আল কুরআন


সূরা আল-কাহফ (আয়াত: 52)

সূরা আল-কাহফ (আয়াত: 52)



হরকত ছাড়া:

ويوم يقول نادوا شركائي الذين زعمتم فدعوهم فلم يستجيبوا لهم وجعلنا بينهم موبقا ﴿٥٢﴾




হরকত সহ:

وَ یَوْمَ یَقُوْلُ نَادُوْا شُرَکَآءِیَ الَّذِیْنَ زَعَمْتُمْ فَدَعَوْهُمْ فَلَمْ یَسْتَجِیْبُوْا لَهُمْ وَ جَعَلْنَا بَیْنَهُمْ مَّوْبِقًا ﴿۵۲﴾




উচ্চারণ: ওয়া ইয়াওমা ইয়াকূ লুনা-দূশুরাকাইয়াল্লাযীনা যা‘আমতুম ফাদা‘আওহুম ফালাম ইয়াছতাজীবূলাহুম ওয়া জা‘আলনা-বাইনাহুম মাওবিকা-।




আল বায়ান: আর যেদিন তিনি বলবেন, ‘তোমরা ডাক আমার শরীকদের, যাদেরকে তোমরা (শরীক) মনে করতে’। অতঃপর তারা তাদেরকে ডাকবে, কিন্তু তারা তাদের ডাকে সাড়া দেবে না। আর আমি তাদের মধ্যে রেখে দেব ধ্বংসস্থল।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৫২. আর সেদিনের কথা স্মরণ করুন, যেদিন তিনি বলবেন, তোমরা যাদেরকে আমার শরীক মনে করতে তাদেরকে ডাক।(১) তারা তখন তাদেরকে ডাকবে কিন্তু তারা তাদের ডাকে সাড়া দেবে না।(২) আর আমরা তাদের উভয়ের মধ্যস্থলে রেখে দেব এক ধ্বংস-গহ্বর।(৩)




তাইসীরুল ক্বুরআন: সেদিন তিনি বলবেন, ‘তোমরা যাদেরকে আমার শরীক মনে করতে তাদেরকে ডাক।’ তখন তারা তাদেরকে ডাকবে, কিন্তু তারা তাদের ডাকে সাড়া দেবে না। আর আমি উভয় দলের মাঝে রেখে দেব এক ধ্বংস-গহ্বর।




আহসানুল বায়ান: (৫২) আর (স্মরণ কর,) যেদিন তিনি বলবেন, ‘তোমরা যাদেরকে আমার শরীক মনে করতে তাদেরকে আহবান কর!’ তারা তখন তাদেরকে আহবান করবে; কিন্তু তারা তাদের আহবানে সাড়া দেবে না এবং আমি তাদের উভয়ের মধ্যস্থলে রেখে দেব এক ধ্বংস-গহ্বর। [1]



মুজিবুর রহমান: এবং সেদিনের কথা স্মরণ কর যেদিন তিনি বলবেনঃ তোমরা যাদেরকে আমার শরীক মনে করতে তাদেরকে আহবান কর; তারা তখন তাদেরকে আহবান করবে, কিন্তু তারা তাদের আহবানে সাড়া দিবেনা এবং আমি তাদের উভয়ের মধ্যস্থলে রেখে দিব এক ধ্বংস গহবর।



ফযলুর রহমান: (স্মরণ করো) যেদিন তিনি বলবেন, “তোমরা যাদেরকে আমার শরীক মনে করতে তাদেরকে ডাক। তারা তাদেরকে ডাকবে, কিন্তু তারা তাদের ডাকে সাড়া দেবে না। আমি তাদের মাঝখানে একটি ধ্বংস-গহবর রেখে দেব।”



মুহিউদ্দিন খান: যেদিন তিনি বলবেনঃ তোমরা যাদেরকে আমার শরীক মনে করতে তাদেরকে ডাক। তারা তখন তাদেরকে ডাকবে, কিন্তু তারা এ আহবানে সাড়া দেবে না। আমি তাদের মধ্যস্থলে রেখে দেব একটি মৃত্যু গহবর।



জহুরুল হক: আর সেদিন তিনি বলবেন -- "ডাকো আমার সঙ্গিসাথীদের যাদের তোমরা ভাবতে।" সুতরাং তারা তাদের ডাকবে, কিন্তু তারা তাদের প্রতি সাড়া দেবে না, আর আমরা তাদের মধ্যখানে স্থাপন করব এক ব্যবধান।



Sahih International: And [warn of] the Day when He will say, "Call 'My partners' whom you claimed," and they will invoke them, but they will not respond to them. And We will put between them [a valley of] destruction.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৫২. আর সেদিনের কথা স্মরণ করুন, যেদিন তিনি বলবেন, তোমরা যাদেরকে আমার শরীক মনে করতে তাদেরকে ডাক।(১) তারা তখন তাদেরকে ডাকবে কিন্তু তারা তাদের ডাকে সাড়া দেবে না।(২) আর আমরা তাদের উভয়ের মধ্যস্থলে রেখে দেব এক ধ্বংস-গহ্বর।(৩)


তাফসীর:

(১) অর্থাৎ তারা যেহেতু তাদেরকে আল্লাহর শরীক নির্ধারণ করে নিয়েছে, তাই তাদের ধারণামতে তারা যাদেরকে আল্লাহর সাথে শরীক করেছে তাদেরকে আহবান জানাতে বলা হয়েছে। নতুবা কোন শরীক হওয়া থেকে আল্লাহ সম্পূর্ণ পবিত্র ও মহান। [ফাতহুল কাদীর]


(২) অর্থাৎ তোমরা আল্লাহর সাথে যাদের শরীক করতে তাদেরকে আহবান করে তাদের দ্বারা আল্লাহর আযাব থেকে উদ্ধার পাওয়া বা আযাবের বিপরীতে সাহায্য লাভ করো কি না দেখা। [ইবন কাসীর] তারা তাদেরকে আহবান করবে কিন্তু তাদের সে আহবান কোন কাজে আসবে না। ঐ সমস্ত উপাস্যের দল এদের ডাকে সাড়াও দিবে না, উদ্ধারও করবে না। কুরআনের অন্যত্র মহান আল্লাহ তা বর্ণনা করেছেন: “পরে কিয়ামতের দিন তিনি তাদেরকে লাঞ্চিত করবেন এবং তিনি বলবেন, কোথায় আমার সেসব শরীক যাদের সম্বন্ধে তোমরা বিতন্ডা করতে? যাদেরকে জ্ঞান দান করা হয়েছিল তারা বলবে, ‘আজ লাঞ্ছনা ও অমংগল কাফিরদের—” [সূরা আন-নাহল: ২৭]

আরও এসেছে, “এবং সেদিন তিনি তাদেরকে ডেকে বলবেন, “তোমরা যাদেরকে আমার শরীক গণ্য করতে, তারা কোথায়?” যাদের জন্য শাস্তি অবধারিত হয়েছে তারা বলবে, হে আমাদের রব! এদেরকেই আমরা বিভ্রান্ত করেছিলাম; এদেরকে বিভ্রান্ত করেছিলাম। যেমন আমরা বিভ্রান্ত হয়েছিলাম; আপনার সমীপে আমরা দায়িত্ব হতে অব্যাহতি চাচ্ছি। এরা তো আমাদের ইবাদাত করত না।” তাদেরকে বলা হবে, “তোমাদের দেবতাগুলোকে ডাক” তখন তারা ওদেরকে ডাকবে। কিন্তু ওরা এদের ডাকে সাড়া দেবে না। আর এরা শাস্তি দেখতে পাবে। হায়! এরা যদি সৎপথ অনুসরণ করত।” [সূরা আল-ক্কাসাস: ৬২–৬৪]।

আরও এসেছে, “যেদিন আল্লাহ তাদেরকে ডেকে বলবেন, আমার শরীকেরা কোথায়? তখন তারা বলবে, আমরা আপনার কাছে নিবেদন করি যে, এ ব্যাপারে আমরা কিছুই জানি না। আগে তারা যাকে ডাকত তারা উধাও হয়ে যাবে এবং অংশীবাদীরা উপলব্ধি করবে যে, তাদের নিস্কৃতির কোন উপায় নেই।” [সূরা ফুস্‌সিলাত: ৪৭–৪৮]। আরও বলেনঃ “এবং তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদেরকে ডাক তারা তো খেজুর আঁটির আবরণেরও অধিকারী নয়। তোমরা তাদেরকে ডাকলে তারা তোমাদের ডাক শুনবে না এবং শুনলেও তোমাদের ডাকে সাড়া দেবে না। তোমরা তাদেরকে যে শরীক করেছ তা তারা কিয়ামতের দিন অস্বীকার করবে। সর্বজ্ঞের মত কেউই আপনাকে অবহিত করতে পারে না।” [সূরা ফাতের: ১৩–১৪]

অন্যত্র বলেছেনঃ “সে ব্যক্তির চেয়ে বেশী বিভ্রান্ত কে যে আল্লাহর পরিবর্তে এমন কিছুকে ডাকে যা কিয়ামতের দিন পর্যন্ত তাকে সাড়া দেবে না? এবং এগুলো তাদের প্রার্থনা সম্বন্ধে অবহিতও নয়। যখন কিয়ামতের দিন মানুষকে একত্র করা হবে তখন ঐগুলো হবে তাদের শত্রু এবং ঐগুলো তাদের ‘ইবাদাত অস্বীকার করবে।” [সূরা আল-আহকাফ: ৫–৬]


(৩) এখানে “তাদের উভয়ের” বলে কাদের বুঝানো হয়েছে। এ ব্যাপারে দুটি মত রয়েছে, এক. তাদের এবং তারা যাদের ইবাদত করত সে সব বাতিল উপাস্যদের মধ্যে এমন দূরত্ব সৃষ্টি করে দিবেন যে তারা একে অপরের কাছে পৌঁছতে পারবে না। তাদের মাঝখানে থাকবে ধ্বংস গহবর। [ফাতহুল কাদীর] দুই. অথবা “তাদের উভয়ের” বলে ঈমানদার ও কাফের দু’দলকে উদ্দেশ্য নেয়া হয়েছে। [ইবন কাসীর] তখন আয়াতের অর্থ হবে, ঈমানদার ও কাফের এর মাঝে পার্থক্য করে দেয়া হবে। কাফেরদের সামনে থাকবে শুধু ধ্বংস গহবর।

এ অর্থে কুরআনের অন্যত্র এসেছে, “যেদিন কিয়ামত হবে সেদিন মানুষ বিভক্ত হয়ে পড়বে। অতএব যারা ঈমান এনেছে ও সৎকাজ করেছে তারা জান্নাতে থাকবে; এবং যারা কুফরী করেছে এবং আমার নিদর্শনাবলী ও আখিরাতের সাক্ষাত অস্বীকার করেছে, তারাই শাস্তি ভোগ করতে থাকবে।” [সূরা আর-রূম: ১৪–১৬]

আরও বলা হয়েছে, “আপনি সরল দ্বীনে নিজকে প্রতিষ্ঠিত করুন, আল্লাহর পক্ষ থেকে যে দিন অনিবার্য তা উপস্থিত হওয়ার আগে, সেদিন মানুষ বিভক্ত হয়ে পড়বে। যে কুফরী করে কুফরীর শাস্তি তারই প্রাপ্য; যারা সৎকাজ করে তারা নিজেদেরই জন্য রচনা করে সুখশয্যা।” [সূরা আর-রূম: ৪৩–৪৪] আরও এসেছে, “আর হে অপরাধীরা! তোমরা আজ পৃথক হয়ে যাও” [সূরা ইয়াসীন: ৫৯] অন্য সূরায় এসেছে, “এবং যেদিন আমি ওদের সবাইকে একত্র করে যারা মুশরিক তাদেরকে বলব, তোমরা এবং তোমরা যাদেরকে শরীক করেছিলে তারা নিজ নিজ স্থানে অবস্থান কর; আমি ওদেরকে পরস্পরের থেকে পৃথক করে দিলাম এবং ওরা যাদেরকে শরীক করেছিল তারা বলবে, তোমরা তো আমাদের ইবাদাত করতে না।

আল্লাহ্ই আমাদের ও তোমাদের মধ্যে সাক্ষী হিসেবে যথেষ্ট যে, তোমরা আমাদের ইবাদাত করতে এ বিষয়ে আমরা গাফিল ছিলাম। সেখানে তাদের প্রত্যেকে তার পূর্ব কৃতকর্ম পরীক্ষা করে নেবে এবং ওদেরকে ওদের প্রকৃত অভিভাবক আল্লাহর কাছে ফিরিয়ে আনা হবে এবং ওদের উদ্ভাবিত মিথ্যা ওদের কাছ থেকে অন্তৰ্হিত হবে।” [সূরা ইউনুস: ২৮–৩০]


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৫২) আর (স্মরণ কর,) যেদিন তিনি বলবেন, ‘তোমরা যাদেরকে আমার শরীক মনে করতে তাদেরকে আহবান কর!’ তারা তখন তাদেরকে আহবান করবে; কিন্তু তারা তাদের আহবানে সাড়া দেবে না এবং আমি তাদের উভয়ের মধ্যস্থলে রেখে দেব এক ধ্বংস-গহ্বর। [1]


তাফসীর:

[1] مَوْبِقٌ এর একটি অর্থ হল, পর্দা ও আড়। অর্থাৎ, তাদের মধ্যে পর্দা ও ব্যবধান করে দেওয়া হবে। কেননা, তাদের মধ্যে আপোসে শত্রুতা হবে। অনুরূপ ব্যবধান এ জন্যও হবে যে, হাশর প্রান্তে পরস্পর সাক্ষাৎ করতে পারবে না। কেউ কেউ বলেছেন, এটা (موبق) হল জাহান্নামের রক্ত ও পুঁজবিশিষ্ট একটি বিশেষ উপত্যকা। আবার কেউ কেউ এর তরজমা করেছেন, ধ্বংস-গহ্বর; যা তরজমাতে এখতিয়ার করা হয়েছে। অর্থাৎ, এই মুশরিক এবং তাদের মনগড়া উপাস্যরা একে অপরের সাথে সাক্ষাৎ করতে পারবে না। কারণ, তাদের মাঝে সর্বনাশী সামগ্রী এবং অনেক ভয়াবহ জিনিস থাকবে।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৫১-৫৩ নং আয়াতের তাফসীর:



প্রথম আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা বর্ণনা করছেন যে, তিনিই একমাত্র মা‘বূদ। তিনিই সকল ইবাদত পাওয়া হকদার। তিনি তখন থেকেই আছেন যখন কিছুই ছিল না, তিনি তখনও থাকবেন যখন কিছুই থাকবে না। আল্লাহ তা‘আলা বলছেন: আকাশ-জমিন সৃষ্টি করার সময় শয়তান ও পথভ্রষ্টকারীদেরকে উপস্থিত রাখিনি যে, আমি তাদের থেকে সৃষ্টির কাজে সহযোগিতা নিব বা এ ব্যাপারে সাক্ষী থাকবে, এমনকি তাদেরকে সৃষ্টি করার ক্ষেত্রেও উপস্থিত রাখিনি।



আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(هٰذَا خَلْقُ اللّٰهِ فَأَرُوْنِيْ مَاذَا خَلَقَ الَّذِيْنَ مِنْ دُوْنِه۪ ط بَلِ الظَّالِمُوْنَ فِيْ ضَلَالٍ مُّبِيْنٍ)



“এগুলো আল্লাহর সৃষ্টি। তোমরা আমাকে দেখাও, তিনি ছাড়া অন্যেরা কী সৃষ্টি করেছে। বরং জালিমরা রয়েছে প্রকাশ্য পথভ্রষ্টতায়।” (সূরা লুকমান ৩১:১১)



মুশরিকদেরকে কিয়ামতের দিন আল্লাহ বলবেন: তোমরা যাদের সহযোগিতা ও সুপারিশ পাওয়ার আশায় আমার সাথে অংশীদার বানিয়েছিলে তাদেরকে আহ্বান কর। তারা আল্লাহ তা‘আলার কথা মত আহ্বান করবে কিন্তু তারা তাদের আহ্বানে সাড়া দেবে না বরং তাদের থেকে উধাও হয়ে যাবে। কারণ সেদিন তাদের কোন ক্ষমতা থাকবে না, বরং সকল ক্ষমতা আল্লাহ তা‘আলার হাতে থাকবে।



আল্লাহ তা‘আলা বলেন “এবং সেদিন তিনি তাদেরকে আহ্বান করে বলবেন: ‘তোমরা যাদেরকে আমার শরীক গণ্য করতে, তারা কোথায়?’ যাদের জন্য শাস্তি অবধারিত হয়েছে তারা বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক এদেরকেই আমরা বিভ্রান্ত করেছিলাম; এদেরকে বিভ্রান্ত করেছিলাম যেমন আমরাও বিভ্রান্ত হয়েছিলাম; আপনার সমীপে আমরা দায়িত্ব হতে সম্পর্কহীনতা ঘোষণা করছি। এরা আমাদের ‘ইবাদত করত না।’’ (সূরা ক্বাসাস ২৮:৬২-৬৪)



عَضُدًا সাহায্যকারী, কারো দ্বারা সহযোগিতা নেয়া।



مَّوْبِقًا অর্থ ধ্বংস হওয়া, অর্থাৎ মুশরিক ও তাদের বানানো মা‘বূদ আলাদা হয়ে যাবে, মুশরিকরা যে তাদের ইবাদত করত তারা সে ইবাদত অস্বীকার করবে। ফলে সবাই জাহান্নামের আগুনে পতিত হবে। তারা সেই জাহান্নামের আগুন থেকে কোন পরিত্রাণ পাবে না। সুতরাং যারা ভ্রান্ত তারা তথায় কঠিন শাস্তি ভোগ করবে। আর তাদের সেই শাস্তি একটুও কমানো হবে না। কারণ, তারা আল্লাহ তা‘আলার বিধানের নাফরমানী করেছিল এবং তাঁর শরীক স্থাপন করেছিল।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. আকাশ ও জমিনের সৃষ্টিকর্তা একমাত্র আল্লাহ, কেউ আল্লাহর সাথে সহযোগিতা করেনি।

২. আল্লাহ তা‘আলা কোন অন্যায়কারীকে সাহায্য করেন না।

৩. দুনিয়ায় যারা আল্লাহ তা‘আলার পরিবর্তে অন্যদেরকে আহ্বান করত সে সকল নেতারা কিয়ামতের দিন তাদের আহ্বানকারীদের ডাকে সাড়া দেবে না।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৫২-৫৩ নং আয়াতের তাফসীর:

সমস্ত মুশরিককে কিয়ামতের দিন লজ্জিত করার উদ্দেশ্যে সবারই সামনে বলা হবেঃ আজ তোমরা তোমাদের ঐ শরীকদেরকে আহবান কর যাদেরকে দুনিয়ায় আহবান করতে, যাতে তারা তোমাদেরকে আজকের বিপদ হতে রক্ষা করে। তারা তখন আহবান করবে, কিন্তু কোন সাড়া পাবে না। যেমন অন্য আয়াতে রয়েছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “আমি এভাবে তোমাদেরকে একক ভাবে এনেছি যেমন ভাবে তোমাদেরকে প্রথমবার সৃষ্টি করেছিলাম। দুনিয়ায় আমি তোমাদেরকে যা কিছু দিয়ে রেখেছিলাম সে সবগুলি তোমরা তোমাদের পিছনে ছেড়ে এসেছে। আজ তো আমি তোমাদের সাথে তোমাদের ঐ সব শরীককে দেখছি না যাদেরকে তোমরা আল্লাহর শরীক বানিয়ে রেখেছিলে এবং বিশ্বাস রেখেছিলে যে, তারা তোমাদের জন্যে শাফাআত করবে। তোমাদের মধ্যকার সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে গেছে এবং তোমাদের ধারণা মিথ্যা প্রমাণিত হয়ে গেছে।” (৬:৯৪) অন্য আয়াতে আছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “বলা হবে তোমাদের দেবতাগুলিকে আহ্বান কর। তারা তখন আহ্বান করবে কিন্তু তারা তাদের আহ্বানে কোন সাড়া দেবে।” (২৮ :৬৪) এই বিষয়েরই আয়াত। হতে দু’আয়াত পর্যন্ত। সূরায়ে মারইয়ামে আল্লাহ তাআলা বলেছেনঃ “তারা। আল্লাহ ছাড়া অন্য মাবুদ গ্রহণ করে নিয়েছে এই জন্যে, যাতে তারা তাদের সহায় হয় না, এই ধারণা অবাস্তব, তারা তাদের ইবাদত অস্বীকার করবে এবং তাদের বিরোধী হয়ে যাবে। তাদের মধ্যে ও তাদের বাতিল মাবুদের মধ্যে পর্দা ও ধ্বংসের গর্ত বানিয়ে দেবো; যেন তারা পরস্পর মিলিত হতে না পারে। যেন সুপথ প্রাপ্ত ও পথভ্রষ্টরা পৃথক পৃথক ভাবে থাকে। জাহান্নামের এই উপত্যকা তাদেরকে পরস্পরে মিলিত হতে দেবে না। বর্ণিত আছে যে, এটা হবে রক্ত ও পূজের উপত্যকা। তাদের পরস্পরের মধ্যে শত্রুতা হয়ে যাবে। বাহ্যতঃ জানা যাচ্ছে যে, এর দ্বারা ধ্বংস উদ্দেশ্য। আবার এটাও হতে পারে যে, এর দ্বারা জাহান্নামের কোন উপত্যকাকে বুঝানো হয়েছে। কিংবা প্রভেদ ও ব্যবধান সষ্টিকারী অন্য কোন উপত্যকা হবে। উদ্দেশ্য এই যে, ঐ উপাস্যরা ঐ উপাসকদেরকে জবাব পর্যন্ত দিবে না। তাদের পরস্পরের মধ্যে মিলনও ঘটবে না। কেননা, তাদের মাঝে ভয়াবহ অবস্থা সৃষ্টি হবে। হযরত আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) বলেন যে, এর ভাবার্থ হচ্ছেঃ আমি ঐ মুশরিক ও মুসলমানদের মাঝে আড়াল করে দেবে। যেমন- (আরবী) (৩০:১৪) (আরবী) ও (৩০:৪৩) এবং (আরবী) ইত্যাদি আয়াতসমূহে রয়েছে। এই পাপী ও অপরাধীরা এমন অবস্থায় জাহান্নাম দেখবে যে, সত্তর হাজার লাগামে তারা আবদ্ধ থাকবে। প্রত্যেক লাগামের উপর সত্তর হাযার করে ফেরেশতা থাকবে। দেখেই তারা বুঝতে পারবে যে, ওটাই তাদের কয়েদখানা। জাহান্নামে প্রবেশের পূর্বেই তাদের উপর কঠিন বিপদ, দুঃখ-কষ্ট ও যন্ত্রণা শুরু হয়ে যাবে। এগুলো হবে প্রকৃত শাস্তির পর্বের শাস্তি। কিন্তু তারা তার থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার কোন উপায় খুঁজে পাবে না। হাদীস শরীফে আছে যে, পাঁচ হাজার বছর পর্যন্ত কাফিররা ঐ ভয়াবহ ও কম্পমান অবস্থাতেই থাকবে যে, তাদের সামনেই রয়েছে জাহান্নাম, আর ওর পূর্বেই তারা ঐরূপ শাস্তি ভোগ করতে রয়েছে।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।