সূরা আল-কাহফ (আয়াত: 51)
হরকত ছাড়া:
ما أشهدتهم خلق السماوات والأرض ولا خلق أنفسهم وما كنت متخذ المضلين عضدا ﴿٥١﴾
হরকত সহ:
مَاۤ اَشْهَدْتُّهُمْ خَلْقَ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضِ وَ لَا خَلْقَ اَنْفُسِهِمْ ۪ وَ مَا کُنْتُ مُتَّخِذَ الْمُضِلِّیْنَ عَضُدًا ﴿۵۱﴾
উচ্চারণ: মাআশহাততুহুম খালকাছছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদিওয়ালা-খালকা আনফুছিহিম ওয়ামা-কুনতুমুত্তাখিযাল মুদিল্লীনা ‘আদুদা-।
আল বায়ান: আমি তাদেরকে আসমানসমূহ ও যমীনের সৃষ্টির সাক্ষী করিনি এবং না তাদের নিজদের সৃষ্টির। আর আমি পথভ্রষ্টকারীদেরকে সহায়তাকারী হিসেবে গ্রহণ করিনি।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৫১. আসমানসমূহ ও যমীনের সৃষ্টিকালে আমি তাদেরকে সাক্ষী করিনি এবং তাদের নিজেদের সৃষ্টির সময়ও নয়, আর আমি পথভ্রষ্টকারীদেরকে সাহায্যকারীরূপে গ্ৰহণকারী নই।(১)
তাইসীরুল ক্বুরআন: আসমান যমীনের সৃষ্টিকালে আমি তাদেরকে সাক্ষী রাখিনি, আর তাদের নিজেদের সৃষ্টি (প্রত্যক্ষ করার জন্য)ও না, পথভ্রষ্টকারীদেরকে সাহায্যকারী গ্রহণ করা আমার কাজ নয়।
আহসানুল বায়ান: (৫১) আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টিকালে আমি তাদেরকে (উপস্থিত) সাক্ষী রাখিনি এবং তাদের সৃজনকালেও নয়।[1] আর আমি এমনও নই যে, বিভ্রান্তকারীদেরকে সহায়করূপে গ্রহণ করব। [2]
মুজিবুর রহমান: আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টিকালে আমি তাদেরকে ডাকিনি এবং তাদের সৃজনকালেও নয়, এবং আমি বিভ্রান্তকারীদের সাহায্য গ্রহণ করার নই।
ফযলুর রহমান: আমি তাদেরকে আসমান ও জমিন সৃষ্টির সাক্ষী করিনি, তাদের নিজেদের সৃষ্টিরও না। তাছাড়া বিভ্রান্তকারীদের (কোন) সাহায্যও নেইনি।
মুহিউদ্দিন খান: নভোমন্ডল ও ভুমন্ডলের সৃজনকালে আমি তাদেরকে সাক্ষ্য রাখিনি এবং তাদের নিজেদের সৃজনকালেও না। এবং আমি এমনও নই যে, বিভ্রান্ত কারীদেরকে সাহায্যকারীরূপে গ্রহণ করবো।
জহুরুল হক: মহাকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টিকালে আমি ওদের সাক্ষি দিতে ডাকি নি, আর তাদের নিজেদের সৃষ্টিকালেও নয়, আর বিপথে চালনাকারীদের আমি সহায়করূপে গ্রহণ করি না।
Sahih International: I did not make them witness to the creation of the heavens and the earth or to the creation of themselves, and I would not have taken the misguiders as assistants.
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৫১. আসমানসমূহ ও যমীনের সৃষ্টিকালে আমি তাদেরকে সাক্ষী করিনি এবং তাদের নিজেদের সৃষ্টির সময়ও নয়, আর আমি পথভ্রষ্টকারীদেরকে সাহায্যকারীরূপে গ্ৰহণকারী নই।(১)
তাফসীর:
(১) তাদের সৃষ্টি করার সময় আমার কোন সাহায্যকারীর প্রয়োজন হয়নি। যাদেরকে তোমরা আহ্বান করছ তারা সবাই তোমাদের মতই তাঁর বান্দাহ, কোন কিছুরই মালিক নয়। আসমান ও যমীন সৃষ্টি করার সময় তারা সেখানে ছিল না, তাই দেখার প্রশ্নও উঠে না। অন্যত্র আল্লাহ বলেনঃ “বলুন, তোমরা ডাক তাদেরকে যাদেরকে তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে ইলাহ মনে করতে। তারা আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে অণু পরিমাণ কিছুর মালিক নয় এবং এ দুটিতে তাদের কোন অংশও নেই এবং তাদের কেউ তার সহায়কও নয়। যাকে অনুমতি দেয়া হয় সে ছাড়া আল্লাহর কাছে কারো সুপারিশ ফলপ্রসূ হবে না।” [সূরা সাবা: ২২–২৩]
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৫১) আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টিকালে আমি তাদেরকে (উপস্থিত) সাক্ষী রাখিনি এবং তাদের সৃজনকালেও নয়।[1] আর আমি এমনও নই যে, বিভ্রান্তকারীদেরকে সহায়করূপে গ্রহণ করব। [2]
তাফসীর:
[1] অর্থাৎ, আসমান ও যমীনের সৃষ্টি ও তার পরিচালনার ব্যাপারে, এমন কি এই শয়তানদের সৃষ্টি করার ব্যাপারেও আমি তাদের থেকে বা তাদের মধ্যে হতে কোন একজনের থেকেও কোন সাহায্য গ্রহণ করিনি। এদের তো তখন অস্তিত্বই ছিল না। তাহলে তোমরা এই শয়তান এবং তার বংশধরের পূজা অথবা আনুগত্য কেন কর? পক্ষান্তরে আমার ইবাদত ও আনুগত্য থেকে তোমরা বিমুখ কেন? অথচ এরা সৃষ্টি, আর আমি এদের সকলের স্রষ্টা।
[2] অসম্ভব সত্ত্বেও যদি আমি কাউকে সাহায্যকারী বানাতামও, তবে এদেরকে কেন, যারা আমার বান্দাদেরকে ভ্রষ্ট করে আমার জান্নাত ও আমার সন্তুষ্টির পথে বাধা সৃষ্টি করে।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৫১-৫৩ নং আয়াতের তাফসীর:
প্রথম আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা বর্ণনা করছেন যে, তিনিই একমাত্র মা‘বূদ। তিনিই সকল ইবাদত পাওয়া হকদার। তিনি তখন থেকেই আছেন যখন কিছুই ছিল না, তিনি তখনও থাকবেন যখন কিছুই থাকবে না। আল্লাহ তা‘আলা বলছেন: আকাশ-জমিন সৃষ্টি করার সময় শয়তান ও পথভ্রষ্টকারীদেরকে উপস্থিত রাখিনি যে, আমি তাদের থেকে সৃষ্টির কাজে সহযোগিতা নিব বা এ ব্যাপারে সাক্ষী থাকবে, এমনকি তাদেরকে সৃষ্টি করার ক্ষেত্রেও উপস্থিত রাখিনি।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(هٰذَا خَلْقُ اللّٰهِ فَأَرُوْنِيْ مَاذَا خَلَقَ الَّذِيْنَ مِنْ دُوْنِه۪ ط بَلِ الظَّالِمُوْنَ فِيْ ضَلَالٍ مُّبِيْنٍ)
“এগুলো আল্লাহর সৃষ্টি। তোমরা আমাকে দেখাও, তিনি ছাড়া অন্যেরা কী সৃষ্টি করেছে। বরং জালিমরা রয়েছে প্রকাশ্য পথভ্রষ্টতায়।” (সূরা লুকমান ৩১:১১)
মুশরিকদেরকে কিয়ামতের দিন আল্লাহ বলবেন: তোমরা যাদের সহযোগিতা ও সুপারিশ পাওয়ার আশায় আমার সাথে অংশীদার বানিয়েছিলে তাদেরকে আহ্বান কর। তারা আল্লাহ তা‘আলার কথা মত আহ্বান করবে কিন্তু তারা তাদের আহ্বানে সাড়া দেবে না বরং তাদের থেকে উধাও হয়ে যাবে। কারণ সেদিন তাদের কোন ক্ষমতা থাকবে না, বরং সকল ক্ষমতা আল্লাহ তা‘আলার হাতে থাকবে।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন “এবং সেদিন তিনি তাদেরকে আহ্বান করে বলবেন: ‘তোমরা যাদেরকে আমার শরীক গণ্য করতে, তারা কোথায়?’ যাদের জন্য শাস্তি অবধারিত হয়েছে তারা বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক এদেরকেই আমরা বিভ্রান্ত করেছিলাম; এদেরকে বিভ্রান্ত করেছিলাম যেমন আমরাও বিভ্রান্ত হয়েছিলাম; আপনার সমীপে আমরা দায়িত্ব হতে সম্পর্কহীনতা ঘোষণা করছি। এরা আমাদের ‘ইবাদত করত না।’’ (সূরা ক্বাসাস ২৮:৬২-৬৪)
عَضُدًا সাহায্যকারী, কারো দ্বারা সহযোগিতা নেয়া।
مَّوْبِقًا অর্থ ধ্বংস হওয়া, অর্থাৎ মুশরিক ও তাদের বানানো মা‘বূদ আলাদা হয়ে যাবে, মুশরিকরা যে তাদের ইবাদত করত তারা সে ইবাদত অস্বীকার করবে। ফলে সবাই জাহান্নামের আগুনে পতিত হবে। তারা সেই জাহান্নামের আগুন থেকে কোন পরিত্রাণ পাবে না। সুতরাং যারা ভ্রান্ত তারা তথায় কঠিন শাস্তি ভোগ করবে। আর তাদের সেই শাস্তি একটুও কমানো হবে না। কারণ, তারা আল্লাহ তা‘আলার বিধানের নাফরমানী করেছিল এবং তাঁর শরীক স্থাপন করেছিল।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. আকাশ ও জমিনের সৃষ্টিকর্তা একমাত্র আল্লাহ, কেউ আল্লাহর সাথে সহযোগিতা করেনি।
২. আল্লাহ তা‘আলা কোন অন্যায়কারীকে সাহায্য করেন না।
৩. দুনিয়ায় যারা আল্লাহ তা‘আলার পরিবর্তে অন্যদেরকে আহ্বান করত সে সকল নেতারা কিয়ামতের দিন তাদের আহ্বানকারীদের ডাকে সাড়া দেবে না।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: মহান আল্লাহ মানবমণ্ডলীকে সম্বোধন করে বলছেনঃ আল্লাহ ছাড়া যাকে যাকে তোমরা তোমাদের বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেছে তারা তোমাদের মতই আমার গোলাম। তাদের কোন কিছুরই মালিকানা নেই। আকাশমণ্ডলী ও পথিবীর সষ্টিকালে আমি তাদেরকে আহবান করি নাই। বরং তারা নিজেরাই সেই সময় বিদ্যমান ছিল না; সমস্ত কিছু একমাত্র আমিই সৃষ্টি করেছি। সবকেই আমিই পরিচালনা করে থাকি। আমার কোন অংশীদার, উযীর ও পরামর্শদাতা নেই। যেমন অন্য আয়াতে রয়েছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “যাদেরকে তোমরা নিজেদের ধারণায় কিছু একটা মনে করে রেখেছে তাদের সকলকেই আল্লাহ ব্যতীত ডেকে দেখো। জেনে রেখো যে, আসমান ও যমীনে তাদের কারো এক অনুপরিমাণও অধিকার ও মালিকানা নেই, না তাদের কেউ আল্লাহর অংশীদার, না তাঁরা সাহায্যকারী, না তাদের কেউ আল্লাহর কাছে তার অনুমতি ছাড়া কারো জন্যে শাফাআত করতে পারে।` (৩৪:২২)
মহান আল্লাহ বলেনঃ আমার জন্যে এটা শোভনীয়ও নয় এবং আমার কোন প্রয়োজনও নেই যে, তাদেরকে এবং বিশেষ করে বিভ্রান্তকারীদেরকে নিজের বন্ধু ও সাহায্যকারীরূপে গ্রহণ করবো।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।