সূরা আল-ইসরা (বনী-ইসরাঈল) (আয়াত: 73)
হরকত ছাড়া:
وإن كادوا ليفتنونك عن الذي أوحينا إليك لتفتري علينا غيره وإذا لاتخذوك خليلا ﴿٧٣﴾
হরকত সহ:
وَ اِنْ کَادُوْا لَیَفْتِنُوْنَکَ عَنِ الَّذِیْۤ اَوْحَیْنَاۤ اِلَیْکَ لِتَفْتَرِیَ عَلَیْنَا غَیْرَهٗ ٭ۖ وَ اِذًا لَّاتَّخَذُوْکَ خَلِیْلًا ﴿۷۳﴾
উচ্চারণ: ওয়া ইন কা-দূলাইয়াফতিনূনাকা ‘আনিল্লাযীআওহাইনাইলাইকা লিতাফতারিয়া ‘আলাইনা-গাইরাহূ ওয়া ইযাল্লাত্তাখযূকা খালীলা-।
আল বায়ান: আর তাদের অবস্থা এমন ছিল যে, আমি তোমাকে যে ওহী দিয়েছি, তা থেকে তারা তোমাকে প্রায় ফিতনায় ফেলে দিয়েছিল, যাতে তুমি আমার নামে এর বিপরীত মিথ্যা রটাতে পার এবং তখন তারা অবশ্যই তোমাকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করত।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৭৩. আর আমরা আপনার প্রতি যা ওহী করেছি তা থেকে ওরা আপনাকে পদস্খলন ঘটাবার চেষ্টা প্রায় চূড়ান্ত করেছিল, যাতে আপনি আমাদের উপর সেটার বিপরীত মিথ্যা রটাতে পারেন(১); আর নিঃসন্দেহে তখন তারা আপনাকে বন্ধুরূপে গ্ৰহণ করত।
তাইসীরুল ক্বুরআন: আমি তোমার প্রতি যে ওয়াহী করেছি তাত্থেকে তোমাকে পদস্খলিত করার জন্য তারা চেষ্টার কোন ত্রুটি করেনি যাতে তুমি আমার সম্বন্ধে তার (অর্থাৎ নাযিলকৃত ওয়াহীর) বিপরীতে মিথ্যা রচনা কর, তাহলে তারা তোমাকে অবশ্যই বন্ধু বানিয়ে নিত।
আহসানুল বায়ান: (৭৩) আমি তোমার প্রতি যা প্রত্যাদেশ করেছি, তা হতে তারা তোমার পদস্খলন প্রায় ঘটিয়েই ফেলেছিল, যাতে তুমি আমার সম্বন্ধে ওর বিপরীত কিছু মিথ্যা উদ্ভাবন কর; আর তা করলে, তারা অবশ্যই তোমাকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করত।
মুজিবুর রহমান: আমি তোমার প্রতি যা প্রত্যাদেশ করেছি তা হতে তোমার পদস্খলন ঘটানোর জন্য তারা চূড়ান্ত চেষ্টা করেছে যাতে তুমি আমার সম্বন্ধে কিছু মিথ্যা উদ্ভাবন কর। সফলকাম হলে তারা অবশ্যই তোমাকে বন্ধু রূপে গ্রহণ করত।
ফযলুর রহমান: আমি তোমার কাছে ওহীর মাধ্যমে যা পাঠিয়েছি তা থেকে তারা তো তোমাকে সরিয়ে আনার উপক্রম করেছিল, যাতে তুমি আমার বিরুদ্ধে তার বিপরীত কিছু মিথ্যা বানিয়ে বল। আর তাহলেই তারা তোমাকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করত।
মুহিউদ্দিন খান: তারা তো আপনাকে হটিয়ে দিতে চাচ্ছিল যে বিষয় আমি আপনার প্রতি ওহীর মাধ্যমে যা প্রেরণ করেছি তা থেকে আপনার পদঙ্খলন ঘটানোর জন্যে তারা চুড়ান্ত চেষ্টা করেছে, যাতে আপনি আমার প্রতি কিছু মিথ্যা সম্বন্ধযুক্ত করেন। এতে সফল হলে তারা আপনাকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করে নিত।
জহুরুল হক: আর অবশ্যই তারা মতলব করেছিল তোমার কাছে আমরা যা প্রত্যাদেশ দিয়েছি তা থেকে তোমাকে বিচ্যুত করতে, যেন তুমি আমাদের বিরুদ্ধে তার পরিবর্তে অন্য কিছু জাল কর, আর তখন তারা তোমাকে নিশ্চয়ই গ্রহণ করবে অন্তরঙ্গ বান্ধবরূপে।
Sahih International: And indeed, they were about to tempt you away from that which We revealed to you in order to [make] you invent about Us something else; and then they would have taken you as a friend.
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৭৩. আর আমরা আপনার প্রতি যা ওহী করেছি তা থেকে ওরা আপনাকে পদস্খলন ঘটাবার চেষ্টা প্রায় চূড়ান্ত করেছিল, যাতে আপনি আমাদের উপর সেটার বিপরীত মিথ্যা রটাতে পারেন(১); আর নিঃসন্দেহে তখন তারা আপনাকে বন্ধুরূপে গ্ৰহণ করত।
তাফসীর:
১. কাফেররা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যে সমস্ত প্রস্তাব দিত। তন্মধ্যে এক বিশেষ প্রস্তাব ছিল যে, আপনি এ কুরআন বাদ দিয়ে ভিন্নধর্মী কিছু নিয়ে আসুন যা আমাদের মনঃপুত হবে। কিন্তু একজন নবীর পক্ষে কিভাবে ওহী ব্যতিত অন্য কিছু আনা সম্ভব হতে পারে? তিনি যদি তা করেন তবে হয়ত তারা তাকে বন্ধু বানাবে কিন্তু আল্লাহ কি তাকে এভাবেই ছেড়ে দিবেন? অবশ্যই না। আল্লাহ অন্যত্র বলেছেন, “তিনি যদি আমার নামে কোন কথা রচনা করে চালাতে চেষ্টা করতেন, আমি অবশ্যই ডান হাতে ধরে ফেলতাম, এবং কেটে দিতাম তার জীবন-ধমনী।” [সূরা আলহাক্কাহঃ ৪৪–৪৬]
সুতরাং, নবীর পক্ষে ওহী ব্যতীত কিছু বলা সম্ভব নয়। আল্লাহ তা'আলা অন্যত্র বলেন, “যখন আমার আয়াত, যা সুস্পষ্ট, তাদের কাছে পাঠ করা হয় তখন যারা আমার সাক্ষাতের আশা পোষণ করে না তারা বলে, “অন্য এক কুরআন আন এটা ছাড়া, বা এটাকে বদলাও৷” বলুন, “নিজ থেকে এটা বদলান আমার কাজ নয়। আমার প্রতি যা ওহী হয়, আমি শুধু তারই অনুসরণ করি। আমি আমার রবের অবাধ্যতা করলে অবশ্যই মহাদিনের শাস্তির আশংকা করি।” [সূরা ইউনুসঃ ১৫] তাই একজন সত্য নবীর পক্ষে কক্ষনো নিজ থেকে বানিয়ে কিছু বলা সম্ভব নয়।
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৭৩) আমি তোমার প্রতি যা প্রত্যাদেশ করেছি, তা হতে তারা তোমার পদস্খলন প্রায় ঘটিয়েই ফেলেছিল, যাতে তুমি আমার সম্বন্ধে ওর বিপরীত কিছু মিথ্যা উদ্ভাবন কর; আর তা করলে, তারা অবশ্যই তোমাকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করত।
তাফসীর:
-
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৭৩-৭৫ নং আয়াতের তাফসীর:
(خَلِيْلًا....... وَإِنْ كَادُوْا)
শানে নুযূল:
ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, উমাইয়া বিন খালফ, আবু জাহাল বিন হিশাম এবং কুরাইশদের কিছু লোক রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে বলল: হে মুহাম্মাদ! তুমি আমাদের উপাস্যগুলোকে একটু হাত বুলিয়ে দাও, আমরা তোমার ধর্মে প্রবেশ করব। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট তাঁর সম্প্রদায়ের বিচ্ছিন্ন হওয়াটা কষ্টকর মনে হল, আর তিনি তাদের ইসলাম গ্রহণ করাটাকে সমর্থন করছিলেন। তখন আল্লাহ তা‘আলা এই আয়াতটি অবতীর্ণ করেন। (লুবাবুন নুকূল ফী আসবাবিন নুযূল)
উক্ত আয়াতগুলোতে মূলত আল্লাহ তা‘আলা তাঁর অনুগ্রহে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে কাফিরদের সকল চক্রান্ত থেকে হেফাযত রেখেছেন সে কথাই বর্ণনা করা হয়েছে। তারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট বিভিন্ন সময় দাবী করত আর বলত, এটা এনে দিতে পারলে আমরা ইসলাম গ্রহণ করব। কখনো বলত, আমাদের মা‘বূদের এক বছর ইবাদত কর পরের বছর আমরা তোমার মা‘বূদের ইবাদত করব।
অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন: “যারা আমার সাক্ষাতের আশা পোষণ করে না তারা বলে, ‘অন্য এক কুরআন আন এটা ছাড়া, অথবা এটাকে বদলাও।’ বল: ‘নিজ হতে এটা বদলান আমার কাজ নয়। আমার প্রতি যা ওয়াহী হয়, আমি কেবল তারই অনুসরণ করি। আমি আমার প্রতিপালকের অবাধ্যতা করলে অবশ্যই আমি মহাদিবসের শাস্তির আশংকা করি।” (সূরা ইউনুস ১০:১৫)
অর্থাৎ যদি আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে দীনের উপর অটল না রাখতেন, তাহলে তিনি তো তাদের হিদায়াতের আশায় তাদের দিকে ঝুঁকেই পড়তেন। আর যদি তা হয়ে যেত তাহলে নাবীকে দুনিয়া ও আখিরাতে দ্বিগুণ শাস্তি পেতে হতো। সুতরাং অধিকাংশ মানুষের হিদায়াতের আশায় বা সমঝোতার লক্ষ্যে সত্যের সাথে মিথ্যাকে সংমিশ্রণ করা বা মিলমিশ করে চলার চিন্তাধারা সঠিক নয়। বরং সত্যের সাথে একজন থাকলেও তাকে নিয়েই চলতে হবে। এতেই সফলতা নিহিত।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. অসত্যের আহ্বানে সাড়া দেয়া যাবে না।
২. যার যত মর্যাদা বেশি, তার অপরাধের কারণে শাস্তিও তত বেশি হবে।
৩. সত্য-মিথ্যা সংমিশ্রণ করে সকলে মিলমিশ হয়ে চলার চিন্তাধারা ঠিক নয়, বরং সত্যের সাথে চলতে গিয়ে অন্যরা শত্র“ হলেও তাতেই কল্যাণ নিহিত রয়েছে।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৭৩-৭৫ নং আয়াতের তাফসীর
আল্লাহ তাআ’লা চক্রান্তকারী ও পাপীদের চালাকি ও চক্রান্ত হতে স্বীয় রাসূলকে (সঃ) সর্বদা রক্ষা করেছেন। তাঁকে তিনি রেখেছেন নিস্পাপ ও স্থির। তিনি নিজেই তার সাহায্যকারী ও অভিভাবক রয়েছেন। সর্বদা তিনি তাঁকে নিজের হিফাযতে ও তত্ত্বাবধানে রেখেছেন। তাঁর দ্বীনকে তিনি দুনিয়ার সমস্ত দ্বীনের উপর জয়যুক্ত রেখেছেন। তার শত্রুদের উঁচু বক্র বাসনাকে নীচু করে দিয়েছেন। পূর্ব হতে পশ্চিম পর্যন্ত তাঁর কালেমাকে ছড়িয়ে দিয়েছেন। এই দু'টি আয়াতে এরই বর্ণনা রয়েছে। কিয়ামত পর্যন্ত আল্লাহ তাআলা স্বীয় রাসূলের (সঃ) উপর অসংখ্য দরূদও সালাম বর্ষন করতে থাকুন। আমীন!
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।