সূরা আল-কাহফ (আয়াত: 53)
হরকত ছাড়া:
ورأى المجرمون النار فظنوا أنهم مواقعوها ولم يجدوا عنها مصرفا ﴿٥٣﴾
হরকত সহ:
وَ رَاَ الْمُجْرِمُوْنَ النَّارَ فَظَنُّوْۤا اَنَّهُمْ مُّوَاقِعُوْهَا وَ لَمْ یَجِدُوْا عَنْهَا مَصْرِفًا ﴿۵۳﴾
উচ্চারণ: ওয়া রাআল মুজরিমূনান্না-রা ফাজাননূআন্নাহুম মুওয়া-কি‘ঊহা-ওয়ালাম ইয়াজিদূ‘আনহা- মাসরিফা-।
আল বায়ান: আর অপরাধীরা আগুন দেখবে, অতঃপর তারা নিশ্চিতরূপে জানতে পারবে যে, নিশ্চয় তারা তাতে নিপতিত হবে এবং তারা তা থেকে বাঁচার কোন পথ খুঁজে পাবে না।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৫৩. আর অপরাধীরা আগুন দেখে বুঝবে যে, তারা সেখানে পতিত হচ্ছে এবং তারা সেখান থেকে কোন পরিত্রাণস্থল পাবে না।(১)
তাইসীরুল ক্বুরআন: অপরাধীরা আগুন দেখতে পাবে আর মনে করবে যে, তাদেরকে তাতে পতিত হতে হবে, কিন্তু সেখান থেকে ফিরে যাবার তারা কোনই উপায় পাবে না।
আহসানুল বায়ান: (৫৩) অপরাধীরা জাহান্নাম দেখে বুঝবে যে, তারা সেখানে পতিত হবে এবং তারা ওটা হতে কোন পরিত্রাণ স্থল পাবে না। [1]
মুজিবুর রহমান: পাপীরা আগুন অবলোকন করে আশংকা করবে যেন ওরা ওতেই পতিত হবে, বস্তুতঃ ওটা হতে ওরা পরিত্রাণ পাবেনা।
ফযলুর রহমান: অপরাধীরা আগুন দেখে বুঝতে পারবে যে, তারা তাতে পতিত হবে এবং তা থেকে পরিত্রাণের কোন পথ পাবে না।
মুহিউদ্দিন খান: অপরাধীরা আগুন দেখে বোঝে নেবে যে, তাদেরকে তাতে পতিত হতে হবে এবং তারা তা থেকে রাস্তা পরিবর্তন করতে পারবে না।
জহুরুল হক: আর অপরাধীরা আগুন দেখতে পাবে, আর তারা বুঝবে যে তারা নিশ্চয়ই এতে পতিত হচ্ছে, আর তা থেকে তারা কোনো পরিত্রাণ পাবে না।
Sahih International: And the criminals will see the Fire and will be certain that they are to fall therein. And they will not find from it a way elsewhere.
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৫৩. আর অপরাধীরা আগুন দেখে বুঝবে যে, তারা সেখানে পতিত হচ্ছে এবং তারা সেখান থেকে কোন পরিত্রাণস্থল পাবে না।(১)
তাফসীর:
(১) হাশরের দিন জাহান্নাম দেখার পর তারা স্পষ্ট বুঝতে ও বিশ্বাস করবে যে, তারা জাহান্নামে পতিত হচ্ছেই। তাদের বাঁচার কোন উপায় নেই। কুরআনের অন্যত্র বলা হয়েছেঃ “হায়, আপনি যদি দেখতেন! যখন অপরাধীরা তাদের প্রতিপালকের সম্মুখে অধোবদন হয়ে বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা দেখলাম ও শুনলাম, এখন আপনি আমাদেরকে আবার পাঠিয়ে দিন, আমরা সৎকাজ করব, আমরা তো দৃঢ় বিশ্বাসী।” [সূরা আস-সাজদাহ: ১২] আরও এসেছেঃ “তুমি এ দিন সম্বন্ধে উদাসীন ছিলে, এখন আমি তোমার সামনে থেকে পর্দা উন্মোচন করেছি। আজ তোমার দৃষ্টি প্রখর।” [সূরা ক্বাফ: ২২]
অনুরূপ এসেছে: “তারা যেদিন আমার কাছে আসবে সেদিন তারা কত স্পষ্ট শুনবে ও দেখবে! কিন্তু যালিমরা আজ স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে আছে।” [সূরা মারইয়াম: ৩৮] হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “কিয়ামতের দিনের সময় কাফেরের জন্য পঞ্চাশ হাজার বছর নির্ধারণ করা হবে। আর কাফের চল্লিশ বছরের রাস্তা থেকে জাহান্নাম দেখে নিশ্চিত হয়ে যাবে সে তাতে পতিত হচ্ছে।” [মুসনাদে আহমাদ: ৩/৭৫]
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৫৩) অপরাধীরা জাহান্নাম দেখে বুঝবে যে, তারা সেখানে পতিত হবে এবং তারা ওটা হতে কোন পরিত্রাণ স্থল পাবে না। [1]
তাফসীর:
[1] যেমন, হাদীসে আছে যে, কাফের এমন স্থান থেকেই নিশ্চিত হয়ে যাবে যে, তার ঠিকানা হল জাহান্নাম, যার দূরত্ব হল চল্লিশ বছরের পথ। (আহমাদ ৩/৭৫)
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৫১-৫৩ নং আয়াতের তাফসীর:
প্রথম আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা বর্ণনা করছেন যে, তিনিই একমাত্র মা‘বূদ। তিনিই সকল ইবাদত পাওয়া হকদার। তিনি তখন থেকেই আছেন যখন কিছুই ছিল না, তিনি তখনও থাকবেন যখন কিছুই থাকবে না। আল্লাহ তা‘আলা বলছেন: আকাশ-জমিন সৃষ্টি করার সময় শয়তান ও পথভ্রষ্টকারীদেরকে উপস্থিত রাখিনি যে, আমি তাদের থেকে সৃষ্টির কাজে সহযোগিতা নিব বা এ ব্যাপারে সাক্ষী থাকবে, এমনকি তাদেরকে সৃষ্টি করার ক্ষেত্রেও উপস্থিত রাখিনি।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(هٰذَا خَلْقُ اللّٰهِ فَأَرُوْنِيْ مَاذَا خَلَقَ الَّذِيْنَ مِنْ دُوْنِه۪ ط بَلِ الظَّالِمُوْنَ فِيْ ضَلَالٍ مُّبِيْنٍ)
“এগুলো আল্লাহর সৃষ্টি। তোমরা আমাকে দেখাও, তিনি ছাড়া অন্যেরা কী সৃষ্টি করেছে। বরং জালিমরা রয়েছে প্রকাশ্য পথভ্রষ্টতায়।” (সূরা লুকমান ৩১:১১)
মুশরিকদেরকে কিয়ামতের দিন আল্লাহ বলবেন: তোমরা যাদের সহযোগিতা ও সুপারিশ পাওয়ার আশায় আমার সাথে অংশীদার বানিয়েছিলে তাদেরকে আহ্বান কর। তারা আল্লাহ তা‘আলার কথা মত আহ্বান করবে কিন্তু তারা তাদের আহ্বানে সাড়া দেবে না বরং তাদের থেকে উধাও হয়ে যাবে। কারণ সেদিন তাদের কোন ক্ষমতা থাকবে না, বরং সকল ক্ষমতা আল্লাহ তা‘আলার হাতে থাকবে।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন “এবং সেদিন তিনি তাদেরকে আহ্বান করে বলবেন: ‘তোমরা যাদেরকে আমার শরীক গণ্য করতে, তারা কোথায়?’ যাদের জন্য শাস্তি অবধারিত হয়েছে তারা বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক এদেরকেই আমরা বিভ্রান্ত করেছিলাম; এদেরকে বিভ্রান্ত করেছিলাম যেমন আমরাও বিভ্রান্ত হয়েছিলাম; আপনার সমীপে আমরা দায়িত্ব হতে সম্পর্কহীনতা ঘোষণা করছি। এরা আমাদের ‘ইবাদত করত না।’’ (সূরা ক্বাসাস ২৮:৬২-৬৪)
عَضُدًا সাহায্যকারী, কারো দ্বারা সহযোগিতা নেয়া।
مَّوْبِقًا অর্থ ধ্বংস হওয়া, অর্থাৎ মুশরিক ও তাদের বানানো মা‘বূদ আলাদা হয়ে যাবে, মুশরিকরা যে তাদের ইবাদত করত তারা সে ইবাদত অস্বীকার করবে। ফলে সবাই জাহান্নামের আগুনে পতিত হবে। তারা সেই জাহান্নামের আগুন থেকে কোন পরিত্রাণ পাবে না। সুতরাং যারা ভ্রান্ত তারা তথায় কঠিন শাস্তি ভোগ করবে। আর তাদের সেই শাস্তি একটুও কমানো হবে না। কারণ, তারা আল্লাহ তা‘আলার বিধানের নাফরমানী করেছিল এবং তাঁর শরীক স্থাপন করেছিল।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. আকাশ ও জমিনের সৃষ্টিকর্তা একমাত্র আল্লাহ, কেউ আল্লাহর সাথে সহযোগিতা করেনি।
২. আল্লাহ তা‘আলা কোন অন্যায়কারীকে সাহায্য করেন না।
৩. দুনিয়ায় যারা আল্লাহ তা‘আলার পরিবর্তে অন্যদেরকে আহ্বান করত সে সকল নেতারা কিয়ামতের দিন তাদের আহ্বানকারীদের ডাকে সাড়া দেবে না।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৫২-৫৩ নং আয়াতের তাফসীর:
সমস্ত মুশরিককে কিয়ামতের দিন লজ্জিত করার উদ্দেশ্যে সবারই সামনে বলা হবেঃ আজ তোমরা তোমাদের ঐ শরীকদেরকে আহবান কর যাদেরকে দুনিয়ায় আহবান করতে, যাতে তারা তোমাদেরকে আজকের বিপদ হতে রক্ষা করে। তারা তখন আহবান করবে, কিন্তু কোন সাড়া পাবে না। যেমন অন্য আয়াতে রয়েছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “আমি এভাবে তোমাদেরকে একক ভাবে এনেছি যেমন ভাবে তোমাদেরকে প্রথমবার সৃষ্টি করেছিলাম। দুনিয়ায় আমি তোমাদেরকে যা কিছু দিয়ে রেখেছিলাম সে সবগুলি তোমরা তোমাদের পিছনে ছেড়ে এসেছে। আজ তো আমি তোমাদের সাথে তোমাদের ঐ সব শরীককে দেখছি না যাদেরকে তোমরা আল্লাহর শরীক বানিয়ে রেখেছিলে এবং বিশ্বাস রেখেছিলে যে, তারা তোমাদের জন্যে শাফাআত করবে। তোমাদের মধ্যকার সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে গেছে এবং তোমাদের ধারণা মিথ্যা প্রমাণিত হয়ে গেছে।” (৬:৯৪) অন্য আয়াতে আছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “বলা হবে তোমাদের দেবতাগুলিকে আহ্বান কর। তারা তখন আহ্বান করবে কিন্তু তারা তাদের আহ্বানে কোন সাড়া দেবে।” (২৮ :৬৪) এই বিষয়েরই আয়াত। হতে দু’আয়াত পর্যন্ত। সূরায়ে মারইয়ামে আল্লাহ তাআলা বলেছেনঃ “তারা। আল্লাহ ছাড়া অন্য মাবুদ গ্রহণ করে নিয়েছে এই জন্যে, যাতে তারা তাদের সহায় হয় না, এই ধারণা অবাস্তব, তারা তাদের ইবাদত অস্বীকার করবে এবং তাদের বিরোধী হয়ে যাবে। তাদের মধ্যে ও তাদের বাতিল মাবুদের মধ্যে পর্দা ও ধ্বংসের গর্ত বানিয়ে দেবো; যেন তারা পরস্পর মিলিত হতে না পারে। যেন সুপথ প্রাপ্ত ও পথভ্রষ্টরা পৃথক পৃথক ভাবে থাকে। জাহান্নামের এই উপত্যকা তাদেরকে পরস্পরে মিলিত হতে দেবে না। বর্ণিত আছে যে, এটা হবে রক্ত ও পূজের উপত্যকা। তাদের পরস্পরের মধ্যে শত্রুতা হয়ে যাবে। বাহ্যতঃ জানা যাচ্ছে যে, এর দ্বারা ধ্বংস উদ্দেশ্য। আবার এটাও হতে পারে যে, এর দ্বারা জাহান্নামের কোন উপত্যকাকে বুঝানো হয়েছে। কিংবা প্রভেদ ও ব্যবধান সষ্টিকারী অন্য কোন উপত্যকা হবে। উদ্দেশ্য এই যে, ঐ উপাস্যরা ঐ উপাসকদেরকে জবাব পর্যন্ত দিবে না। তাদের পরস্পরের মধ্যে মিলনও ঘটবে না। কেননা, তাদের মাঝে ভয়াবহ অবস্থা সৃষ্টি হবে। হযরত আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) বলেন যে, এর ভাবার্থ হচ্ছেঃ আমি ঐ মুশরিক ও মুসলমানদের মাঝে আড়াল করে দেবে। যেমন- (আরবী) (৩০:১৪) (আরবী) ও (৩০:৪৩) এবং (আরবী) ইত্যাদি আয়াতসমূহে রয়েছে। এই পাপী ও অপরাধীরা এমন অবস্থায় জাহান্নাম দেখবে যে, সত্তর হাজার লাগামে তারা আবদ্ধ থাকবে। প্রত্যেক লাগামের উপর সত্তর হাযার করে ফেরেশতা থাকবে। দেখেই তারা বুঝতে পারবে যে, ওটাই তাদের কয়েদখানা। জাহান্নামে প্রবেশের পূর্বেই তাদের উপর কঠিন বিপদ, দুঃখ-কষ্ট ও যন্ত্রণা শুরু হয়ে যাবে। এগুলো হবে প্রকৃত শাস্তির পর্বের শাস্তি। কিন্তু তারা তার থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার কোন উপায় খুঁজে পাবে না। হাদীস শরীফে আছে যে, পাঁচ হাজার বছর পর্যন্ত কাফিররা ঐ ভয়াবহ ও কম্পমান অবস্থাতেই থাকবে যে, তাদের সামনেই রয়েছে জাহান্নাম, আর ওর পূর্বেই তারা ঐরূপ শাস্তি ভোগ করতে রয়েছে।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।