আল কুরআন


সূরা ত্ব-হা (আয়াত: 100)

সূরা ত্ব-হা (আয়াত: 100)



হরকত ছাড়া:

من أعرض عنه فإنه يحمل يوم القيامة وزرا ﴿١٠٠﴾




হরকত সহ:

مَنْ اَعْرَضَ عَنْهُ فَاِنَّهٗ یَحْمِلُ یَوْمَ الْقِیٰمَۃِ وِزْرًا ﴿۱۰۰﴾ۙ




উচ্চারণ: মান আ‘রাদা ‘আনহু ফাইন্নাহূইয়াহমিলুইয়াওমাল কিয়া-মাতি বিযরা-




আল বায়ান: তা থেকে যে বিমুখ হবে, অবশ্যই সে কিয়ামতের দিন পাপের বোঝা বহন করবে।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১০০. এটা থেকে যে বিমুখ হবে, অবশ্যই সে কিয়ামতের দিন মহাভার বহন করবে।(১)




তাইসীরুল ক্বুরআন: যে তাত্থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, কিয়ামাতের দিন সে (পাপের) বোঝা বহন করবে।




আহসানুল বায়ান: (১০০) যে কেউ এ হতে মুখ ফিরিয়ে নেবে,[1] ফলতঃ সে কিয়ামতের দিন (মহাপাপের) বোঝা বহন করবে। [2]



মুজিবুর রহমান: এটা হতে যে বিমুখ হবে সে কিয়ামাত দিবসে মহাভার বহন করবে।



ফযলুর রহমান: এ থেকে যে মুখ ফিরিয়ে নেবে সে কেয়ামতের দিন (পাপের) একটি (ভারী) বোঝা বহন করবে।



মুহিউদ্দিন খান: যে এ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, সে কেয়ামতের দিন বোঝা বহন করবে।



জহুরুল হক: যে কেউ এ থেকে বিমুখ হবে সে-ই তো তবে কিয়ামতের দিনে বহন করবে বোঝা,



Sahih International: Whoever turns away from it - then indeed, he will bear on the Day of Resurrection a burden,



তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।


তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ১০০. এটা থেকে যে বিমুখ হবে, অবশ্যই সে কিয়ামতের দিন মহাভার বহন করবে।(১)


তাফসীর:

(১) এখানে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি কুরআন থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, কেয়ামতের দিন সে বিরাট পাপের বোঝা বহন করবে। তবে আয়াতে বর্ণিত কুরআন থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়া বিভিন্নভাবে হতে পারে; যথা- কুরআনের উপর মিথ্যারোপ করা, এর আদেশ নিষেধের আনুগত্য করা থেকে মুখ ফিরিয়ে থাকা। কুরআন ছাড়া অন্য কিতাবে হেদায়াতের তালাশ করা। সুতরাং যে তা করবে। আল্লাহ্ তাকে পথভ্রষ্ট করবেন, তাকে জাহান্নামের পথে ধাবিত করবেন। [ইবন কাসীর]


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (১০০) যে কেউ এ হতে মুখ ফিরিয়ে নেবে,[1] ফলতঃ সে কিয়ামতের দিন (মহাপাপের) বোঝা বহন করবে। [2]


তাফসীর:

[1] অর্থাৎ এর প্রতি ঈমান আনবে না এবং এতে যা কিছু লিপিবদ্ধ রয়েছে তার উপর আমলও করবে না।

[2] অর্থাৎ মহাপাপের বোঝা বহন করবে, কারণ তার আমলনামা পুণ্য থেকে খালি ও পাপে পরিপূর্ণ থাকবে।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৯৯-১০১ নং আয়াতের তাফসীর:



অত্র আয়াতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর প্রতি আল্লাহ তা‘আলার অনুগ্রহের বর্ণনা দিয়ে বলছেন; আমি তোমার কাছে পূর্ববর্তীদের ঘটনা ও সংবাদ সেভাবে বর্ণনা করি যেভাবে মূসা, হারূন, ফির‘আউন ও সামিরীর ঘটনা সত্যসহ বর্ণনা করেছি। তুমি এসকল ঘটনা জানতে না, পড়নি এবং যারা পড়েছে তাদের কাছ থেকে শিক্ষাও নাওনি। আর আহলে কিতাবরা এ সব ঘটনার সত্যতা অস্বীকার করতে পারবে না। সুতরাং তুমি তাদের কাছে এসব ঘটনা সঠিকভাবে বর্ণনা করে দিচ্ছো। এতেই প্রমাণিত হয়, তুমি একজন আল্লাহ তা‘আলা প্রেরিত রাসূল, তুমি যা নিয়ে এসেছ তা সত্য। এজন্য আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: ‘আমি আমার পক্ষ থেকে তোমাকে দান করেছি উপদেশ’ তা হল কুরআন।



সুতরাং মানুষ এ কুরআন থেকে উপদেশ গ্রহণ করে সতর্ক হবে, পূর্ববর্তীদের ন্যায় অবাধ্য হয়ে নিজেদেরকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেবে না।



وِزْرًا অর্থ বোঝা, অর্থাৎ যারা এসকল পূর্ববর্তী অবাধ্য লোকদের পরিণতি জানার পরও ঈমান আনবে না বরং মুখ ফিরিয়ে নেবে তারা কিয়ামতের দিন তাদের পাপের বোঝা বহন করবে। আর তা তাদের জন্য কতই না মন্দ।



আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(قَدْ خَسِرَ الَّذِیْنَ کَذَّبُوْا بِلِقَا۬ئِ اللہِﺚ حثج اِذَا جَا۬ءَتْھُمُ السَّاعَةُ بَغْتَةً قَالُوْا یٰحَسْرَتَنَا عَلٰی مَا فَرَّطْنَا فِیْھَاﺫ وَھُمْ یَحْمِلُوْنَ اَوْزَارَھُمْ عَلٰی ظُھُوْرِھِمْﺚ اَلَا سَا۬ئَ مَا یَزِرُوْنَ)‏



“যারা আল্লাহর সম্মুখীন হওয়াকে (পুনরুত্থান) মিথ্যা বলেছে তারা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এমনকি অকস্মাৎ তাদের নিকট যখন কিয়ামত উপস্থিত হবে তখন তারা বলবে, ‘হায় আফসোস! একে যে আমরা অবহেলা করেছি।” তারা তাদের পিঠে নিজেদের পাপ বহন করবে; দেখ, তারা যা বহন করবে তা অতি নিকৃষ্ট!” (সূরা আন‘আম ৬:৩১)


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৯৯-১০১ নং আয়াতের তাফসীর:

আল্লাহ তাআলা স্বীয় নবী হযরত মুহাম্মদকে (সঃ) বলছেনঃ যেমন আমি মূসার (আঃ) ঘটনাকে প্রকৃতরূপে তোমার সামনে বর্ণনা করে দিয়েছি, তেমনিভাবে আরো অনেক অতীতের ঘটনা তোমার সামনে আমি হুবহু বর্ণনা করেছি। আমি তোমাকে মহান কুরআন দান করেছি। ইতিপূর্বে কোন বীকে এর চেয়ে বেশী পূর্ণতা প্রাপ্ত, বেশী অর্থবহ এবং বেশী বরকতময় কিতাব প্রদান করা হয় নাই। এই কুরআন কারীমই হচ্ছে সবচেয়ে বেশী উন্নতমানের কিতাব। এর মধ্যে অতীতের ঘটনাবলী, ভবিষ্যতের কার্যাবলী এবং প্রতিটি কাজের পন্থা বর্ণিত হয়েছে। যারা এটাকে মানে না, এর থেকে বিমুখ হয়, এর আহকাম হতে পালিয়ে যায় এবং এটাকে বাদ দিয়ে অন্য কিছুতেই হিদায়াত অনুসন্ধান করে সে পথভ্রষ্ট এবং জাহান্নামী। কিয়ামতের দিন সে নিজের বোঝা নিজেই বহন করবে এবং ওটা হবে খুবই মন্দ বোঝা। যে এর সাথে কুফরী করবে সে জাহান্নামে যাবে। কিতাবী হোক বা গায়ের কিতাবী হোক, আরবী হোক বা আজমী হোক যেই এটাকে অস্বীকার করবে সেই জাহান্নামী হবে। যেমন ঘোষিত হয়েছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “আমি এর দ্বারা তোমাদেরকে ভয় প্রদর্শন ও সতর্ক করছি এবং তাদেরকেও যাদের কাছে এটা পৌঁছবে।` (৬:১৯) সুতরাং এর অনুসরণকারী হিদায়াতপ্রাপ্ত এবং এর বিরোধিতাকারী পথভ্রষ্ট ও হতভাগ্য। দুনিয়াতেও সে ধ্বংস হলো এবং আখেরাতেও হবে সে জাহান্নামী। ঐ আযাব থেকে সে কখনো মুক্তি ও পরিত্রাণ ও পাবে না এবং সেখান থেকে পালিয়ে যেতেও সক্ষম হবে না। সেই দিন তারা যে বোঝা বহন করবে তা হবে খুবই মন্দ বোঝা।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।