্পর্কে সূরা বাকারার আয়াতুল কুরসীতে আলোচনা করা হয়েছে।



শুধু তাই নয়, তাদের মধ্য থেকে কেউ যদি আল্লাহকে ছেড়ে নিজেকে প্রভু বলে দাবী করে তাহলে তাদেরকে জাহান্নামে প্রবেশ করানো হবে। আল্লাহ তা‘আলার বাণী:



(لَئِنْ أَشْرَكْتَ لَيَحْبَطَنَّ عَمَلُكَ وَلَتَكُوْنَنَّ مِنَ الْخٰسِرِيْنَ‏)‏



“যদি তুমি আল্লাহর সাথে শরীক স্থির কর তবে নিঃসন্দেহে তোমার কর্ম তো নিষ্ফল হবেই এবং অবশ্যই তুমি ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।” (সূরা যুমার ৩৯:৬৫)



যদি তারা আল্লাহর সন্তান হত তাহলে তাদেরকে বলতেন না যে, প্রভু দাবী করলে কেন, তোমাদেরকে জাহান্নামে দিব। কারণ সাধারণ নিয়ম অনুসারে তারা যদি আল্লাহর সন্তানই হত তাহলে পিতার পরে তারাই প্রভু হওয়ার অধিকার রাখে। জাহান্নামে দেয়ার প্রশ্নই আসত না, আর আল্লাহ তা‘আলার জন্য এটি সমীচীনও নয় যে, তিনি সন্তান গ্রহণ করবেন। সুতরাং এতে বুঝা যায় যে, আল্লাহ তা‘আলা কোন সন্তান গ্রহণ করেন না। তিনি এসব থেকে সম্পূর্ণ পবিত্র। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(قُلْ ھُوَ اللہُ اَحَدٌﭐﺆ اَللہُ الصَّمَدُﭑﺆ لَمْ یَلِدْﺃ وَلَمْ یُوْلَدْﭒﺫ) (وَلَمْ یَکُنْ لَّھ۫ کُفُوًا اَحَدٌﭓﺟ)



“বল:‎ তিনিই আল্লাহ একক। তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও জন্ম দেয়া হয়নি। আর তাঁর সমতুল্য কেউ নেই।” (সূরা ইখলাস ১১২:১-৪)



তাই আমাদের উচিত, আল্লাহ তা‘আলার শানে এমন কথা না বলা যাতে তাঁর সম্মান ও মর্যাদা ক্ষুণত্ন হয়।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. ফেরেশতাগণ আল্লাহ তা‘আলার কন্যা নন, বরং আল্লাহ তা‘আলার বান্দা।

৩. যে ব্যক্তি শিরক করবে তাকেই জাহান্নামে যেতে হবে ।

৩. আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত কেউ কারো জন্যে সুপারিশ করতে পারবে না।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ২৬-২৯ নং আয়াতের তাফসীর:

মক্কার কাফিরদের ধারণা ছিল যে, ফেরেশতারা আল্লাহর কন্যা (নাউযুবিল্লাহ)। তাদের এই ধারণা খণ্ডন করতে গিয়ে আল্লাহ তাআলা বলেনঃ এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। ফেরেশতারা তার সম্মানিত বান্দা। তারা বড়ই মর্যাদা সম্পন্ন। কথায় ও কাজে তারা সদা আল্লাহর আনুগত্যের কাজে নিমগ্ন রয়েছে। কোন সময়েই তারা আগে বেড়ে কথা বলে না, কোন কাজে তারা তাঁর আদেশের বিপরীতও করে না। বরং যা তিনি আদেশ করেন তা-ই তারা পালন করে। তারা আল্লাহর জ্ঞানের মধ্যে পরিবেষ্টিত। তাঁর কাছে কোন কিছুই গোপন নেই সামনের পিছনের ডানের ও বামের খবর তিনি রাখেন। অণু-পরমাণুর জ্ঞানও তার রয়েছে। এই পবিত্র ফেরেশতারাও এই সাহস রাখেন না যে, আল্লাহর কাছে তাঁর অনুমতি ছাড়া কোন অপরাধীর জন্যে সুপারিশ করেন। যেমন তিনি বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “কে সে, যে তাঁর অনুমতি ব্যতীত তাঁর নিকট সুপারিশ করবে?” (২৪ ২৫৫) অন্য আয়াতে রয়েছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “যাকে তিনি অনুমতি দিবেন তার শাফাআত ছাড়া তাঁর কাছে আর কারো শাফাআত চলবে না।` (৩৪:২৩) এই বিষয়েই আরো বহু আয়াত কুরআন কারীমের মধ্যে বিদ্যমান রয়েছে। ফেরেশতা মণ্ডলী এবং আল্লাহর নৈকট্যলাভকারী বান্দারা সবাই তার ভয়ে ভীত সন্ত্রস্ত অবস্থায় কাঁপতে থাকবেন। তাদের মধ্যে যে কেউই নিজে মা’বৃদ বলে দাবী করবে তাকে আল্লাহ প্রতিফল দিবেন জাহান্নাম। যালিমদেরকে তিনি এভাবেই শাস্তি দিয়ে থাকেন। মহান আল্লাহর একথাটি শর্ত সাপেক্ষ। আর শর্তের জন্যে ওটা সংঘটিত হওয়া জরুরী নয়। এটা জরুরী নয় যে, আল্লাহর বিশিষ্ট বান্দাদের মধ্যে কেউ এই ঘৃণ্য দাবী করে ও এইরূপ কঠিন শাস্তি ভোগ করে। যেমন কুরআন কারীমে ঘোষিত হয়েছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “(হে নবী (সঃ)! তুমি বলে দাওঃ যদি আল্লাহর সন্তান হতো তবে আমিই হতাম প্রথম সেই বান্দা।` (৪৩:৮১) অন্য জায়গায় রয়েছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “(হে নবী (সঃ)!) যদি তুমি শিরু কর তবে অবশ্যই তোমার আমল বিনষ্ট হয়ে যাবে এবং অবশ্যই তুমি ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।` (৩৯:৬৫) সুতরাং আল্লাহ তাআলার সন্তান হওয়াও যেমন সম্ভব নয় তেমনই রাসূলুল্লাহর (সঃ) শিকও অসম্ভ।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।