সূরা আল-কাহফ (আয়াত: 7)
হরকত ছাড়া:
إنا جعلنا ما على الأرض زينة لها لنبلوهم أيهم أحسن عملا ﴿٧﴾
হরকত সহ:
اِنَّا جَعَلْنَا مَا عَلَی الْاَرْضِ زِیْنَۃً لَّهَا لِنَبْلُوَهُمْ اَیُّهُمْ اَحْسَنُ عَمَلًا ﴿۷﴾
উচ্চারণ: ইন্না-জা‘আলনা-মা-‘আলাল আরদি যীনাতাল্লাহা- লিনাবলুওয়াহুম আইয়ুহুম আহছানু ‘আমালা-।
আল বায়ান: নিশ্চয় যমীনের উপর যা রয়েছে, তা আমি শোভা করেছি তার জন্য, যাতে তাদেরকে পরীক্ষা করি যে, কর্মে তাদের মধ্যে কে উত্তম।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৭. নিশ্চয় যমীনের উপর যা কিছু আছে আমরা সেগুলোকে তার শোভা করেছি(১), মানুষকে এ পরীক্ষা করার জন্য যে, তাদের মধ্যে কাজে কে শ্ৰেষ্ঠ।
তাইসীরুল ক্বুরআন: যমীনের উপর যা কিছু আছে আমি সেগুলোকে তার শোভা-সৌন্দর্য করেছি যাতে আমি মানুষকে পরীক্ষা করতে পারি যে, ‘আমালের ক্ষেত্রে কারা উত্তম।
আহসানুল বায়ান: (৭) পৃথিবীর উপর যা কিছু আছে[1] আমি সেগুলিকে ওর শোভা করেছি মানুষকে এই পরীক্ষা করবার জন্য যে, তাদের মধ্যে কর্মে কে উত্তম।
মুজিবুর রহমান: পৃথিবীর উপর যা কিছু আছে আমি সেগুলিকে ওর শোভনীয় করেছি মানুষকে এই পরীক্ষা করার জন্য যে, তাদের মধ্যে কর্মে কে শ্রেষ্ঠ?
ফযলুর রহমান: পৃথিবীর সবকিছু আমি তার শোভায় পরিণত করেছি, যাতে লোকদেরকে পরীক্ষা করতে পারি, কে তাদের মধ্যে কাজে সেরা।
মুহিউদ্দিন খান: আমি পৃথিবীস্থ সব কিছুকে পৃথিবীর জন্যে শোভা করেছি, যাতে লোকদের পরীক্ষা করি যে, তাদের মধ্যে কে ভাল কাজ করে।
জহুরুল হক: নিঃসন্দেহ পৃথিবীর উপরে যা-কিছু আছে আমরা সেগুলোকে ওর অলংকাররূপে স্থাপন করেছি যেন আমরা তাদের যাচাই করতে পারি তাদের কারা কাজে সর্বোত্তম।
Sahih International: Indeed, We have made that which is on the earth adornment for it that We may test them [as to] which of them is best in deed.
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৭. নিশ্চয় যমীনের উপর যা কিছু আছে আমরা সেগুলোকে তার শোভা করেছি(১), মানুষকে এ পরীক্ষা করার জন্য যে, তাদের মধ্যে কাজে কে শ্ৰেষ্ঠ।
তাফসীর:
(১) অর্থাৎ পৃথিবীর জীবজন্তু, উদ্ভিদ, জড় পদার্থ এবং ভূগর্ভস্থ বিভিন্ন বস্তুর খনি- এগুলো সবই পৃথিবীর সাজ-সজ্জা ও চাকচিক্য। হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “দুনিয়া সুমিষ্ট নয়নাভিরাম দৃশ্যে ভরা, আল্লাহ এতে তোমাদেরকে প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ করে দেখতে চান তোমরা এতে কি ধরনের আচরণ কর। সুতরাং তোমরা দুনিয়ায় মত্ত হওয়া থেকে বেঁচে থাক এবং মহিলাদের থেকেও বেঁচে থাক। কেননা; বনী ইসরাঈলের মধ্যে প্রথম ফিতনা ছিল মহিলাদের মধ্যে।” [মুসলিম: ২৭৪২]
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৭) পৃথিবীর উপর যা কিছু আছে[1] আমি সেগুলিকে ওর শোভা করেছি মানুষকে এই পরীক্ষা করবার জন্য যে, তাদের মধ্যে কর্মে কে উত্তম।
তাফসীর:
[1] ভূ-পৃষ্ঠে জীব-জন্তু, উদ্ভিদ, জড় ও খনিজপদার্থ এবং মটির নীচে লুক্কায়িত অন্যান্য গুপ্তধন, এ সবই হল দুনিয়ার শোভা-সৌন্দর্য ও তার চাকচিক্য।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৬-৮ নং আয়াতের তাফসীর:
এখানে আল্লাহ তা‘আলা তাঁর রাসূলকে সান্ত্বনা দিয়ে বলছেন, কাফির-মুশরিকরা এ হাদীস তথা কুরআনের প্রতি ঈমান আনে না তাই বলে দুঃখ, দুশ্চিন্তা ও আফসোস করে নিজেকে ধ্বংস করে দিও না। হিদায়াতের মালিক তো আল্লাহ তা‘আলা তিনি যাকে হিদায়াত দিয়ে থাকেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে হিদায়াত দেয়ার কেউ নেই। তোমার কাজ তাবলীগ করা, তা করে যাও।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(فَلَا تَذْھَبْ نَفْسُکَ عَلَیْھِمْ حَسَرٰتٍ)
“অতএব তুমি তাদের জন্য অনুতাপ করে নিজেকে ধ্বংস করবে না।” (সূরা ফাতির ৩৫:৮)
আল্লাহ তা‘আলার বাণী:
(لَعَلَّكَ بَاخِعٌ نَّفْسَكَ أَلَّا يَكُوْنُوْا مُؤْمِنِيْن)
“তারা মু’মিন হচ্ছে না বলে তুমি হয়ত (মনোকষ্টে) প্রাণ বির্সজন করবে।” (সূরা শু‘য়ারা ২৬:৩)
সুতরাং তাদের ব্যাপারে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হওয়ার কোনই প্রয়োজন নেই। যারা সৎ আমল করবে তারা তাদের নিজেদের কল্যাণের জন্যই করবে। আর যারা মন্দ আমল করবে তারাও তাদের নিজেদের অকল্যাণের জন্যই করবে এবং তারা যা করবে তাই তথায় প্রাপ্ত হবে।
(زِيْنَةً لَّهَا) অর্থাৎ দুনিয়াতে যা কিছু আছে, গাছ-পালা, পশু-পাখি, ধন-সম্পদ সব কিছু দুনিয়ার সৌন্দর্য ও চাকচিক্যের জন্য। এসব দ্বারা আল্লাহ তা‘আলা পরীক্ষা করবেন কারা দুনিয়ার সম্পদ ও ভোগবিলাসের মোহে পড়ে আল্লাহ তা‘আলার দীন থেকে সরে যায় আর দীন থেকে না সরে উত্তম আমল করে।
অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা বলেন যে, এই পৃথিবী এক সময় ধ্বংস হয়ে যাবে, এর শোভা-সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যাবে। ভূ-পৃষ্ঠ গাছ-পালাহীন সমতল ময়দানে পরিণত হবে। আর আখিরাতে যা আছে তা অবশিষ্ট থাকবে।
অতএব মানুষের উচিত এ ধ্বংসশীল দুনিয়ার মোহ পরিত্যাগ করে আল্লাহ তা‘আলা তা‘আলার সন্তুষ্টির জন্য উত্তম আমল করা।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. দুনিয়া পরীক্ষার জায়গা, আর আখিরাত ফলাফলের জায়গা।
২. দুনিয়া একদিন ধ্বংস হয়ে তরুলতাহীন মরুভূমিতে পরিণত হয়ে যাবে।
৩. কেউ মন্দ কাজ করলে তাকে সৎ কাজের দিকে আহ্বান করতে হবে। যদি সে ডাকে সাড়া না দেয় তাঁর জন্য তেমন আফসোস বা দুশ্চিন্তা করা যাবে না যাতে নিজের বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যায়।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৬-৮ নং আয়াতের তাফসীর:
আল্লাহ তাআলা স্বীয় নবীকে সম্বোধন করে বলছেনঃ “হে নবী (সঃ)! মুশরিকরা যে তোমার নিকট থেকে পালিয়ে যাচ্ছে এবং ঈমান আনয়ন করছে না এতে তুমি মোটেই দুঃখ করো না।` এভাবে মহান আল্লাহ স্বীয় নবীকে (সঃ) সান্ত্বনা দিচ্ছেন। যেমন অন্য আয়াতে রয়েছেঃ “তুমি তাদের কারণে এতো দুঃখ আফসোস করো না।” অন্য জায়গায় আছেঃ “তুমি তাদের কারণে এতো বেশী দুঃখিত ও চিন্তিত হয়ে পড়ো না।” আর এক আয়াতে আছেঃ “তাদের ঈমান না আনার কারণে তুমি নিজেকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়ো না।”এখানেও তিনি বলেনঃ “তারা এই বাণী বিশ্বাস করছে না বলে তার পিছনে পড়ে তুমি দুঃখে আত্মবিনাশী হয়ে পড়ো না। তুমি তোমার কাজ চালিয়ে যাও। তাবলীগের কাজে অবহেলা করো না। যে সুপথ প্রাপ্ত হবে সে নিজেরই মঙ্গল সাধন করবে। আর যে পথভ্রষ্ট হবে সেও নিজেরই ক্ষতি করবে। প্রত্যেকের আমল তার সাথেই রয়েছে।`
এরপর মহান আল্লাহ বলেনঃ “দুনিয়া ধ্বংসশীল। এর শোভা সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যাবে। আর আখেরাত বাকী থাকবে। এর নিয়ামত চিরস্থায়ী।”
রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “দুনিয়া হচ্ছে মিষ্ট, সবুজ রঙ বিশিষ্ট। আল্লাহ তাতে তোমাদেরকে প্রতিনিধি বানিয়ে দেখতে চান, তোমরা কেমন আমল কর। সুতরাং তোমরা দুনিয়া হতে ও স্ত্রীলোকদের হতে বেঁচে থাকো।` বান্ ইসরাঈলের সর্বপ্রথম ফিত্রা ছিল নারীদের ফিত্না। এই দুনিয়া শেষ হয়ে যাবে এবং নষ্ট হয়ে যাবে। দনিয়ার ধ্বংস অনিবার্য। যমীন পতিত পড়ে থাকবে। তাতে কোন প্রকারের উদ্ভিদ থাকবে না। যেমন অন্য আয়াতে রয়েছেঃ “মানুষ কি লক্ষ্য করে না যে, আমি অনাবাদী পতিত ভূমিতে পানি জমিয়ে থাকি? অতঃপর তা থেকে তারা ভূমিতে সেচন করে থাকে, তারা নিজেরা পান করে এবং তাদের পশুগুলিকে পান করিয়ে থাকে? তবুওকি তাদের চক্ষু খুলবে না?” যমীন ও যমীনে যা কিছু আছে সবই ধ্বংস হয়ে যাবে এবং সবকেই প্রকৃত মালিকের সামনে হাযির করা হবে। সুতরাং হে নবী (সঃ)! তুমি তাদের কাছে যা-ই শুননা কেন এবং তাদেরকে যে কোন অবস্থায় দেখো না কেন, মোটেই দুঃখ ও আফসোস করো না।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।